বছরজুড়ে রাজনীতির মাঠে ‘উত্তাপ’ ছড়ানোর চেষ্টায় বিএনপি

  সালতামামি


আকরাম হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে বিদায়ী বছরের রাজনীতির ময়দানে উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তবে অন্যান্য বছরের মতোই ২০২১ সালেও আশা জাগিয়ে জোড়ালো কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। উল্টো সরকারের নানামুখী চাপে কোনঠাসা হয়ে রয়েছে দলটি।

অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বড় কর্মসূচি দিলেও বছর জুড়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, দোয়া মাহফিল, জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা, স্থায়ী কমিটির সাপ্তাহিক বৈঠক, সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। নেতাদের অনেকে মনে করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০২১ সালে দলটি কিছুটা আন্দোলনমুখী হয়েছে।

অসুস্থ খালেদা জিয়া

২১ মাসেরও বেশি সময় সরকারের নির্বাহী আদেশে নানা শর্তসাপেক্ষে মুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বাসায় অবস্থানকালে ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। আক্রান্তের ২৭ দিন পর ৯ মে করোনা মুক্ত হন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। বাসায় থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ১২ অক্টোবর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে এদিন রাতেই সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয় খালেদা জিয়াকে। টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি। এর ৬ দিন পর ১৩ নভেম্বর আবারও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

লিভার সিরোসিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল টিম। ক্রমশই তার শারীরিক অবস্থা জটিল হচ্ছে। এ রোগের চিকিৎসার জন্য এ মুহূর্তে যে প্রযুক্তি দরকার তা ভারতীয় উপমহাদেশে নেই। এসমস্ত চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে সম্ভব বলে জানিয়েছে মেডিকেল টিম এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদেশে দেয়ার পরামর্শ দেন তারা।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে পরিবারের চিঠি

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছে তার পরিবার। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর এ আবেদন করেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি একবার আবেদন করা হয়। সে আবেদনে সাড়া দেয়নি সরকার। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে আবারও চিঠি দেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিদেশে নেয়ার অনুমতি দেয়নি।

মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা দাবিতে বিএনপির কর্মসূচি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে একের পর এক কর্মসূচি পালন করছে দলটি। ২০ নভেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমানে গণ-অনশন করে দলটি। গণ-অনশন থেকে ২২ নভেম্বর একই দাবিতে সারাদেশে মহানগর ও জেলায় সমাবেশের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব। এসময় হরতাল দেয়ার দাবি জানান নেতাকর্মীরা। ২২ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ হয়। ২৪ নভেম্বর সারাদেশে জেলা প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে বিএনপি।

২৪ নভেম্বর ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৫ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। ২৫ তারিখ যুবদল সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। ২৬ তারিখ সারাদেশে মসজিদে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া, ২৮ তারিখ সেচ্ছাসেবক দল সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে। ৩০ তারিখ বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ, ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদলের মানববন্ধন, ৩ তারিখ কৃষকদল মৌন মিছিল। ২২ ডিসেম্বর থেকে জেলায় জেলায় সমাবেশ শুরু করছে বিএনপি। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত একই দাবিতে ৩২ জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব সমাবেশ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকছেন।

ধারণা করা হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত সুচিকিৎসার দাবিতে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে বিএনপি। দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরাও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ কাছে বিভিন্ন সময় হরতালের মতো কর্মসূচির দাবি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়নি মাঠের প্রধান বিরোধী দল।

নির্বাহী কমিটির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

সাড়ে তিন বছর পর সেপ্টেম্বরে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে দলের হাইকমান্ড। ১৪,১৫,১৬ তারিখে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকমণ্ডলি এবং অঙ্গ সংগঠনের মোট ২৮৬ জন নেতা অংশ নেন। ২১,২২,২৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠান হয়। জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা যারা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নয় তারাও এ বৈঠকে উপস্থিত থাকেন। তিন দিনের সে সিরিজ বৈঠকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি মিলে মোট ৩৬৩ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিএনপির এ বৈঠক দেশের রাজনৈতিক অঙ্গে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে।

বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা

বরাবরের মত এবারও বিএনপির মিছিলসহ নানা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এঘটনায় পুলিশের আট সদস্য আহত হয়। অন্যদিকে দেড় শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এতে ছাত্রদলের ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।

১৭ আগস্ট সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিএনপির নেতাকর্মীদের।

করোনাকালে রাজনীতি

সারাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নেতা-কর্মী-সমর্থক-জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে ১ এপ্রিল ‘রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক’ কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিএনপি। এসময় নিয়মিত ভার্চুয়াল আলোচনা ও নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে দলটি। সাধ্যমত ত্রাণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী বিতরণ করেছেন দলটি। করোনা মহামারীর প্রকোপ কমে আসলে ১২ সেপ্টেম্বর পুনরায় শুরু করে সাংগঠনিক কার্যক্রম।

কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বহিষ্কার

১৭ এপ্রিল বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর ‘নিখোঁজ বা গুমে’র বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ২২ এপ্রিল বিতর্কিত মন্তব্যে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয় দল। ২৬ এপ্রিল জবাব দেন তিনি। মির্জা আব্বাসের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয় বিএনপি। বছরের শেষে এসে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২৫ ডিসেম্বর তাকে অব্যাহতি দেয়ার পর খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ১৬টি ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের ৫৬১ নেতা-কর্মী পদত্যাগ করে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শাখা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দলটি। ঢাকা দক্ষিণে আহ্বায়ক করা হয় আবদুস সালাম ও উত্তরে আহ্বায়ক হয়েছেন আমান উল্লাহ আমানকে। দক্ষিণে সদস্য সচিব করা হয়েছে রফিকুল আলম মজনু ও আমিনুল হককে উত্তরের। ২ আগস্ট বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উল্লেখিত কমিটি দুটি অনুমোদন করেছেন।

না ফেরার দেশে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মওদুদ আহমদে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মওদুদ আহমদ ১৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী, উপ-রাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ।

ইউপি নির্বাচন বর্জন

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ২৮ ফেব্রুয়ারি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন ও সব পৌরসভার নির্বাচনে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে চরম ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান।

রাষ্ট্রপতির সংলাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রপতির সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকার ব্যতিরেকে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কোনও নির্বাচন কমিশনই করতে পারবে না। রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেছেন, তার কোনও ক্ষমতা নেই পরিবর্তন করার। সেই কারণে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ কোনও ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারবে না। বিএনপি অর্থহীন কোনও সংলাপে অংশগ্রহণ করবে না।

বিদায়ী বছরে রাজনৈতিক মূল্যয়ন করতে যেয়ে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে বিএনপি মনোনীত সাংসদ রুমিন ফারহানা বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিদায়ী বছরে বিরোধী দলীয় রাজনীতির সাথে যারা যুক্ত তাদের কারও জন্যই খুব স্বস্তি ছিল না। আমাদের উপরে সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণ অব্যাহত ছিল। যা ২০১৩-১৪ সালে শুরু হয়েছে তার ধারাবাহিকতা একুশেও ছিল।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত সুচিকিৎসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে রাজপথে বিএনপি যে আন্দোলন করার কথা ছিল তা অব্যাহত রয়েছে। আইনের পথেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে ৪০১ ধারায় সরকারের কাছে আবেদন পত্রও জমা দেয়া হয়েছে। সরকার এখন এতটাই স্বৈরাতান্ত্রিক, এতটাই ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে যে কোনো ব্যাপারে তাদের কর্ণপাত করা আলামত দেখতে পারছি না।

বিএনপির রাজনীতি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন প্রশ্ন করলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এসব হতাশার কথা বলে তো লাভ নেই। তাদের অনেক দূর যেতে হবে। তাদের ঘুম থেকে জাগতে হবে। তারা এখনো ঘুম থেকে জাগে নাই। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেনি তারা। তাদের যদি ইচ্ছা থাকতো তাহলে গত বছরেই হাইকোর্ট ঘেরাও করা উচিত ছিল। সেটা তারা করে নাই। নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে থাকা এবং গুলশানে থাকা একই কথা। বরং শেখ হাসিনাকে পলিটিক্যাল অ্যাডভান্টেজ দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিগত দিনের বিএনপির রাজনীতি জনগণের পক্ষে ছিল, এখনো আছে, সামনেও থাকবে। গণতন্ত্রের পক্ষে, জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে, বাংলাদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতার পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে, স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনার পক্ষে বিএনপির রাজনীতি ছিল-আছে-থাকবে। যতদিন বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের অধিকার, ভোটাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ফিরে না পাবে ততদিন বিএনপি বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবে। সমগ্র দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেগেছে।

কঠোর কর্মসূচির প্রসঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সারাদেশে বিএনপির জোড়ালো কর্মসূচি চলছে। কর্মসূচি একদিনও বাদ যাচ্ছে না। যখন যে কর্মসূচি প্রয়োজন হবে সে সিদ্ধান্ত দল নিবে।

   

