বনভোজনের আহ্লাদ



তানিয়া চক্রবর্তী
১৮৫৭ সালের বনভোজনের ছবি / গ্রাফিক: বার্তা২৪

১৮৫৭ সালের বনভোজনের ছবি / গ্রাফিক: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ডব্লিউ এইচ অডেন বলেছিলেন “LIFE IS A PICNIC ON A PRECIPICE.” এই শীত শেষ হয়ে গরমের আগে উঁকি দিচ্ছে যে প্রেমিক বসন্ত তার গাল ধরেই এই একত্রিত আনন্দের মধ্যে আসি। এখন মানুষ অনেক বেশি সফল এবং অনেক বেশি একা...কারণ মুহূর্তের মাধুর্যের নিয়ন্ত্রণ এখন যন্ত্রের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তবু এখনো কিছু মন এই একত্রিত হিল্লোলে মেতে উঠতে চায়।

শীতের শুরু থেকে এই বসন্ত সেই একত্রিত উদযাপনের সবচেয়ে বড় সময়। প্রকৃতিও দরাজ হয়ে নিজের হাত বাড়িয়ে দেয়। ঘর থেকে বেরিয়ে জঙ্গলে, মাঠে, খোলা বাতাসে সবাই মিলে খেলা, আড্ডা মারা, খাওয়া দাওয়া এটা আসলে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উদযাপন। কারণ প্রকৃতির কাছে গেলেই মানুষ বুঝতে পারে সে কিছুই নয়—সে যে ক্ষমতা ও সাফল্যের আস্ফালন করে তাও কেবল একটা লঘু খেলা ছাড়া কিছু নয় ফলে তার উদারতা বাড়ে, মুহূর্তের মাধুর্য বাড়ে—এভাবে জীবনের চেয়েও সুন্দর হয়ে ওঠে যাপন করা।

আমাদের এই হাতে হাত ধরা সূত্রগুলো ছিন্ন হয়ে গেছে আমাদেরই কারণে তাই ভিড়ের মধ্যে থেকেও সে একা হয় ফলত ওই ভিড় থেকেই সে আরো নিভৃতির পথ খুঁজে নেয়। আমাদের আড্ডারা, আদান-প্রদানের মুহূর্তরা তাই কমে আসছে ক্রমশ। এই বনভোজনের ধারণাটি পিকনিকের থেকেই এসেছে। অষ্টাদশ ও নবম শতাব্দীর পরবর্তী সময় থেকে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন পার্কে, ময়দানে বনভোজনের আনন্দ নিতে শুরু করে। আজ থেকে প্রায় এক হাজার বছর আগে পিকনিক ছিল জমায়েত ও ভোজের বিনোদন। একটি মধ্যবর্তী টেবিলকে কেন্দ্র করে যে যার মতো করে সাধ্যমতো খাবারের পদ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিত। এর পরবর্তী এই জমায়েতটি মূলত শুরু হলো বাড়ির বাইরে। সময়টা ১৮৬০, পিকনিক বা বনভোজন—এর প্রাথমিক রূপ উন্নীত হলো।

চতুর্দশ শতাব্দীতে মধ্যযুগীয় শিকারকে ফিস্ট হিসেবে ইংল্যান্ডে বিনোদনের মাধ্যমে সকলের মধ্যে উদযাপন করা হতো। অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী পিকনিক এরকম একটি আধুনিক সামাজিক বিনোদন যেখানে খাদ্য ও সংস্কৃতির আদানপ্রদান করা যায়। পিকনিক শব্দটি এসেছে ষোড়শ শতাব্দীতে ফরাসি শব্দ থেকে । ১৭০০ সালে ইংরেজি সাহিত্যে পিকনিকের উল্লেখ পাওয়া যায়। আমেরিকার পিকনিকে আবার খাদ্যপ্রণালীর একটা ধরনের ব্যবহার আছে যেমন উত্তর-পূর্ব আমেরিকার মানুষরা আনতেন চিজ, মাংস, সাদা কিম্বা লাল ওয়াইন আবার দক্ষিণের দিক থেকে যারা আসত ঠান্ডা বিয়ার, অ্যারোমেটিক কফি আবার মধ্য-পশ্চিমের থেকে হ্যামবার্গার, বিস্কুট, চিপস একরকমভাবে পশ্চিমের দিক থেকে চিংড়ি ইত্যাদির ভিন্ন খাদ্যাভাস এক জায়গায় একত্রিত হতো।


