সিদ্ধ ডিমের কুসুম জ্যামের মত হবে কীভাবে?



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ডিম সিদ্ধ করা হল সবচেয়ে সহজ একটি কাজ। কিন্তু একদম নিখুঁতভাবে কাঙ্ক্ষিত পছন্দ অনুযায়ী ডিম সিদ্ধ করা হল সবচেয়ে কঠিন একটি কাজ। গরম পানিতে ডিম ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে ডিম সিদ্ধ হবে ঠিকই, কিন্তু ডিমের কুসুম কেমন খেতে চাচ্ছেন, তার উপরে নির্ভর করে ডিম সিদ্ধটি ঠিক হয়েছে কিনা!

মূলত হার্ড বয়েলড এগ বা শক্ত ও শুষ্ক কুসুমের সিদ্ধ ডিম বেশি খাওয়া হলেও, হাফ বয়েলড এগ বা নরম ও কিছুটা তরল কুসুমের ডিমও খাওয়া হয়ে থাকে। অনেকে আবার হাফ বয়েলড এগ ছাড়া ডিম সিদ্ধই খেতে পারেন না।

এর মাঝামাঝি আরেকটি বিভাগ আছে, যেখানে সিদ্ধ ডিমের কুসুম একদম সঠিক মাত্রায় জ্যামের মতো হয় থাকে। এটাকে বলা হয় জ্যামি এগ। এই জ্যামি এগের কুসুম হাফ বয়েলডের মতো কিছুটা তরলও হবে না, আবার ফুল বয়েলডের মত শক্তও হবে না। একদম মাঝামাঝি অবস্থানে জ্যামের মত নরম টেক্সচার থাকবে জ্যামি এগের কুসুমের।

পাশ্চাত্যে জ্যামি এগ শিশুদের মাঝে খুব জনপ্রিয়। কারণে এই ডিমের কুসুমে বাজে গন্ধ থাকে না এবং খেতেও বেশ মজার হয়। কীভাবে হবে ডিমের কুসুম জ্যামের মত? জেনে নিন প্রক্রিয়াটি।

egg

এর জন্য প্রয়োজন হবে ছয়টি মুরগির ডিম ও ছয়টি ডিমের জন্য ছয় কাপ পানি। পানি গরম করতে দিতে হবে মাঝারি আঁচে। পানি ফুটে উঠলে ডিমগুলো পানিতে সাবধানে ছেড়ে দিয়ে চুলার আঁচ কমিয়ে আনতে হবে এমনভাবে, যেন পানিতে ছোট ছোট বুদবুদের মত দেখা দেয়।

এবারে ঘড়ি ধরে ৭ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এক মিনিটও এদিক সেদিক হওয়া যাবে না। এর মাঝে ভিন্ন একটি পাত্রে ঠান্ডা পানি বরফের টুকরা দিয়ে রেডি করে রাখতে হবে।

সাত মিনিট হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ফুটন্ত পানি থেকে ডিম তুলে সরাসরি বরফ পানিতে ডুবিয়ে দিতে হবে। বরফ পানিতে ১০ মিনিট রাখতে হবে এবং এ সময়ের মাঝে চামচ দিয়ে হালকা নেড়েচেড়ে দিতে হবে।

দশ মিনিট পর ডিম বরফ পানি থেকে তুলে ছিলে মাঝ বরাবর কেটে উপরে লবণ ও গোলমরিচ ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করতে হবে জ্যামি এগ।

   

ডাল খেতে খেতে বিরক্ত? বদলে নিন রেসিপি



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমরা ভাঙালিরা খাবারের সাথে প্রতিদিন কম-বেশি ডাল খেয়ে থাকি। বাড়ি কিংবা রেস্তোরাঁয় খাবারের সাথে ডাল পরিবেশন করা একটা নিয়ম হয়ে গেছে। এই ডাল প্রতিদিন খেতে খেতে একঘেয়ে লাগে অনেকের কাছেই।

তবে ডাল রান্নায় একটু বৈচিত্র্য আনলেই বাদলে যাবে স্বাদ। খাবার হয়ে উঠবে সুস্বাদু। গ্রাম্য উপায়ে ঘরেই রান্না করা যায় কচু পাতার ডাল। এ ডাল একবার খেলে বারবার খেতে মন চাইবে। গ্রাম বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার কচু পাতার ডাল।


কচু পাতার ডাল রান্নার রেসিপি:

কালোজিরা, পাঁচফোড়ন ও পেঁয়াজ দিয়ে মসুর ডাল তৈরি করেন অনেকেই। মসুর ডাল তৈরিতে ব‍্যবহার করে দেখতেই পারেন কচুপাতা। সাথে রসুন, কাঁচালঙ্কা। এই ডাল তৈরি করতে কচি কচু পাতা সংগ্রহ করতে হবে। রসুন, আদা, লঙ্কা, মসুর ডাল তো ঘরেই থাকে।


