সরগরম ছিল আদালত পাড়া, অপরাধ নির্মূলে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ রায়

  সালতামামি



সুলতান মাহমুদ আরিফ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সরগরম ছিল আদালত পাড়া, অপরাধ নির্মূলে ছিল ‘দৃষ্টান্তমূলক’ রায়

সরগরম ছিল আদালত পাড়া, অপরাধ নির্মূলে ছিল ‘দৃষ্টান্তমূলক’ রায়

  • Font increase
  • Font Decrease

জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে শেষ হতে চলেছে ২০২১ সাল। এ বছর আইন-আদালতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। অপরাধ নির্মূলে চেষ্টা করা হয়েছে দূষ্টান্তমূলক রায় দেওয়ার। আবরার হত্যা, দীপন হত্যাকাণ্ড, ইভ্যালি কাণ্ড এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার রায় সব মিলিয়ে বিদায়ী বছরের কিছু বিচারকার্য স্মৃতিতে লেগে থাকবে।

আবরার হত্যা মামলার রায়

এ বছরের সেরা আলোচিত মামলার রায় ছিল আবরার হত্যার রায়। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে হত্যা করা হয় আবরারকে। এ ঘটনায় তারপরের দিন বুয়েটের ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। আর সেই ঘটনার বিচার শেষে গত গত ৮ ডিসেম্বর বুয়েটের ২০ ছাত্রকে মৃত্যুদণ্ড আর ৫জনকে যাবজ্জীবন দেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। এ মামলার রায় ঘোষণা করে বলা হয়, ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি এ রায়ে দেওয়া হয়েছে।’

দুই শিশু নিয়ে দেশি বাবা বিদেশি মায়ের আইনি লড়াই

২০০৮ সালে বিয়ে করে জাপানে স্বামী প্রকৌশলী ইমরানকে নিয়ে থাকা চিকিৎসক নাকানো এরিকো দাম্পত্য কলহের জেরে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি বিচ্ছেদের আবেদন করা হয়। ইমরান দু‘মেয়েকি নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসলেই বাধে বিপত্তি। মেয়েদের পাওয়ার জন্য করোনার ভেতরেই বাংলাদেশে চলে আসেন ওই জাপানি নারী নাকানো এরিকো। গত ১৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ আদেশে বলেছেন, শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত জাপানি মা নাকানো এরিকোর কাছে থাকবেন। এই সময় শিশুদের নিয়মিত স্কুলে নিয়ে যেতেও বলা হয়েছে। তবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফ শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। ৩ জানুয়ারি পরবর্তী আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার ১১ বছরের কারাদণ্ড

২০১৯ সালের ১০ জুলাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া ঋণের মাধ্যমে চার কোটি টাকা স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার বিরুদ্ধে। ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) ৪ কোটি টাকা ঋণ দুর্নীতির এ মামলায় চলতি বছরের ৯ নভেম্বর বিদেশে থাকা এ বিচারপতির ১১ বছর কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ শেখ নাজমুল আলম।

বিচারক হারান তার বিচারিক ক্ষমতা

রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগে করা চাঞ্চল্যকর মামলায় গত ১১ নভেম্বর তিনি রায় ঘোষণা করেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক ছিলেন মোছা. কামরুন্নাহার। ওই রায়ে পাঁচ আসামির সবাইকে খালাস করে দেয়া হয়। এছাড়া ধর্ষণের অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে পুলিশ যেন মামলা না নেয়, সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেন এই বিচারক। যদিও লিখিত রায়ে এ বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ নেই। এরপরই চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর কামরুন্নাহারের ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। একই সঙ্গে তাকে এজলাসে না বসার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতপাড়ায় আলোচিত নায়িকা পরীমনি

ঢাকা বোট ক্লাবকাণ্ড, বাসায় র‌্যাবের অভিযান, মামলা, রিমান্ড, গ্রেফতার, জামিন, মুক্তি এমন সব ঘটনা নিয়ে চলতি বছরে আদালত পাড়ায় আলোচিত ছিলেন ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমণি। যার শুরুটা হয় চলতি বছরের ৮ জুন দলবেধে ঢাকা বোট ক্লাবে যাওয়া থেকে। বিদায়ী বছরের ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে পরীমনিকে গ্রেফতার করা হয়। তিন দফায় দেয়া হয় সাত দিনের রিমান্ড। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ৩১ আগস্ট জামিন হয় তার। ২৬ দিন পর ১ সেপ্টেম্বর পরীমণি কারামুক্ত হন।

