Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ভিটামিন-ই ব্যবহারে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল

ভিটামিন-ই ব্যবহারে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল
চুল পড়া কমাতে ভিটামিন-ই খুবই উপকারী উপাদান, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

কিছুদিন পরপরই চুল পড়ার ধুম দেখা দেয়।

অকারণেই গোছা গোছা চুল ওঠে। কোনভাবেই চুল পড়ার হার কমানো যায় না। ভিন্ন শ্যাম্পু, তেল ব্যবহার করে কিংবা ঘরে তৈরি হেয়ার মাস্ক ব্যবহারেও লক্ষণীয় সুফল পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে চুলের যত্নে ও চুল পড়ার হার কমাতে ব্যবহার করতে হবে ভিটামিন-ই।

কেন ভিটামিন-ই?

পুষ্টির যোগানে চুলে সরাসরি এসেনশিয়াল পুষ্টিগুণ দেওয়া গেলে চুলের সমস্যা মিটবে ও কাজ হবে দ্রুত। এছাড়া মাথার ত্বকের সাহায্যে পুষ্টি চুলে প্রবেশ করলে চুল গোড়া শক্ত হবে তুলনামূলক বেশি। ভিটামিন-ইতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের ফলিকলের সমস্যা দূর করতে কাজ করে এবং নতুন চুল জন্মাতে সাহায্য করে।

এছাড়া ভিটামিন-ই মাথার ত্বককে আর্দ্রতাপূর্ণ রাখে, মাথার ত্বকের রক্ত চলাচলকে স্বাভাবিক রাখে, চুল ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করে ও ভঙ্গুর চুলকে মজবুত হতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন-ই’র ব্যবহারে রোদের ক্ষতিকর আলো থেকে চুল সুরক্ষিত থাকে। এবারে আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নিন ভিতামিন-ই ব্যবহারের উপকারিতাগুলো।

সুস্থ রাখে স্ক্যাল্প

সুস্থ স্ক্যাল্প চুলের বৃদ্ধির জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে চুল দৃঢ় ও শক্ত হয়। ভিটামিন-ই স্ক্যাল্পের লিপিড স্তর রক্ষা করে চুলকে স্বাস্থ্যকর রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুল ও মাথার তালুর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে কাজ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/04/1562232580109.jpg

নিয়ন্ত্রণে রাখে চুল পড়া

চুল পড়ার হাড় কমাতে ভিটামিন-ই সবচেয়ে বেশি কাজ করে। নিয়মিত ভিটামিন-ই এর ব্যবহার চুল পড়া কমিয়ে আনতে দারুণ কার্যকর। গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে চুল পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ভিটামিন-ই’র অভাব পরিলক্ষিত হয়।

ভারসাম্য রাখে pH এর মাত্রা ও তেল উৎপাদনে

নানাবিধ কারণের মাঝে যে দুইটি কারণে চুল পড়ে সেগুলো হলো- স্ক্যাল্পে দুর্বল pH ব্যালেন্স ও মাথার ত্বকের অপর্যাপ্ত তেল তৈরি বা নিঃসরণ। ভিটামিন-ই ব্যবহারে মাথার ত্বকের উপরিভাগে প্রতিরক্ষামূলক একটি স্তর তৈরি হয়। যা চুল ও মাথার ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের যোগান দেয়। এতে করে মাথার ত্বকে pH এর মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে ও তেলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে।

চুলকে স্বাস্থ্যকর করে

সকলেই চায় উজ্জ্বল ও নরম চুল। ভিটামিন-ই ব্যবহারে খুব সহজেই তা পাওয়া যাবে। পুষ্টিগুণ ভিটামিন-ই চুলের উপরিভাগের অংশকে মজবুত করে উজ্জ্বল দেখাতে কাজ করে। নিয়মিত ভিটামিন-ই এর ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্য সময়ের সাথে আরও ভালো হতে থাকে।

কীভাবে ব্যবহার করতে হবে ভিটামিন-ই?

