বাজেট বক্তৃতায় অনুপস্থিত দেশীয় খনিজ সম্পদ

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাজেট বৃক্তৃতায় অনুপস্থিত দেশীয় খনিজ সম্পদ

বাজেট বৃক্তৃতায় অনুপস্থিত দেশীয় খনিজ সম্পদ

  • Font increase
  • Font Decrease

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় অনুপস্থিত দেশের খনিজ সম্পদ আহরণের বিষয়টি। গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় এলএনজি আমদানিকে সামনে এনেছেন।

গ্যাস ঘাটতির কারণে এখনই হিমশিম খেতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগকে। আরও উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে, বিদ্যুতের উৎপাদন ও শিল্পকারখানা সংকটে পড়তে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের এমন শঙ্কা সঠিক হলে সরকারের সবচেয়ে বড় সফলতা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ গলার কাঁটায় পরিণত হতে পারে। দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে আসলেও বাজেট বক্তৃতায় তার কোনই প্রতিফলন নেই।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন এক সেমিনারে বলেছেন, আমাদের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে ১১ হাজার মেগাওয়ার্ট। এসব কেন্দ্রে ১৫শ এমএমসিএফডি চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি ১২শ এমএমসিএফডি (আগস্ট ২০২০)। যা দিয়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করতে পারি। প্রায় ২৫ শতাংশ গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে থাকছে। গ্যাস থেকে পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৮২৫০ মেগাওয়াটের মতো।

বাংলাদেশে ২৭টি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কৃত হয়েছে। এসব ফিল্ডে প্রমাণিত মজুদের পরিমাণ ২১ দশমিক ৪ টিসিএফ, আরও ৬ টিসিএফ রয়েছে সম্ভাব্য মজুদ। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ১৮ টিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রমাণিত মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৩ টিসিএফ, আর সম্ভাব্য মজুদ রয়েছে আরও ৭ টিএসএফ’র মতো। আর প্রতি বছরে উত্তোলিত হচ্ছে প্রায় ১ টিসিএফ’র মতো।

আন্তর্জাতিক জালানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী খন্দকার সালেক সূফী বার্তা২৪.কম-কে বলেছেন, গ্যাসের উৎপাদন কমতে শুরু করেছে। এক সময় ২৭০০ এমএমসিএফডি উৎপাদিত হতো এখন আড়াই হাজারের নিচে নেমে এসেছে। বর্তমানে দৈনিক উত্তোলিত গ্যাসের প্রায় ৫০ শতাংশ আসছে শেভরনের ফিল্ড থেকে। বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বিবিয়ানা ফিল্ডে পানি আসা শুরু করেছে। যে কোনো সময় ফিল্ডটির গ্যাস উৎপাদন ব্যাপক আকারে কমে যেতে পারে। কি হারে হ্রাস পাবে তা ধারণাতীত হতে পারে।

২০২৩ সাল নাগাদ গ্যাস উৎপাদন বড় ধরনের হ্রাস পেতে পারে। তেমন পরিস্থিতির জন্য পেট্রোবাংলার কোনো প্রস্তুতি ‍দৃশ্যমান নয়। তারা এখনই গ্যাসের যোগান দিতে পারছে না। এলএনজি আমদানি করেও ঘাটতি সামাল দিতে পারছে না। গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে দ্রুতগতিতে, সেখানে যদি দেশীয় গ্যাস হ্রাস পায় তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। বর্তমানে এলএনজি আমদানি করে ঘাটতি মোকাবিলা করার চেষ্টা চলছে। এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানো বিষয়টিও সময় সাপেক্ষ এবং ব্যয় বহুল।

২০২৫ সালের আগে এলএনজি আমদানি বাড়ানো সম্ভব না। বর্তমানে ১০০০ এমএমসিএফডি এলএনজি আমদানি করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এই এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা ছিল ২০১৪ সালে। বাস্তবায়ন হতে আর ৫ বছর বেশি সময় লেগে গেছে। ২০১৮ সালের আগস্টে প্রথম ইউনিট ৫০০ এমএমসিএফডি আনতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয় ইউনিট এসেছে ২০১৯ সালের এপ্রিলে। মাতারবাড়িতে ১০০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতা সম্পন্ন ল্যান্ড বেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। মাত্র কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত সময়ে আসবে সে কথা বলা জটিল। পূর্বের অভিজ্ঞতা নেগেটিভ উত্তর দেয়। অর্থাৎ ঘাটতি বেড়ে গেলেও বাড়তি এলএনজি আমদানির ‍পথ প্রায় বন্ধ।

অথচ অর্থমন্ত্রী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট চাহিদার অবশিষ্ট এলএনজি আমদানি করে যুক্ত করা হচ্ছে। সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য মাতারবাড়িতে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার ল্যান্ড-বেইজড একটি এলএনএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারতো কয়লা উত্তোলন ও বেশি বেশি কূপ খনন করা। কিন্তু সেই ট্রেন মিস করেছে বলে মনে করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কয়লা এখনই না তোলার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। আর বেশি কূপ খনন থেকেও রয়েছে অনেকটা পিছিয়ে। সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানও হতাশাজনক।