নাসির-তামিমা বিচারের কাঠগড়ায়

প্রথম স্বামী রাকিব হাসানকে রেখে তামিমা বিয়ে করেন আলোচিত ক্রিকেটার নাসির হোসাইনকে। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন রাকিব। বিয়ে গোপন রেখে অন্যত্র বিয়ে এবং নাসির হোসাইনের নামে করেন মানহানি মামলা।মামলাটি তদন্ত করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। যে মামলায় নাসির-তামিমা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

দীপন হত্যার রায়, ৮ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ব্লগার ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমান আট জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর মামলাটির অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আট সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। দণ্ডিতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসহ দুজন পলাতক রয়েছেন।

মুনিয়ারআত্মহত্যা’, আনভীরের অব্যাহতি

গত ২৬ এপ্রিল গুলশান-২ এর একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহানে মুনিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বোন বাদি হয়ে গুলশান থানায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে আসামি করে মামলা করেন। আর সেই মামলায় মুনিয়ার আত্মহত্যায় বসুন্ধরার এমডির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে চলতি বছরের ১৯ জুলাই আদালতে ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ দাখিল করেন পুলিশ, তাই আদালতের মাধ্যমে দায়মুক্তি পান আনভীর।

জুলহাস-তনয় হত্যায় জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের বাড়িতে জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয়কে ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল হত্যার দায়ে আট আসামির মধ্যে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত ৩১ আগস্ট ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার রায়

২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরায় কলারোয়ায় যান। সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁর গাড়িবহর সন্ত্রাসী হামলা শিকার হয়। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। সেই ঘটনার দীর্ঘ দুই যুগ পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেওয়া রায়ে সাবেক সাংসদ হাবিবুলসহ ৫০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। এর মধ্যে বর্তমানে ৩৬ জন কারাগারে রয়েছেন ও ১৩ জন পলাতক।

আলোচিত আমিনবাজারে ছয় ছাত্রকে হত্যার রায়

২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবেবরাতের রাতে আমিনবাজারের বড়দেশি গ্রামের কেবলার চরে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।

জোড়া খুনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর কাকরাইলের পাইওনিয়র গলির একটি বাসায় ২০১৭ সালের ১ নভেম্বরে আবদুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার করিম ও তার ছেলে শাওনকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০১৮ সালের ১৬ জুলাইয়ে আবদুল করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন মুক্তা ও মুক্তার ভাই আল-আমিন ওরফে জনি এবং নিহতের স্বামী করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালত ওই তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

ইভ্যালি পরিচালনার জন্য বোর্ড গঠন

গত ১৮ অক্টোবর আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি পরিচালনার পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দেন হাইকোর্ট। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনায় গঠিত বোর্ড কী ধরনের কাজ করবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, লিখিত আদেশ পাওয়ার পরপরই তারা বোর্ড মিটিংয়ে বসবেন। কোথায় কী আছে সবকিছু বুঝে নেবেন। কোম্পানি যেভাবে চলে, সেভাবে প্রথমে বোর্ড মিটিং বসবে। তাদের (বোর্ড) দায়িত্ব হলো টাকাগুলো কোথায় আছে, কোথায় দায় আছে, তা দেখা। কমিটি বসে বিষয়গুলো দেখবে।

ব্লগার অভিজিৎ হত্যা মামলার রায়

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎকে। হামলায় অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদও গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। বিদায়ী বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান অভিজিৎ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

পি কে হালদারসহ ২০ জনের সম্পদ জব্দ

বিদায়ী বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা পি কে হালদারসহ ২০ জনের সম্পদ জব্দের নির্দেশ।চলতি ২১ জানুয়ারি প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা পাচারের ঘটনায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পি কে হালদার) ২০ জনের সম্পদ, পাসপোর্ট ও ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। যা এ বছর খুব আলোচনার সৃষ্টি করে।

