বছরজুড়েই তোপের মুখে ছিল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ

  সালতামামি


সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ একই মন্ত্রণালয়ের পৃথক দু’টি বিভাগ। বিদায়ী বছরে বিদ্যুৎ বিভাগ ইতিহাসের খাতায় নাম লেখালেও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ হঠাৎ বছরজুড়েই ছিল জনগণের তোপের মুখে।

তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে ঢিমেতাল নিয়ে ছিল বিশেষজ্ঞদের চরম আপত্তি। সেই সঙ্গে বিদেশি কোম্পানিকে চড়াদামে কাজ দেওয়া, বছরজুড়েই নানা দুর্ঘটনা, সর্বশেষ তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলার সব ক্ষোভ গিয়ে পড়ে এই বিভাগের কাঁধে।

নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে (মধ্যরাত থেকে) হঠাৎ করেই ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হয়। দাম বাড়ানোর সময় ইতিহাসের সকল রেকর্ড গুঁড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন । লিটার প্রতি ৬৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। ওই ঘোষণার পরে গণপরিবহনে অরাজকতা নেমে আসে। বাস মালিকরাও ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করতে থাকে। যাত্রীদের সঙ্গে টুকাটুকি শুরু হলে অঘোষিত ধর্মঘটে চলে যায় বাস মালিকরা। শেষতক গাড়ি মালিকদের চাপেই ২৭ শতাংশ গাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দেয় সরকার। ভাড়া বাড়ানোর পরে সিএনজিচালিত বাসেও বর্ধিত ভাড়া নিতে থাকলে আরেক লঙ্কাকাণ্ড শুরু হয়। সমাধান হিসেবে ডিজেল চালিত বাসে স্টিকার সাটানো হয়।

এই ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রথম দিকে বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন চলে আসলেও ১৯ নভেম্বর রাস্তায় নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় রাজধানী শহর ঢাকা। লাগাতার আন্দোলনের মুখে প্রথমে বিআরটিসির বাসে পরে ৩০ নভেম্বর শর্তসাপেক্ষে ঢাকায় হাফভাড়া করার ঘোষণা দেন বাস মালিকদের সংগঠন।

করোনার সংকট কাটিয়ে না উঠতেই ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোয় তখন অনেকেই সমালোচনা মুখর হয়েছিলেন। যদিও জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার দাম বাড়ানোর কথা। বিশ্ববাজারে দাম কমে গেলে আবার কমানো হবে। তাদের সেই বক্তব্য অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন তেলের দাম বাড়লে নানামুখী প্রতিঘাত হয়। বরং তেলের দাম অন্যভাবে সামাল দিলে অরাজকতা হতো না।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অক্টোবর ২০২১ মাসে মোট ৭২৬.৭১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলেছে বিপিসি। আর ভাড়া বাড়ানোর কারণে দৈনিক ২শ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া গুণতে হবে। বছরে ৬ হাজার কোটি টাকা মুনাফার জন্য ৭৩ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শুধু ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির উত্তাপে নয়, বছরজুড়েই নানা দুর্ঘটনায় সমালোচিত হয় জ্বালানি সেক্টর। আগের বছর (২০২০) নারায়ণগঞ্জ মসজিদে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৩৪ জনের প্রাণহানির ক্ষত না মুছতেই ২০২১ সালে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা সেক্টরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।

সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে জুনে রাজধানীর মগবাজারে। ভয়াবহতা এতো ব্যাপক ছিল আশপাশের ভবন ও রাস্তার ওপর বাসে থাকা যাত্রীরাও আহত হন। রাস্তার বিপরীত দিকের ভবনে থাকা আড়ংয়ের শো-রুমের সব কাঁচ ভেঙে রাস্তায় পড়ে যায়। কয়েকশো গজ দূরে থাকা একটি বাসের সবগুলো কাঁচ ভেঙে পড়ে যায়। দেশ বিদেশের মিডিয়ায় জায়গা করে নেয় মগবাজার ট্রাজেডি।

