বাজেটে তামাক কর  কিশোর-তরুণদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি 

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাজেটে তামাকের কর কাঠামোর প্রস্তাব তামাক কোম্পানিকে নতুন ধূমপায়ী সৃষ্টি এবং পুরনো ধূমপায়ীকে উৎসাহী করতে সহযোগিতা করবে উল্লেখ করে তামাক বিরোধী সংগঠনের নেতা রা বলেন, কিশোর -তরুণদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বয়ে আনবে এই প্রস্তাব। 

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যত সংগঠন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) ও তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)- এ আশংঙ্কা প্রকাশ করেছ।

সংগঠনের নেতারা বলেন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকের ব্যবহার ৫% এ কমিয়ে আনার লক্ষ্য মাত্রা থাকলেও, প্রস্তাবিত বাজেটের কর কাঠামো তামাক ব্যবহার কমাতে কোন ধরনের ভূমিকা রাখবে না।  বাংলাদেশে প্রায় ৭২ ভাগ মানুষ নিম্নস্তরের সিগারেট সেবন করে। নিম্ন ও মধ্যমস্তর মিলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮৮ ভাগ। এই দুই স্তরের সিগারেটের মূল্য না বাড়ায় ব্যবহারের পরিমাণ বাড়বে এবং সিগারেট সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর-তরুণরা ধূমপান শুরু করতে উৎসাহিত হবে। একইসাথে জর্দা, গুল ও বিড়ির মূল্য অপরিবর্তিত থাকায় এগুলোর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক হুমকি বয়ে আনবে।

তারা আরও বলেন, কর বৃদ্ধি তামাক ব্যবহার ত্যাগে কার্যকর ব্যবস্থা হলেও এ বাজেটে বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে কভিড মহামারীকালে এটি মূখ্য বিবেচ্য হলেও সকারের কাছে তা গুরুত্ব পায়নি।

এই প্রতিক্রিয়ায় তারা তামাকজাত দ্রব্যের ওপর এই মূল্য ও কর প্রস্তাব হতাশাজনক উল্লেখ করে বলেছে, এর ফলে তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থ্যতা ও মৃত্যু মারাত্বক আকার ধারণ করবে একইসাথে সুনির্দিষ্ট করারোপ পদ্ধতির প্রবর্তন না করায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে, কিন্তু তামাক কোম্পানি লাভবান হবে। 

তামাক বিরোধী সংগঠনসমূহের মতে, নিম্ন স্তরের সিগারেট, জর্দা, গুল ও বিড়ির মূল্যে কোন পরিবর্তন না করায় বিশেষকরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়ে যাবে। একইসঙ্গে তাদের তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারও বাড়বে। তামাক ব্যবহারজনিত রোগ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার ফলে দেশ বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে। 

তারা আরো বলেন, বাংলাদেশে সিগারেটের অধিকাংশ বিক্রি হয় খুচরা শলাকা হিসাবে। সিগারেটের উচ্চ স্তরে ১০ শলাকার মূল্য মাত্র ৫ টাকা ও প্রিমিয়াম স্তরের মূল্য মাত্র ৭ টাকা বৃদ্ধিতে খুচরা শলাকার দামে কোন পরিবর্তন আসবে না। এবং এই বৃদ্ধি এক বছরে মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়-স্বামর্থ বৃদ্ধির চেয়ে কম হওয়ায় এখানেও ব্যবহারকারি বাড়বে। সার্বিকভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের লক্ষ্যও বাধাগ্রস্ত হবে।

