করোনার চোখ রাঙানি, যুদ্ধ, ক্ষমতার লড়াই নিয়ে যেমন কাটল ‘২১

  সালতামামি


মোস্তাফিজুর রহমান পলিন, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে যাচ্ছে ২০২১ সাল। নতুন কিছুর প্রত্যাশায় বিশ্ব বরণ করে নিতে যাচ্ছে খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২২ সালকে। তবে বিদায়ী ২০২১ সাল ইতিহাসে জায়গা করে নিবে নানা ঘটন-অঘটনের বছর হিসেবে। এসব মধ্যে রয়েছে নতুন রূপে করোনাভাইরাসের আগমন। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, মার্কিন কংগ্রেসে (ক্যাপিটল হিল) হামলা, আফগানিস্তানে তালেবানের ফের ক্ষমতায় আসা, অকাস নিয়ে বিতর্ক, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান, গাজায় ইসরাইলি হামলা, অভিবাসী সংকট, মালালার বিয়ে, ইউরোপের দেশ সুইডেনে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীসহ নানা ঘটনার কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বিদায়ী বছরটি।

নতুন রূপে করোনা, ফেলেছে চিন্তার ভাঁজ

বছরের শেষ সময়ে এসে নতুন করে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। এর ফলে ইউরোপের অনেক দেশ ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি সীমানা বন্ধের পদক্ষেপ নিচ্ছে। অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম করোনার নতুন ধরনের (স্ট্রেইন) অস্তিত্ব মিলেছে ৮৯টি দেশে। মহামারি পুরোপুরি নির্মূল না হতেই লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলাকেই এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শক বিজ্ঞানীরা বলেন, বিস্তার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতালগুলো বিশাল চাপের মুখে পড়বে। করোনার অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রন ইউরোপে বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্স। এদিকে করোনা প্রতিরোধে টিকা কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছেন, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বিশ্বের সব দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিলে আগামী বছরের মধ্যে মহামারির অবসান সম্ভব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে বয়স্ক বাইডেন

মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (৭৮) ২০ জানুয়ারি শপথ নেন। এছাড়া দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন কমলা হ্যারিস। যুক্তরাষ্ট্রে এবারই প্রথা ভেঙে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেশ কিছু সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করেন। যুক্তরাষ্ট্র ফের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ফেরে। এছাড়া ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে করা পরমাণু চুক্তি পুনর্বহালের বিষয়ে আগ্রহে প্রকাশ করে বাইডেন প্রশাসন। এছাড়া বাইডেন প্রশাসন আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সৌদি আরবে ক্রমাগতভাবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিমান হামলার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ক্যাপিটল ভবনে নজিরবিহীন হামলা

গত ৬ জানুয়ারি জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়নে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকরা নজিরবিহীন হামলা চালায়। এঘটনায় চার ব্যক্তি নিহত হন। এমনকি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে কারফিউ জারি করা হয়। এ ঘটনায় বিস্মিত হয় বিশ্বের রাজনৈতিক নেতারা। একে লজ্জাজনক বলেও উল্লেখ করেন তারা। মার্কিন গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠে।

২০ বছর পর ফের ক্ষমতায় তালেবান

দীর্ঘ ২০ বছর রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর গত ১৫ আগস্ট ফের আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলে নেয় তালেবান। দেশ ছেড়ে পালান পশ্চিমা-সমর্থিত আফগান সরকারের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। তালেবান ক্ষমতায় আসায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। এছাড়া আফগানিস্তানে গণতন্ত্রের যতটুকু চর্চা শুরু হয়েছিল, নারীর ক্ষমতায়নের যে ধারার সূচনা হয়েছিল, তা তালেবানের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে থমকে গেল। আবার দেশটি যেন ২০ বছর পেছনে ফিরে গেল। দেশটিতে দুই দশকের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। সরকারি হিসেবে আড়াই হাজারের বেশি মার্কিন সৈন্য ও প্রায় ৪ হাজার মার্কিন বেসামরিক লোক নিহত হন। অন্যদিকে আফগানিস্তানে ১ লাখ ৭০ হাজারের ওপর প্রাণহানি ঘটে। এদিকে তালেবান আবারও কঠোর শাসন চালু করতে শুরু করেছে, তার সঙ্গে দেশটিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তারা প্রায় দেশটিতে রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে।

