শীতে খুশকির সমস্যা কমাতে নারিকেল তেলের দুই ব্যবহার



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চুলের যত্নে নারিকেল তেল অতুলনীয়। চুল পড়া, চুলের আগা ফাটা, চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়া কিংবা খুশকির মতো জেদি সমস্যাতেও নারিকেল তেলের কাছেই সমাধান খুঁজতে হয়।

কিন্তু খুশকির সমস্যায় নারিকেল তেল ব্যবহার করে অনেককেই হতাশ হতে হয়। কারণ খুশকির সমস্যা দূর করার জন্য সঠিক নিয়মে নারিকেল তেল ব্যবহারের ধরণ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না।

সবার সুবিধার জন্য ও খুশকির সমস্যাকে বিদায় জানাতে দুইটি কার্যকর উপায়ে নারিকেল তেলের ব্যবহারের বিশদ বিবরণ জানানো হল-

নারিকেল তেলের ডিপ কন্ডিশনিং

নারিকেল তেলের ডিপ কন্ডিশনিং শুষ্ক চুলকে কোমল করার পাশপাশি খুশকির সমস্যাকে দ্রুত কমিয়ে আনতে কাজ করবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে ২-৩ টেবিল চামচ নারিকেল তেল (চুলের দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে নারিকেল তেলের পরিমাণ কমবেশি হবে), উষ্ণ তোয়ালে ও মোটা দাঁতের চিরুনি।

প্রথমে চুল শ্যাম্পুর সাহায্য পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাবে না। এবারে মোটা দাঁতের চিরুনির সাহায্যে চুল আঁচড়ে ভেজা চুলের গোঁড়ায় নারিকেল তেল ম্যাসাজ করতে হবে। এভাবে পুরো মাথার চুলে নারিকেল তেল ম্যাসাজ করা হয়ে গেলে উষ্ণ তোয়ালের সাহায্যে পুরো মাথার চুল পেঁচিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তোয়ালে উষ্ণ করার জন্য গরম পানিতে ভিজিয়ে এরপর পানি নিংড়ে নিতে হবে।

৩০ মিনিট হয়ে গেলে চুল শুকিয়ে নিতে হবে এবং এভাবে সারারাত চুল তেল রেখে দিয়ে পরদিন সকালে চুল শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এই নিয়মে প্রতি সপ্তাহে একবার নারিকেল তেল ব্যবহার করতে হবে।

নারিকেল তেল ও লেবুর রসের মিশ্রণ

কিছু ক্ষেত্রে শ্যাম্পু ব্যবহারে আমাদের মাথার ত্বকের সাধারণ পিএইচ মাত্রায় তারতম্য ঘটে, যা থেকে উৎপত্তি হয় খুশকির সমস্যা। এক্ষেত্রে লেবুর রস নারিকেল তেলের মতোই উপকারী। এই ফলের রসে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড চুল ও মাথার ত্বকের pH এর মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে কাজ করে। এছাড়া লেবুর রসে থাকা ভিটামিন-সি হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা মাথার ত্বকের যেকোন ইনফেকশনের সমস্যা ভালো করতে কার্যকর। এ কারণে নারিকেল তেলের সাথে সঠিক পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে খুশকির সমস্যায় কার্যকর উপকারিতা পাওয়া সম্ভব হবে।

এর জন্য দুই টেবিল চামচ নারিকেল তেল (চুলের দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে নারিকেল তেলের পরিমাণ কমবেশি হবে) ও এক চা চামচ লেবুর রস মেশাতে হবে। এরপর শুষ্ক চুলের গোঁড়ায় এই মিশ্রণ ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে হারবাল শ্যাম্পুর সাহায্যে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

ভবিষ্যৎ খাদ্য: ২০৫০ সালে আপনার খাদ্য তালিকায় যা থাকবে!



মানসুরা চামেলী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ভবিষ্যৎ খাদ্য: ২০৫০ সালে আপনার খাদ্য তালিকায় যা থাকবে!

ভবিষ্যৎ খাদ্য: ২০৫০ সালে আপনার খাদ্য তালিকায় যা থাকবে!