বহু ভাবেই চুলের জন্যে ভিটামিন-ই ব্যবহার করা যাবে। সবচেয়ে প্রাথমিক উপায়টি হলো ভিটামিন-ই ক্যাপসুলের তেল নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল অথবা অ্যাভোকাডো অয়েলের সাথে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করা।

এছাড়া ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারও ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী এতেও ভিটামিন-ই ক্যাপস্যুল মিশিয়ে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/04/1562232631139.JPG

পাশাপাশি নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাসে ভিটামিন-ই যুক্ত খাদ্য উপাদান বেশি রাখার উপর প্রাধান্য দিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের বাদাম, অ্যাভোকাডো, আম, কচু শাক, ব্রকলি, তৈলাক্ত মাছ প্রভৃতি বেশি খেতে হবে।

আরও পড়ুন: সকল টেক্সচারের চুল থাকবে সুন্দর

আরও পড়ুন: উৎসব যেন চুলের ক্ষতি না করে!

আপনার মতামত লিখুন :

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ

ভিন্নমাত্রায় কাসুন্দি ইলিশ
কাসুন্দি ইলিশ, ছবি: সংগৃহীত

মাছের বাজারে এখন ইলিশের দাপট।

এ সুযোগে ইলিশ মাছের পছন্দসই রেসিপি রাঁধার পাশাপাশি একটু ব্যতিক্রম রেসিপিও রেঁধে নিতে পারেন। আমাদের দেশে সর্ষে ইলিশ বা সরিষা ইলিশ অতি জনপ্রিয় ও প্রচলিত একটি ইলিশের রেসিপি। এবারে সেই সরিষা ইলিশের মতোই ঝাঁজ নিয়ে ভিন্ন ঘরানায় তৈরি করুন কাসুন্দি ইলিশ। কাসুন্দির ঝাঁজ ও হালকা টকভাব সহজেই ইলিশে যোগ করবে ভিন্নমাত্রা।

কাসুন্দি ইলিশ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883624853.JPG

১. মাথা ও লেজসহ ইলিশ মাছের ছয়টি বড় টুকরা।

২. চার টেবিল চামচ কাসুন্দি।

৩. ১০০ গ্রাম পরিমাণ টকদই।

৪. দুই টেবিল চামচ পেস্তা বাটা।

৫. ৫-৬টি কাঁচামরিচ ফালি।

৬. আধা চা চামচ রসুন বাটা।

৭. এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া।

৮. চার টেবিল চামচ সরিষা তেল।

৯. স্বাদমতো লবণ।

কাসুন্দি ইলিশ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563883641018.JPG

১. মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে কেটে ও ধুয়ে এতে লবণ ও হলুদ গুঁড়া মাখিয়ে মেরিনেট করে রেখে দিতে হবে।

২. মাছের অন্যান্য টুকরাগুলো ভাজার প্রয়োজন নেই। তবে মাথা ও লেজের অংশ কিছুটা ভেজে নিতে হবে।

৩. ভিন্ন একটি পাত্রে কাসুন্দি, পেস্তা বাটা, টকদই, লবণ ও হলুদ গুঁড়া একসাথে ভালোভাবে মেশাতে হবে।

৪. চুলাতে কড়াই বসিয়ে সরিষার তেল গরম করে এতে কাসুন্দির-দইয়ের মিশ্রণ ও রসুন বাটা দিয়ে নাড়তে হবে। কিছুক্ষণ নাড়ার পর এতে কাঁচামরিচ ফালি ও স্বাদমতো লবণ দিতে হবে।

৫. মিনিট পাঁচেক নাড়ার পর মাছের টুকরোগুলো দিয়ে অল্প আঁচে পনের মিনিটের জন্য কড়াইয়ের মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

৬. পনের মিনিট পর কড়াইয়ের ঢাকনা খুলে মাছগুলো সাবধানের সাথে উল্টে দিয়ে আবারো পনের মিনিটের জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৭. এর মাঝে মাছ সিদ্ধ হয়ে আসবে এবং ঝোল টেনে আসবে। প্রয়োজনে আধা কাপ পানি দেওয়া যাবে।

মাছ মাখামাখা হয়ে আসলে নামিয়ে ভাতের সাথে পরিবেশন করতে হবে।

আরও পড়ুন: মাছের রেজালায় স্বাদের বদল

আরও পড়ুন: ভেটকি মাছের বেগম বাহার

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়

পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের মানসিক সুস্থতায়
বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে সময় কাটানো তাদের মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে, ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের একদম বয়স্ক মানুষটি হন সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে কাছের ও ভালোবাসার।