অকাস উত্তেজনা

চীনকে মোকাবিলা করতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অকাস (এইউকেইউএস) নামের একটি নিরাপত্তা চুক্তির ঘোষণা দেয়। যার ফলে ওই অঞ্চলে হঠাৎ করে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক সাবমেরিন নির্মাণের জন্য উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহ কথা বলা হয়েছে। এতে করে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে এবং এর মধ্য দিয়ে কৌশলগত এই অঞ্চলে নতুন মেরুকরণের সূত্রপাত হবে। কিন্তু পরমাণু শক্তিধর দেশ ফ্রান্স এই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছে। অকাসের তীব্র নিন্দা করে বলেছে এর মাধ্যমে তাদের পিঠে ছুরি মারা হয়েছে। এর জেরে ক্ষুব্ধ প্যারিস যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ায় তাদের নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায়। যা খুবই অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেনের ব্যাপক সমালোচনা হয়। ধারণা হচ্ছে ২০২২ সালে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর মূল্য দিতে হবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল একটি অতি স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌ-অঞ্চল। মূলত বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রভাব মোকাবিলার জন্যই অকাস জোট গঠন করা হয়েছে।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান

চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার। বন্দি করা হয় গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। এর জেরে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক বিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যাতে ব্যবহার করতে না পারে, সে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ৯ এপ্রিল প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্ভাব্য সময়সীমা ঘোষণা করে বলে আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে এটি করা হবে। জান্তা সরকার ৬ ডিসেম্বর মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়।

গাজায় ইসরাইলি হামলা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল এ বছরের এপ্রিল ও মে মাসে হামলা চালায়। এতে গাজায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নারী-শিশুসহ মারা যায় ১৮১ জনের বেশি ফিলিস্তিনি। যার ফলে সংঘাত ছড়িয়ে গেছে ইসরাইলেও। সেখানে ইহুদি ও আরবদের মধ্যে সংঘর্ষে দেখা দেয়। পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি দখলদারদের হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে মুসলিম বিশ্ব। পবিত্র মসজিদের ভিতর নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব, ইরান, তুরস্ক, বাংলাদেশসহ প্রায় সব মুসলিম দেশ। তবে এই ইস্যুতে অনেকটাই নমনীয় সুর ছিল পশ্চিমাদের।

গভীর হচ্ছে অভিবাসী-সংকট

দিন যত যাচ্ছে ততই অভিবাসী-সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ এশীয় দেশগুলো থেকে ইউরোপমুখী অভিবাসন-প্রত্যাশীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে ওই অঞ্চলে চলমান অভিবাসী-সংকট গভীর হচ্ছে। এছাড়া হাইতি ও হন্ডুরাসের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রমুখী হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপে অভিবাসী সংকট নতুন মাত্রা যোগ করে এ বছর। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে ১৭ লাখ মানুষ ঢোকে, অন্যদিকে ইউরোপে গত বছরের তুলনায় এবার ৭০ শতাংশ বেশি অভিবাসী ঢুকেছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেকে সাগর পথে ইউরোপে প্রবেশ করার সময় নৌকাডুবে মারা গেছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, এ বছর শুধু মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে নৌকা দুর্ঘটনা এবং জাহাজডুবির ঘটনায় প্রায় ১৫০০ শরণার্থী ডুবে মারা গেছে। সম্প্রতি লিবিয়া উপকূলে ভেসে এসেছে ইউরোপগামী ২৭ জন শরণার্থীর লাশ। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রুটের এই ঘটনাকে সবশেষ ট্যাজেডি বলছে রেড ক্রিসেন্ট।

