ধর্মনিরপেক্ষ নববর্ষ

  ‘এসো হে বৈশাখ’


কবির য়াহমদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর, বার্তা২৪.কম
মঙ্গল শোভাযাত্রা/ ছবি: নূর এ আলম

মঙ্গল শোভাযাত্রা/ ছবি: নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

১৪৩০ বঙ্গাব্দের সর্বশেষ সূর্যটা ওঠে আবার ডুবেও গেছে। দিনটাও শেষ, প্রতিদিনের মত রাত ১২টায়। ১৪ এপ্রিল ভোরে যে সূর্য ওঠবে ওটা নতুন বছরের। শনিবার দিন শেষে মাঝরাতে যে দিন শুরু ওটা নতুন বছরের; ১৪৩১ বঙ্গাব্দের।

নতুনে আমাদের চাওয়া কী—এনিয়ে ভাবছি না; পুরনোয় আমাদের হতাশা কী—এনিয়েও ভাবছি না। স্বাভাবিক জীবনের স্বাভাবিক দিন-রাত, ঘূর্ণাবর্ত। আমাদের কী চাওয়ার সে আলোচ্য নয়, আলোচ্য হলো আমাদের বাঙালিয়ানা আর উদযাপন। সকলেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন করুক। সর্বজনীন হোক সে উৎসব, সে উদযাপন। এখানে কূপমুণ্ডক আছে, থাকবে; থাকুক। তবু তাদের চপেটাঘাত করে বাঙালির নববর্ষ আপন আলোয় ভাস্বর হোক, হবে।

প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখে লক্ষ লোক রাস্তায় নামবে, এটা তাদের কাছে উৎসব। এই বেরিয়ে আসা মানুষদের সবার মধ্যে বাঙালিয়ানা খুঁজে নেওয়া অর্থহীন। এক দিনে, এক উৎসবে, এক আলিঙ্গনে শুদ্ধতা সম্ভব না—এর জন্যে সময়ের দরকার। গত কয়েক বছরে মানুষ এভাবে রাস্তায় উৎসব উৎসাহে বেরিয়ে আসছে বলে কূপমুণ্ডকেরা গর্ত লুকাচ্ছে, উঁকি দিচ্ছে আবারও আপন আশ্রয় ভেবে খুঁজে নিয়েছে সে গর্ত। এটা আমাদের আশাবাদের জায়গা। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

গ্রামাঞ্চলেও দেখেছি পহেলা বৈশাখের দিনে আজকাল মানুষজন নতুন জামা কেনে। ঈদ-পূজার বাইরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ক্রমশ এটাকেও উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মানসিকতা দারুণ এক আনন্দের। এভাবেই বদলে যাবে, আগে উৎসাহে উৎসব করে, পরে এর ভেতরের মধু খুঁজে নিয়ে।

এবার পহেলা বৈশাখের ছুটির আগে ছিল দীর্ঘ ঈদের ছুটি। ঈদ, সাপ্তাহিক ছুটি, পহেলা বৈশাখের ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচদিনের ছুটি উদযাপন করছে মানুষ। এই ছুটি জরা-খরা, অপ্রাপ্তি ভেঙে নূতনের পথে আবাহনের। ডিএল রায়ের ভাষায়—❛নূতন আলোকে নূতন পুলকে/ দাও গো ভাসায়ে ভূলোকে-দ্যুলোকে/ নূতন হাসিতে বাসনারাশিতে/ জীবন মরণ ভরিয়ে দাও...❜ এই আবাহন, এই আহ্বান কাঙ্ক্ষিত, অতি-কাঙ্ক্ষিত মানুষের, অন্তর্গতও বটে। এরবাইরে বহিঃস্থ রূপ অনেকটাই মুখোশের দৃশ্যায়ন।

এই সময়ের বাঙালি-মানস অনেকটাই বিভক্ত। বাঙালি জাতিসত্তার একজন হয়েও অনেকেই নিজেদের শেকড় অস্বীকার করে। ধার করা কিংবা আমদানি করা সংস্কৃতিকে নিজেদের সংস্কৃতি প্রকাশে মরিয়া একদল। উচ্চকণ্ঠ যারা তারা অন্যের উৎসব সহ্য করতে পারে না। এখানে বারবার আক্রমণের শিকার বাঙালির সংস্কৃতি, বাঙালির উৎসব। আছে ধর্মীয় ব্যাখ্যা। পহেলা বৈশাখের উদযাপনকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি বলে উচ্চকণ্ঠ যে শ্রেণির লোকজন তাদের অনেকেই আবার ধর্মীয় সংস্কৃতিকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করায় যখন তখন। কেবল পহেলা বৈশাখ নয়, একদল লোক দেশে এখন দাঁড়িয়ে গেছে যারা ইসলাম ধর্মের পবিত্র শবে বরাত ও ২৭ রমজানের শবে কদর পালন নিয়েও প্রশ্ন তোলে। প্রশ্ন তোলে গুরুজনদের পা ছুঁয়ে করা কদমবুসিকেও। নামাজ শেষে করা মোনাজাতও অনেকের কাছে অশুদ্ধ। কাপড় কোথা পর্যন্ত পরা হবে এনিয়েও আছে বিবিধ বিতর্ক। এই বিতর্ক, বিভক্তির যতটা না প্রাসঙ্গিক কিংবা যৌক্তিক, তারচেয়ে বেশি গোষ্ঠীবদ্ধ প্রচারণা।

