বাঙালির রঙের উৎসব দোল পূর্ণিমা আজ

  • ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
  • |
  • Font increase
  • Font Decrease

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

‘ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল। লাগলো যে দোল!’ বসন্তে দোলের রঙের উৎসব দোল যাত্রা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় উৎসব দোলযাত্রা। দোলযাত্রা উপলক্ষে ফাল্গুন মাসের শুক্‌লা চতুর্দশীতে সকলে মেতে ওঠে রঙ বেরঙের আবিরে। লাল, গোলাপি, নীল, হলুদ, সবুজ- নানারঙের আবিরে রেঙে ওঠে আকাশ। দোলনায় রাধা-কৃষ্ণকে বসিয়ে পায়ে আবির এবং ধূপ-দ্বীপসহ ফুল, মিষ্টি ও অন্যান্য নৈবদ্য অর্পণ করা হয়।

এরপর বাড়ির বড়দের থেকে আশির্বাদ নিয়ে এবং আবির মাখিয়ে দোল উৎসব শুর করা হয়। পরে ভাই-বোন, আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী সকলে মিলে হাসি আনন্দে রঙ মাখামাখি করে। মিষ্টিমুখ করে শুভ বার্তা প্রচার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের সনাতনধর্মীদের কাছে মূলত এদিনটি দোলযাত্রা হিসেবে পরিচিত। তবে অনেকে একে দোলপূর্ণিমা বা হোলি উৎসবও বলে। বাংলাদেশ ছাড়াও, ভারতের বিভিন্ন স্থান এবং অন্যান্য হিন্দুধর্মাবলম্বীদের দেশেও সবাই রঙ খেলায় মেতে ওঠে। স্থানভেদে এই উৎসব দৌল, দেউল, বা হোরি উৎসব নামেও পরিচিত। মূলত ‘দোলনা’ থেকে এই দোল শব্দ এসেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং প্রেয়সী রাধারাণীকে ফুলের দোলনায় দোল খাওয়ানো হয় এই দিনে। তাই সংস্কৃত ‘দোলা’ শব্দ থেকে দোলউৎসবের সূচনা হয়।

সনাতন শাস্ত্রবিদদের মতে, বাংলায় আধুনিক যুগে দোল যাত্রা উৎসব পালনের প্রচার শুরু করেন গৌড়াঙ্গ বা চৈতন্য মহাপ্রভূ। তার জন্মও হয়েছিল এক দোলপূর্ণিমার রাতে। প্রাপ্ত বয়েসে তিনি জন্মস্থান নবদ্বীপ ত্যাগ করে সেখান থেকে বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে ছোট বড় সকলকে দেখেন দোল পূর্ণিমায় রঙ উৎসব পালন করতে। এছাড়াও পুরো ভারতবর্ষ ঘুরে তিনি বিভিন্ন স্থানে দোল উৎসব পালনের নিদর্শন পান। যেমন, সপ্তম শতাব্দীতে সম্রাট হর্ষবর্ধন রত্নাবলী নাটক লিখেছিলেন। সেখানে হোলিতে রঙ উৎসবের উল্লেখ রয়েছে। এখনকি বিজয়নগরে এক মন্দিরের গায়ে রাজসন্তানদের রঙ খেলার চিত্রায়ন লক্ষ্য করা যায়। সেই থেকে বাংলার বুকে দোলযাত্রা বা রঙ উৎসবের সূচনা হয়। তাই দোল পূর্ণিমাকে অনেকে দোল পূর্ণিমা হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।

বিজ্ঞাপন

পৌরাণিক মতে এই দিনে শ্রীকৃষ্ণ রাধারাণীকে নিয়ে বৃন্দাবনের বনে দোলনায় দোল খেয়েছিলেন। তাছাড়া গোপিনীদের সঙ্গে আবিরখেলায় মত্ত হয়েছিলেন। তাদের সেই রঙ উৎসবের আনন্দেই মর্ত্যবাসী আবির খেলে।

আরও এক পৌরাণিক গল্প মতে, রাক্ষসরাজ হিরণ্যকশিপু তার বিষ্ণুভক্ত পুত্র প্রহ্লাদকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। নানাচেষ্টার মধ্যে তিনি ভোগিনী হোলিকাকে বলেন, তার ব্রহ্ম আশির্বাদসম্পন্ন চাদর পেচিয়ে পুত্র প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনে বসতে। চাদরের কারণে আগুন থেকে হোলিকা ছিল নিরাপদ। তবে বিষ্ণু আশির্বাদে সেই চাদর গিয়ে প্রহ্লাদের গায়ে পড়ে। আর আগুনের তাপে হোলিকা মারা যায়। এই ঘটনাকে স্মরণ করে, দোলযাত্রার আগের দিন হোলিকা দহন বা আঞ্চলিক ভাষায় ন্যাড়াপোড়ানোর আয়োজন করা হয়। আবার অনেকের মতে, পুতনা রাক্ষসীর মৃত্যুর পর পালন করা হয়েছিল দোল উৎসব। নিজ স্তনে বিষ মেখে শ্রীকৃষ্ণকে খায়িয়ে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলেন পুতনা। সেই দুগ্ধ পান করার ফলেই শ্রীকৃষ্ণ নীলবর্ণ ধারণ করেছিলেন।

দোল হলো রঙের উৎসব। এই উৎসবে সকলে একে অপরের মঙ্গল প্রার্থনা করে। সকলের জীবনের অন্ধকার কেটে জীবন নানারঙে ভরে উঠুক। ঠিক যেমন রঙ বেরঙের আবিরে রেঙে ওঠে আকাশ-বাতাস।