বিয়ে করেছেন নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই

পাকিস্তানের নারীশিক্ষা অধিকারকর্মী ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই বিয়ে করেছেন। এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মালালা। কারণ একসময় তিনি বলেছিলেন, মানুষ কেন বিয়ে করে। ভোগ ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৩ বছর বয়সী মালালা বলেন, আমি নিশ্চিত নই যে কখনো বিয়ে করবো কি না। আমি এখনো বুঝতে পারছি না কেন মানুষকে বিয়ে করতে হবে’ তিনি আরও বলেন, আপনি যদি আপনার জীবনে একজন ব্যক্তি থাকতে চান, তাহলে কেন বিয়ের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে, কেন এটি একটি কেবল অংশীদারিত্ব হতে পারে না? বিয়ে করার পর এ নিয়ে মালালা বলেন, আমি একজন সেরা বন্ধু ও সঙ্গী খুঁজে পেয়েছি। তাঁর ভাষ্য, এবার সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিয়েকে দেখেছেন তিনি।

সুইডেনে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন

সুইডেনের ইতিহাসে চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন দেশটির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই পদত্যাগ করেন তিনি। ফের ২৯ নভেম্বর সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি এক দলীয় সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

   

ভারতজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা-গঙ্গার পানি ভাগাভাগি সম্ভব নয়: মোদিকে মমতা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজ্যের অংশগ্রহণ ছাড়া তিস্তা ও গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কোনো আলোচনা করা উচিত হবে না বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে মমতা মোদিকে পাঠানো চিঠিতে তিস্তা এবং ফারাক্কার পানি বাংলাদেশকে দেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক বিরোধিতা করেছেন। এমনকি একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিবাদে ভারতজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, 'বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি ভাগাভাগি করা সম্ভব নয়। কারণ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের মানুষের সেচ ও খাওয়ার জন্য পানির প্রয়োজন হয়।'

তিনি বলেন,`তিস্তায় পানির প্রবাহ বছরের পর বছর ধরে কমে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পানি ভাগাভাগি করা হলে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ সেচের পানির অপর্যাপ্ততার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।'

'এ ছাড়া, উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের খাবার পানির প্রয়োজনীয়তা মেটাতেও তিস্তার পানি প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি ভাগাভাগি করা সম্ভব নয়', চিঠিতে উল্লেখ করেন মমতা।

চিঠিতে মমতা লেখেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পরিপ্রেক্ষিতে আমি এই চিঠি লিখছি। মনে হচ্ছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তিস্তা ও গঙ্গা পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পরামর্শ ও মতামত ছাড়া এ ধরনের একতরফা আলোচনা গ্রহণযোগ্য বা কাম্য নয়।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা আরও লিখেছেন, ‘রাজ্যের ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আমি বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি এবং সর্বদা তাঁদের মঙ্গল কামনা করি। পশ্চিমবঙ্গ অতীতে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশ-ভারত ছিট মহল বিনিময়ের চুক্তি, ইন্দো-বাংলাদেশ রেলওয়ে লাইন ছাড়াও বাস পরিষেবাগুলো এই অঞ্চলে অর্থনীতির উন্নতির মাইলফলক।’

পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘পানি খুবই মূল্যবান এবং মানুষের জীবন রেখা। আমরা এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে আপস করতে পারি না, যা জনগণের ওপর মারাত্মক এবং বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ ধরনের চুক্তির প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি বুঝতে পেরেছি ভারত সরকার, ভারত-বাংলাদেশ ফারাক্কা চুক্তি নবীকরণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যার মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হবে। এটি একটি চুক্তি যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জল বণ্টনের নীতিগুলো বর্ণনা করে।’

এরপর সেই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে মমতা লিখেছেন, ‘আপনি জানেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবন-জীবিকা বজায় রাখার জন্য নদীর পানি একটি বিশাল প্রভাব রয়েছে। ফারাক্কা ব্যারেজে পানি সরানো হয়, তা কলকাতার বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।’

