কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৭)



জিনি লকারবি ।। অনুবাদ: আলম খোরশেদ
বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

  • Font increase
  • Font Decrease

আমার শত্রুদের উপস্থিতিতে

[পূর্ব প্রকাশের পর] দাশদের তের বছরের কন্যা রাচেল খুব ভয় পেয়েছিল। তার বাবামা আমাদের প্রতিজ্ঞা করান, যেন আমাদের কোথাও চলে যেতে হলে আমরা তাকেও সঙ্গে নিয়ে যাই।

সেই সোমবার বিকালে আমাদের গির্জার দুই তরুণ সদস্য স্টিফেন ও পল (যাকে আমরা সবসময় তার ডাকনামে বাবলা বলে ডাকতাম) প্রবল গোলাগুলির মধ্যেই গা বাঁচিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে হাজির হয়। পাকিস্তানি প্লেনগুলো উড়ছিল মাথার উপরে, আর সর্বত্র আগুনের শিখাসমূহ উৎক্ষিপ্ত হচ্ছিল আকাশের দিকে। ছেলেদুটো গোলাগুলি একটু কমার অপেক্ষা করে, তারপর ফাঁক বুঝে দৌড়ে বাড়ি ফিরে যায়। আমি তাদেরকে আর আসতে বারণ করি।

আমরা বিকাল সাড়ে চারটায় আবার একত্র হই বাইবেল পাঠ ও প্রার্থনা করার জন্য। আমরা তা শেষ করা মাত্রই একটা গোটা পরিবার এসে আমাদের দোরগোড়ায় উপস্থিত হয়। তারা এমন একটা এলাকা থেকে আসে, যেখানে আমরা গোটা পাড়াকে আগুনে জ্বালিয়ে দিতে দেখেছি। এই পরিবারটি বাড়ির ভেতরে রেডিও শুনছিল, যখন একটা গোলা এসে ঢোকে জানালা দিয়ে। গুলির হাত থেকে বাচঁতে গিয়ে তরুণী বধূটি পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলে। আমরা তাকে ব্যথা কমানোর অষুধ দিয়ে, বাঁশের কঞ্চি দুই ভাগ করে তার হাতের দুদিকে রেখে কাপড় জড়িয়ে শক্ত করে বেঁধে দিই।

সে-রাতে রান্না শেষ করে খাবার খাওয়ার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। আমরা তখন বসার ঘরের মেঝেতে চুপচাপ বসে থাকি দরজাটা একটু ফাঁক করে, যেন কিছুটা বাতাস আসে। সময় কাটানোর জন্য আমরা বাইবেলের শ্লোক আওড়াই স্মৃতি থেকে। সেগুলো বাংলায় বলতে গিয়ে দ্রুত আমাদের ভাণ্ডার শেষ হয়ে যায়, এবং বাচ্চারাও ত্বরিতে পালিয়ে যায়। তারপর আমরা ‘আমি যা বলি তা ইংরেজিতে বলো’ খেলাটা খেলতে চেষ্টা করি। আমরা আস্তে আস্তে একটা ইংরেজি বাক্য বলি, আর বাচ্চারা সেটা শুনে তার প্রতিধ্বনি করে। আমরা ’ওপেন দ্য ডোর, শাট দ্য ডোর’ করার মধ্যেই দিদিমা দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকেন।

“তোমরা দরজা বন্ধ করতে চাচ্ছো কেন? এখানে তো প্রচণ্ড গরম,” তিনি অভিযোগ করেন, আমরা কী করছিলাম সেটা না বুঝেই।

আমরা হাসিতে ভেঙে পড়ি এবং সত্যি সত্যি দরজা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই, পাছে আমাদের হাসির শব্দ বাইরে রাস্তার কোনো ট্রিগার-সুখী সৈন্যের কানে চলে যায়।

