সকল অলিভ অয়েলই কি এক?

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
পার্থক্য রয়েছে অলিভ অয়েলের ধরণেও

পার্থক্য রয়েছে অলিভ অয়েলের ধরণেও

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমানে প্রায় সকলেই স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠছেন।

ফলে প্রতিদিনের খাবার তৈরিতে রান্নার জন্য অন্য অস্বাস্থ্যকর তেলের পরিবর্তে ব্যবহার করছেন উপকারী ও স্বাস্থ্যসম্মত অলিভ অয়েল। সর্বনিম্ন মাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ অলিভ অয়েল ওজন কমাতে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ও হৃদরোগের সম্ভাবনা কমাতে, বয়সের প্রক্রিয়াকে স্লথ করতে এবং কিছু বিশেষ ধরনের ক্যানসারকে দূরে রাখতে কাজ করে।

তবে অলিভ অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি। সকল ধরনের অলিভ অয়েলই কিন্তু এক নয়। অলিভ ফল পিষে তেল নিঃসরণ করা, তেল তৈরির প্রক্রিয়া, তেলের অ্যাসিডিটির মাত্রা ও তেল তৈরির অন্যান্য প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে অলিভ অয়েলের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। আজকের ফিচার থেকে জানুন কয়েকটি ভিন্ন ঘরানার অভিল অয়েল সম্পর্কে।

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বলতে বোঝানো হয়, মেশিন অথবা মেশিন ব্যতীত ম্যানুয়ালভাবে প্রেশার তৈরির মাধ্যমে অলিভ থেকে তেল নিঃসরণ করা। এই তেলে কোন ধরনের তাপ কিংবা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। শুধুমাত্র ওয়াশিং, ডিক্যান্টিং, সেন্ট্রিফিউজিং ও ফিল্টারিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের অ্যাসিডিটির মাত্রা থাকে ০.৮ শতাংশ ও এতে কোন ধরনের বাড়তি ফ্লেভার, গন্ধ বা অ্যারোমা ব্যবহার করা হয় না।

ভার্জিন অলিভ অয়েল

এটা হলো সেকেন্ড গ্রেড অলিভ অয়েল। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের চাইতে এই অলিভ অয়েলের অ্যাসিডিটির মাত্রা কিছুটা বেশি। এছাড়াও প্রথম অলিভ অয়েলের চাইতে স্বাদেও কিছুটা পার্থক্য খেয়াল করা যায় এই তেলে। তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় ও সহজলভ্য হলো এই অলিভ অয়েলটি।

রিফাইন্ড অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল

অলিভ ফল থেকে অতিরিক্ত প্রেশার দেওয়ার মাধ্যমে তেল নিঃসরণ করে যে তেল পাওয়া যায় সেটাই হলো রিফাইন্ড অলিভ অয়েল। এই তেলের রঙ তুলনামূলক কিছুটা হালকা হয় ও অন্য ঘরানার অলিভ অয়েলের চাইতে কম চিটচিটে হয়। রিফাইন্ড অলিভ অয়েল ব্লিচড ও ডিওডোরাইজড করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে এর সাথে স্বল্প পরিমাণ ভার্জিন অলিভ অয়েলও মেশানো হয়। অন্য অলিভ অয়েলের মতো এর মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা একই হলেও এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা থাকে খুবই অল্প।

আনফিল্টার্ড অলিভ অয়েল

নাম দেখেই হয়তো এই অলিভ অয়েলের ধরনটি বোঝা যাচ্ছে। এ ধরনের অলিভ অয়েলে অলিভের অংশবিশেষ যুক্ত থাকে। এতে করে অলিভ অয়েলের স্বাদ বাড়লেও, কিছুদিন রেখে দেওয়া হলে তেলের নিচে এই অংশ জমে যায়। আনফিল্টার্ড অলিভ অয়েল বোতলজাত করার ছয় মাসের মাঝে ব্যবহার করতে হয়।

আরও পড়ুন: প্রাকৃতিক মেকআপ রিমুভার ‘আমন্ড অয়েল’

আরও পড়ুন: ব্রণের প্রাদুর্ভাব কমবে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারে

আপনার মতামত লিখুন :