  • Font increase
  • Font Decrease

জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে নানা পরিবর্তন আসতে পারে। বদলে যেতে পারে আমাদের খাদ্যাভাস, তৈরি হতে পারে চরম খাদ্য সংকট। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা একটি তালিকা তৈরি করেছেন। তাদের ধারণা, অপ্রচলিত এসব খাদ্যপণ্য ২০৫০ সালে সারা বিশ্বের মানুষের খাদ্য তালিকায় চলে আসবে। 

তারা বলেছেন, ভবিষ্যতে আমাদের নকল কলা (এনসেট) এবং পান্ডানুস গাছের ফল (কেয়া ফল) দিয়ে সকালের নাস্তা সারতে হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানান, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের খাদ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। কারণ কয়েকটি ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা বিশ্বকে বিপদে ফেলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মারাত্মক 'খাদ্য সুরক্ষার'-এর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে ফসল নষ্ট হয় এবং বিশ্বজুড়ে প্রধান পণ্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

লন্ডনের রয়েল বোটানিক গার্ডেনস ইন কিউ জানিয়েছে, ১৫টি খাদ্য পণ্য থেকে ৯০ শতাংশ ক্যালোরি আসে। আমাদের ভবিষ্যৎ খাদ্যভাসের জন্য নতুন উপাদন খুঁজে বের করা খুব জরুরি।

কিউ গবেষক ড, শ্যাম পিরিনন বলেন, আমরা যে খাবার খাই তাতে বৈচিত্র্য আনা হলো ক্ষুধা দূর, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করার অন্যতম উপায়।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা জানি বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার খাওয়ার উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে যা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর খেয়ে থাকে। ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক খাদ্য সংকট মোকাবিলায় এসব উদ্ভিদ থেকে আমরা সমাধান খুঁজে বের করতে পারি। সারা পৃথিবীতে ৭ হাজারেরও বেশি ভোজ্য উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে ৪১৭টি ব্যাপকভাবে ফলন দেয় এবং খাদ্য হিসেবে ব্যহৃত হয়।

পান্ডানুস, কেয়া গাছ

পান্ডানুস (কেয়া গাছ)

প্যান্ডানুস (পান্ডানুস টেক্টোরিয়াস) একটি ছোট প্রজাতির গাছ। যা প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে ফিলিপাইন এবং উপকূলীয় এলাকায় জন্মে।

পান্ডানুসের পাতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলে মিষ্টি এবং সুস্বাদু খাবারে ব্যবহার করা হয়। এর ফল দেখতে অনেকটা আনারসের মতো, যা কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায়। পান্ডানুস গাছ খরা, প্রবল বাতাস এবং লবণের স্প্রেসহ যেকোন চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে- জানান এর গবেষণা ফেলো ড. মেরিবেল সোটো গোমেজ।

তিনি বলেন, এটি জলবায়ু সহনশীল এবং পুষ্টিকর খাদ্য সঙ্গে সুস্বাদুও। এটি আমাদের খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র্য আনতে পারে। পান্ডানুস সংস্কৃতির সাথে জড়িত, পুষ্টিকর এবং সারা বিশ্বে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে উৎপাদন করাও সম্ভব।

মটরশুঁটি

মটরশুঁটি, শিম

মটরশুঁটি বা শিম, আরেকটি আমাদের ভবিষ্যতের খাদ্য পণ্য। এটি সস্তা, উচ্চমাত্রার প্রোটিন এবং ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ খাবার।

সমুদ্রের তীর থেকে পাহাড়ের ঢালেও  এই খাবার উৎপাদন করা যায়। বিশ্বে ২০ হাজার প্রজাতির শিম  রয়েছে। কিন্তু আমরা মাত্র কয়েকটা ব্যবহার করি। শত শত বন্য শিম রয়েছে এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে তা অজানা।

মোরামা বিন (টাইলোসেমা এস্কুলেন্টাম) বতসোয়ানা, নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অংশে একটি প্রধান খাদ্য, যেখানে মটরশুঁটি ভুট্টা বা মাটির সাথে পাউডারে সিদ্ধ করা হয় যাতে পোরিজ বা কোকোর মতো পানীয় তৈরি করা হয়।

সব গুলেই ভোজ্য নয়, তবে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন প্রজাতির বৈশিষ্ট্য গবেষণা করছেন যার কোনটি খাদ্য এবং পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে।


সিরিয়াল খাদ্য

সিরিয়াল, যা শস্য জাতীয় পণ্য থেকে আসে, এছাড়াও ১০ হাজারেরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। এই খাদ্যের ব্যাপক বৈচিত্র্য। ভবিষ্যৎ খাদ্য সংকট দূর করতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এই খাদ্যটির।