এছাড়া ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন দেলোয়ারসহ অভিযুক্ত আসামিরা। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণ, নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় আসামি দেলোয়ার হোসেন দিলু ও মোহাম্মদ আলী ওরফে আবু কালামকে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) রাজারবাগ দরবারের পীর দিল্লুর রহমান, তার সহযোগিদের কার্যক্রম জঙ্গিদের সাদৃশ্য বলে হাইকোর্টে এক প্রতিবেদন পেশ করেন। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ ডিসেম্বর মামলার তদন্তের স্বার্থে রাজারবাগ দরবার শরীফের পীরসহ চারজনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে বলে আদেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রাজারবাগ দরবার শরীফ ও পীরের কর্মকাণ্ডের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে সিটিটিসিকে নির্দেশ দেন আদালত।

এ বছরের আরেকটি আলোচিত বিষয় হল ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ টেলিকমে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করা নিয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে হাইকোর্টের তলব। পরে নোবেলজয়ী ড. ইউনুস ভার্চুয়ালি হাজির হয়ে আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দেন।

গত ২১ জানুয়ারি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে পাঁচ লাখ টাকা ও তার বেশি অর্থঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া এমন ২৮০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তলব করেন হাইকোর্ট। যা বিদায়ী বছরের অন্যতম একটি আলোচিত ঘটনা।

দুর্নীতির অভিযোগে ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে ড্রাইভার মালেককে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১। অস্ত্র আইনে হওয়া মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে বাদলের পৃথক দুই ধারায় ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে চলবে। সেক্ষেত্রে ১৫ বছর সাজা ভোগ করতে হবে মালেককে।

  সালতামামি

খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের মুলতবি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের মুলতবি

খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের মুলতবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ৮ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন। এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি মুলতবি চেয়ে আদালতে করা আবেদন করা হয়।

এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি মুলতবি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার দ্য ডেইলি স্টারকে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারেননি। পরবর্তী তারিখে তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করবেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল এর বিরোধিতা করেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন কারণে বিবাদীপক্ষ ৪৬ বারের মতো সময় চেয়ে আবেদন করল।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাগারে থাকার পর গত বছরের ২৫ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসন সরকারের নির্বাহী আদেশে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৪০১(১) ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড স্থগিত করা হয়।

সিআরপিসির ৪০১(১) ধারায় বলা হয়েছে, 'যখন কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের জন্য শাস্তি প্রদান করা হয়, তখন সরকার যে কোনো সময় শর্ত ছাড়াই অথবা শর্তের বিনিময়ে (দণ্ডিত ব্যক্তি গ্রহণ করে) শাস্তি কার্যকর স্থগিত করতে পারে। অথবা তাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তার পুরো বা যে কোনো অংশ স্থগিত করতে পারে।'

পরবর্তীতে কয়েক দফা খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

২০০৭ সালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেছিলেন। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

এরা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

  সালতামামি

;

মেয়ে আদুরির জিম্মায় বাড়ি ফিরলেন রহিমা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নিখোঁজ রহিমা বেগমকে বাদী মেয়ে আদুরি আক্তারের জিম্মায় দিয়েছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। আদুরির আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আহমেদ এ আদেশ দেন। এর আগে, গতরাতে রহিমা বেগমকে উদ্ধারের পর খুলনা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

রহিমা খাতুনকে অপহরণ করা হয়নি বলে ধারণা করলেও ঘটনাটি তদন্তের কথা জানিয়েছে পিবিআই। বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান এ কথা জানান।

তিনি বলেন, রহিমার কাছে সাদা রঙের একটি শপিং ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে ওড়না, হিজাব, আয়না, শাড়ি, আইড্রপ, ওষুধ, সালোয়ার কামিজ এবং ছোট একটি হাত ব্যাগ ছিল। সাধারণত একজনকে অপহরণ করে নিয়ে গেলে এই জিনিসগুলো থাকার কথা না।