প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেন, দেশের তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবীসহ মূল্য ও কর প্রস্তাব সকারের কাছে পেশ করে। তারা বলেন, প্রস্তাবিত পরিমাণে মূল্য ও কর নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা হলে ১১ লক্ষ প্রাপ্ত বয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দেবে এবং ৮ লক্ষ তরুণ নতুন করে ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। পাশাপাশি ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে ৮ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষা হবে। একইসঙ্গে রাজস্ব আয় প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনটিটিপি এর কনভেনর ড. রুমানা হক বলেন, বাজেট প্রস্তাবে নিম্নস্তর ও মধ্যম স্তরের সিগারেটে কোনো ধরনের মূল্য পরিবর্তন না করে এই দুই স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম আগের বছরের মতোই ৩৯ টাকা ও ৬৩ টাকা বহাল রাখা হয়েছে এবং জর্দা, গুল ও বিড়ির মূল্যেও কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। অথচ একইসময়ে মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্যের মূল্যও বেড়েছে। সেই বিবেচনায় মূল্য না বাড়ানোর ফলে এসব তামাকজাত দ্রব্য আগের বছরের তুলনায় আরো সহজলভ্য হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, করারোপে অ্যাডভেলোরেম পদ্ধতি বহাল থাকায় উচ্চ স্তরের মূল্য বৃদ্ধি থেকে তামাক কোম্পানি লাভবান হবে। একটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানির নিজস্ব হিসাব মতে ২০১৮ সালে তারা ২৮% মুনাফা অর্জন করে। যা অন্য কোন ব্যবসাতেই সম্ভব না। ওই একই তামাক কোম্পানির নিজস্ব নথিতে দেখা যায়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ এই ১০ বছরে তাদের উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ কিন্তু একই সময়ে তাদের মুনাফা বেড়েছে পাঁচ গুণ। আমাদের ত্রুটিপূর্ণ কর ব্যবস্থার কারণে এটি হচ্ছে।

বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি বিবেচনায় মাননীয় অর্থমন্ত্রীর এই প্রস্তাব প্ররিবর্তন করে মহান জাতীয় সংসদে আমাদের প্রস্তাব অনুসারে সুনির্দিষ্ট করারোপ পদ্ধতির প্রবর্তন ও সকল তামাকজাত দ্রব্যের ওপর যৌক্তিক পরিমানে মূল্য ও কর নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

 

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

জ্বালানির একাধিক বিকল্প উৎস থাকা বাঞ্ছনীয়: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জ্বালানির একাধিক বিকল্প উৎস থাকা বাঞ্ছনীয়: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

জ্বালানির একাধিক বিকল্প উৎস থাকা বাঞ্ছনীয়: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

সাশ্রয়ীমূল্যে আমরা গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ করতে চাই। জ্বালানির একাধিক বিকল্প উৎস থাকা বাঞ্ছনীয় বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বুধবার (২৫ মে) বুধবার সমন্বিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মহাপরিকল্পনার সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে জাইকার স্টাডি টীমের সাথে আলোচনাকালে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমন্বিত মহাপরিকল্পনা হতে হবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির টেকসই অবকাঠামো বিনির্মাণের ভিত্তি। দক্ষ ব্যবস্থাপনার সাথে জ্বালানি সম্পদের চাহিদা ও সরবরাহের সবোত্তম সমন্বয় থাকবে। আগামীর সম্ভাব্য  সমস্যা এবং তার সমাধান থাকবে এখনই।  বাস-ট্রেন বিদ্যুতে চলাচল, গ্রীণ হাইড্রোজেন নিয়েও এ মহা-পরিকল্পনায় সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকতে হবে। ইন্ডাকশন কুকার বা সোলার সেচ পাম্প নিয়েও কাজ করা যেতে পারে। ক্লীন এনার্জি পোর্টফোলিও উত্তরোত্তর বাড়ানোর প্রতিকল্প যেন থাকে।

তিনি বলেন, ফুয়েল মিক্সে প্রচলিত জ্বালানির সাথে আগামীর সম্ভাব্য জ্বালানির প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। বিদ্যুৎ বা গ্যাস ব্যবহারের অপরচুনিটি কষ্ট ও কৃষি বা শিল্পে ব্যবহার প্যাটার্ণও এখানে থাকতে পারে।

দ্য ইন্সটিটিউট অব এনার্জি ইকনোমিকস জাপান কর্তৃক প্রণীতব্য মহাপরিকল্পনার ষ্টাডি টীমের প্রধান ইচিরো কুতানি সার্বিক অগ্রগতি বিষয়ে আলোকপাত করেন।

তিনি বলেন, আগামী অক্টোবর ২০২২ নাগাদ খসড়া মহাপরিকল্পনা হবে। নভেম্বর ২০২২ নাগাদ অংশীজনদের