ধর্মও যেখানে প্রশ্নের মুখে তাদের কাছে, সেখানে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ নিয়ে প্রশ্নও অস্বাভাবিক নয়। অথচ ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখ একটি ❛ধর্মনিরপেক্ষ নববর্ষ❜। কারণ নানা আলোচনা-গবেষণা শেষে বাংলাদেশ নির্ধারণ করেছে কবে হবে বাংলা নববর্ষ। এখানে তাই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে কিছুটা পার্থক্য। বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ যখন ১৪ এপ্রিল, তখন ভারতে সেটা ১৪ অথবা ১৫ এপ্রিল। বাংলাদেশ বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং রাষ্ট্রীয় বিশেষ দিনগুলোকে বঙ্গাব্দ-খ্রিস্টাব্দের একই তারিখে রাখতে সংস্কারকে গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সংস্কারকে গ্রহণ করেনি, ফলে তাদের কাছে নববর্ষ এখনো ধর্মীয় দিনপঞ্জিকা। হতে পারে তাদের ইতিহাসের সঙ্গে ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চের যোগ নেই বলে তাগিদও নেই।

কয়েক বছর আগে ডয়চে ভেলেতে প্রকাশিত একটা সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক ফরহাদ খান ❛কেন ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশ পহেলা বৈশাখ হিসাবে বেছে নিয়েছিল❜ তার একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন—❛অবিভক্ত বঙ্গদেশে নবদ্বীপের পণ্ডিত স্মার্ত রঘুনন্দন বাংলা পঞ্জিকা সংস্করণ করেন। এরপর ১৮৬৯ সালে আবারও সংস্করণ হয়। পরে সেটা মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয়। এরপর ১৮৯০ সালে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে পঞ্জিকার প্রকাশ চলতে থাকে। ১৯৫২ সালে মেঘনাদ সাহাকে ভারত সরকার পঞ্জিকা সংস্কারের দায়িত্ব দেন। তিনিই শকাব্দ সংস্কার করেন। সেই শকাব্দ অনুযায়ী পয়লা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল। মেঘনাদ সাহার এই সংস্কার বাংলাদেশেও ব্যাপক নাড়া দিয়েছিল। ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমি ড. শহীদুল্লাকে সভাপতি করে পঞ্জিকা সংস্কার শুরু করে। আগে ৩০, ৩১, ৩২ দিন ছিল। তারপর ঠিক হয়, প্রথম ৫ মাস ৩১ দিনের, বাকি ৭ মাস ৩০ দিনের হবে। এরপর ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে আবারো পঞ্জিকা সংস্কার করা হয়। সেই পঞ্জিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। এতে বৈশাখ থেকে ভাদ্র হলো ৩১ দিনে, আশ্বিন থেকে চৈত্র হলো ৩০ দিনে আর খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডারের লিপ ইয়ারে ফাল্গুন মাস ৩১ দিনের হবে। অর্থাৎ যে বছর খ্রিষ্টীয় সনে লিপইয়ার, সে বছর বাংলা সনেও লিপইয়ার। এ সংস্কারের ব্যাপারটি যখন আনা হয়, তখন আমাদের গৌরবময় মাস, আমাদের শোকের মাস, আমাদের বিজয়ের মাস, ১৯৭১ সালকে মনে রাখা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে আমাদের যেমন ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ, ২১ ফেব্রুয়ারির যে প্রতিসঙ্গী খ্রিষ্টীয় সবের দিনগুলো, সেগুলোকে এক রাখার জন্যই বাংলা একাডেমি এই সংস্কারটা করে। এতে এখন যেটা দাঁড়িয়েছে, সরকারি পঞ্জিকা অনুসারে ২১ ফেব্রুয়ারি হলো ৯ ফাল্গুন, ২৬ মার্চ হলো ১২ চৈত্র এবং ১৬ ডিসেম্বর হলো ২ পৌষ। এর কোনোদিন এর হেরফের হবে না।❜ [ডয়চে ভেলে, ১৬ এপ্রিল ২০১৮]