এটা অপহরণ বলে মনে হচ্ছে কি-না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, আমরা এখনও মামলা তদন্ত করছি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আফরুজ্জামান টুটুল বলেন, ভিকটিম আদালতকে তার অপহরণের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, জমিজমা নিয়ে যাদের সঙ্গে বিরোধ ছিল, মূলত তারাই তাকে অপহরণ করে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে থেকে তিনি ফরিদপুরে আসেন। মামলায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে ৪/৫ জন অপহরণের সঙ্গে জড়িত। জবানবন্দি প্রদান শেষে চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-৪-এর বিচারক সারোয়ার আহমেদ তাকে তার মেয়ে এজাহারকারী আদুরি আক্তারের জিম্মায় হস্তান্তর করেন।

গত ২৭ আগস্ট রাতে খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশার উত্তর বণিকপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হন রহিমা বেগম। এরপর থেকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি সন্তান ও স্বজনরা। মায়ের খোঁজে মেয়ে মরিয়ম মান্নানের আর্তনাদের একটি ভিডিও এবং মায়ের লাশ পেয়েছি এমন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

  সালতামামি

;

গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে, আমি নির্দোষ: জিকে শামীম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জিকে শামীম

জিকে শামীম

  • Font increase
  • Font Decrease

অস্ত্র আইনের মামলায় যুবলীগের কথিত নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমসহ আটজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

জি কে শামীম তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলার রায়ের পর বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার এবং এটি তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

আজ রায় ঘোষণার আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় জি কে শামীমকে।

যাবজ্জীবন পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন—মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মুরাদ হোসেন। এরা জি কে শামীমের দেহরক্ষী।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সালাউদ্দিন হাওলাদার বিষয়টি এনটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিচারক তাঁর রায়ে সব আসামির লাইসেন্স করা অস্ত্র রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পিপি আরও বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন আদালত।’

এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহিনুর রহমান অণি বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’

২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর জি কে শামীমের অস্ত্র মামলায় তদন্তসংস্থা র‌্যাব আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপরে মামলাটি বিচারের জন্য এই আদালতে এলে ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

নথি থেকে জানা গেছে, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হলে ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনে শামীমের বাড়ি ও অফিসে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে আটটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর এবং নগদ প্রায় এক কোটি ৮১ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ও মদ জব্দ করে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানিলন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

  সালতামামি

;

অদিতাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা, শিক্ষক রনির স্বীকারোক্তি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর মাইজদীর লক্ষীনারায়ণপুরে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রাইভেট শিক্ষক আবদুর রহিম রনি।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আবদুর রহিম রনি। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে প্রেস কনফারেন্সে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত আবদুর রহিম রনি (৩০) নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষীনারায়ণপুর মহল্লার খলিল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, রনির কাছে প্রাইভেট পড়তো অদিতা। হঠাৎ অদিতা তার কাছে প্রাইভেট পড়তে অনীহা প্রকাশ করে এবং নতুন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে শুরু করে। এতে রনি নাখোশ হয়। এবিষয়ে রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

এসপি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে অদিতার বাসায় যান সাবেক কোচিং শিক্ষক রনি। বাসায় গিয়ে বন্ধ দরজা নক করলে অদিতা বাসার দরজা খুলে দেয়। তখন সে বাসায় প্রবেশ করে অদিতার সঙ্গে গল্পগুজব করে। গল্পগুজবের একপর্যায়ে রনি অদিতাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন কারণে ব্যর্থ হয়। এরপর রাগান্বিত হয়ে অদিতা বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে রনি অদিতাতে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে রান্না ঘর থেকে ছুরি এনে অদিতার বাম হাতের রগ এবং গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে হাতের বাঁধন খুলে দেয়। এরপর রনি ঘটনাকে ভিন্ন খাতে রূপ দিতে ঘরের আলমিরা ও ওয়ারড্রবের জামা-কাপড়, কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘরের দরজা বাহির থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

শনিবার দুপুরে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি রনি এসব কথা বলেন।

উলেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শহর মাইজদীতে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসমিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) গলাকেটে হত্যা করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধারের পরপর পুলিশের একাধিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি গৃহ শিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে, ইসরাফিল (১৪), তার ভাই সাঈদকে (২০) গ্রেফতার করে।

  সালতামামি

;