প্রথমে ১৫-২০টি কচু পাতা সংগ্রহ করতে হবে। গ্রাম বাংলায় মাঠেই কচু গাছ দেখা যায়। তবে শহরের বাজারগুলোতে ঘুরলে কচু পাতা পাওয়া যাবে। কচু পাতা আগের দিন রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে হয়। তাহলে পাতায় লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। অথবা তাৎক্ষণিক ভালোভাবে ময়লা পরিষ্কার করে নিলেও হবে। এরপর মসুর ডাল সেদ্ধ করে নিতে হবে। পাশাপাশি কচু পাতাগুলোও সেদ্ধ করে নিতে হবে।

ডাল পুরো সেদ্ধ হয়ে গেলে তা নামিয়ে রেখে কড়াইয়ে সরিষার তেল অল্প পরিমাণে দিয়ে কালো জিরা, ফোড়ন দিতে হবে। এরপর রসুন দিয়ে ভেজে নিতে হবে। কচু পাতা পুরো ভাজা হলে সেদ্ধ ডাল দিয়ে দিতে হবে। চাইলে সাথে আদা বেটে দেওয়া যেতে পারে। হলুদ ও লবণ দিতে হবে পরিমাণ মত। এরপর ফুটিয়ে নামিয়ে নিলেই হয়ে যাবে সুস্বাদু ডাল রান্না।

;

মেজাজ নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্বেগ কমায় যেসব খাবার



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মেজাজ নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্বেগ কমায় যেসব খাবার

মেজাজ নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্বেগ কমায় যেসব খাবার

  • Font increase
  • Font Decrease

মাসনিক ভাবে সুস্থ থাকা পরিবর্তিত হয় আমরা কি খাই তার ভিত্তিতে। কারণ খাদ্য এমন এক বস্তু, যা আমাদের সমগ্র শরীরের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে। কিছু খাবার আছে যা আমাদের মেজাজকে প্রভাবিত করতে পারে। যেমন- বেরি, বাদাম, বীজ জাতীয় খাবার উচ্চ নিউট্রিয়েন্টসম্পন্ন হয়। এসব খাবার যেমন মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত রাখতে সাহায্য করে, তেমন মেজাজকেও নিয়ন্ত্রণে রাখে।      

ভারতের নিউট্রিশনিস্ট এবং জীবনধারা বিশেষজ্ঞ গীতিকা বাজাজ বলেছেন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকারী কিছু খাবারের নাম-

. খাবার নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ চিনি বা সুগার এবং স্নেহজাতীয় খাবার পরিত্যাজ্য। এসব খাবার মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ বৃদ্ধি করে।  

. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: ‍বেরিজাতীয় ফলে উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব খেলে মস্তিষ্ক কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করা যায়। তাছাড়া, মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে।

৩. জিঙ্ক:  কাজু বাদামে জিঙ্কের আধিক্য থাকে। শতকরা ১৪ থেকে ২০ ভাগ জিঙ্ক প্রদান করার ক্ষমতা আছে কাজু বাদামে। কাজু খেলে উদ্বেগ হ্রাস পায়।

৪. ম্যাগনেসিয়াম: চিয়া বীজ, কুমড়ার বীজ এবং ডিমে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে। মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে ম্যাগনেসিয়াম।

৫. ট্রিপটোফ্যান: ট্রিপটোফ্যানের অনন্য উৎস হলো ডিম। এছাড়াও, এই খাবার সেরোটোনিন উৎপাদনে এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখে।

৬. দুগ্ধজাতীয় খাবার: দুধে ট্রিপটোফ্যান, মেলাটোনিন এবং ভিটামিন বি থাকে। দুধের পুষ্টি মানসিক চাপ কমায় এবং ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।

৭. শাক: ফোলেট সমৃদ্ধ শাক-সবজি নিউরোট্রান্সমিটার উৎপাদন করে। এরা উদ্বেগের বিরুদ্ধে লড়াই করে মানসিক অশান্তি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৮. ভিটামিন ডি : ভিটামিন ডি এর উন্নত উৎস সালমন এবং সার্ডিন। এই খাবারগুলো উদ্বেগের সাথে মেজাজ সম্পর্কিত সমস্যাও উপশম করতে পারে।

;

বসন্তে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা খাবেন



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বসন্তের খাবার / ছবি:পিক্সাবে