আরো পড়ুনঃ মুখের ভেতর সেই বরফের দেশে


সাহিত্য, সিনেমায়, গানে সর্বত্র বনভোজনের উল্লেখ পাওয়া গেছে। ১৯৫৫ সালে সিনেমা পিকনিক বিখ্যাত হয়েছিল এবং দুবার নতুনভাবে আনা হয়েছিল। লেখক ছিলেন পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত উইলিয়ান ইঙ্গ। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের পরের দিকে বিশেষ বিশেষ সুদৃশ্য জায়গা সাধারণের বনভোজনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। ১৮৩০-পরবর্তী পিকনিককে কেন্দ্র করে অপূর্ব সব ছবি আঁকা হয়েছে। আমেরিকান ইলাসট্রেটর থমাস কোলের ‘দ্য পিকনিক ১৮৪৬’ মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে গেছিল এইকারণে।

ইটালিতে প্রত্যেক সোমবার পিকনিকের দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। ২০০০ সালে প্রায় ৬০০ মাইল জায়গা জুড়ে পিকনিককে উদযাপন করা হয় বিশেষদিনে। ওমর খৈয়াম বলেছিলেন প্রকৃতির শব্দে, গাছপালায়, বইয়ের সঙ্গে, সামান্য রুটি আর মদ থাকলে এই উদ্দাম প্রকৃতি এক যথেষ্ট স্বর্গের রূপের মতোই। আসলে এই বনভোজন আমদের মানবিক জীবনপ্রণালীর এক উত্তম আদান-প্রদানের বিনোদন এবং বিনোদনের চেয়েও বেশি সদ্ভাব ও শান্তি রক্ষার উপায়।

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;

‘মুঘল ঐতিহ্যে দারাশিকোহ পরাজিত হয়েও চিন্তা-মননে বিজয়ী’



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চবি জাদুঘর লেকচার সিরিজে ড. মাহফুজ পারভেজ। বার্তা২৪.কম

চবি জাদুঘর লেকচার সিরিজে ড. মাহফুজ পারভেজ। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

"ধর্মীয় উদারতা, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের শিক্ষার জন্য দারাশিকোহ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বর্তমান ভারতীয় উপমহাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দাপটে ভিন্নমতের সংখ্যালঘুরা যখন তটস্থ, তখন দারাশিকোহ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক" বলে মন্তব্য করেছেন প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ।

তিনি বলেন, "মুঘল রাজনৈতিক ঐতিহ্যে দারাশিকোহ পরাজিত হলেও চিন্তা-মননের দিক থেকে বিজয়ী হয়েছেন।"

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) জাদুঘর লেকচার সিরিজের উদ্বোধনী প্রবন্ধ "দারাশিকোহকে কেন স্মরণ করা জরুরি" উপস্থাপনকালে শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, "জ্ঞানমনস্কতা ও শুভবোধের বিকাশে মুক্তমন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আবহ অপরিহার্য। দারাশিকোহ এমনই ঋদ্ধ চেতনা লালন করেছিলেন।" উল্লেখ্য, ড. মাহফুজ পারভেজ "দারাশিকোহ: মুঘল ইতিহাসের ট্র্যাজিক হিরো" গ্রন্থের লেখক।

চবি জাদুঘর মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত লেকচার সিরিজে চবি বঙ্গবন্ধু চেয়ার, ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. মুনতাসীর মামুন প্রবন্ধের উপর আলোচনাকালে বলেন, "দারাশিকোহ চিন্তার বিশিষ্টতায় উজ্জ্বল। তিনি ছিলেন উদারপন্থী মুঘল।"