জ্বালানি বিভাগের যখন বেহাল অবস্থা, তখন বিদ্যুৎ বিভাগ নতুন নতুন গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়ন করে চলেছে। ২০১৬ সালের রিভাইস মাস্টারপ্লানে ২০২১ সালে ২৬৬১ মেগাওয়াট ও ২০২২ সালে ১১৮৮ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র যুক্ত হওয়ার কথা।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

চার ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
চার ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে আজ

চার ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে আজ

  • Font increase
  • Font Decrease

পাইপ লাইনের জরুরি কাজের জন্য আজ বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা রাজধানী ঢাকার আটটি এলাকায় সকল শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পা নিলিমিটেড জরুরি গ্যাস শাট ডাউন বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

তিতাস জানায়, আজ বুধবার রাজধানীর পূর্ব মানিকনগর, ধলপুর, গোপীবাগ, আর কে মিশন রোড, অভয়নগর লেন, কে এম দাস লেন, স্বামীবাগ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে এবং আশেপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

মাসরুর আরেফিন পুনরায় সিটি ব্যাংকের এমডি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
মাসরুর আরেফিন পুনরায় সিটি ব্যাংকের এমডি

মাসরুর আরেফিন পুনরায় সিটি ব্যাংকের এমডি

  • Font increase
  • Font Decrease

মাসরুর আরেফিন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে পুনর্নিয়োগ পেয়েছেন। সম্প্রতি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পরে বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী তিন বছরের জন্য তার পুনর্নিয়োগে অনুমতি প্রদান করেছে।

সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সারের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার ব্যাংকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসরুর আরেফিন ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। গত তিন বছরে তিনি ব্যাংকটিকে ভিন্নতর উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এই সময়কালে ব্যাংকটির বার্ষিক আয় ৩৫ শতাংশ বেড়ে ২০০০ কোটি টাকা অতিক্রম করে এবং পরিচালন মুনাফা ৬১ শতাংশ বেড়ে সিটি ব্যাংক ১০০০ কোটি টাকা মুনাফার সম্মানজনক ক্লাবে প্রবেশ করে। একইসঙ্গে গত তিন বছরে ব্যাংকটির আয় ও ব্যয়ের অনুপাত ৫৯ শতাংশ থেকে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য বার্ষিক ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

মাসরুর আরেফিনের নেতৃত্বে সিটি ব্যাংক মূলত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এজেন্ডা মাথায় নিয়ে একটি শহরভিত্তিক ব্যাংক থেকে সমগ্র দেশের আপামর জনমানুষের জন্য ডিজিটাল ব্যাংক হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ব্যাংকে ডিজিটাল ন্যানো লোন এবং প্রথাগত ক্ষুদ্র ও মাইক্রো ফাইন্যান্সের সূচনা করেন।

মাসরুর আরেফিন এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে ১৯৯৫ সালে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে যোগদান করেন। ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি এএনজেড ব্যাংক মেলবোর্ন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক কাতার, সিটি ব্যাংক এনএ, আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন।

মাসরুর আরেফিন তার ব্যাংকার পরিচয়ের পাশাপাশি একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, কবি ও অনুবাদক হিসেবেও সুপরিচিত।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

চলতি অর্থবছরে ভারতে রফতানি ছাড়াবে ২ বিলিয়ন ডলার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি প্রথম বারের মতো ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। দু’দেশের এই বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিতে আগ্রহী ভারত। এজন্য দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই’র সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রী বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে এফবিসিসিআই সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত। মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্রী বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, লজিস্টিকস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অটো মোবাইল ও পোশাকখাতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নত করতে চায় তার দেশ।

এসময় এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এফবিসিসিআইর প্রধান লক্ষ্য। এখাতের উন্নয়নে সরকারকে ১২ বছরব্যাপী পরিকল্পনা জমা দিতে কাজ করছে এফবিসিসিআই। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্ভাবনা বিষয়ে সভাপতি বলেন, এলডিসি পরবর্তী সময়ে পোশাক শিল্পে সুতা ও তুলার বড় যোগানদাতা হতে পারে ভারত। বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানিগুলো ভালো করছে। তাই বাংলাদেশে অন্যান্য ভারতীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগও লাভজনক হবার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন মোঃ জসিম উদ্দিন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে স্থলবন্দরগুলোর ভারতীয় অংশের অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ দেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন ভারতীয় বন্দরের সুযোগ সুবিধার অভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেক পণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না। তাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারতের রাষ্ট্রদূত জানান, পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল দ্রুত ও সহজ করতে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে শিগগিরই আরেকটি নতুন গেট চালু করা হবে। অন্যান্য স্থলবন্দরে আরো বেশি পণ্য আমদানি-রফতানির সুযোগ বাড়লে ভারতীয় অংশে উন্নয়ন কাজ হাতে নেয়ার আশ্বাস দেন বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। তিনি বলেন, তার সরকার দুইদেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরো সহজ করতে আগ্রহী। এজন্য আগামী ফেব্রুয়ারিতে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এছাড়াও দুইদেশের মধ্যে সিইও’স ফোরাম চালুর আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের ফোরাম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সমস্যা দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সৌজন্য সাক্ষাতে এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি মোঃ হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু, বিজয় কুমার কেজরীওয়াল, মো. শাহ জালাল, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, ড. যশোধা জীবন দেব নাথ, প্রীতি চক্রবর্তী ও  মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন। 

