রায়ের কপি পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, অভিযোগ মিন্নির বাবার

  রিফাত হত্যাকাণ্ড



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরগুনা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বরগুনায় আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসি রায় দেন আদালত। রায়ে অসন্তোষ মিন্নির বাবা ‘উচ্চ আদালতে আপিলের’ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আপিলের জন্য মিন্নির রায়ের ‘সার্টিফায়েড কপি’ পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। শুক্রবার (০২ অক্টোবর) বার্তা২৪.কমকে এ অভিযোগ করেন মিন্নির বাবা। 

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমার মেয়েকে একটি কাল্পনিক চার্জশিটে মাধ্যমে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল করতে  ঐদিনই আমি রায়ের কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করি। কিন্তু দুই দিন পার হলেও এখনো  রায়ের কপি হাতে পাইনি। আর কবে পাবো তাও অনিশ্চিত। রায়ের সময় বলে দেওয়া হয়েছে আগামী ৭ দিনে ভিতরে আপিলের জন্য আবেদন করতে হবে। দুইদিন সাপ্তাহিক বন্ধ; যদি পাই তাহলে রোববার। তাও নিশ্চিত না যে কপি হাতে পাব কি-না! পেলে ঢাকা যেতে দুইদিন লাগবে। এরপরে আপিলের জন্য আবেদন লিখতে হবে। হাতে একবারে অল্প সময়।

তিনি আরও বলেন, আপনারা সাংবাদিক একটু দেখেন আমাদের সাথে অবিচার করা হয়েছে। আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আস্থা নিয়েই বলি এখন যত দ্রুত আমার মেয়ের রায়ের কপি হাতে পাই ততই আমাদের ভালো। রায়ের কপি পেতে সরকারের সহযোগিতা চাই। এই রায়ের কপি নিয়ে এত গড়িমসি করার কি দরকার? তাতে এইটাই প্রমাণিত হয় আমার মেয়ে নির্দোষ। আমি আমার মেয়েকে মুক্ত করতে পারব ।

এ বিষয়ে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বার্তা২৪.কম কে বলেন, রায়ের কপি এখনও পাইনি। রায় ঘোষণার দিনই কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। ইচ্ছা করলে রায়ের কপি বন্ধের দিনও দিয়ে দিতে পারে। কিন্ত এখনও হাতে পাইনি। কপি পেলে দ্রুত উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। এ হত্যার ঘটনায় পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও তার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিচার চলে এ আদালতে।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৪), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২২), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (২০), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২৩), মো. হাসান (২০) ও নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (২০)।

এছাড়াও মামলার অপর চার আসামি রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২১), মো. সাগর (২০), মো. মুসা (২৩)  ও কামরুল ইসলাম সাইমুনকে (২২) খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর মিন্নিসহ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিকে বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই কনডেম সেলে রিফাত হত্যার ছয় আসামি ছাড়া অন্য কোনো বন্দিই নেই বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।

গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রিফাত শরীফকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন রিফাত। পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো পাঁচ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ছয় দিন পর ২ জুলাই ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এ মামলার আলোচিত প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড।

তদন্ত শেষে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় অভিযোগপত্রে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। পরে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়। ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার ৭৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত। ১৬ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

  রিফাত হত্যাকাণ্ড