কথাসাহিত্যিক, কলা অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. মহীবুল আজিজ বলেন, "দারাশিকোহ রাজনীতিতে পরাজিত হয়েও ইতিহাসের বিচারে স্থায়ী হয়েছে নন্দনতাত্ত্বিক বহুমাত্রিকতায়।"

কলা অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. সেকান্দার চৌধুরী বলেন, "ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার অনেক উপাদান রয়েছে দারাশিকোহর চিন্তায়।"

কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মাহবুবুল হক বলেন, "উচ্চতর গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ গঠনে জাদুঘরের বহুমুখী কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।"

চবি জাদুঘরের পরিচালক, ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বশির আহাম্মদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন চবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. আনোয়ার সাঈদ, প্রফেসর ড. সাবিনা নার্গিস লিপি, প্রফেসর ড. সালমা বিনতে শফিক, লেখক-অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসহাক প্রমুখ।

চবি জাদুঘর লেকচার সিরিজ সঞ্চালনায় ছিলেন চবি সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক মিশকাতুল মোমতাজ মুমু।

উল্লেখ্য, ১৫২৬ থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত উপমহাদেশ শাসনকারী মুঘলদের ইতিহাসে শাহজাদা দারাশিকোহর মতো চরিত্র আরেকটিও নেই। পঞ্চম মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তম জ্যেষ্ঠপুত্র, দার্শনিক-বুদ্ধিজীবী দারাশিকোহকে উত্তরাধিকারী রূপে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোহিনূর-খচিত মুকুট আর ময়ূর সিংহাসন পাওয়ার বদলে তিনি ভাগ্যাহত হয়ে প্রাণ হারান ক্ষমতার ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বে।

তথাপি পরাজিত ও নিহত দারা প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসে সম্রাট না হয়েও সম্রাটের মতোই আলোচিত। মহান মুঘল আকবরের দর্শনচর্চা, সমন্বয়বাদ, উদারনীতির উত্তরাধিকার তিনি। বিশ্ববিশ্রুত মুঘল মিনিয়েচার আর্টের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক দারার অ্যালবাম এখনো সংরক্ষিত ব্রিটিশ মিউজিয়ামে।

দারার চিন্তা ও কর্মের নানা দিক অদ্যাবধি বিশ্বব্যাপী আলোচিত। বিশেষত ধর্মনিরপেক্ষ ও সহনশীল ভারতের বীজমন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে দারার চিন্তাধারায়। রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে ব্যর্থ, কিন্তু শিল্প ও দর্শনচর্চায় সমুজ্জ্বল দারাশিকোহ যেন মুঘল সাংস্কৃতিক পরম্পরার এমনই এক ব্যক্তিত্ব, যাকে তুলনা করা যায় শেকসপিয়ারের ‘হ্যামলেট’-এর প্রিন্স অব ডেনমার্কের সঙ্গে। এক বিয়োগান্ত চরিত্র হয়ে তার মস্তক সমাহিত তাজমহল প্রাঙ্গণে আর শরীর দিল্লির হুমায়ূন মাকবারার কবরগাহে।

মুঘল সিংহাসন বঞ্চিত শাহজাদা দারাশিকোহর জীবন ও কর্মের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ আখ্যানগুলো উন্মোচিত হয়েছে ড. মাহফুজ পারভেজ রচিত 'দারাশিকোহ: মুঘল ইতিহাসের ট্রাজিক হিরো' গ্রন্থে। শাহজাদা দারাশিকোহর বহুমাত্রিক ও বেদনাময় জীবনালেখ্য ২০২১ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে প্রকাশনা ঐতিহ্যে ৭০ বছরের আভিজাত্যে ঋদ্ধ প্রতিষ্ঠান 'স্টুডেন্ট ওয়েজ'।

;