আমরা যার যার বরাদ্দকৃত ঘরে যাই, কিন্তু কিছুতেই ঘুমাতে পারি না। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, শেলিংয়ের শব্দ বাড়ির বেশি কাছে চলে এলে, আমরা আমাদের ঘর ছেড়ে, হামাগুড়ি দিয়ে বসবার ঘরে চলে আসব, যেটাকে আমাদের ‘বম্ব শেল্টার’ হিসাবে ঠিক করা হয়েছিল। আসবাবগুলোকে দেয়ালের পাশে সারবেঁধে রেখে বালিশ, কুশন, কম্বল দিয়ে সব জানালা ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। ঘরটা বেশ একটা আরামদায়ক কুঠুরি হয়ে উঠেছিল, যদিও তার মধ্যে চোদ্দজন লোকের উপস্থিতিতে একে খুব একটা আরামের মনে হচ্ছিল না আর। আমাদের কুকুর চিত্রা বারান্দায় ছিল, কিন্তু মর্টার শেলের হিসহিস শব্দ তার কানে গিয়ে আঘাত করছিল, এবং প্রতিবার গোলাবর্ষণের সঙ্গে সঙ্গে সে চিৎকার করে উঠছিল। শেষ পর্যন্ত দরজা খুলে আমরা তাকেও ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দিই।

সারা মেয়েটি মেঝের ঠিক মাঝখানে শুয়ে ছিল, তার হাতগুলো উঁচু করে শূন্যে তোলা। সে একটা নিয়ম করে সেগুলোকে নাড়াচ্ছিল, মশা তাড়ানোর উদ্দেশ্যে। চিত্রা তার দিকে একবার ভালো করে তাকিয়ে, তার পাশে গিয়ে শোয়, পিঠে ভর করে, তারই মতো চার হাত-পা শূন্যে মেলে দিয়ে। আমরা মোমবাতির মৃদু আলোয় এই যুগলের দিকে চেয়ে হাসিতে ফেটে পড়ি। আমাদের সেই হাসির হল্লা সবাইকে শান্ত করে এবং আমরা যার যার মতো হয় ঘুমে ঢলে পড়ি, অথবা মশাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যুদ্ধে অবতীর্ণ হই।

সকালের দিকে বিদ্যুৎ আসে, এবং তাতে মাথার ওপরের বিশাল ঘূর্ণ্যমান ফ্যানটি মশাদের তাড়িয়ে দিলে আমরা নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারি। কিন্তু পাছে আমরা বেশিক্ষণ আরামে ঘুমিয়ে ফেলি, তাই গোলাগুলি শুরু হয়ে যায় ফের: ভারী কামান ও মর্টারের গোলার বিকট শব্দ শোনা যেতে থাকে পুনরায়।

হাতভাঙা মহিলাটি সকালে ফেরত আসেন। বোঝা গেল তিনি আমাদের চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্যটাই ধরতে পারেননি, কেননা স্নান করার সময় তিনি তাঁর হাতের ব্যান্ডেজ ও বাঁধুনিটি খুব যত্ন করে খুলে রেখেছিলেন। আমরা আবার শুরু করি, এবার তিনটি কাঠি এবং মজবুত টেপের সাহায্য নিয়ে। আমরা তাঁর স্বামীকে বলি তাঁকে মেডিকেলে নিয়ে গিয়ে প্লাস্টারের ব্যবস্থা করতে, কিন্তু তিনি জানতেন যে, সেখানে তখন কোনো চিকিৎসারই বন্দোবস্ত ছিল না। তাকে তাই আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

আমরা যখন একটু দিবানিদ্রা দিয়ে আমাদের ঘুমের ঘাটতিটুকু পুষিয়ে দিতে চাচ্ছিলাম ঠিক তখনই দুপুর দুটো নাগাদ, নির্মল আমাদেরকে ঘুম থেকে তুলে জানায় যে, পাকসেনারা আমাদের বাসার সামনের পাহাড়ে ভারী কামান-বন্দুক বসাচ্ছে। আড়াইটার দিকে তারা একেবারে পাহাড়ের চূড়ায় পাকিস্তানি পতাকা টাঙায়। একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর দুটো বিমান মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায়, একবার গোত্তা খেয়ে দু’দুটো বোমাও ফেলে যায়। তাদের লক্ষ্য ছিল শহরের উপকণ্ঠের রেডিও স্টেশনখানি। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম এটা নিয়ে, কেননা রেডিও স্টেশনটির একেবারে কাছেই ছিল গাড়িঘোড়া ও ট্রেনচলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কালুরঘাট সেতু, এবং আমাদের মালুমঘাট হাসপাতালে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাখানি।

