কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৮)



জিনি লকারবি ।। অনুবাদ: আলম খোরশেদ
বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

বার্তার নিজস্ব অলঙ্করণ

  • Font increase
  • Font Decrease

আমার শত্রুদের উপস্থিতিতে

[পূর্ব প্রকাশের পর] একঘণ্টা অতিক্রান্ত হলে রিড আবার হাঁটা শুরু করেন। জয়পাহাড় এলাকায় অবস্থিত গুর্‌গানসের বাসায় গিয়ে রিড দেখেন, তিনি এবং পার্শ্ববর্তী বাড়ির আরো ছাব্বিশ জন বিদেশি, ঘটনা এর পর কোনদিকে মোড় নেয় সেটা দেখার অপেক্ষায় বসে আছেন। তারা বাইরে লোফালুফি খেলছেন আর তাদের পত্নীরা ফ্রিজ ও রান্নাঘরের ওপর মুর্হুমুহু হামলা চালাচ্ছেন রসালো খাদ্যবস্তু রন্ধনের বাসনায়।

তাঁরা রিডকে জানান শহরের এই অঞ্চলে কী কী ঘটনা ঘটছিল। তিনি দেখতে পান উঠোনে বুলেট ও গোলার টুকরো ছড়িয়ে আছে। তাদের সাধারণ অনুভূতিটুকু এরকম ছিল যে, খেলা শেষ; পাঞ্জাবিরা দৃশ্যত জয়ী হয়েছে এবং দুচারদিনের মধ্যেই সবকিছু সেনা শাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এটাকে একটা যৌক্তিক উপসংহার বলেই মনে হয়েছিল তাঁর কাছে। রিড ঠিক করেন আমরা থাকব এবং তিনি আবার দীর্ঘ প্রত্যাবর্তনের পথ ধরেন। পথে জব্বারের সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়াতে তারা কিছু খাদ্যদ্রব্যও কিনে আনেন, যার মধ্যে ছিল একটি পাকা তরমুজ।

কিন্তু এর মধ্যে আমি ও লিন গোছগাছ করে মালুমঘাট, এবং প্রয়োজনে আরো দূরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকি। আমরা আমাদের সমস্ত মূল্যবান দ্রব্য একটি ড্রামের মধ্যে ভরে রাখি। আমরা কাগজপত্র ঘেঁটে যেগুলোকে মনে হয়েছে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেগুলো পুড়িয়ে ফেলি। তারপর আমরা চিন্তা করতে থাকি কোনগুলোকে আমাদের সঙ্গে নিতে হবে। এর আগে জরুরি নির্গমনের বেলায় সুটকেস গোছানোর সময় আমরা সাধারণত কাপড়, উপহারসামগ্রী, স্লাইড ইত্যাদি যেসব বাড়ি নিয়ে যেতে চাই সেগুলোকেই অগ্রাধিকার দিতাম। আমরা এই সুটকেসগুলো এর আগে ফিল্ড কাউন্সিল মিটিংয়ে নিয়ে গেছি আমাদের সঙ্গে, আবার ফেরতও এনেছি। এবার সুটকেস নেওয়ার মতো জায়গা থাকবে না গাড়িতে। মানুষ ও খাদ্যদ্রব্যের জন্য যথেষ্ট জায়গা রাখতে হবে। আমরা ঠিক করি আমি ও লিন দুজনে মিলে একটি কাঁধব্যাগমাত্র নেব। আমরা দুজনে দুটো করে কাপড় পরি, সঙ্গে একটা অন্তর্বাস, রবিবারের পোশাক, একটি গয়নার বাক্স, একটি প্রসাধনীর বাক্স আর চুল বাঁধার সেই ছেলেমানুষী ক্লিপগুলো নিই, যা প্রচুর জায়গা মারে ব্যাগের। (আমাদের ব্যাগের এই দ্রব্যসামগ্রীর তালিকা নাকি প্রচুর আলোচনার জন্ম দিয়েছিল বন্ধুদের মাঝে, যারা আমাদের প্রার্থনাপ্রত্রে সে-সম্পর্কে পড়েছিল। অনেকদিনের জন্য বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় দুটি মেয়ে মিলে একটি মাত্র কাঁধব্যাগ নিয়ে যাওয়ার এই গল্প!)