ওই ক্ষত দূর না হতেই ১২ নভেম্বর ফতুল্লায় একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ২ নারী নিহত ও ১৫ জন আহত হন। মগবাজার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে পুরান ঢাকায় গ্যাস বিস্ফোরণে পাঁচজন দগ্ধসহ ১০ জন আহত হন। এছাড়াও ছোট খাটো আরও অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে গ্যাস সংশ্লিষ্ট অগ্নিকাণ্ডে। বিদায়ী বছরে সব মিলিয়ে শতাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদের। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়েছে কিন্তু খুব একটা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অনেক সুপারিশ এসেছে কিন্তু সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার নজির কমই রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলে গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। তিতাস গ্যাসের নেটওয়ার্কের অনেক লাইনই তিন-চার দশকের পুরোনো, শত শত লিকেজ, জীর্ণ লাইন রয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করে অবৈধ সংযোগ বাণিজ্য জটিল করে তুলেছে পরিস্থিতি। রাস্তার উন্নয়ন, ওয়াসা, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িতেও নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাসের পাইপলাইনের ক্ষয় রোধে ক্যাথডিক প্রটেকশন (সিপি) ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় নিম্নমানের সিপি ব্যবহার করা হয়। পাইপের সঙ্গে থাকা ক্ষয়রোধী কভারও দেওয়া হয় নিম্নমানের। ফলে লাইন দ্রুত জীর্ণ হয়ে পড়ে। এভাবে জরাজীর্ণ লাইনগুলো হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী।

এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, গ্যাসের রাইজার থেকে চুলা পর্যন্ত অনেক বাসায় লিকেজ রয়েছে, সুইচের গোড়াতেও লিক রয়েছে। যারা প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করছে, এরাই আমাকে বলেছে রাইজার থেকে চুলা পর্যন্ত লিকেজের কথা। এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব গ্রাহককেই নিতে হবে, তাদেরকে সচেতন হতে হবে।

জ্বালানি বিভাগের দর্শন নিয়েও রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন ছিল নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ আহরণ ও ব্যবহার। কিন্তু বাংলাদেশ দিন দিন আমদানির দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে, কখনও বাধ্য হয়ে কখনও স্বেচ্ছায় সপে দিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে স্বল্প সময়ে যে কাজ করেছেন অন্যরা দীর্ঘসময়ে তার ধারে কাছেও নেই।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেছেন, জ্বালানি খাতে বঙ্গবন্ধু যেটুকু করে গিয়েছিলেন সেটার সুবিধা ভোগ করছি, আমরা তার নীতি, পথও অনেকটা হারিয়ে ফেলেছি।

তিনি বলেছেন, গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। সেদিকে সেভাবে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না। দেশীয় জ্বালানির বিকল্প হতে পারে না। অবশ্যই বিকল্প রাখা উচিত।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, বঙ্গবন্ধু ১/২ বছরে যেভাবে কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু এতো বছরে যদি চলতে পারতাম তাহলে চিত্র ভিন্ন হতো। যিনি এক-দুই বছরে পুরো সাগরকে অনুসন্ধানের আওতায় আনলেন। তবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আইডিয়াল সিচুয়েশন আর দেখতে পেলাম না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এখনও তিমিরেই রয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর মাত্র ৪০টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে, একই সময়ে ত্রিপুরা কূপ খনন করেছে ১৬০টি। ত্রিপুরা (মাত্র ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন) ১৬০টি কূপ খনন করে মাত্র ১১টি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার করেছে, এরমধ্যে ৭টি থেকে উৎপাদন করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সফলতার হার অনেক উচ্চ। ১০টি কূপ খনন করে ১টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। সেখানে বাংলাদেশে তিনটি কূপ খনন করে ১টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডে প্রথম কূপ খনন করা হয় ১৯১০ সালে। বর্তমান সময় পর্যন্ত (১১০ বছরে) মাত্র ৯৫টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। এতে করে ২৮টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে। এর বাইরে মোবারকপুর, কশবা ও কুতুবদিয়ার মতো কয়েকটি ফিল্ড রয়েছে যেগুলোতে গ্যাসের আঁধার পেলেও বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য নয় বলে ঘোষণা করা হয়নি। যে কারণে বাংলাদেশের তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও তিমিরেই বলা হয়।

