কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের মাঝে সমতা আনবেন কীভাবে?

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
দুইটি ভিন্ন ক্ষেত্রে সমতা আনতে চাইলে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে সবার প্রথমে

দুইটি ভিন্ন ক্ষেত্রে সমতা আনতে চাইলে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে সবার প্রথমে

  • Font increase
  • Font Decrease

অনেকের জন্যেই ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মক্ষেত্রের সময়ে সমতা বজায় রাখার বিষয়টি কষ্টকর হয়ে যায়।

কাজের চাপ, দীর্ঘসময় কর্মক্ষেত্রে সময় কাটানোর মাঝে নিজের জন্য সময় খুব কমই পাওয়া যায়। এতে করে সরাসরি প্রভাব পড়ে ব্যক্তিগত জীবনের উপরে। পারিবারিক দায়িত্ব, নিজের একান্ত প্রয়োজন, সম্পর্কে মনোযোগ দেওয়ার মাঝে বিরতি চলে আসে। স্বাভাবিকভাবেই কর্মজীবনে মানসিক চাপ থাকে অনেক বেশি। যার দরুন সকল কিছুতে সমতা এনে কাজ করতে হিমশিম খেতে হয়।

প্রতিনিয়ত এই সকল চাপের মুখে থেকে হাঁপিয়ে উঠতে হয়। যখনই আমরা হাঁপিয়ে উঠি ও ক্লান্তবোধ করি, আমাদের কাজের গতি কমে যায়। পিছিয়ে পড়তে হয় নিজস্ব ও অফিসের কাজ থেকে। উভয়ক্ষেত্রে সমানতালে সমতা বজায় রাখতে চাইলে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে কয়েকটি বিষয়ের দিকে। তবেই ব্যস্ত জীবনের মাঝে থেকেও নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের দিকে সময় ও মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রতিদিনের গোল সেট করা

অনিয়ন্ত্রিত ও রুটিনবিহীন দিনের শুরু হলে সারাদিনেই কোন কাজ ঠিকভাবে করা সম্ভব হবে না। হোক সেটা কর্মক্ষেত্রে কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে। তাই প্রতিটা দিনের শুরু করার চেষ্টা করুন রুটিন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু গোল সেট করে। যেমন- অফিস শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টার মাঝে কোন কাজগুলো শেষ করতে পারলে নিজের জন্য পনের মিনিট সময় আলাদাভাবে পাওয়া যাবে সেটা পরিকল্পনা করে নিন। এরপর সে সময়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করতে পারলে অনেকটা এগিয়ে থাকা সম্ভব হবে।

সাময়িক সময়ের জন্য বিরতি নেওয়া

বিরতি নেওয়া খুবই প্রয়োজনীয় একটা বিষয়। যতই কাজপাগল মানুষ হোন না কেন, নিজেকে সময় দেওয়া খুব জরুরি। এতে করে কিছুটা রিল্যাক্স হওয়া যায়, মাথা পরিষ্কার করা সম্ভব হয় এবং কাজে ভালোভাবে মনোযোগ দেওয়া যায়। রিল্যাক্স অবস্থায় কাজ যত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা যায়, অন্য সময় তা সম্ভব হয় না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আনপ্লাগ হওয়া

ব্যস্ত জীবনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একদিক দিয়ে যেমন অনেক কাজকে সহজ করে, যোগাযোগকে দ্রুত করে দেয়, তেমনিভাবে অনেক সময়ও নষ্ট করার জন্য দায়ী এই মাধ্যমটি। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিতান্ত প্রয়োজন ব্যতীত ব্যবহার থেকে দূরে থাকাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

এক মিনিট সময়ের জন্য কল দেওয়া

পরিবারের মানুষ কিংবা কাছের মানুষের খোঁজ নেওয়ার জন্য বা তাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য এক মিনিট সময়ও অনেক। দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় কিংবা হাতের কোন একটি কাজ শেষে কল দিয়ে দুই মিনিটে তাদের খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেও কিন্তু খুব সুন্দরভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। এতে করে অফিসে কাজের ক্ষতিও হবে না, অন্যদিকে তাদের সাথে সংযোগ রাখাও যাবে ভালোভাবে।

নিজেকে অ্যাকটিভ রাখা

বেশ কয়েকটি গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে, শরীরচর্চার মাধ্যমে নিজেকে অ্যাকটিভ রাখার মাধ্যমে যেকোন প্রতিকূল পরিস্থিতিই সহজে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। এমনকি কাজের ব্যস্ততা ও নিজের ব্যক্তিগত জীবনের মাঝেও সমতা রক্ষা করা যায় ভালোভাবে। তাই শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি প্রফেশনাল ও পারসোনাল জীবনে সমতা তৈরিতেও অ্যাকটিভ থাকার চেষ্টা করতে হবে।

আরও পড়ুন: উদ্বেগ কমবে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামে

আরও পড়ুন: রাগের সময় নিজেকে সামলাবেন যেভাবে

আপনার মতামত লিখুন :