সাথে সভা করে তা চূড়ান্ত করা হবে। চাহিদার পূর্বাভাস, চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়,রেফারেন্স দৃশ্যকল্প, নেট-শূন্য দৃশ্যকল্প, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দৃশ্যকল্প, জ্বালানি সংরক্ষণ, সাশ্রয়ী  নবায়ণযোগ্য জ্বালনি, জ্বালানির বৈচিত্রকরণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈচিত্রময় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সাথে বিদ্যুৎ-জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিয়েও আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল এবং টেকসই নবায়ণযোগ্য জ্বালানি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান দুটি জাইকার সাথে কাজ করলে আরো বাস্তবসম্মত ফল পাওয়া যাবে।

এসময় অন্যান্যের মাঝে জাইকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তোশিয়ুকি কোবাইয়াশ ও জাইকা বাংলাদেশের প্রতিনিধি তারো কাৎসোরাই উপস্থিত ছিলেন।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাংলাদেশ সাহসী পরিকল্পনা নিয়েছে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে নবায়ণযোগ্য জ্বালানি হতে ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভিশনারী ও সাহসী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার (২৪ মে) ‘পঞ্চম এনার্জি ট্রানজিশন কাউন্সিলের মন্ত্রী পর্যায়ের সভা’য় বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বংলাদেশ সবুজ জ্বালানির ব্যাপক প্রসারের জন্য কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এনার্জি ট্রানজিশন কাউন্সিল ও ক্লাইমেট ফান্ড সহযোগিতা করলে এলক্ষ্যমাত্রাকে দৃশ্যমান করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনায় সবুজ জ্বালানির প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। খসড়া এই মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে ভবিষ্যতে কার্বন নিঃসরণের নেট-শূন্য দৃশ্যকল্প পরিস্কার হবে। মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনায়ও বাংলাদেশ পরিস্কার জ্বালানির রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নবায়ণযোগ্য জ্বালানি হতে ৭৮৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এরমধ্যে  ৫৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সৌর হতে আসে । ২০২৫ সালের মধ্যে ২৮ টি নির্মাণাধীন সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে আরও প্রায় ১৪’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। বাংলাদেশে ১২ শতাংশ জনগণকে ৬.০২ মিলিয়ন সোলার হোম সিষ্টেমের মাধ্যমে ক্লিন বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে। ছাদে সোলার সিষ্টেমের মাধ্যমে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ  নেট মিটারে সংযুক্ত রয়েছে। সৌর সেচ পাম্প ও দশমিক ৩ মিলিয়ন সোলার স্ট্রিট লাইট রয়েছে। অনশরে উইন্ড পাওয়ার প্রজেক্ট নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল চার্জিং নির্দেশিকা পরিবহণ খাতেকে ডি-কার্বনাইজ করতে কার্যকর অবদান রাখবে।

যুক্তরাজ্যের ব্যবসা, জ্বালানি ও শিল্প কৌশল বিভাগের প্রতিমন্ত্রী গ্রেগ হ্যান্ডস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কপ-২৬ এর প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য অলোক শর্মা, নাইজেরিয়র বিদ্যুৎ মন্ত্রী গদি যেদি আগবা, মরক্কোর টেকসই উন্নয়ন মন্ত্রী বেনালী, লাওসের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপমন্ত্রী সুফানউভং, কেনিয়ার কেবিনেট সেক্রেটারী জুমা সংযুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন। 

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

চা শ্রমিক দিবসের স্বীকৃতি চান চা শ্রমিকরা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
হবিগঞ্জের দেউন্দি চা বাগানে স্থাপিত চা শ্রমিকের ‘মুল্লুক চলো’ ভাষ্কর্য