তবে স্থবিরতা কাটিয়ে কিছুটা গতিতে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। গত ১১ বছরে ১৯টি অনুসন্ধান কূপ খনন করেছে। কূপ খননে বঙ্গবন্ধু সরকারের সাফল্য ছিল পিলে চমকানোর মতো। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে মাত্র সাড়ে তিন বছরে সময়ে ৯টি কূপ খনন করেছিলেন। অফসোরে (সাগরে) ৭টি এবং স্থলভাগে ছিল ২টি। আর অবশিষ্ট ৩৬ বছরে অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে মাত্র ১২টি।

সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও প্রাথমিক ধাপেই রয়েছে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গভীর সমুদ্র অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে গেছে এই কার্যক্রমের বাইরে। সাগরে বাংলাদেশের সীমানার ওপার থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে মিয়ানমার। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমানার ওপার থেকে ১১৬টি কূপ দিয়ে গ্যাস উত্তোলন করছে ত্রিপুরা। অবহেলিত পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত ঘেষা অশোকনগরে তেল আবিষ্কার করেছে ভারত।

এতে করে এতোদিন যারা দেশের পশ্চিমাঞ্চলে (রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা অঞ্চল) তেল-গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা নেই মনে করতেন তারাও এখন নড়েচড়ে বসেছেন। বিশাল এই অঞ্চলটিকে গত ১১০ বছরে মাত্র ৬টি কূপ খনন করা হয়েছে তার মধ্যে ৫টিতেই তেল-গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তারপর আর কাজ হয়নি কূপগুলো নিয়ে। এ কারণে আজকে দেশ জ্বালানি সংকটে পড়েছে। বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। তারপরও সংকট সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। বন্ধ আবাসিকে গ্যাস সংযোগ, শিল্পে দেওয়া হচ্ছে বেছে বেছে। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

কিস্তি পরিশোধে দেরি হলে জরিমানা করবে না ব্যাংক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের বিল, ঋণের বকেয়া ও বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিম দিতে পারেননি। তবে এই বিলম্বের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে জরিমানা আদায় না করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার (২৪ জুলাই) পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অনেক ঋণগ্রহীতা ও ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক ব্যাংকে তাদের বকেয়া অর্থ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে সক্ষম হননি। এ ছাড়া অনেক আমানতকারী ডিপোজিট পেনশন স্কিমসহ (ডিপিএস) বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে পারেননি। এমন প্রেক্ষাপটে ১৮ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত পরিশোধযোগ্য ঋণের বকেয়া অর্থ পরিশোধ, ক্রেডিট কার্ডের বিল এবং ডিপিএসসহ বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে।

আরও বলা হয়েছে, ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের পরিশোধযোগ্য অর্থ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করা হলে এই বকেয়া অর্থের ওপর কোনো প্রকারের সুদ বা মুনাফা এবং দণ্ড সুদ, অতিরিক্ত সুদ, অতিরিক্ত মুনাফা, বিলম্ব ফি কিংবা জরিমানা (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আদায় বা আরোপ করা যাবে না। ডিপিএসসহ বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি গ্রাহক কর্তৃক ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করা হলে এর ওপর কোনো ধরনের বিলম্ব ফি বা জরিমানা আদায়/আরোপ করা যাবে না।