তার কাছেই যেন শত গল্প ও মায়ার ঝুলি জমে থাকে। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া মানুষটিও একটা সময় পরে কেমন যেন দূরের হয়ে যান। হয়ে যান বিচ্ছিন্ন ও দুর্বোধ্য।

বয়স বৃদ্ধির সাথে অবধারিতভাবে দেখা দিতে শুরু করে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা। ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাড়ের ক্ষয়, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যাসহ সাধারণ সমস্যাগুলোর সাথে যুক্ত হয় চেনা অথবা অচেনা ছোট-বড় আরও কয়েক ধরনের শারীরিক অসুস্থতা।

তবে বয়োবৃদ্ধদের শারীরিক সমস্যার সাথে দেখা দিতে শুরু করে মানসিক সমস্যাও। সেটা কেমন? খেয়াল করে দেখবেন, তারা সহজে কোন কিছু মনে রাখতে পারেন না। দুপুরে যদি জানতে চাওয়া হয়- সকালে কী খেয়েছেন, তবে সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারবেন না। একইসাথে মানুষের নাম, চেহারা ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

এছাড়া দেখা দেয় অকারণে ও আকস্মিক মেজাজের পরিবর্তন। পুরনো কোন কথা মনে করে অঝোরে কান্নাকাটি করা, সামান্য কোন সমস্যায় অতিরিক্ত রেগে যাওয়া, খুঁতখুঁত করা, একই কথা বারবার বলার মতো লক্ষণগুলো বয়স বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত।

এ কারণে একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষের শারীরিক সুস্থতায় যত্ন নেওয়ার সঙ্গে মানসিক সুস্থতার জন্যেও যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ভারতের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বোপানা শ্রীধর জানাচ্ছেন কোন তিনটি বিষয়ের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

খাদ্যাভ্যাস

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563877234210.jpg

নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের পুষ্টির উপরে মানসিক সুস্থতা অনেকখানি নির্ভর করে। শ্রীধর পরামর্শ দেন, বয়স্কদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কাজুবাদাম রাখার জন্য, যা মস্তিষ্কের সুস্থতায় অনেকখানি অবদান রাখে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ অ্যাসিড সরাসরি মস্তিষ্কের সুস্থতা নিশ্চিতে কাজ করে। এছাড়া লো ফ্যাট খাদ্য উপাদান ও যথাসম্ভব প্রাকৃতিক উপাদান বেশি রাখার উপরেও জোর দেন তিনি।

শরীরচর্চা

বয়স্কদের জন্য শরীরচর্চার বিষয়টি কঠিন মনে হলেও, একদম হালকা ঘরানার ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজও তাদের জন্য অনেক বড় উপকারিতা বহন করবে। এতে করে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা, হাড়ের উপকারিতার মতো সুবিধার পাশপাশি মন প্রফুল্ল ও প্রশান্ত থাকবে। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মনোযোগেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসবে।

যোগাযোগ

পাশ্চাত্যে একটি বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। সমবয়সী অনেকে একসাথে দেখা করা, গল্প করা, সময় কাটানো, একেঅপরের সাথে যোগাযোগ করা। সামাজিকতার এই আয়োজনে অংশগ্রহণে বৃদ্ধদের আগ্রহী করা হয়। এতে করে তাদের মনঃ ভালো থাকে ও মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব পরে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের দেশে বয়োবৃদ্ধরা বেশ একাকী সময় কাটান ও একা হয়ে পরেন। এতে করে তারা খুব অল্পতে বিষণ্ণ হয়ে পরেন এবং বৃদ্ধ বয়সের বিষণ্ণতা থেকেই দেখা যায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো। সেক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে বয়োবৃদ্ধদের সাথে সময় কাটানো এবং তাদের একাকীত্ব দূর করার প্রতি।

আরও পড়ুন: আয়ুর্বেদে বাড়বে স্মৃতিশক্তি

আরও পড়ুন: পুষ্টির অভাবে বিষণ্ণতা দেখা দেয় কি?

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র