হবিগঞ্জের দেউন্দি চা বাগানে স্থাপিত চা শ্রমিকের ‘মুল্লুক চলো’ ভাষ্কর্য

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় শত বছর পূর্বে চা উৎপাদনের জন্য ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে চা শ্রমিকদের ধরে বেঁধে, লোভ-লালসা দেখিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু যখন তারা বুঝতে পেরেছিল যে, তাদের এখানে আসা ঠিক হয়নি – তখন তাদের চেতনা জাগ্রত হয়। তারা সিদ্ধান্ত নেই – ‌‍‘মুল্লুকে চলো’ অর্থাৎ নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাবে।কিন্তু বৃটিশ সরকার তাদের যেতে দেয়নি। তাদের উপর চালিয়েছে নির্মম হত্যাযজ্ঞ।

১৯২১ সালের ২০ মে। এই দিনে ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজ জন্মস্থানে ফেরার চেষ্টা চালায়। এ সময় চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে গুলি চালিয়ে নির্বিচারে চা শ্রমিকদের হত্যা করা হয়। এরপর থেকে এই দিনটি ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন চা-শ্রমিকরা। ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস।

গত শুক্রবার (২০ মে) এই দিবসের স্বীকৃতি পেতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-ধলই ভ্যালি কার্যকরী পরিষদের উদ্যোগে কমলগঞ্জ উপজেলার জেলা পরিষদ হলরুমে ‘মুল্লুক চলো’ আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরি বলেন, বারবার দাবি জানানো এবং অনেক আন্দোলনের পরও একশ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি দিবসটি। ঘুচেনি চা শ্রমিকদের বঞ্চনা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চা শ্রমিকরা তীর-ধনুক নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। এ সময় দেশের জন্য অনেক চা শ্রমিক জীবনও দিয়েছে। কিন্তু চা শ্রমিকরা এখনও অবহেলিত প্রতিষ্ঠা পায়নি শতভাগ ভূমির অধিকারও।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতি বছরই রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের আহ্বান জানালেও এ ব্যাপারে সরকারি কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। আমাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এ দেশে এনে স্বল্প মজুরির মাধ্যমে হাঁড়ভাঙা পরিশ্রমের কাজ করানো হচ্ছে। তাই শ্রমিকরা নিজ মুল্লুকে ফিরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। এখনও চা শ্রমিকরা বঞ্চিত। আমরা চা শ্রমিক দিবসের স্বীকৃতি চাই।

একক ভাস্কর্যের প্রতিবাদী রূপ

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালি কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকা জানান, চা-শ্রমিক দিবসটি শত বছরেও স্বীকৃতি না পাওয়ায় আমরা হতাশ। এছাড়াও মজুরি বৃদ্ধি, ভূমির অধিকার, চিকিৎসা, শিক্ষা ও আবাসন সুবিধাসহ অবহেলিত চা-শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান আজও আসেনি। বারবার দাবি করেও শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদেরকে ভোটের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা দিবসটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই।

চা শ্রমিকের ইতিহাস থেকে জানা যায়, পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চায়ের প্রচলন ছিল না। ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালিনীছড়া বাগানে চা চাষ শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সে সময় বৃহত্তর সিলেটে চা বাগান তৈরির জন্য ভারতের আসাম, উড়িশা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়। ‘গাছ হিলেগা, রুপিয়া মিলেগা’ এমন প্রলোভনে শ্রমিকরা বাংলাদেশে এলেও তাদের ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি।

বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শ্রমিকের জীবন গেছে তার কোনো হিসাব নেই। এছাড়া ব্রিটিশদের অত্যাচার তো ছিলই। তাদের অব্যাহত নির্যাতনের প্রতিবাদে তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পন্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পন্ডিত দেওসরণ ‘মুল্লুকে চল’ (দেশে চল) আন্দোলনের ডাক দেন।

১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক সিলেট থেকে হেঁটে চাঁদপুর মেঘনা স্টিমার ঘাটে পৌঁছান। তারা জাহাজে চড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে ব্রিটিশ সেনারা গুলি চালিয়ে শতশত চা শ্রমিককে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। যারা পালিয়ে এসেছিলেন তাদেরকেও আন্দোলন করার অপরাধে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২০ মে চা শ্রমিক দিবস হিসেবে দিনটি পালন করছেন চা শ্রমিকরা।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

বিকাশ পেমেন্টে বছরজুড়েই ক্যাশব্যাক ও ছাড়!



