Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ

সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

‘বাবা তো আমাদের কোন খোঁজ রাখেন না। সারাদিন তো বাইরেই থাকেন। তার কাছে তো অফিস আর কাজই সব। আমি কি চাই সেটা তো তার জানার কোন প্রয়োজনই নেই।’ এমন অভিযোগটা ছিল নবম শ্রেণীর রাসেলের।

বাবার উপরে তার ভীষণ রাগ আর অভিমান। গাল ফুলিয়ে মুখ গোমড়া করে এই কথাগুলো বলার সময় রাসেলের চোখ দুটো কি একটু ছলছল করছিল? করছিল হয়তো! কারণ যার উপরে রাসেলের এতো রাগ, যাকে নিয়ে রাসেলের এতো অভিযোগ, তাকে যে রাসেল খুব বেশী ভালোবাসে!

সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা বিদ্যমান থাকার বিষয়টি অনেকটা অক্সিজেনের মতো। মায়া, মমতা, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা নিয়ে গড়ে ওঠে একটি সম্পর্ক। বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের, সহোদরের সাথে সহোদরের, আত্মীয়তা, বন্ধুর সাথে বন্ধুর সম্পর্ক ও প্রিয় মানুষটার সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক।

একটি সম্পর্কের কোন বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি- এমন প্রশ্ন আসলে অবশ্যই বলতে হবে, যেকোন সম্পর্কের মাঝে ভালোবাসাবোধ বিদ্যমান থাকা অন্যতম জরুরি। তবে ভালোবাসার চাইতেও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ’।

শ্রদ্ধাবোধ একটি সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী হতে এবং সম্পর্কের ভিত শক্ত করতে কাজ করে। কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্কের সূচনা ভালোবাসা থেকে হলেও, সেই সম্পর্কটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে শ্রদ্ধাবোধ। বলা যেতে পারে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ হলো একটি সম্পর্কের নৌকার পাল, যা সেই সম্পর্কটিকে সময়ের হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যায়।

একজন ব্যক্তির জীবনে প্রতিটি সম্পর্ক আলাদা আলাদাভাবে গুরুত্ব বহন করে, প্রতিটি সম্পর্কই সেক্ষেত্রে মূল্যবান। নিজের পরিবার থেকে শুরু করে বন্ধু কিংবা সহপাঠী, সহকর্মী থেকে বাসের অর্ধপরিচিত কিংবা অপরিচিত সহযাত্রী- প্রতিটি ভিন্ন ধারা ও ভিন্ন মাত্রার সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা জরুরি।

প্রশ্নটা ছিল, সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কতটা জরুরি, কতটা গুরুত্ব বহন করে এই বিষয়টি! এখানে রাসেলের কথাটি আবারো নিয়ে আসা যাক। বাবার প্রতি তার ভালোবাসার কমতি নেই। কিন্তু এখানে প্রশ্ন আসতেই পারে, কতটা শ্রদ্ধা করে রাসেল তার বাবাকে?

দিনরাত তিনি পরিশ্রম করে আয় করছেন নিজের পরিবারের মানুষগুলোকে ভালো রাখার জন্য। নিজের সন্তানকে সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য, তার সকল আবদার পূরণের জন্য। রাসেল কি সেটা বুঝতে পারছে? এক্ষেত্রে ভালোবাসার সাথে প্রয়োজন শ্রদ্ধাবোধের, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের।

আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেসম্পর্কের মাঝে শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারি না। যার ফলে অনেক সময় বড় ধরনের ভুল করি, ভুল মানুষ নির্বাচন করি নিজের বন্ধু কিংবা সঙ্গী হিসেবে।নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার উপরে যার নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

/uploads/files/bzU5z66pfaWcWiYxdjoYJYgu1m5swDDTinZXNjvw.png

নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে যে মানুষটিকে আমরা ভালোবেসে নির্বাচন করি, তাদেরকে আমরা কতটা শ্রদ্ধা করি? কতটা তাদের দিক থেকে শ্রদ্ধা পেয়ে থাকি আমরা? ‘আমি ওকে অনেক ভালোবাসি’ কিংবা ‘ও আমাকে অনেক ভালোবাসে’।

এতটুকুই যে একটি সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি বুঝতে অনেক দেরী হয়ে যায় আমাদের।

স্কুল শিক্ষিকা নীলা। বিবাহিত জীবনের ৪ বছর পার করে ফেলেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রেমের সম্পর্কটির হাসিখুশি পরিণয়, কেন যেন এখন ঠিক আগের মতো নেই। কিছু কথা থাকে যা কারোর কাছে বলা যায় না। বলতে চাইলেও বুঝিয়ে বলা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিমর্ষ হয়ে ছোটবোনের কাছে আফসোসের সুরে শুধু একটি কথাই বলেছিলেন নীলা, ‘আমি জানি ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমাকে ছাড়া ও কিছুই বোঝে না। কিন্তু কেন যেন আমার প্রতি ওর কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই।

আমি ঠিকভাবে বোঝাতে পারব না। কিন্তু আমি বুঝতে পারি, ওর আচরণে খুব স্পষ্ট এই ব্যাপারটা। আচ্ছা, শুধু ভালোবাসাটুকুই কি তাহলে যথেষ্ট নয়?’

নীলার ভেতরে আজ যে প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, এই একই প্রশ্ন হয়তো অনেক মনে ভেতরই ঘুরপাক খায় বা খাচ্ছে। ‘সম্পর্কের মধ্যে শুধু ভালোবাসা কি যথেষ্ট নয়?’ গুরুগম্ভীর এই প্রশ্নটিরউত্তর কিন্তু খুব সহজ। প্রয়োজন শুধু ব্যাপারটি অনুধাবন করা।

আপনার মতামত লিখুন :

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম

চার উপাদানে খেজুর গুড়ের আইসক্রিম
খেজুর গুড়ের আইসক্রিম, ছবি: সংগৃহীত

খেজুর গুড়ের পায়েস নিশ্চয় খাওয়া হয়েছে, কিন্তু খেজুর গুড়ে তৈরি আইসক্রিম কি খাওয়া হয়েছে কখনো?