বসন্তের খাবার / ছবি:পিক্সাবে

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রকৃতির চক্রাবর্তনে শীতের প্রকোপ শিথিল হয়ে এসেছে। ভর করতে শুরু করেছে বসন্তের কোমলতা। পরিবেশে বিরাজ করতে শুরু করেছে প্রশান্তির বাতাস। ঋতুর পরিবর্তনে সাথে সাথে বসন্তে জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

সাধারণত মৌসুম পরিবর্তন হওয়ার সময় রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে শরীরের খাপ খায়িয়ে নেওয়ার জন্য শরীরেরও কিছু অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন দরকার। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বসন্তের সময় কিছু খাদ্যাভ্যাস বদলানো স্বাস্থ্যকর হতে পারে।  

সুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং  নিউট্রেশনিস্ট নূপুর পাতিল কিছু খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এসব বসন্তের সময় শরীরের সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে সহযোগী হতে পারে। যেমন-

সবুজ শাক: শাক একটি অত্যন্ত উপকারী ফাইবার জাতীয় খাবার। যাতে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। বসন্তের সময় নাইট্রেট সমৃদ্ধ সবুজ রঙের শাকসবজি খাওয়া উচিত। কারণ, সবুজ শাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি ব্যথা কমানোর ক্ষমতাও রয়েছে।  যেমন- পালং শাক, কালে এবং সুইস চার্ড। এসব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয়।

টক ফল: যেকোনো ঋতুতেই মৌসুমি ফল খাওয়া  উচিত। এতে সেসব খাবারের যথাযথ স্বাদ ও পুষ্টি লাভ করা সম্ভব। এর ফলে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় সুস্থ এবং রোগমুক্ত থাকা সহজ হয়। কমলালেবু, লেবু এবং জাম্বুরা স্বাদে ভিন্নতা আনে। ‘ভিটামিন সি’ রুচি বৃদ্ধি করা ছাড়াও; রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাছাড়া সংক্রমণ থেকেও রক্ষা করে।

বেরি: তাজা বেরি খুবই রসালো এবং সুস্বাদু খাবার। ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি এবং রাস্পবেরি  সহ বেরি জাতীয় ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। বসন্তে বেরি খাওয়ার ফলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ হয়। তাছাড়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে তো সাহায্য করেই।

আদা: মশলা সাধারণত সংক্রমণ প্রতিরোধে করতে পটু হয়। তাছাড়া প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আদা ব্যাকটেরিয়ারোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য সুপরিচিত।

রসুন: রসুন তীক্ষ্ণ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন একটি উপাদান।  রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে বেশ কার্যকর রসুন। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

;

ঘি খেলে মোটা হবেন নাকি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী!



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের মধ্যে খুব প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো যে, ঘি খেলে মানুষ মোটা হয়। তাই, ওজন কমানো কিংবা ডায়েটের প্রসঙ্গ এলেই খাদ্যতালিকা থেকে প্রথমেই বাদ পড়ে ঘি। বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন যে, ঘি খেলেই মানুষ মোটা হয়। কিন্তু আসলে কি তাই!

মূলত ঘি ওজন বৃদ্ধির সাথে জড়িত নয়। এটা সত্য যে, ঘি-য়ে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। কিন্তু এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপকারী এবং পরিপাকনালীর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং ওজন কমতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে, বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যা, আমাদের অন্ত্র, ত্বক এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়। ঘাস খাওয়া গরু থেকে উৎপন্ন ঘি-য়ে কঞ্জুগেটেড লিনোলেনিক অ্যাসিড (সিএলএ) থাকে যা, ওজন বাড়তে নয় বরং কমাতে সাহায্য করে। তাই, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বিভিন্ন খাবার এবং পানীয়তে প্রচুর পরিমাণ ঘি মেশানো যেতেই পারে।

পশ্চিমারা কীভাবে এবং কেন আমাদের ঘি-য়র প্রেমে পড়েছিল এবং আমাদেরই-বা কেন ভুল বোঝানো হয়েছিল

মানুষের মাঝে ঘি নিয়ে প্রচলিত কিছু মিথ রয়েছে, যা মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সৃষ্ট। বৈদেশিক বাজার ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়তই ঘি সম্পর্কে ভুল বোঝানো হয়েছে ভোক্তাদের। বলা হয়ে থাকে, ঘি স্যাচুরেটেড ফ্যাট। ঘি ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ায়। ঘি হার্টের জন্য খারাপ। দুধ থেকে ঘি তৈরি হয়। ঘি এই, ঘি সেই কতকিছু! 

কিন্তু এসব তথ্যের বেশিরভাগই ভোক্তাদের ভুল বোঝানোর জন্য ছড়ানো হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘায়ু বিষয়ে এক সম্মেলনে ঘি-য়ের কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়। ভারত এবং অন্যান্য যেসব দেশ সারাবিশ্বে ঘি সরবরাহ করে, সেসব দেশকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়। মূলত, এমন কোনো শারীরিক কার্যকারিতা নেই যা, ঘি করে না!