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

‘চা’ এর ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিটিআরআই



বিভোর বিশ্বাস, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট। ছবি: বিভোর বিশ্বাস

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট। ছবি: বিভোর বিশ্বাস

  • Font increase
  • Font Decrease

চুমুকেই যেখানে জাদু- এর নামই ‘চা’। এক কাপ চায়ে আসে সতেজতা। প্রাণবন্তভাব। এভাবেই চা জনপ্রিয়তার শীর্ষে। দিন দিন বেড়েই চলেছে এর চাহিদা। চা এর শিকড় গাঁথা রয়েছে শ্রীমঙ্গলে। কেননা, এখানেই ইতিহাস আর ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশের একমাত্র চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশে চা এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল। এখানে রয়েছে অসংখ্য চা বাগানের টিলাময় সবুজ শ্যামল পাহাড়ি জনপদ। এখানকার চা শিল্পের গুরুত্ব ও পরিবেশগত তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে শ্রীমঙ্গলেই ১৯৫৭ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ বা ‘বিটিআরআই’।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে সিলেটের মালনিছড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয়। চা বোর্ড প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর অবাঙালিরাই চা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪ জুন ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ হতে ২৩ অক্টোবর ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রথম বাঙালি হিসাবে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত থেকে বাঙালি জাতিকে সম্মানিত করেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের চা শিল্পের হাল ধরার পর থেকে মহান স্বাধীনতার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী উভয় সময়ে দেশের চা শিল্পের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন - যার ফলে দেশের চা শিল্প আজ বিকশিত হয়েছে।


তিনি ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টি রিসার্চ স্টেশনের গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করে উচ্চ ফলনশীল জাতের (ক্লোন) চা গাছ উদ্ভাবনের নির্দেশনা প্রদান করেন। চায়ের উচ্চফলন নিশ্চিত করতে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চট্টগ্রামের কর্ণফুলি এবং শ্রীমঙ্গলস্থ ভাড়াউড়া চা বাগানে উচ্চফলনশীল জাতের চারা রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের চা বাগানসমূহ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক ব্যাপকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। মহান স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে সময়ে তিনি ধ্বংস প্রাপ্ত চা বাগানসমূহ পুনঃগঠন ও পুনর্বাসনের জন্য “বাংলাদেশ টি ইন্ডাস্ট্রিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটি (BTIMC)” গঠন করে যুদ্ধোত্তর মালিকানাবিহীন/পরিত্যাক্ত চা বাগান পুনর্বাসন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এছাড়াও যুদ্ধে বিদ্ধস্ত পরিত্যক্ত বাগান মালিকদের নিকট পুনরায় হস্তান্তর করেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত চা কারখানাগুলো পুনর্বাসনের জন্য চা শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি করেন। চা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর সরকার চা উৎপাদনকারীদের নগদ ভর্তুকি প্রদান করার পাশাপাশি ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। তিনি ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ টি রিসার্চ স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে উন্নীত করেন। বর্তমানে তা বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI) নামে পরিচিত। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট এর উদ্ভাবিত নতুন নতুন টেকনোলজি এবং উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের চা উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ।


বিটিআরআই এর পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, বৈজ্ঞানিক গবেষনার মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীলতা ও গুনগত মান বৃদ্ধি, চা শিল্পের উন্নয়ন ও উৎকর্ষে বিজ্ঞান ভিত্তিক পরামর্শ ও সহায়তা দান এবং গবেণালব্ধ প্রযুক্তি চা শিল্পে বিস্তার করাই এ প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। বর্তমানে এ ইনষ্টিটিউট ১২টি জাতীয় কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবেও পরিগনিত। এ ইনষ্টিটিউট এ যাবৎ উচ্চ ফলনশীল ও আকর্ষনীয় গুনগতমান সম্পন্ন ২৩টি ক্লোন ও ৫টি বীজজাত উদ্ভাবন করেছে।

 ‘ইনস্টিটিউটের পরিচালক কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রধান। বর্তমানে ৮টি গবেষণা বিভাগের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান চা শিল্পে বিস্তার ও বাস্তবায়নে চা শিল্পের অগ্রগতি ও উন্নয়নে প্রবহমান অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

প্রতি বছর বিভিন্ন ভ্যালীর চা বাগানসমূহের ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপকগণ নিয়ে আমরা চা উৎপাদনে প্রুনিং, পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং নার্সারী ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে থাকি বলে জানান পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;