বাংলা বর্ষপঞ্জিকা নিয়ে বাংলাদেশের যে সংস্কার সেটাকে দেশের ইতিহাসকে উপজীব্য করে। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ সরকারি নথিতে বাংলায় তারিখ লেখা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই নিয়ম জোরদার হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে শহীদুল্লাহ কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করে বাংলা দিনপঞ্জিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হলেও অধিবর্ষ গণনার ক্ষেত্রের জটিলতা দেখা দেয়। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হারুন-উর-রশিদকে প্রধান করে পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতজ্ঞ, ভাষা, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই কমিটি মেঘনাদ সাহা ও শহীদুল্লাহ কমিটির মূল সুপারিশের নিরিখে ২০টি সুপারিশ পেশ করে। তারপরেও জাতীয় দিবসগুলোয় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ও বাংলা বর্ষপঞ্জি মূলানুগ হয়নি। ফলে ২০১৫ সালে বাংলা বর্ষপঞ্জির অসামঞ্জস্য দূর করে পুরোপুরি বিজ্ঞানভিত্তিক এবং জাতীয় দিবসগুলোকে মূলানুগ করতে এবার তৃতীয়বার সংস্কার কমিটি করা হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানকে সভাপতি করে গঠিত ওই কমিটিতে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অজয় রায়, পদার্থবিজ্ঞানী জামিল চৌধুরী, অধ্যাপক আলী আসগর, একাডেমির পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জি প্রমুখ। এই কমিটির সংস্কারকে ১৪২৬ বাংলা থেকে বাংলাদেশ গ্রহণ করেছে।

২০১৯ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বাংলা বর্ষপঞ্জি নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৯৯৫ সালের সংস্কার অনুযায়ী বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র—বছরের প্রথম এই পাঁচ মাস ৩১ দিন গণনা করা হতো। কিন্তু ১৪২৬ বঙ্গাব্দ থেকে ফাল্গুন মাস ছাড়া অন্য পাঁচ মাস ৩০ দিনে পালন শুরু হয়েছে। ফাল্গুন মাস হচ্ছে ২৯ দিনের, কেবল লিপইয়ারের বছর ফাল্গুন ৩০ দিনের মাস হবে। সবশেষ এই সংস্কারের কারণ সম্পর্কে বাংলা একাডেমির গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেছিলেন, ❛২১ ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চের মত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস সমূহ বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যে দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই দিনে পালন করা হবে।❜ অর্থাৎ ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা বর্ষপঞ্জিকায় তখন যে দিন ছিল আজীবন বাংলাদেশ সেই একই তারিখে এখন থেকে পালন করে যাবে।

বাংলা বর্ষপঞ্জিকা সংস্কার এবং বাংলা নববর্ষের এই তারিখ নির্ধারণ এবং উদযাপনের সঙ্গে যারা সংকীর্ণ দৃষ্টির প্রচারণায় বিভাজনের চেষ্টা চালায় তারা যে ভুল এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ তাই ধর্মনিরপেক্ষ নববর্ষ। এটা গৌরব আর ইতিহাস ঠিক যে দিনে ঘটেছিল সে দিনকেই মহিমান্বিত করতে।

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা বর্ষপঞ্জিকার ওই সময় যে তারিখে ঘটেছিল আজীবন বাংলাদেশ সে একই তারিখ পাচ্ছে নতুন সংস্কারে। একইভাবে ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চসহ সকল জাতীয় দিবস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম-মৃত্যুর তারিখও দুই ক্যালেন্ডারে হয়েছে মূলানুগ।

❛❛রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি/ আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ/ মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।❜❜

শুভ নববর্ষ ১৪৩১!