মূলত ঘি-য়ে বহুমুখী কার্যকারিতা বিবেচনাতেই দীর্ঘায়ু ধরে রাখতে ঘি-য়ের প্রেমে পড়েছে পশ্চিমারা। ঘি-য়ের উল্লেখযোগ্য কিছু উপকারিতা হলো:

১. ঘি-য়ের একটি অনন্য কার্বন গঠন রয়েছে, যা এটিকে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বিপরীত করে তোলে। এতে রয়েছে, কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড (সিএলএ)। এটি পেটের চারপাশের একগুঁয়ে চর্বি কমায়।

২. ঘি-তে লাইপোলিটিক থাকে, যা রক্তে লিপিড বাড়ায় এবং কোলেস্টেরল কমায়। ঘি-য়ের উপাদান ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন যেমন ইএনডি হার্টের জন্য সেরা এবং রক্তচাপ নিম্নমুখী হয়।

৩. ঘি দুধ থেকে তরল অংশ এবং দুধের কঠিন পদার্থ অপসারণ করে তৈরি করা হয়। তাই ঘি খেলে থাইরয়েড ফাংশনের অবস্থান ঠিক থাকে এবং গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি ঘাটতি পূরণসহ বহুমুখী উপকার হয়।

৪. ঘি অ্যালার্জির নিরাময় করে এবং গ্লিসেমিক ইনডেক্স কমায়।

৫. ঘি দিয়ে খাবার রান্না করাও স্বাস্থ্যসম্মত। ঘি দিয়ে আপনি রান্না করতে পারেন। তেলের পরিবর্তে ঘি ব্যবহার করুন। ঘি-য়ের স্মোকিং পয়েন্ট অন্য তেলের চেয়ে বেশি। তাই, এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেল উৎপন্ন করে না। তেল বা চর্বির স্মোকিং পয়েন্ট হচ্ছে, তাপমাত্রার সুনির্দিষ্ট অবস্থা, যেখানে তেল থেকে ক্রমাগত নীলাভ ধোঁয়া উৎপন্ন হয়, যা স্পষ্টত দৃশ্যমান হয়। 

৬. গ্লুকোজ স্পাইক হ্রাস করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ব্যবহার করে রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াল স্তর রক্ষা করে। এথেরোস্ক্লেরোসিস প্রতিরোধ করে।

৭.  ঘি হলো অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও একটি অ্যান্টি-ভাইরাল, যা প্রায়ই অসুস্থতা থেকে শরীরকে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

৮. এটি একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বককে অ্যান্টি-রিঙ্কেল এবং অ্যান্টি-এজিং করে সৌন্দর্য বাড়ায়। সুস্বাস্থ্যের জন্য লুব্রিকেন্ট (অক্সিজেনেট) হিসেবেও কাজ করে ঘি।

৯. মেরুদণ্ড খাঁড়া ও মজবুত রাখে। পেহেলওয়ানদের প্রতিদিন এক লিটারেরও বেশি ঘি খেতে বলা হয়।

১০.  এছাড়াও মস্তিষ্কে নতুন পুষ্টি সরবরাহ করে ঘি। স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার জন্য ঘি গুরুত্বপূর্ণ। ঘি-তে থাকা লেপটিন হরমোন পূর্ণতার অনুভূতি দেয়।

১১. নিয়মিত এবং পরিমিত পরিমাণে ঘি খেলে রাতে ভালো ঘুম হয়।

যে ধরনের ঘি খেতে হবে

ঘরে তৈরি দেশি গরুর দুধের ঘি গ্রহণ স্বাস্থের জন্য বেশি উপকারী। তারপর দেশি মহিষ থেকে তৈরি ঘি-কে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে। ঘি খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, সবজি রান্নার সময় ঘি ব্যবহার করা। ঘি-য়ের স্মোকিং পয়েন্ট অনেক বেশি হওয়ায় বিভিন্ন খাবার ভাজার জন্যও ঘি ব্যবহার করা যেতে পারে। চাপাতি বা রুটির ওপর ছড়িয়ে দিয়ে বা ভাতের সাথে মিশিয়েও ঘি খাওয়া যায়।

অনেক আয়ুর্বেদ অনুশীলনকারী বিশ্বাস করেন যে, মাখনের চেয়ে ঘি শরীরের জন্য ভালো। তবে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। ডায়াবেটিস বা উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে ঘি গ্রহণ করা এড়িয়ে চলা উচিত। 

 

 

;