‘আমি আপনার নজরে আনতে চাই, ভারত ও বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের নদীর রূপতত্ত্ব পরিবর্তিত হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেছে এবং রাজ্যের পানির প্রাপ্যতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং কিছু ঘোষণাও এসেছে। সেখানে তিস্তা-গঙ্গার পানিবণ্টনসহ পশ্চিমবঙ্গ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হলেও ডাক পাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে মমতা কড়া ভাষায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।

আলোচনার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে তিস্তার পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য শিগগির একটি কারিগরি দল বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং ২০২৬ সালে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নের বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।

  সালতামামি

;

ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রধান নিহত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রধান হানি আল জাফরি নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ জুন) গাজা উপত্যকার প্রধান শহর গাজা সিটির একটি ক্লিনিকে বিমান হামলাটি চালানো হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হানি আল জাফরির মৃত্যু সংবাদটি বিবৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (আইডিএফ) দাবি করেছে, বিমান অভিযানে হানি আল জাফরি নন, নিহত হয়েছেন হামাসের কমান্ডার ও অস্ত্র প্রস্তুত বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ সালাহ।

আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সালাহ ছিলেন সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হামাসের কৌশলগত সামরিক অস্ত্র প্রস্তুত প্রকল্পের নির্বাহী। এই প্রকল্পে হামাসের যত লোকবল রয়েছে, তাদের সবাই সালাহর নির্দেশ মেনে চলে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিত এক হামলার জবাবে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলই নিরাপত্তা বাহিনী (আইডিএফ)। হামাস নির্মূলের নামে এখনও অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে হামলা-অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলই সেনারা। সাড়ে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এ আগ্রাসনে গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩৮ হাজার ফিলিস্তিনি, যাদের ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

  সালতামামি

;

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব পড়বে তরুণ দৃষ্টিভঙ্গির



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা

ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২২ সালে হিজাব না পরায় গ্রেফতারের পর মৃত্যু হয় মাহসা আমিনির। এরপর থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইরানে। সে বিক্ষোভে দেখা যায় মতাদর্শের দিক থেকে তরুণ দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা। দেশটির বর্তমান সাড়ে ৮ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই তরুণ হওয়ায় তাই এবারের নির্বাচনের মূল প্রভাবক তারাই। 

ইরানের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তরুণ ভোটারই নিয়ামক হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাস তরুণদের রক্ষণশীলতা এবং সংস্কারবাদ দুই ভাগে ভাগ করেছে।

এ প্রসঙ্গে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সাথে কথা বলেন ২০২২ সালের হিজাব বিরোধী আন্দোলনে বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থী আতুসা। নিরাপত্তার কারণে পুরো নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

২২ বছর বয়সী আতুসা ইরানের শাসকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রতিবাদে যোগ দিয়েছিলেন। তবে, সে বিক্ষোভ দমনেই যোগ দিয়েছিলেন বর্তমান সরকারের অনুগত আরেক তরুণ রেজা। দুই তরুণ ইরানির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিগত দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। আর সেটিই এবার প্রভাব রাখতে পারে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও, বদলে দিতে পারে ফলাফল।

আগামী শুক্রবার (২৮ জুন) ইরানের ১৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আতুসা এ নির্বাচনকে সার্কাস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইব্রাহিম রাইসির উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার জন্য শুক্রবারের ব্যালটে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন তিনি।

কিন্তু রেজা কট্টরপন্থী হওয়ায় তিনি ভোট দিতে চান, এবং ভোট দেওয়াকে ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। ফলে নির্বাচনে বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্যণীয়। যা ৪৫ বছরের ইতিহাসে দেশটি আবারও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের দ্বারপ্রান্তে।

আতুসা বলেন, ‘ইরানের সব নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও একটি সার্কাস। আমি যখন শাসনের পতন চাই, তখন কেন আমি ভোট দেব? এমনকি যদি এটি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনও হয় এবং যদি সমস্ত প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। তারপরও ভোট দিব না, কারণ আমি জানি ইরানের প্রেসিডেন্টের কোন ক্ষমতা নেই।’

