বছরজুড়ে রাজনীতির মাঠে ‘উত্তাপ’ ছড়ানোর চেষ্টায় বিএনপি

  সালতামামি



আকরাম হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে বিদায়ী বছরের রাজনীতির ময়দানে উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তবে অন্যান্য বছরের মতোই ২০২১ সালেও আশা জাগিয়ে জোড়ালো কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। উল্টো সরকারের নানামুখী চাপে কোনঠাসা হয়ে রয়েছে দলটি।

অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে বড় কর্মসূচি দিলেও বছর জুড়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, দোয়া মাহফিল, জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা, স্থায়ী কমিটির সাপ্তাহিক বৈঠক, সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। নেতাদের অনেকে মনে করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০২১ সালে দলটি কিছুটা আন্দোলনমুখী হয়েছে।

অসুস্থ খালেদা জিয়া

২১ মাসেরও বেশি সময় সরকারের নির্বাহী আদেশে নানা শর্তসাপেক্ষে মুক্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বাসায় অবস্থানকালে ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। আক্রান্তের ২৭ দিন পর ৯ মে করোনা মুক্ত হন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। বাসায় থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ১২ অক্টোবর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে এদিন রাতেই সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয় খালেদা জিয়াকে। টানা ২৬ দিন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৭ নভেম্বর বাসায় ফেরেন তিনি। এর ৬ দিন পর ১৩ নভেম্বর আবারও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

লিভার সিরোসিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল টিম। ক্রমশই তার শারীরিক অবস্থা জটিল হচ্ছে। এ রোগের চিকিৎসার জন্য এ মুহূর্তে যে প্রযুক্তি দরকার তা ভারতীয় উপমহাদেশে নেই। এসমস্ত চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে সম্ভব বলে জানিয়েছে মেডিকেল টিম এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদেশে দেয়ার পরামর্শ দেন তারা।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে পরিবারের চিঠি

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছে তার পরিবার। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর এ আবেদন করেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি একবার আবেদন করা হয়। সে আবেদনে সাড়া দেয়নি সরকার। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে আবারও চিঠি দেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিদেশে নেয়ার অনুমতি দেয়নি।

মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা দাবিতে বিএনপির কর্মসূচি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে একের পর এক কর্মসূচি পালন করছে দলটি। ২০ নভেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমানে গণ-অনশন করে দলটি। গণ-অনশন থেকে ২২ নভেম্বর একই দাবিতে সারাদেশে মহানগর ও জেলায় সমাবেশের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব। এসময় হরতাল দেয়ার দাবি জানান নেতাকর্মীরা। ২২ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ হয়। ২৪ নভেম্বর সারাদেশে জেলা প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে বিএনপি।

২৪ নভেম্বর ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৫ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। ২৫ তারিখ যুবদল সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। ২৬ তারিখ সারাদেশে মসজিদে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দোয়া, ২৮ তারিখ সেচ্ছাসেবক দল সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে। ৩০ তারিখ বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ, ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদলের মানববন্ধন, ৩ তারিখ কৃষকদল মৌন মিছিল। ২২ ডিসেম্বর থেকে জেলায় জেলায় সমাবেশ শুরু করছে বিএনপি। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত একই দাবিতে ৩২ জেলায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব সমাবেশ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকছেন।

ধারণা করা হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত সুচিকিৎসার দাবিতে কঠোর কর্মসূচিতে যাবে বিএনপি। দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরাও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ কাছে বিভিন্ন সময় হরতালের মতো কর্মসূচির দাবি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়নি মাঠের প্রধান বিরোধী দল।

নির্বাহী কমিটির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

সাড়ে তিন বছর পর সেপ্টেম্বরে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে দলের হাইকমান্ড। ১৪,১৫,১৬ তারিখে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকমণ্ডলি এবং অঙ্গ সংগঠনের মোট ২৮৬ জন নেতা অংশ নেন। ২১,২২,২৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠান হয়। জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা যারা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নয় তারাও এ বৈঠকে উপস্থিত থাকেন। তিন দিনের সে সিরিজ বৈঠকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি মিলে মোট ৩৬৩ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিএনপির এ বৈঠক দেশের রাজনৈতিক অঙ্গে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে।

বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা

বরাবরের মত এবারও বিএনপির মিছিলসহ নানা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এঘটনায় পুলিশের আট সদস্য আহত হয়। অন্যদিকে দেড় শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে ডাকা ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এতে ছাত্রদলের ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।

১৭ আগস্ট সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিএনপির নেতাকর্মীদের।

করোনাকালে রাজনীতি

সারাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নেতা-কর্মী-সমর্থক-জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে ১ এপ্রিল ‘রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক’ কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিএনপি। এসময় নিয়মিত ভার্চুয়াল আলোচনা ও নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে দলটি। সাধ্যমত ত্রাণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সামগ্রী বিতরণ করেছেন দলটি। করোনা মহামারীর প্রকোপ কমে আসলে ১২ সেপ্টেম্বর পুনরায় শুরু করে সাংগঠনিক কার্যক্রম।

কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বহিষ্কার

১৭ এপ্রিল বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর ‘নিখোঁজ বা গুমে’র বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ২২ এপ্রিল বিতর্কিত মন্তব্যে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয় দল। ২৬ এপ্রিল জবাব দেন তিনি। মির্জা আব্বাসের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয় বিএনপি। বছরের শেষে এসে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২৫ ডিসেম্বর তাকে অব্যাহতি দেয়ার পর খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ১৬টি ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের ৫৬১ নেতা-কর্মী পদত্যাগ করে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির শাখা কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দলটি। ঢাকা দক্ষিণে আহ্বায়ক করা হয় আবদুস সালাম ও উত্তরে আহ্বায়ক হয়েছেন আমান উল্লাহ আমানকে। দক্ষিণে সদস্য সচিব করা হয়েছে রফিকুল আলম মজনু ও আমিনুল হককে উত্তরের। ২ আগস্ট বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উল্লেখিত কমিটি দুটি অনুমোদন করেছেন।

না ফেরার দেশে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মওদুদ আহমদে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মওদুদ আহমদ ১৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী, উপ-রাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ।

ইউপি নির্বাচন বর্জন

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ২৮ ফেব্রুয়ারি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন ও সব পৌরসভার নির্বাচনে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে চরম ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানান।

রাষ্ট্রপতির সংলাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রপতির সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকার ব্যতিরেকে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কোনও নির্বাচন কমিশনই করতে পারবে না। রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেছেন, তার কোনও ক্ষমতা নেই পরিবর্তন করার। সেই কারণে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ কোনও ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারবে না। বিএনপি অর্থহীন কোনও সংলাপে অংশগ্রহণ করবে না।

বিদায়ী বছরে রাজনৈতিক মূল্যয়ন করতে যেয়ে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে বিএনপি মনোনীত সাংসদ রুমিন ফারহানা বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিদায়ী বছরে বিরোধী দলীয় রাজনীতির সাথে যারা যুক্ত তাদের কারও জন্যই খুব স্বস্তি ছিল না। আমাদের উপরে সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণ অব্যাহত ছিল। যা ২০১৩-১৪ সালে শুরু হয়েছে তার ধারাবাহিকতা একুশেও ছিল।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত সুচিকিৎসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে রাজপথে বিএনপি যে আন্দোলন করার কথা ছিল তা অব্যাহত রয়েছে। আইনের পথেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে ৪০১ ধারায় সরকারের কাছে আবেদন পত্রও জমা দেয়া হয়েছে। সরকার এখন এতটাই স্বৈরাতান্ত্রিক, এতটাই ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে যে কোনো ব্যাপারে তাদের কর্ণপাত করা আলামত দেখতে পারছি না।

বিএনপির রাজনীতি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন প্রশ্ন করলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এসব হতাশার কথা বলে তো লাভ নেই। তাদের অনেক দূর যেতে হবে। তাদের ঘুম থেকে জাগতে হবে। তারা এখনো ঘুম থেকে জাগে নাই। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেনি তারা। তাদের যদি ইচ্ছা থাকতো তাহলে গত বছরেই হাইকোর্ট ঘেরাও করা উচিত ছিল। সেটা তারা করে নাই। নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে থাকা এবং গুলশানে থাকা একই কথা। বরং শেখ হাসিনাকে পলিটিক্যাল অ্যাডভান্টেজ দিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিগত দিনের বিএনপির রাজনীতি জনগণের পক্ষে ছিল, এখনো আছে, সামনেও থাকবে। গণতন্ত্রের পক্ষে, জনগণের ভোটাধিকারের পক্ষে, বাংলাদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতার পক্ষে, আইনের শাসনের পক্ষে, স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনার পক্ষে বিএনপির রাজনীতি ছিল-আছে-থাকবে। যতদিন বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের অধিকার, ভোটাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ফিরে না পাবে ততদিন বিএনপি বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবে। সমগ্র দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেগেছে।

কঠোর কর্মসূচির প্রসঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সারাদেশে বিএনপির জোড়ালো কর্মসূচি চলছে। কর্মসূচি একদিনও বাদ যাচ্ছে না। যখন যে কর্মসূচি প্রয়োজন হবে সে সিদ্ধান্ত দল নিবে।

  সালতামামি

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার আ. লীগের বৈঠক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের বৈঠক করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আগামী ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হবে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির পদে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। পরের দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ হবে। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টি প্রার্থী দেবে না বলে জানিয়েছে দলটি। আর সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন। মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি প্রস্তাবক ও সমর্থক কারা হবেন সেটাও চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের সপ্তম সংসদীয় দলের সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলটির সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী দলীয় সংসদ সদস্যদের যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