পাকিস্তানি পতাকা দেখে ছাত্র ও অন্যান্য তরুণেরা পাহাড়ে চড়ে দেখতে গিয়েছিল এটা আসলে কাদের শিবির। কেউ ভেবেছিল বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরাই বুঝি কৌশল হিসাবে এটা ব্যবহার করছিল, অন্যেরা সৈন্যদের ভাঙা বাংলা শুনে বুঝতে পেরেছিল তারা বাঙালি নয়।

জব্বার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এরা সেই সৈন্যই যারা সামনের রাস্তা দিয়ে আসাযাওয়া করা লোকজনের ওপর গুলি ছুড়ছিল। আমাদের বাসায় যে আহত বাঙালি সৈন্যরা আসছিল চিকিৎসার জন্য সেটা তারা নাকি ঠিকই দেখতে পাচ্ছে। আমাদের বাসার মাত্র পাঁচশ গজ দূরে অবস্থান নেওয়া তারা যদি সত্যি সত্যি পাঞ্জাবি সৈন্য হয়ে থাকে তাহলে আমাদের বিপদ আছে বৈকি। সে বুঝতে পারছিল আমাদের এখান থেকে সরে যাওয়া উচিত।

তবে ইতোমধ্যে বেলা পড়ে আসাতে বাড়ি ছাড়ার জন্য সেটা ঠিক অনুকূল সময় ছিল না। রিড ও নির্মল পেছনের গলি দিয়ে রিডের বাসায় যায়। রিড বাস্তবে সাদাপোশাকে কোনো পাঞ্জাবি কিনা, লোকেদের এরকম ফিসফিসানি শুনে তিনি বাংলায় কথা বলা শুরু করেন। তিনি যাওয়ার পথে বারবার থেমে চেনা অচেনা সবার সঙ্গেই কথাবার্তা বলেন। তিনি কথাবার্তার মাঝে খুব কৌশলে এটাও জানান দিতে থাকেন যে, তিনি একজন আমেরিকান নাগরিক। বাসায় গিয়ে তার পেছনখোলা ল্যান্ডরোভার গাড়িতে তেল আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে দেখেন রিড এবং ব্যাটারি চার্জ দেবার তারটাও জায়গামতো লাগিয়ে নেন।

সেই সন্ধ্যার বাইবেল পাঠ খুব জীবন্ত ও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, যখন আমরা শত্রুর পাহাড়ের নিচে বসে আবৃত্তি করি, “আপনি শত্রুর উপস্থিতিতেই আমাদের টেবিলে খাবার তুলে দেন।” এবং টেবিলখানি সত্যিই পূর্ণ ছিল ঘরে বানানো রুটিসহ হরেকরকম খাবারে, যা রান্না করা হয়েছিল আমাদের সানবিম বৈদ্যুতিক কড়াইয়ে।

সে-রাতে আমাদের যার যার ঘরেই থাকতে পেরেছিলাম আমরা, যদিও দূর থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছিল ঠিকই। অবশ্য কোনো কারণে আমরা সবাই খুব অস্থির ও উদ্বিগ্ন ছিলাম সবাই; তবে রিড নন, তিনি দিনের বেলায় মশা ঢোকার সবগুলো ছিদ্র বন্ধ করে দিয়েছিলেন, এবং রাতে খুব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন।

সকালের নাস্তার পরপরই জব্বার ও রিড আমাদের প্রস্থানের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। আমাদের হাতে বেশি টাকা ছিল না এবং আমরা কোথায় যাচ্ছি সেটা কাউকে না জানিয়ে বেরিয়েও যেতে পারছিলাম না। দুইজনকে তো একমাইল হেঁটে গিয়ে একটা রিকশা নিতে হয়েছিল, যার চালক পাঞ্জাবি সৈন্য অধ্যুষিত এলাকার ভেতর দিয়ে রিকশা নিয়ে যেতে রাজি হয়ে যথেষ্ট সাহসের পরিচয় দিয়েছিল।