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিকাশ পেমেন্টে বছরজুড়েই ক্যাশব্যাক ও ছাড়!

বিকাশ পেমেন্টে বছরজুড়েই ক্যাশব্যাক ও ছাড়!

  • Font increase
  • Font Decrease

কেবলমাত্র নির্দিষ্ট সময়ের অফারের অপেক্ষা না করে এখন বছরজুড়েই দেশের সাড়ে ৫’শ ‘রিওয়ার্ড মার্চেন্ট’ পয়েন্টে বিকাশ পেমেন্টে মিলছে দারুণ সব ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইনে গ্রাহকরা বিকাশ পেমেন্টে পণ্য ও সেবা ক্রয়ে প্রতিবার পেতে পারেন ৬০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট, ২২% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক এবং বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ বা ‘বাই ওয়ান গেট টু’ অফার। শিগগিরই আরও বেশ কিছু মার্চেন্ট যুক্ত হবে এই ক্যাম্পেইনে।

হেলথকেয়ার, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, অনলাইন, ইলেক্ট্রনিকস, ফুটওয়্যার, ক্লোদিং ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে গ্রাহকরা বিকাশে পেমেন্ট করে অফারগুলো উপভোগ করতে পারবেন। সাড়ে ৫’শ ‘রিওয়ার্ড মার্চেন্ট’-এর তালিকায় রয়েছে ওয়ালটন, ফ্রিল্যান্ড, স্কেচার্স, ইউএস পোলো, কে জেড ইন্টারন্যাশনাল, স্কয়ার হসপিটাল, আমারল্যাব, লা গ্রেসিয়া, চেরি বিন কফি, গ্রেস টুয়েন্টি ওয়ান স্মার্ট হোটেল, বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস মেপল লিফ, দি ওয়ে ঢাকা, হোয়াইট প্যালেস হোটেল, হোটেল জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনাল, বিসিডিএম (সাভার ও রাজেন্দ্রপুর), ট্রাভেল ডেসটিনেশন বিডি, জাওয়াদ হাবিব হেয়ার অ্যান্ড বিউটি, ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান।

অফারগুলো নিতে গ্রাহক বিকাশ অ্যাপ, ইউএসএসডি কোড *২৪৭# কিংবা পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। মার্চেন্ট ভেদে অফারের আলাদা লিমিট প্রযোজ্য হবে। তাই গ্রাহকরা অফারগুলোর বিস্তারিত ও শর্তাবলী জেনে নেওয়ার পাশাপাশি শপগুলোর তালিকা জানতে ভিজিট করতে পারেন এই ওয়েবসাইটে - https://www.bkash.com/bn/reward_merchant।

বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্ট করার জন্য গ্রাহককে হোমস্ক্রিনের ‘মেক পেমেন্ট’ আইকনে ট্যাপ করে মার্চেন্ট নম্বর টাইপ করতে হবে কিংবা মার্চেন্ট পয়েন্টে সরাসরি কিউআর কোড স্ক্যান করেও খুব সহজেই পেমেন্ট করা যাবে। একইভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিকাশ পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে বিকাশ নম্বর, ওটিপি ও বিকাশ পিন দিয়ে পেমেন্ট করা যাবে। এছাড়া, ইউএসএসডি কোড *২৪৭# ডায়াল করেও পেমেন্ট করার সুযোগ থাকছে গ্রাহকদের জন্য।

উল্লেখ্য, বিকাশ অ্যাপে সব অফার এক জায়গায় দেখতে পারেন গ্রাহকরা। এজন্য অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘অফারস’ অংশে প্রবেশ করতে হবে। গ্রাহক চাইলে ‘ফিল্টার’ অপশনে ট্যাপ করে তার পছন্দমতো যে ক্যাটাগরির অফারগুলো দেখতে চান তা নির্বাচন করতে পারেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচিত অফারের নিচে থাকা ‘ভিজিট আউটলেট’ বাটনে ক্লিক করে বিকাশ অ্যাপ থেকেই সেই আউটলেটে পৌঁছানোর লোকেশনও দেখে নিতে পারেন গ্রাহক।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;