  সালতামামি

;

জাপার মাসব্যাপী সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির অঙ্গ, সহযোগী ও বিশেষ সংগঠন সমূহকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ে প্রত্যেকদিন বেলা ১১টায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমদিন ১২ ফেব্রুয়ারি থাকছে জাতীয় মহিলা পার্টি। ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কৃষক পার্টি, ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ওলামা পার্টি, ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি, ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টি, ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় তরুণ পার্টির সঙ্গে মতবিনিময়।

৫ দিন বিরতির পর ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ছাত্র সমাজ, ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় তাঁতি পার্টি ও জাতীয় হর্কাস পার্টি, ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মটর শ্রমিক পার্টি ও জাতীয় যুব মহিলা পার্টি, ১ মার্চ জাতীয় পেশাজীবী সমাজ , পল্লীবন্ধু পরিষদ ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ, ২ মার্চ জাতীয় শ্রমিক পার্টি, ৫ মার্চ জাতীয় প্রাক্তন সৈনিক পার্টি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টি ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পার্টি, ৯ মার্চ জাতীয় যুব সংহতি, শেষ দিন ১২ মার্চ করা হবে জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিনিময়।

জাতীয় পার্টির অঙ্গ, সহযোগী সংগঠন ও বিশেষ সাংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের যথা সময়ে যথাস্থানে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

  সালতামামি

;

আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই: জিএম কাদের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলেই সমাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাপার বনানী কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলেই রাষ্ট্রে প্রজাতন্ত্র সফল হয়। কারণ, প্রজাতন্ত্র হচ্ছে প্রজারাই রাষ্ট্রের মালিক। তারা দেশ পরিচালনার জন্য পছন্দমত প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন- আবার প্রজাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাজ করলে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিবর্তন করতে পারবেন। দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচারভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বৈষম্য দূর করতে হবে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনেই আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই, বৈষম্য হচ্ছে স্বাধীনতার চেতনা পরিপন্থি। দেশে দিনে দিনে বৈষম্য বেড়ে যাচ্ছে। একদল মানুষ তিন বেলা খেতে পারছে না। টাকার অভাবে সন্তানের চিকিৎসা করতে পারছে না। আরেক দল হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হচ্ছেন। তারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ নিস্পেশিত হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে হাহাকার উঠেছে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আবার বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের কারণে এলসি খুলে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই, চাহিদার তুলনায় কম পণ্য আমদানি হচ্ছে দেশে। বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী নেই। এ কারণেই হুঁ হুঁ করে বেড়ে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। আবার কাঁচামাল আমদানি সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কল-কারখানা। বেকারত্বে সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের আয় বাড়ছে না। তাই দেশের মানুষের মাঝে চাপা হাহাকার বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝার যেনো কেউ নেই।

তিনি বলেন, কথা বলার অধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। আমি গণমানুষের পক্ষে কথা বলবো, এটা আমার শুধু অধিকারই নয়, কর্তব্যও। সরকারের ভুল-ক্রুটি ধরিয়ে দিলে সরকারের উপকার হয়। মানুষের সমালোচনার অধিকার নিশ্চিত হলে দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

  সালতামামি

;

হিরো আলমের নির্বাচন: বিতর্কে যেতে চান না ওবায়দুল কাদের



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease
বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়া আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের নাম নিয়ে বিতর্কে যেতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটা উদ্দেশ্য নিয়ে যা করেছে, সে উদ্দেশ্যটা সফল হয়নি।’

বগুড়া ৪ আসনে হিরো আলমকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘যার কথা বলছেন, এ নাম নিয়ে অহেতুক আমি আর বিতর্কে আমি যেতে চাই না। বিএনপি একটা উদ্দেশ্য নিয়ে যা করেছে, সে উদ্দেশ্যটা সফল হয়নি, এটুকুই।’

উপ-নির্বাচনে ভোট কম পড়েছে, মানুষ ভোট দেয়ার প্রতি কেন আগ্রহ হারাচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই উপ-নির্বাচনে মানুষের আগ্রহ কম থাকে। কেননা এটা দিয়ে তো সরকারের বা এটা দিয়ে খুব বেশি লাভ-ক্ষতি কেউ খুঁজে পায় না।’

জাতীয় নির্বাচনেও কি এ রকমই থাকবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন আর উপ-নির্বাচন কি এক কথা হলো? এখানে কতগুলো বিষয় আছে। জাতীয় নির্বাচনে প্রধান-প্রধান দলগুলো অংশগ্রহণ না করলে সেখানে তারতম্য হবে। কিন্তু যেহেতু জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনের বিষয় আছে, সেখানে অবশ্যই পার্সেন্টেজ (ভোটার উপস্থিতি) অনেক বেশি হবে।

  সালতামামি

;