সেই ছোট্ট ব্যাগের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগত জিনিসগুলোর চেয়েও অনেক জরুরি ছিল আমাদের কাছে একখানি চামড়ার ফাইল, যেখানে আমাদের বাইবেল অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যিক প্রকল্পের পাণ্ডুলিপিসমূহ লুকিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম অমরা।

বাঁধাছাদার সময় দুটো চিন্তার আবর্ত আমাদের পাশে ঘুরপাক খাচ্ছিল। দিদিমা যখন বুঝতে পারলেন আমরা কী করতে যাচ্ছি, তখন তিনি সরাসরি যেতে অস্বীকার করে বসলেন। তিনি এর আগেও কখনো পালাননি এবং এবারও কোথাও পালিয়ে যাবেন না। আমরা তাহলে কী করতে পারি? আমরা তাঁকে ছেড়েও যেতে পারিনি, তাঁকে নিয়েও যেতে পারিনি কোথাও। হঠাৎ করে অনেকটা ঈশ্বরপ্রদত্ত এক আপতিকতার মতো করে তাঁর ছেলে এসে আমাদের দরজার কড়া নাড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি তাঁর আর একটিমাত্র শাড়ি এবং পোষা বিড়ালটিকে বগলদাবা করে নিয়ে, ‘আমি তোমাদের বলেছিলাম না’ গোছের একটি চাহনি দিয়ে, তাঁর ছেলের বাড়ির পথে রওনা দিলেন, যেখানে তিনি যুদ্ধের বাকি পুরোটা সময় বিপুল বিস্মরণ ও তুলনামূলক নিরাপত্তার মধ্যেই কাটিয়ে দিতে সক্ষম হন।

একই সঙ্গে, নিচতলার ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীরাও আসেন আমাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে। আমাদের যাওয়ার মতো একটি জায়গা আছে শুনে, ছয় বাচ্চার তরুণী মাতা, সবক’টাই আট বছরের নিচে, ডুকরে কেঁদে ওঠেন। “আমাদেরকেও আপনাদের সঙ্গে নিয়ে যান, দোহাই, আমাদেরকে নিয়ে যান।”

“গাড়ি ভরে গেছে, সেখানে কোনো জায়গাই নেই” বলতে আমাদের বুক ভেঙে যাচ্ছিল, কিন্তু সত্যি সত্যি গাড়িটি ততক্ষণে বিপজ্জনকভাবে অতিভর্তি হয়ে গিয়েছিল।

দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ রিড এসেই বোমা ফাটান এই বলে যে, আমাদের কোথাও যাওয়া উচিত হবে না। আমরা তাকে যাওয়ার পক্ষে আমাদের কারণগুলো জানাই:

• আমরা যদিও সরাসরি গোলার আঘাতে সম্ভাব্য মৃত্যুর ভয়ে ভীত ছিলাম না, তবুও যদি কোথাও যাওয়ার সুযোগ থাকে তাহলে এভাবে বোকা হাঁসের মতো বসে থাকার কোনো মানে হয় না।

• মঙ্গলবার রাতে রিড আলতোভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, যেটা তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে, সেটা হচ্ছে জয়লাভের পরে পাঞ্জাবিরা মেয়েদের সঙ্গে কী আচরণ করে। এটা আমাদেরকেও ভাবাচ্ছিল—কেবল নিজেদের জন্যই নয়, বসু পরিবারের বাচ্চা বাচ্চা মেয়েগুলোর জন্য।
• গত পাঁচরাতে মোটেও ঘুমাতে না পেরে আমরা খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।
• আমাদের পানি ফুরিয়ে গিয়েছিল আবার এবং অন্যান্য রসদও শেষ হবার পথে।

রিড আমাদের এইসব যুক্তির ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ দেখান না। এরপর আমাদেরই কেউ—এটা আমি নাকি লিন ছিলাম—আমি ঠিক মনে করতে পারছি না, বলে ওঠে, “আমাদের মনে হয় এবার ঈশ্বরই চান আমরা যেন চলে যাই।”

সেটাই যথেষ্ট ছিল। রিড আমাদের সঙ্গে তর্ক করতে পারেন, কিন্তু ঈশ্বরের সঙ্গে কখনোই নয়।

আমার ক্ষেত্রে, এই নিশ্চিত তাড়নাটুকু ছিল একটা অদ্ভুত ব্যাপার। আমার খ্রিস্টীয় অভিজ্ঞতাটুকু ছিল অনেকটা পায়ে পায়ে অনুসরণ করে যাওয়ার মতো। আমার জীবনে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে খুঁজে পাওয়ার মতো কোনো নাটকীয় ঘটনা ঘটেনি তখনও। এমনকি বৃহৎ বিষয়েও—যেমন স্কুল-পছন্দ, পেশা-নির্বাচনের ক্ষেত্রে—কোনো আলো, দৈববাণী কিংবা বিশেষ নির্দেশনা ব্যতিরেকেই সবকিছু ঠিকঠাক মিলে গিয়েছিল। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ আলাদা। এটা একেবারে নিশ্চিত নির্দেশনা ছিল, “এটাই পথ। এই পথে হাঁটো তুমি।”