ফোনিও নামক প্রাচীন আফ্রিকান শস্যদানা বাদামের মতো স্বাদের জন্য জনপ্রিয়, বিশেষত মালির বামবারা জনগোষ্ঠীর খুব প্রিয় খাবার এটি। পাঁচ হাজার বছর আগে এটি মিসরে চাষ করা হতো। মরুতে জন্মায় এ উদ্ভিদ, সাদা ও কালো দুই ধরনের ফোনিও পাওয়া যায়। স্বাদে কিছুটা এশিয়ার শস্যদানা কাউনের মতো। এতে প্রচুর আয়রন, জিঙ্ক ও ম্যাগনেশিয়াম আছে।

কলার পাশে, এনসেট বা নকল কলা

নকল কলা

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে উদ্ভিদের এনসেট, একটি ইথিওপিয়ান কাঁচামাল, জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে একটি নতুন সুপারফুড এবং জীবন রক্ষাকারী হতে পারে।

সমীক্ষা অনুসারে, কলার মতো ফসলের উষ্ণায়ন বিশ্বের ১০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে খাওয়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

উদ্ভিদটি ইথিওপিয়ার বাইরে প্রায় অজানা, যেখানে এটি পোরিজ এবং রুটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকাতে অনেক বড় পরিসরে ফসলটি জন্মানো যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

;

করোনা মহামারিকালে দাঁতের যত্ন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন। বার্তা২৪.কম

ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দন্তরোগ বিভাগের প্রধান ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন বলেছেন, "মহামারি বা অন্য সাধারণ সময়েও সবাইকে দাঁত ও মুখের যত্ন নিতে হবে। এখানে সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।"

করোনা মহামারিকালে দাঁতের যত্ন বিষয়ক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বার্তা২৪.কম'কে তিনি বলেন, "শুধু বড়দেরই নয়, সন্তানদের জন্য বাবা-মায়েদের সচেতন হতে হবে। ছোটবেলা থেকে ভালো অভ্যাস গড়ে উঠলে শিশুরা বড় হলেও তা পালন করে। স্বাস্থ্যবিধি ও মহামারি প্রতিরোধমূলক প্রটোকলে তাদেরকেও দীক্ষিত করতে হবে।"

ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন বলেন, "করোনা মহামারির কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছে। দাঁতের যত্নেও উদাসীন হয়েছেন মানুষ। কোয়ারেন্টিন আর লকডাউন চলাকালীন সময়ে যেমন ঘরে অবস্থাকালীন দাঁত ব্রাশ কম হয়েছে বড়দের, তেমনি শিশুদের দাঁতের যত্নেও অভিভাবকরা উদাসীন হয়েছেন। এসব সমস্যার নানা দিক গত ২০ মার্চ 'বিশ্ব মুখগহ্বর স্বাস্থ্য দিবস' বা 'ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে' উপলক্ষ্যে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে।"

"আমরা সব সময়ই চাই, 'বি প্রাউড অব ইওর মাউথ' নীতি বাস্তবায়ন করতে" উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অথচ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ৩১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ করেননি। ৩৩ শতাংশ বাবা-মা দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ করেননি। ৩৫ শতাংশ শিশুরা দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ করেনি। আর প্রাপ্তবয়স্করা স্বীকার করেছেন করোনাকালে ঘরে থেকে থেকে তাদের অভ্যাস বাজে হয়েছে ও ও শিশুদের দৈনন্দিন রুটিনে শিথিলতা চলে এসেছে। দাঁত ব্রাশ করার বিষয়ে অবজ্ঞার কথা তারা স্বীকার করেছেন।"

গবেষণা তথ্যে আরও জানা যায়, "প্রতি ২ জনের মধ্যে ১ জন (৫৪ শতাংশ) প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন এমনও দিন গিয়েছে তারা একবারও দাঁত ব্রাশ করেননি। প্রতি ২ জনের মধ্যে ১ জন (৫৪ শতাংশ) অলসতার কারণে তারা তাদের দাঁত ব্রাশ করেননি। চাকরিজীবী অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক (৫৯ শতাংশ) বলেছেন দাঁত ব্রাশ না করেই তারা কাজে গিয়েছেন। এছাড়া অধিকাংশ বাবা-মা স্বীকার করেছেন তারা শিশুদের মুখগহ্বরের যত্নের ব্যাপারেও উদাসীন হয়েছেন। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন (৬৯ শতাংশ) বাবা-মা বলেছেন ঘুমানোর আগে তারা সন্তানকে মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে দিয়েছেন।"

ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন জানান, "মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যা সত্ত্বেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে জরিপে তথ্য উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যা গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতি ১০ জনের ৬ জন (৬৪ শতাংশ) জানিয়েছেন মহামারির শুরুর পর থেকে তারা মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যের সমস্যায় পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি যে ৫টি মুখের সমস্যার মধ্য দিয়ে তারা  গিয়েছেন, তা হলো, দাঁত, মাড়ি, মুখে ব্যথার কথা জানিয়েছেন ৩০ শতাংশ, দাঁত ও মাড়িতে রক্তপাতের কথা জানিয়েছেন ২৭ শতাংশ, মুখে ব্যথার কারণে খেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ২৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী, দাঁতের ব্যথার কারণে মাথা ব্যথার কথা জানিয়েছেন ২৭ শতাংশ এবং চোয়াল ব্যথার কথা জানিয়েছেন ২৫ শতাংশ।"

"প্রাপ্তবয়স্করা অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিচর্যার চেয়ে মুখগহ্বর স্বাস্থ্যের প্রতি কম মনোযোগী ছিলেন, অন্যান্য শারীরিক সমস্যার যত্ন নিয়েছেন ৭২ শতাংশ। মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার প্রতি যত্নশীল ছিলেন ৭৯ শতাংশ। ওরাল বা মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল ছিলেন ৬২ শতাংশ", জানান তিনি।

এদিকে, দাঁতের যত্নে করোনা প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, "মারাত্মক ব্যথা অনুভবের পরও অনেকে ডেন্টিস্টের কাছে যাননি। প্রতি ৫ জনের ২জন (৪২ শতাংশ) মহামারির সময় তারা দাঁতের চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন। দাঁতের ব্যথা অনুভব করেছেন এমন  প্রতি ২ জনের ১ জন (৫১ শতাংশ) ডেন্টিস্টের কাছে গিয়েছিলেন।"

"বাবা-মা যদি দিনে দু’বার ব্রাশ না করে সন্তানের ব্রাশ না করার হার ৭ গুণ বেড়ে যায়। যখন বাবা-মা দিনে দু’বার ব্রাশ করে, সন্তানের ব্রাশ করা এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১১ শতাংশ। যখন বাবা-মা ব্রাশ করা এড়িয়ে যায়, সন্তানের ব্রাশ করা এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৭৭ শতাংশ" বলেন ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমন।

তিনি বলেন, "করোনা মহামারির সময়ে দেশের মানুষের মধ্যে অনেক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।  বিশেষ করে, দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করা, ব্রাশ ও মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিপালিত হচ্ছে না। অর্থাৎ, দাঁত ও মুখগহ্বরের সাধারণ যত্ন উপেক্ষিত হয়েছে। মহামারির পুরোটা সময় চিকিৎসা না-করায় দেশের মানুষের দাঁত ও মুখের রোগ বেড়েছে।"

ডা. এএফএম শহিদুর রহমান লিমনের মতে, "করোনাভাইরাসের বিস্তারের এই সময়টায় দাঁতের চিকিৎসা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। করোনা ছোঁয়াচে রোগ আর মূলত মুখনিঃসৃত তরল কণার (ড্রপলেট) মাধ্যমে ছড়ায় বলে দন্তচিকিৎসকেরা যেমন ঝুঁকিতে আছেন, তেমনি রোগীরাও। ফলে সুদক্ষ বিশেষজ্ঞ দন্তচিকিৎসকদের দ্বারা সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে দাঁতে যথাযথ যত্ন দেওয়া উচিত।"

;

পারফিউম ব্যবহারের সঠিক নিয়ম



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গরম, বর্ষা কিংবা শীত পছন্দের পারফিউম নিমেষে মনকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে। এছাড়াও ঘামের দুর্গন্ধ দূর করে সারাদিন ফুরফুরে থাকতে ভরসা সেই পারফিউমতেই।

কিন্তু এই পারফিউম দিনের অর্ধেক যেতে না যেতেই ঘ্রাণ মিলিয়ে যায়। এই সমস্যা দূর করতে কয়েকটি উপায় মেনে চলুন। এতে অল্প পারফিউম ব্যবহারেও সারাদিন থাকবেন সুরভিত।

গোসলের পরে স্প্রে করুন

গোসলের ফলে ত্বকের লোমকূপ উন্মুক্ত থাকে। এই সময় পারফিউম স্প্রে করা হলে তা দীর্ঘক্ষণ সুবাস ছড়ায়। তাই গোসলের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পারফিউম স্প্রে করুন।

আর্দ্র ত্বক পারফিউম ভালো ধরে রাখে। তাই গোসলের পরে সরাসরি ঘ্রাণহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে তার উপরে পারফিউম লাগান।

