ভারতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি



নাছরিন আক্তার উর্মি, বার্তা২৪.কম
ভারত ভ্রমণকারী আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য আপডেট নির্দেশিকা। ছবি: সংগৃহীত

ভারত ভ্রমণকারী আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য আপডেট নির্দেশিকা। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার কারণে ভারতের বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় (এমওসিএ) ভারতে ভ্রমণকারী আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য আপডেট নির্দেশিকা ঘোষণা করেছে।

এমওসিএ জানিয়েছে, "এই নির্দেশিকা ২০২০ সালের ২ আগস্ট থেকে এই বিষয়টিতে জারি করা সমস্ত নির্দেশিকা বাতিল করবে। এই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতিটি আগামী ২২ শে ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী আদেশ অবধি কার্যকর থাকবে।

সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন নির্দেশিকা যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ থেকে আগত ফ্লাইটগুলোর মাধ্যমে সমস্ত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

নতুন নির্দেশিকা সমূহ:

১. নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, সমস্ত ভ্রমণকারীদের নির্ধারিত ভ্রমণের আগে অনলাইন এয়ার সুবিধা পোর্টালে একটি স্ব-ঘোষণার ফর্ম জমা দিতে হবে। যাত্রা শুরুর ৭২ ঘন্টা আগে করোনা টেস্টের রিপোর্ট, আরটি-পিসিআর রিপোর্ট আপলোড করতে হবে। প্রতিটি যাত্রীকে প্রতিবেদনের সত্যতার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে একটি বিবরণ জমা দিতে হবে। বিবরণ দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

২. সমস্ত ভ্রমণকারী যাত্রা শুরুর আগে, তাদের পোর্টালে কিংবা ভারতের এমওসিএ‘তে একটি অঙ্গীকারনামা প্রদান করবে। অঙ্গীনামা অনুসারে সরকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তারা হোম কোয়ারানটাইন মেনে চলবে এবং ১৪ দিনের জন্য তাদের স্বাস্থ্যকে স্ব-পর্যবেক্ষণ করবে।

৩. পরিবারের কারোর মৃত্যুর কারণে ভারতে ভ্রমণকারীদের করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট তৈরি করতে ছাড় দেওয়া হবে।

৪. এছাড়াও, এই ধরনের ছাড়ের জন্য বোর্ডিংয়ের কমপক্ষে ৭২ ঘন্টা আগে অনলাইন পোর্টালে (www.newdelhiairport.in) আবেদন করতে হবে। সরকার কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনলাইন পোর্টালে যোগাযোগ করে চূড়ান্ত হবে।

৫. অসুস্থ ভ্রমণকারীদের তাপীয় স্ক্রিনিংয়ের পরে ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হবে।

ভারতের বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা। ছবি: টাইমস ট্রাভেল

৬. স্থল / সমুদ্রবন্দর দিয়ে যারা যাবেন তাদেরও একই প্রোটোকলটি মানতে হবে। তবে এই মুহুর্তে এই জাতীয় যাত্রীদের জন্য অনলাইন নিবন্ধকরণের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

৭. যাদের নিজস্ব ফ্লাইট রয়েছে, তাদের বিমানবন্দরে (ভারতে) ট্রানজিট সময়ের জন্য সর্বনিম্ন ৬-৮ ঘন্টা প্রয়োজন অনুসারে অতিবাহিত করতে হবে। যা পরীক্ষা এবং অন্যান্য পদ্ধতির জন্য প্রয়োজনীয় হবে।

৮. যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা (১৪ দিনের মধ্যে) থেকে আগত যাত্রীদের শনাক্ত করতে বিমান সংস্থা চিহ্নিত করতে হবে এবং সেই সমস্ত ফ্লাইট আলাদা করে নিতে হবে। কর্তৃপক্ষের সুবিধার্থে নামার সময় যথাযথ প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে।

৯. যুক্তরাজ্য, ইউরোপ বা মধ্য প্রাচ্যে থেকে আগত যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে ভারতীয় বিমানবন্দরে (প্রবেশের বন্দরে) প্রবেশের সময় স্ব-অর্থ প্রদান করে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে।

১০. ইউরোপ এবং মধ্য প্রাচ্য থেকে আগত বিমান দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং ভারতের চেন্নাই বিমানবন্দরে অবতরণ করে উল্লিখিত সময়কালের জন্য ইমিগ্রেশন ব্যুরো দ্বারা রাজ্য সরকার / ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রামকে জানাতে হবে।

১১. আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী যারা ভারতে স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করবে (১৪ দিনেরও কম) তাদের করোনা টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ কিংবা করোনা আক্রান্তের লক্ষণ না থাকলেও তাদের উল্লিখিত সমস্ত নিয়ম মানতে হবে। তারা এয়ারলাইনস এবং গন্তব্য দেশের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে জেলা / রাজ্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদন্তের ভিত্তিতে ভারত ত্যাগের অনুমতি পাবে।

তথ্যসূত্র: টাইমস ট্রাভেল