একবার যখন সিদ্ধান্ত হয়ে গেল যে, আমরা যাচ্ছি, তখন আর রিড কোনো সময় নষ্ট করলেন না।

র‌্যাচেলকে আনার জন্য নির্মলকে পাঠিয়ে দিয়ে, রিড ও জব্বার গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। অলৌকিকভাবে এবার এটা প্রথম চেষ্টাতেই চালু হয়। তারপর আসে দ্বন্দ্ব : তিনি কি গলির ভেতর দিয়ে, অজানা বিপদের মাঝ দিয়ে এঁকেবেকে এগুবেন, নাকি একবারে বড় রাস্তা ধরে কামান-বন্দুকের নিচ দিয়ে গাড়ি চালাবেন? রিড দ্বিতীয়টির পক্ষে সায় দেন।

আমি শেষবার বাড়িটা ঘুরে দেখি সবকিছু বন্ধ করা ও তালা লাগানো হয়েছে কিনা। আমি নিচু হয়ে দেখতে চেষ্টা করি রেফ্রিজারেটরের কেরোসিন শিখা জ্বলছে কিনা। গত পাঁচদিন ধরে এর কাঁটা শূন্যের ঘরে ছিল। আমার চোখের সামনেই শিখাটি শেষবার জ্বলে উঠে নিভে গেল।

আমাদের গলির কোনায় গাড়িটা দাঁড়ালে মি. দাশ ও তাঁর মেয়ে র‌্যাচেল গাড়ির দিকে এগিয়ে আসে। আমরা পাঁচজন গাড়ির ভেতরে উঠি আর বাকিরা পেছনের খোপে কাপড়চোপড় ও চাল, আটা, ময়দার ব্যাগের সঙ্গে। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা ছিল পেছনের বামদিকের চাকার প্রায় চুপসে যাওয়া টায়ারখানি। আমরা একটা রিকশা পেয়ে যাই যে কিনা দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, একটি বাচ্চা ও একটি কুকুরকে যাত্রী হিসাবে নিতে রাজি হয়; আর বাকিদেরকে নিয়ে রিড কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আমাদের অফিসে পৌঁছে, চাকায় বাতাস ভরার পাম্পটা আনতে সক্ষম হন।


বার্তা২৪.কম-এর শিল্প-সাহিত্য বিভাগে লেখা পাঠানোর ঠিকানা
[email protected]


চাকায় বাতাস ভরে, একটা বাড়তি ধাক্কায় গাড়িখানা চালু করে আমরা শহর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ি। আমরাই একমাত্র শহর ছাড়ছিলাম না। বিভিন্ন মডেল ও মেয়াদের গাড়ি মানুষে ও মালপত্রে ঠাসাঠাসি হয়ে হর্ন দিতে দিতে আমাদের পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল আর আমরাও তাদের অনুসরণ করে শহরত্যাগের কাফেলায় যোগ দিই।

শহরের উপকণ্ঠে আমরা সেই বেতারকেন্দ্রটা পেরিয়ে যাই যেটা এই সপ্তাহের শুরুতে ছিল বোমা ও গোলাগুলির প্রধান লক্ষ্যবস্তু। শহর থেকে বেরুনোর পরপরই শুরু হলো তল্লাশি চৌকি। প্রতিটাতেই আমাদের থামানো, জিজ্ঞাসাবাদ এবং মাঝেমধ্যে তল্লাশিও করা হচ্ছিল। কিছু চৌকি পাহারা দিচ্ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যদের দ্বারা প্রশিক্ষিত চৌকশ জোয়ানরা, আবার কয়েকটায় এমন বোকাহাবা লোকেরাও ছিল যারা মনে হচ্ছিল বন্দুকটাও কিভাবে ধরতে হয় জানে না। সবচেয়ে বিশদ তল্লাশি হয় কালুরঘাট ব্রিজের ওপারে। সেখানে তারা এক পর্যায়ে রিডকে একপাশে ডেকে নিয়ে অনুরোধ করে, তিনি যেন এ নিয়ে নিক্সনের সঙ্গে কথা বলেন। আমেরিকানদের ওপর তাদের কতখানি বিশ্বাস ছিল, (এই ক্ষেত্রে যদিও সেটা ছিল অপাত্রে দান করা বিশ্বাস) সেটা দেখে আমাদের বুক ভেঙে যাচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো সরাসরি যোগাযোগ থাকতে পারে এমন সরল বিশ্বাসে তারা চিৎকার করে বলে, “আমেরিকা যদি জানত তারা এখানে কী করছে আমাদের ওপর, তাহলে নিশ্চয়ই সে এসে আমাদের সাহায্য করত।”

এক জায়গায় জনৈক ব্যক্তি আমাদের গাড়ির জানালায় তার মাথা ঠেকিয়ে জিজ্ঞাসা করে, “আপনারা আমাকে চিনতে পারছেন?”