সরকার শক্তভাবে দুর্নীতি দমন না করলে দেশ খালি হয়ে যাবে: চুন্নু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩’শ কোটি টাকার অডিটে আপত্তি ও আর্থিকখাতের অনিয়মের অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, সরকার শক্তভাবে এগুলো হ্যান্ডল না করলে দেশ খালি হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীকে কঠিন হওয়ার অনুরোধ তিনি বলেন, কঠোরভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উদ্বৃতি দিয়ে মুজিবুল হক বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩’শ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম। সব থেকে বেশি অনিয়ম হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। সরকার যদি শক্তভাবে এগুলো হ্যান্ডল না করে তাহলে তো দেশ খালি হয়ে যাবে। ব্যাংক তো খালি হয়ে গেছে। ব্যাংকের মাধ্যমে এই যে যায়। নিশ্চয়ই এটা ওভার ইনভয়েজ আন্ডার ইনভয়েজ। এগুলো দেখার দায়িত্ব কার? আমরা কোথায় যাবো? অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা যদি এগুলো না দেখেন..।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চুপচাপ বসে থাকেন। এই যে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাচার। এটা তাদের রিপোর্ট (বাংলাদেশ ব্যাংক)। তাহলে এতদিন তারা কী করেছিলেন? বাংলাদেশ ব্যাংক কেন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তারা কি জানে না কোন আইটেমের প্রাইজ কত? কোন ব্যবসায়ী কোন হিসাব থেকে এলসি করে। এটা ওভার ইনভয়েজ হচ্ছে না আন্ডার ইনভয়েজ হচ্ছে তারা কি জানে না? আমদানি-রপ্তানি একটি বিভাগ দেশে আছে না?

তিনি আরও বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে নেগেটিভ নিউজ দেখলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। হাসপাতালে অ্যান্ড্রোসকপি করতে গিয়ে দেখলাম নেই। তাকে ঢোকানো হলো তারপর বলা হলো মারা গেছে। খাতনা করাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে। আমার মনে হয় এত এলোমেলো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি কঠিন হন। মানুষ এখন ভাবছে সরকারি দল বিরোধী দল কী করে? জবাবদিহি কোথায়? সরকার শক্ত না হলে আমাদের তো যাওয়ার জায়গা নেই। আশা করব সরকার কঠোরভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে, ব্যবস্থা নেবে।

  সালতামামি

;

সংসদ নির্বাচনে ১৯৬৯ প্রার্থী মধ্যে ১৪৫৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসির) নিবন্ধিত দল হিসেবে ৪৪টি রাজনৈতিক দলের ২৮টি দল অংশগ্রহণ করে। এ নির্বাচনে ২৮ দলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এক হাজার ৯শ ৬৯ জন অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে এক হাজার চারশ ৫৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে, ২৮টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৩ দলের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেননি।

প্রায় ৭৩ শতাংশ প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ভোটও পাননি। রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থীর সঙ্গে এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া রেকর্ড সংখ্যক দলও জামানত হারিয়েছে। ইসি সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২৮ দলের মধ্যে ২০ দলের প্রার্থীরা সবাই জামানত হারিয়েছেন।

৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল নির্বাচন বর্জন করে। বর্জন করা রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ১৬টি।

ইসি সূত্রে জানা যায়, ৩০০ আসনের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ, সংসদে বিরোধীদল জাতীয় পার্টিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন।

বাজেয়াপ্ত তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ঢাকা জেলা প্রার্থীদের। এখানে ১৩১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এসময় সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে দুই কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

  • নির্বাচনে প্রার্থী- এক হাজার ৯শ ৬৯ জন
  • জামানত বাজেয়াপ্ত- এক হাজার চারশ ৫৪ জনের
  • সরকারি কোষাগারে টাকা জমা- দুই কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা
  • নির্বাচনে নেওয়া ২৮ দলের ২৩ দলের কেনো প্রার্থী জিততে পারেননি

গত ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। সেখানে ২৯৮ আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এক হাজার ৮৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে এক হাজার ৪২২ জন অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশ (৭৬.৬১) প্রার্থীই জামানত হারান। তার মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ২৫৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান ১৫২ জন।

একাদশ সংসদের ৫৭ সদস্য পরাজিত
এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া একাদশ সংসদের ৫৭ জন সংসদ সদস্য পরাজিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নয়জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। বাকি ছয়জনের তিনজন জাতীয় পার্টির, একজন বিকল্পধারা বাংলাদেশের, একজন গণফোরামের ও আরেকজন তরীকত ফেডারেশনের।

জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন, তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান সিলেট-৬ আসনের শমশের মবিন চৌধুরী। চট্টগ্রাম-২ আসনে তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, মুন্সীগঞ্জ-২ থেকে বিকল্পধারা দলের প্রার্থী মাহি বি চৌধুরী। সিলেট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান, নেত্রকোনা-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

এছাড়া এই তালিকায় আরো রয়েছেন, চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনএমের মহাসচিব ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় পার্টির শেরিফা কাদের, পাবনা-২ আসনে বিএনএম–এর প্রার্থী সংগীতশিল্পী ডলি সায়ন্তনী, রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। রাজশাহী-৬ আসনে জাতীয় পার্টির শামসুদ্দিন রিন্টু। নাটোর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির আনিসুর রহমান। কুমিল্লা-২ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আবদুছ ছালাম। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এছাড়া, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ১০ প্রার্থী অংশ নিয়ে আটজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারান আটজন। ঢাকা-৮ থেকে ১১ জন প্রার্থী হয়ে ১০ জনই জামানত হারান। ঢাকা-১৪ আসনে ১৪ প্রার্থী অংশ নিয়ে ১২ জনই জামানত হারান।

জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়ে ইসি কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে ওই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে, মনোনয়নপত্র কেনার সময় একজন প্রার্থীকে জামানত হিসাবে ২০ হাজার টাকা নির্বাচন কমিশনে জমা রাখতে হয়। প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা তার বেশি ভোট পেলে জামানত হিসাবে রাখা ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট কোনো প্রার্থী যদি না পান, তা হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।

বিগত নির্বাচনগুলোতে যত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
নির্বাচন কমিশনের ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ সাল থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যান প্রতিবেদন অনুযায়ী- ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩ আসনের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। সেই নির্বাচনে ১৪৭ আসনে ৩৯০ জন প্রার্থী মধ্যে ১৬৩ জন জামানত হারান।

২০০৮ সালের নির্বাচনে মোট এক হাজার ৫৫৭ প্রার্থীর মধ্যে ৯৪১ জন জামানত হারান। তার আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে এক হাজার ৯৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে এক হাজার ২৫৯ জন, ১৯৯৬ সালের ১২ জুনে নির্বাচনে দুই হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থীর মধ্যে এক হাজার ৭৬০ জন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দুই হাজার ৭৮৭ প্রার্থীর মধ্যে এক হাজার ৯৩৪ জন জামানত হারান।

২০১৮ সালের নির্বাচন এক হাজার ৮৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্য থেকে এক হাজার ৪২২ প্রার্থী জামানত হারান। এছাড়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া মাত্র একটি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। ১২ দিনের সংসদের মেয়াদের এই নির্বাচনের বিস্তারিত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি ইসি।

  সালতামামি

;

আওয়ামী লীগ বাংলা ভাষা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আওয়ামী লীগ বাংলা ভাষা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে: রিজভী

আওয়ামী লীগ বাংলা ভাষা ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে: রিজভী

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগ সরকার বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করেছে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই সরকার  দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের বাংলা ভাষার চর্চাকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য নানা কায়দায় ভিনদেশী ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, দখলদার সরকাররা ঐতিহ্যগতভাবেই জনগণকে শত্রুপক্ষ ভাবে। তাই ক্ষমতা দখলে রেখে সাধারণ মানুষের প্রতি জুলুম করে। জনগণের প্রতি এই তাচ্ছিল্যভাব ক্ষমার অযোগ্য।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে প্রতিশোধ নিতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত হবে অতীব নিষ্ঠুর।

বিএনপি নেতা বলেন, গণবিরোধী সরকার জবাবদিহিতার ধার-ধারে না। এই সরকারের পক্ষে কোনো গণরায় নেই। 

  সালতামামি

;

‘পাকিস্তানি শাসকদের মতোই পরিস্থিতি তৈরি করেছে সরকার’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান সরকার পাকিস্তানি শাসকদের মতোই পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিউ মার্কেট সংলগ্ন মিউনিসিপ্যাল স্কুল মাঠের অস্থায়ী শহীদ মিনারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এক জমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর।

ডা. শাহাদাত বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে পাকিস্থানি শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল সে সময়ের তরুণ যুবকরা। পুলিশি হামলা, মামলা জব্বার বরকতদের দমাতে পারেনি। তাদের চোখে মুখে ছিল বাংলা মায়ের ভাষা রক্ষা আর গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার দীপ্ত অঙ্গীকার। সেসময় যে পরিস্থিতি তৈরি করেছিল পাক শাসকেরা, আজকের দিনেও সে পরিস্থিতি তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের মাতৃভাষার অধিকার হরণ করেছিল। ঠিক একইভাবে একই কায়দায় জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে সরকার। তিনি ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, অধিকার আদায় ও অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে ভাষা শহীদগণ আমাদের প্রেরণার উৎস। অধিকার বোধের চেতনাকে শাণিত করেছিল মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। সেই চেতনা নস্যাৎ করে একদলীয় শাসনের জগদ্দল পাথর আজ জনগণের কাঁধের ওপর চেপে বসেছে। আজকে দেশের জনগণ ভোট দিতে পারে না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার হারা দেশের মানুষ। তাই একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বিজয় করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম আহবায়ক মো. মিয়া ভোলা, এস এম সাইফুল আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য হারুন জামান, এস এম আবুল ফয়েজ, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. কামরুল ইসলাম, থানা বিএনপির সভাপতি মন্জুর রহমান চৌধুরী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ূন প্রমূখ। 

  সালতামামি

;