গত কয়েক সপ্তাহে ইরানিরা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ হ্যাশট্যাগ ‘ইলেকশন সাকার্স’ ব্যাপকভাবে পোস্ট করেছে। দেশে এবং বিদেশে কিছু ইরানি নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের রাজনৈতিক ধারায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা হলেন সুপ্রিম লিডার, যে পদে এখন আছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। আর ইরানের প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাবলে দ্বিতীয়। তবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কট্টরপন্থী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে।

২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনিকে আটক করে দেশটির পুলিশ। ঠিকমতো হিজাব না পরায় মাহসাকে গ্রেফতারের পর পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর পর থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইরানে। বিক্ষোভে অনেকেই হিজাব না পড়ে অংশ নেন।

সেই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অপরাধে আটক হোন আতুসা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হোন। ইরানের সরকার বিরোধীদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির তৎতকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। ওই হিজাব বিরোধী আন্দোলনে দমনে পুলিশি হামলায় ৫ শতাধিক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়।

আতুসা বলেন, ‘আমি আশাবাদী ছিলাম, আমি ভেবেছিলাম অবশেষে পরিবর্তন আসবে এবং আমি একটি স্বাধীন দেশে কোনো দমন-পীড়ন ছাড়াই জীবনযাপন করতে পারব। আমি চরম মূল্য দিয়েছি, কিন্তু শাসন এখনও সে অবস্থায় আছে।’

উল্লেখ্য, ইরানের ১৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনই রয়েছেন কট্টরপন্থী। একজন রয়েছেন স্বল্প-মধ্যপন্থী, তবে তিনিও কট্টরপন্থী সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সাড়ে ৮ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৬০ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের কম। ফলে, সকল প্রার্থীই সোশ্যাল মিডিয়ায়, বক্তৃতায় এবং প্রচারে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

  সালতামামি

;

ভারতে প্রাক্তন প্রেমিকের গুলিতে নিহত বিয়ের কনে



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নিহত কাজল আহিরওয়ার

নিহত কাজল আহিরওয়ার

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ২২ বছর বয়সী কাজল আহিরওয়ার নামে এক তরুণীকে বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রাক্তন প্রেমিক গুলি করে হত্যা করে।

মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির একটি বিউটি পার্লারে বিয়ের মেক-আপ করাচ্ছিলেন কাজল। তখন তার প্রাক্তন প্রেমিক জোর করে ভিতরে প্রবেশ করে এবং তাকে একাধিক গুলি করে। রোববার (২৩ জুন) তার বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত দীপক গুলি করার আগ মুহুর্তে বলছিল, ‘কাজল বাহার আও, তুমনে হুমে ধোখা দিয়া হ্যায় (বাইরে এসো, কাজল। তুমি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছ)।’

এ সময় দীপকের মুখ রুমালে ঢাকা ছিল। গুলি চালানোর পরপরই বিউটি পার্লার থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখা যায় তাকে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। পুলিশ দুটি দল গঠন করে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং পার্লারের মালিক জাহ্নবী ঝা বলেন, মেয়েটি দাতিয়াতে থাকেন। তিনি এখানে তার মেক-আপের জন্য এসেছেন। তার সাথে চারটি মেয়ে এসেছিল। আমি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এখানে এসেছি। তখন মেক-আপের কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। হঠাৎ একজন লোক তার সঙ্গে প্রবেশ করেন। মুখ ঢেকে বললেন, 'কাজল, প্লিজ বাইরে এসো'। কাজল বাইরে যেতে আপত্তি জানালে কাঁচের দরজা ভেঙে জোর করে লোকটি ভিতরে ঢুকে এবং তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার বলেন, ‘যে লোকটি মেয়েটিকে গুলি করেছে সে তার গ্রামেরই। সে তাকে চিনত। কেন সে তাকে গুলি করেছে তা তদন্তের বিষয়। পরিবারের সাথে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি যে তারা বিয়ের জন্য ঝাঁসি যাচ্ছিল। লোকটি এখানে তাকে অনুসরণ করে এবং গুলি করে।’

  সালতামামি

;