চিনির মিষ্টি নয়, গুড়ের মিষ্টিতে তৈরি এই আইসক্রিমে পাওয়া যাবে একেবারেই ভিন্ন ঘরানার অচেনা স্বাদ।

বাইরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছাটাও তাড়া দিতে থাকে। এই সুযোগে ঘরে বসে ফ্রেশ দুধ ও গুড় দিয়ে তৈরি করে নিন অচেনা স্বাদের মিষ্টান্ন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538258867.JPG

১. দুই কাপ ক্রিম।

২. এক কাপ দুধ।

৩. চারটি ডিমের কুসুম।

৪. আধা কাপ খেজুর গুড়।

খেজুর গুড়ের আইসক্রিম যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563538280218.JPG

১. একটি পাত্রে ভালোভাবে ডিমের কুসুমগুলো ফেটিয়ে নিতে হবে।

২. ভিন্ন একটি সসপ্যানে ক্রিম ও দুধ একসাথে মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে বলক আনতে হবে।

৩. গরম দুধ ও ক্রিমের মিশ্রণের এক-চতুর্থাংশ ডিমের কুসুমে দিয়ে পুনরায় ভালোভাবে হুইস্ক করতে হবে তথা ফেটিয়ে নিতে হবে।

৪. এবারে ডিমের মিশ্রণটি সস্প্যানে দিয়ে পুনরায় জ্বাল দিতে হবে এবং গুড় মেশাতে হবে। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশে গেলে কাস্টার্ডের মতো ঘন মিশ্রণ তৈরি হবে।

৫. মিশ্রণ ঘন হয়ে আসলে কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে কাঁচের পাত্রে ঢেলে ঠাণ্ডা করতে হবে। ঠাণ্ডা হয়ে এলে পাত্রের মুখ বন্ধ করে ডিপ ফ্রিজে সারারাতের জন্য রেখে দিতে হবে।

পরদিন সকালে নাশতার সাথে উপভোগ করুন খেজুর গুড়ের আইসক্রিম।

আরও পড়ুন: দশ মিনিটে বাদামের স্বাদে কুলফি মালাই

আরও পড়ুন: গরমে স্বস্তি আনবে তিন ভিন্ন স্বাদের কোল্ড কফি

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে দারুচিনি গ্রহণে
দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঝাল ও মিষ্টি উভয় ধরনের খাবার তৈরিতেই দারুচিনি বাড়তি স্বাদ ও গন্ধ যোগ করে।

আমাদের রান্নায় দারুচিনি ব্যবহারের মূল কারণ হলো ফ্লেভার, তবে আরও একটি বিশেষ কারণে নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাসে দারুচিনি রাখা প্রয়োজন। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে আপনার হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকবে। সেই সাথে নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়বেটিসের সমস্যাটিও।

মশলা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই উপাদানটিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল শরীরে অক্সিডেটিভ ড্যামেজ থেকেও রক্ষা করতে কার্যকরি। গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণ বেশ কয়েকদিক থেকেই সুস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। তেমন কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে রাখুন।

প্রদাহ কমায় দারুচিনি

বেশ কিছু গবেষণা জানাচ্ছে, দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ বিরোধী তথা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। পেশীর ব্যথাভাব, ফোলাভাব, শরীরের কোন অংশে হুটহাট ব্যথা দেখা দেওয়ার মতো সমস্যাগুলো কমাতে কাজ করে দারুচিনি।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে কাজ করে দারুচিনি

রক্তে চিনি ও ইনস্যুলিনের মাত্রার হেরফেরের উপরেই নির্ভর করে মেটাবোলিজমের মাত্রা ও টাইপ-২ ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা। বেশ কিছু পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি গুঁড়া গ্রহণে ডায়বেটিস রোগীদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দারুচিনি শুধু রক্তে চিনির মাত্রাই নয়, ইন্স্যুলিন সেনসিটিভিটিকেও নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563531546124.jpg

হৃদরোগ দূরে রাখে দারুচিনি

প্রতিদিন ১২০ মিলিগ্রাম পরিমাণ দারুচিনি গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL), ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভিন্ন একটি গবেষণার ফলাফল বলছে- যারা নিত্যদিনের খাবারে হলুদ ও দারুচিনি গুঁড়া রাখে, তাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা পূর্বের চাইতে কমে যায়। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগ দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও কমে যায় তুলনামূলক অনেক বেশি।

ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে

সিনামন এক্সট্র্যাক্ট তেলে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা প্রায় সকল ধরনের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে। দারুচিনিতে থাকা সিনাম্যালডিহাইড (Cinnamaldehyde) হলো প্রধান উপাদান, যা ইনফেকশন দ্রুত সারাতে কাজ করে। বিশেষত ইষ্ট ইনফেকশনের বিরুদ্ধে দারুচিনির তেল সবচেয়ে উপকারী।

মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হবে দারুচিনিতে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রভাবকে, যা মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে দারুচিনি দাঁতের ক্ষয়রোগ ও মুখে বাজে গন্ধ হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে।

আরও পড়ুন: গরম আবহাওয়ায়, সুস্থতায় ডাবের পানি

আরও পড়ুন: ঘুম আনতে সাহায্য করবে এই খাবারগুলো

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র