আমি সেই লাল শার্ট-পরা গার্ডকে চিনতে না পারলেও, সে নিজেই পরিচয় দিয়ে বলে, সে পিআইএ অফিসের সেই কেরানি যে-আমাদেরকে বিমানের টিকিট বিক্রি করেছিল।

সব মিলিয়ে সেই পঁয়ষট্টি মাইলের যাত্রাপথে মোট সতেরোটি তল্লাশি চৌকি ছিল। প্রতিটা চৌকিতেই আমরা মুক্তিবাহিনীর জন্য চাঁদা দিয়েছিলাম।

মাঝরাস্তায় আমরা একবার গাড়ি থেকে বেরিয়ে শরীরের আড় ভাঙি, তরমুজ কিনে খাই এবং বোমার ধোঁয়া কিংবা গলিত লাশের গন্ধে অকলুষিত বাতাসে বুকভরে নিঃশ্বাস নিই।

এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে, আমরা একটা ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়ানো শহর ছেড়ে পালাচ্ছি। এখানে বসন্তের বিকালের বাতাস প্রশান্ত ও মধুর, বাংলাদেশের পতাকা এখনো প্রতিটি বাড়ির দোরগোড়ায় উড্ডীন আর গ্রামবাসীরা তখনও প্রত্যেককে ‘জয় বাংলা’ বলে সম্ভাষণ জানাচ্ছিল।

বিকাল সাড়ে পাঁচটায় আমরা মালুমঘাট হাসপাতালের ভেতর ঢুকি। হাসপাতাল ভবন ও আবাসিক এলাকার মাঝখানের রাস্তায় মিশনারি ল্যারি গলিন তখন পায়চারি করছিলেন।

আমাদেরকে দেখে একগাল হেসে তিনি ছোট্ট একটি বাক্যে তাঁর পুরো অনুভূতিটুকু জানিয়ে দিলেন, “ও, কী যে খুশি হয়েছি তোমাদের দেখে!”

হাসপাতাল ভবনের পেছন থেকে আবাসিক এলাকা হয়ে, মিশনারিদের বাড়িঘর ছাড়িয়ে সামনে এগুতে এগুতে আমাদের মনে হচ্ছিল আমরা বুঝি এক শান্তির মরূদ্যানে এসে উপস্থিত হয়েছি। যুদ্ধকে মনে হচ্ছিল অনেক দূরের বিষয়। প্রাঙ্গণের একেবারে শেষপ্রান্তে অবস্থিত নার্সদের কোয়ার্টারে পৌঁছানোর আগেই আমাদের আসার খবর ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ মিশনারি পরিবার ও আমাদের বাঙালি বন্ধুরা একটি আনন্দাশ্রুময় পুনর্মিলনের জন্য জমায়েত হয়।

সবাই একসঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। আমাদের ফিল্ড কাউন্সিল সভাপতি জে ওয়াল্শ পরামর্শ দেন, “চলো আমরা একটা সভা করি, যাতে করে সবার গল্প সবাই একসঙ্গে শুনতে পারি।”

সেই সভা দিয়েই শুরু হলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে মিটিংভারাক্রান্ত তিনটি সপ্তাহ। নতুন কিছু ঘটলে কিংবা কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার হলেই সবাই মিলে আলাপ-আলোচনার গুরুত্বটুকু বোঝা যেত তখন। সেদিনের প্রথম সভায় আমরা চিটাগাংয়ের প্রতিবেদন পেশ করি।

তারপর সারা রাত ধরে নির্বিঘ্ন নিদ্রার আনন্দ। না ঠিক, পুরো নির্বিঘ্ন নয়। হাসপাতালটির নিকটেই ছিল জঙ্গলের মধ্যে একটি কাঠ চেরাইয়ের কল। পাহাড়ের চূড়ায় গাছগুলো কেটে নদীতে অপেক্ষমাণ সাম্পানের উদ্দেশে গড়িয়ে দেওয়া হতো। কাঠের গুঁড়িগুলো যখনই শব্দ করে গড়িয়ে পড়ত নিচে, তখনই ধড়ফড় করে জেগে উঠত লিন, আবারও বুঝি সেই গোলাগুলির দিনগুলোতে ফেরত গেছে সে, এই কথা ভেবে। [চলবে]


কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৭)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৬)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৫)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৪)
কর্মব্যপদেশে, একাত্তরের বাংলাদেশে: জনৈক মার্কিন সেবিকার স্মৃতিকথা (কিস্তি ৩)

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;