নির্দেশনায় বলা হয়, এই সময়ে কোনো সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি পরিশোধে গ্রাহক ব্যর্থ হলে তা বন্ধ বা বাতিল করা যাবে না এবং পূর্বঘোষিত হারের তুলনায় কম সুদ অথবা মুনাফা প্রদান করা যাবে না। এ ছাড়া ইতিমধ্যে কোনো ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের ওপর সুদ বা মুনাফা ও দণ্ড সুদ বা বিলম্ব ফি এবং ডিপিএসসহ বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের ওপর কোনো প্রকারের বিলম্ব ফি বা জরিমানা আদায় অথবা আরোপ করা হয়ে থাকলে, তা ফেরত দিতে অথবা সমন্বয় করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, এই সময়ে অনেকে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে চাইলেও পরিস্থিতির কারণে পারেননি। ফলে এই সময়ের দায় কোনোভাবে তাঁদের ওপর পড়তে পারে না। এ জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  সালতামামি

;

জরুরি পরিস্থিতিতে সেবা নিশ্চিত করেছে নগদ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নগদের লগো, ছবি: সংগৃহীত

নগদের লগো, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রায় সব ধরনের আর্থিক সেবা যখন বিঘ্নিত হচ্ছে, তখন একমাত্র নগদ তার গ্রাহকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করেছে। অধিকাংশ আর্থিক সেবা যখন কাজ বন্ধ রেখেছে, তখন একমাত্র ভরসা হয়ে ছিল নগদ। ইন্টারনেট না থাকায় অ্যাপ কাজ করেনি। কিন্তু *১৬৭# ডায়াল করে বিল পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ, ক্যাশ-আউট, ক্যাশ-ইনসহ অন্যান্য সকল লেনদেনের সেবা নিয়েছেন কয়েক কোটি গ্রাহক। অন্যদিকে ইন্টারনেট সংযোগ চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপের লেনদেন শুরু হয়েছে। সেখানেও স্বাচ্ছন্দ্যে লেনদেন করতে শুরু করেছেন গ্রাহক।

ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। প্রচলিত ব্যাংকিং সেবা বিঘ্নিত হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় মোবাইল রিচার্জ করার পদ্ধতিও বন্ধ ছিল। এ অবস্থায় মোবাইল রিচার্জ, বিল পেমেন্ট ও টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল নগদ।

মহল্লায় মহল্লায় এ সময়ে নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেছে। নগদ উদ্যোক্তা পয়েন্টের সামনে দীর্ঘ লাইন ধরে মানুষ ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট এবং বিল পেমেন্টের জন্য অপেক্ষা করেছেন। নগদে ক্যাশ ইন করে সেখান থেকে মোবাইল রিচার্জ করেছেন লোকেরা।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিশেষ তৎপরতা চালিয়ে প্রয়োজনীয় সকল সেবা চালু রাখতে পেরেছে নগদ। অ্যাপ ছাড়াই ইউএসএসডির মাধ্যমে বিল পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ, সেন্ড মানিসহ প্রয়োজনীয় সকল সেবা সচল রাখতে দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছে নগদের টেকনোলজি টিম। কারফিউর মধ্যেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই রাতদিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করেছে নগদের টেকনোলজি টিমের সদস্যরা। এক মুহূর্তের জন্যও তারা নগদের সেবা বন্ধ হতে দেননি।
যার ফলে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নগদের তিন লাখ উদ্যোক্তা পয়েন্ট ছাড়াও শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চারদিনে চার কোটি অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি গ্রাহক নগদের সেবা গ্রহণ করেছেন।

প্রতিকূল সময়েও এক মিনিটের জন্যও যেন গ্রাহকের সেবায় বিঘœ না ঘটে সেটি নিশ্চিত করা হয় বলে জানান, নগদের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর এ মিশুক। তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকের জরুরি প্রয়োজনে পাশে থাকাটাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিল নগদ। আমরা নিশ্চিত করেছি যে, একটা সেকেন্ডের জন্যও যেন নগদের সেবা বন্ধ না থাকে। কারণ আমরা মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে দিতে চাইনি। তারা নগদ থেকে মোবাইল রিচার্জ করে ফোনে কথা বলেছেন। বিল পেমেন্ট করে নানান নিত্যদিনের নানান প্রয়োজীয় সেবাকে চালু রেখেছেন। এসব নিশ্চিত করার জন্য আমাদের কর্মীরা নিরলস কাজ করেছেন।”