আমাদের বাইবেল ইনফরমেশন সেন্টারে গিয়ে তাঁরা দেখেন, সেটা একুশজনের একটা ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে, যারা বাড়ি থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে এমন সব লোকের। জন সরকার, এই সেন্টারেরই কর্মী ও বাসিন্দা, সে এই পুরো দলের দায়িত্ব নেয়, এবং প্রবল নৈরাজ্যের মধ্যেও এক ধরনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছিল।


বার্তা২৪.কম-এর শিল্প-সাহিত্য বিভাগে লেখা পাঠানোর ঠিকানা
[email protected]


সেই মুহূর্তের উত্তেজনার কারণ হিসাবে জন ব্যাখ্যা করে বলে, গতকাল রাতে তাদের দুই অতিথি গুর্‌গানসের বাড়িতে যাবার জন্য বেরিয়ে তখন পর্যন্ত ফিরে আসেনি। জন আমাদের চার্চের আরো কয়েকজনের ভাগ্যে কী ঘটেছিল তা জানত। পাঞ্জাবি সৈন্যরা ঢোকার পর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাজ করা খ্রিস্টান নার্সরা সবাই চলে গিয়েছিল। কয়েকজন এমনকি ছোট ভাইদের সঙ্গে নিয়ে হেঁটেই রওনা হয়ে গিয়েছিল, পঁচিশ মাইল দূরের চন্দ্রঘোনা মিশনারি হাসপাতালের উদ্দেশে।

বাইবেল ইনফরমেশন সেন্টারটি তখন পর্যন্ত ছিল মুক্তিবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকায়, কিন্তু পাঞ্জাবিরা দ্রুত এগুচ্ছিল তার দিকে। গুর্‌গানস ও বাকি বিদেশিরা যে-অঞ্চলে ছিলেন সেটা অবশ্য তাদের দখলে ছিল। সেজন্যই আমাদের সেন্টারের বাঙালিরা ভেবেছিল জব্বারের পক্ষে নো ম্যান্স ল্যান্ড পার হয়ে পাঞ্জাবি এলাকায় ঢোকাটা নিরাপদ হবে না। তত্ত্বগতভাবে রিডের অবশ্য দুই এলাকাতেই নিরাপদ থাকার কথা।

দুপুরের মধ্যে ফিরে না এলে, জব্বার যেন বাকিদের কাছে ফেরত যায়, এই নির্দেশনা দিয়ে রিড একাই বেরিয়ে গেলেন। আধা মাইল মতো হাঁটার পর তিনি একটা বড় চৌরাস্তায় গিয়ে পৌঁছান। এর একদিকে চিটাগাং মেডিকেল কলেজ, আরেক পাশে প্রবর্তক পাহাড়ের ওপর হিন্দু অনাথাশ্রম, আর এই দুই রাস্তার মিলনস্থলে আমাদের বাজার-সদাইয়ের দোকান। সেখানে পাকিস্তানি সেনারা রিডকে থামিয়ে জেরা করে, এবং তাকে আগামী এক ঘণ্টার মধ্যে সামনে না বাড়ার নির্দেশ দেয়। “আমরা একটা অভিযান চালাচ্ছি এখানে,” তারা ব্যাখ্যা করে।

এই অপেক্ষার মধ্যেই এক জার্মান অভিবাসী এসে যোগ দেন রিডের সঙ্গে। মুদি দোকানের পেছনেই তাঁর বাসা, এবং তিনি ঢাকায় গিয়ে উদ্ধারকারী বিমান ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে বাঙালি যোদ্ধাদের প্রচণ্ড যুদ্ধের বর্ণনা দেন এবং জানান যে, এর মাধ্যমে মেডিকেল কলেজের সব গুরুত্বপূর্ণ পাহাড় পাকিস্তানিরা তাদের দখলে নিয়ে নিয়েছে।

এই অপেক্ষার মধ্যেই রিড দেখেন পাকিন্তানি সেনারা আশেপাশের দোকানপাটে ঢুকে তাদের ইচ্ছামতো জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। একজন উর্দুভাষী লোক তাদেরকে মিনতি করে জিনিসপত্র লুট না করতে, কিন্তু তারা তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। [চলবে]


কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৬)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৫)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৪)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৩)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ২)

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;