   

রংপুরে ৯ ঘণ্টা ধরে তীব্র যানজট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৮ শতাধিক যাত্রীবাহী বাস রংপুরে তীব্র যানজটের কবলে পড়েছে। এসব বাসে থাকা কয়েক হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।

রোববার (১৬ জুন) রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় থেকে দমদমা পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যানজটে ৮ শতাধিক যাত্রীবাহী বাস আটকা পড়ে। ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই যানজট দুপুর ২টা পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এতে যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগ পড়েছে।

রংপুরসহ ৫ জেলায় যানবাহন যাতায়াত প্রবেশ মুখ মর্ডান মোড়। ফলে সময় যতই সময় গড়াচ্ছে ততই যানবাহনের চাপ বাড়ছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক শাখার ইন্সপেক্টর কেরামত আলী জানান, দমদমা এলাকায় দুটি বাস বিকল হয়ে যাওয়ায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, পুলিশের দায়িত্বহীনতার কারণে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী এক বাসে যাত্রী বলেন, ভোর ৫টা থেকে তিনি আটকা পড়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি পঞ্চগড়গামী এক বাসের যাত্রী জানান, যেভাবে তারা যানজটে আটকা পড়েছেন, বাসায় কখন ফিরবেন নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

ভারী বৃষ্টিতে সিকিমে আটকা হাজারো পর্যটক



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সিকিমে ভারী বৃষ্টিতে গাছপালা ভেঙে, পাহার ধ্বসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে আটকা পড়েছেন অনেক পর্যটক। খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজও চালাতে পারছে না প্রশাসন।

এদিকে উত্তর সিকিমে দু’‌হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন। তা‌দের উদ্ধারে বিমান বাহিনীর সাহায্য চেয়েছে সিকিম প্রশাসন। আর পাকইয়াং বিমানবন্দরের কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার সিং বলেছেন, ‘রাজ্যের পক্ষ থেকে নির্দেশ পেয়েছি। লাচুং এবং চুংথাং থেকে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করার জন্য। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ায় সেটা থমকে আছে। আমরা উদ্ধার কাজ করতে প্রস্তুত।’‌

লাচুংয়েই তিনদিন ধরে আটকে রয়েছেন ১২০০ পর্যটক। মঙ্গনের পুলিশ সুপার সোনম ডিকচু ভুটিয়া জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে এখনও উত্তর সিকিমের দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়নি। স্থানীয়ভাবে সবরকম চেষ্টা চলছে। হেলিকপ্টার নামার মতো আবহাওয়া না থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, সিকিম আর্মড পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। রংপোয় হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। যোগাযোগের নম্বর ৮৭৬৮০৯৫৮৮১ এবং ৯০৫১৪৯৯০৯৬। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং শনিবার ধস বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। রোববার সকাল পর্যন্ত মঙ্গন জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।

আগামী কয়েকদিন সিকিম, দার্জিলিংসহ উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চারদিন ধরে টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর সিকিমের দিকে যাওয়ার একাধিক রাস্তা ডিকচু-সঙ্কলং-টুং, মাগান-সঙ্কলং, সিংথাম-রাংরাং, রাংরাং-টুং ধসে বিধ্বস্ত হয়েছে।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

ঈদে নতুন পোশাক পেল শতাধিক বেদে শিশু শিক্ষার্থীরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লক্ষ্মীপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আজহা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরে শতাধিক বেদে শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (১৬ জুন) দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু এ পোশাক বিতরণ করেন।

এ উপলক্ষে উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট এলাকায় মেঘনারপাড় ধীবর বিদ্যা নিকেতন প্রাঙ্গণে মানবতাই ধর্ম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়।

মানবতাই ধর্ম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উপদেষ্টা আশফাকুর রহমান মামুনের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী শরীফ মোল্লা, ও মানবতাই ধর্ম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি শংকর মজুমদার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, বেদে পরিবারগুলো অসহায়। ঝড়-বৃষ্টি-রোদ সহ্য করেই তাদেরকে নৌকাসহ বিভিন্ন স্থানে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। ঈদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের জন্য অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক। ঈদে তাদের অধিকাংশই সন্তানদেরকে নতুন জামা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না। তবে এবার বেদে শিশুরা নতুন জামা পড়বে। তারাও সবার মতো ঈদ আনন্দ করবে। বেদে শিশুদের প্রত্যেককেই নতুন পোশাক দেওয়া হয়েছে।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;

কাকরাইলে এসএ পরিবহনে আসা পার্সেলে মিললো ইয়াবা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর কাকরাইলে এস এ পরিবহনে আসা একটি কুরিয়ারের ব্যাগ থেকে ৭ হাজার ২৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (উত্তর)।

শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে অভিযান চালিয়ে এই ইয়াবা জব্দ করা হয়। রবিবার (১৬ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (উত্তর) সহকারী পরিচালক রাহুল সেন।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাকরাইলের এস এ পরিবহনের অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখানে গিয়ে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো শপিং ব্যাগ থেকে ৭ হাজার ২৪০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এর মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। এই ইয়াবা কে পাঠিয়েছে আর কাকে পাঠিয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে।

  ‘এসো হে বৈশাখ’

;