  সালতামামি

;

ব্যাংকে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড়



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
টানা কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে ব্যাংকিং সেবা, ছবি: বার্তা২৪.কম

টানা কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে ব্যাংকিং সেবা, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

টানা কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে ব্যাংকিং সেবা। কারফিউ জারি শিথিল থাকা অবস্থায় বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চলছে লেনদেন।

বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকেই ব্যাংকগুলোর সামনে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবি) এর ধানমন্ডি শাখার সামনে গ্রাহক ও ব্যাংক স্টাফদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

নতুন ব্যাংকিং আওয়ার শুরু হওয়ার আগেই সাতমসজিদ রোড, মিরপুর রোড়ে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে ভিড় দেখা গেছে। নিরাপত্তার কারণে গেট খুলে না দেওয়ায় রাস্তার গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন (সবকিছু বন্ধ) কর্মসূচির ডাক দেয়। ওই দিন থেকেই ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হতে শুরু করে। এরপর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেকেই রোববার কর্ম দিবসের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু তার আগেই পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সরকার সারাদেশে কারফিউ জারি করে।

এতে করে জরুরি প্রয়োজনে একমাত্র ভরসা ছিল এটিএম বুথ। কিন্তু ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকা ও সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে সেখানেও হতাশ হতে হয় অনেককে। বেশিরভাগ এটিএম বুথই ছিল সেবার বাইরে। এতে করে মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তাই আজকে সুযোগ পেয়ে ব্যাংক আওয়ার শুরুর আগেই ব্যাংকের সামনে ভিড় করছেন গ্রাহকরা।

  সালতামামি

;

বিলম্ব মাশুল ছাড়া জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়া যাবে!



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) শর্ত সাপেক্ষে বিলম্ব মাশুল ছাড়া জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। যাদের বিল জমাদানের তারিখ ২০ জুলাই এবং তারপরে ছিল।

সেইসব গ্রাহকরা ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিলম্ব মাশুল ছাড়া বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে পারবেন বলে ডেসকো জানিয়েছে।

১৯ জুলাই সকাল থেকেই মোবাইল ডাটা কাজ করছিল না, সন্ধ্যার পর ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের প্রিপেইড মিটার গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়ে যান। সারাদেশে অনেক গ্রাহকের ব্যালান্স শেষ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

একদিকে রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলকারীদের ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ কারফিউ জারি অন্যদিকে বাসায় বিদ্যুৎ ক্ষেত্র বিশেষে গ্যাস না থাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার লাখ লাখ গ্রাহক। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাদের কার্ড রিচার্জ করতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর‌্যন্ত লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য মতে সারাদেশে আড়াই কোটি গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন।

বিদ্যুতের অফিসগুলোতে হাজার-হাজার গ্রাহকের ভিড় বাড়তে থাকে। ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় অফিসের লোকজনের। অন্যদিকে ম্যানুয়ালি রিচার্জ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ক্ষুব্ধ করে তোলে গ্রাহকদের। ঢাকাসহ সারাদেশের বিদ্যুৎ অফিসগুলোর সামনে লম্বা সারি দেখা যায়। বিদ্যুৎ বিভাগ ইমারজেন্সী ব্যালান্স সিঙ্গেল ফেজ ৩ হাজার টাকা ও থ্রি ফেজ ৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত দিলে কর্মীদের কাজ কিছুটা। সেই ব্যালেন্স বাড়িয়ে নিতে গেলেও অফিসে যেতে হয়েছে। এছাড়া বিকাশ *২৪৭# জিপি *৭৭৭# নগদ *১৬৭# উপায় *২৬৮# ডেসকো, নেসকো, ওজোপাডিকো ও ডিপিডিসির ইমারজেন্সী ব্যালান্স বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও সেখানে দুর্ভোগের কমতি ছিল না। এই পাওয়া যায়তো এই নেই অবস্থা।

  সালতামামি

;