পাল্স পয়েন্ট

পাল্স পয়েন্ট বা শরীরের যেখানে যেখানে নাড়িরস্পন্দন পরীক্ষা করা যায় সেসব জায়গা উষ্ণ থাকে এবং এটা সুগন্ধ ছড়াতে সহায়তা করে। এসব স্থান আবৃত থাকায় একবারে সুগন্ধ না ছড়িয়ে ধীরে ধীরে ঘ্রাণ ছড়াতে সাহায্য করে।

ঘষে ব্যবহার করবেন না

পারফিউম লাগানোর পরে তা দুহাতের কব্জি দিয়ে ঘষে ব্যবহার করা একটা প্রচলিত ধারণা, এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। পারফিউম লাগিয়ে তা ঘষা দিলে এর গঠন ভেঙে যায়।

ফলে সঠিক ঘ্রাণ পাওয়া যায় না। তাই হাতে পারফিউম লাগিয়ে হাত প্রসারিত করুন এবং নাড়ুন। এতে ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই পারফিউমকে উষ্ণ করবে ও সুবাস ছড়াবে।

চুলে স্প্রে করা

পারফিউম দীর্ঘস্থায়ী করতে চুলে সামান্য স্প্রে করুন। চুলে পারফিউম ধরে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা আছে। হেঁটে যাওয়ার সময় এটা দারুনভাবে ঘ্রাণ ছড়ায়।

পারফিউমতে অ্যালকোহল থাকে যা চুলকে শুষ্ক করে। তাই চুলে সামান্য পরিমাণে পারফিউম স্প্রে করতে হবে।

;

গরমে ঘর ঠান্ডা রাখবে যেসব ইনডোর প্ল্যান্ট



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলছে গ্রীস্মকাল। অতিরিক্ত গরমে আমরা সাধারণত ফ্যান কিংবা এসি ছেড়ে দেয়। এতে বিদ্যুৎ বিল বাড়ে আবার এগুলো পরিবেশ-বান্ধব ও নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে এবং পরিবেশ বান্ধব উপায় যদি থাকত তবে তা দুর্দান্ত হত না? গরমে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর ঠান্ডা রাখতে পারেন ইনডোর প্ল্যান্ট লাগিয়ে।

গ্রীষ্মের সময় যে ইনডোর প্ল্যান্ট ঘরকে শীতল রাখবে—

স্নেক প্ল্যান্ট

স্নেক প্ল্যান্ট বেডরুমের জন্য উপযুক্ত। কারণ এই গাছটি অক্সিজেন শোষণ করে না। এটি অক্সিজেন নির্গত করে এবং ঘরকে শীতল ও সতেজ রাখে। এছাড়াও এই গাছটি সুচুল বাতাস থেকে টক্সিন অপসারণের জন্যও পরিচিত।

খেজুর

খেজুর, ফার্ন, পাম, তাল গাছের সবুজ পাতাগুলো কেবল দেখতে ভাল তাই নয়, এই গাছগুলো ক্ষুদ্র-অভ্যন্তরীণ ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট তৈরি করে। তাই গ্রীষ্মের সময় বাড়িতে ঠান্ডা অনুভূতি দেওয়ার উপযুক্ত উপায়। ঘর শীতল রাখতে যদি বড় ইনডোর প্লান্ট খুঁজেন তবে তাল গাছ সবচেয়ে ভালো।

অ্যালোভেরা

বাড়িতে অ্যালোভেরা থাকলে ঘর কেবল শীতলই থাকবে তা নয়। অ্যালোভেরায় রয়েছে প্রাকৃতিক ওষধি গুণ যা বিভিন্ন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি বাতাসের তাপমাত্রা হ্রাস করে এবং ঘর গরম থেকে রক্ষা করে। অ্যালোভেরার গাছ উজ্জ্বল আলোতে ভালো হয়।

চাইনিজ এভারগ্রিন

এটি বাতাসের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে বাতাস পরিশুদ্ধ করার জন্য সুপরিচিত। এই গাছ অনেকগুলো একসাথে রাখলে নিজস্ব বায়ুমণ্ডলীয় বাস্তুতন্ত্র তৈরি করতে পারে।

মানি প্ল্যান্ট

মানি প্ল্যান্ট নামে পরিচিত, পোথোস একটি দুর্দান্ত ইনডোর প্লান্ট। কারণ এটি ঘরের বায়ু শীতল এবং বিশুদ্ধ রাখবে। এই গাছের পাতা বা কান্ড হলুদ হয়ে গেলে দ্রুত তা কেটে ফেলুন।

;