দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান



মহীবুল আজিজ
গ্রাফিক্স: বার্তা২৪.কম

গ্রাফিক্স: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রকৃত বিস্ময়ের তখনও কিছু বাকি। কাদামাটি-লাগা হাত ডোবায় ধুয়ে নিতে গিয়ে খায়ের দেখলো ডোবার পানি দেখতে কেমন অস্বাভাবিক দেখায়। কিন্তু কয়েকদিন আগেও ব্যাপারটা ছিল না। তাহলে কী ডোবার পানি দূষিত হয়ে পড়লো এরিমধ্যে। আঁজলা ভরে জল নিয়ে চোখের কাছে ধরতেই সে লক্ষ্য করলো একটা তেলতেলে ভারি ধরনের তরল জল সে ধারণ করে রয়েছে। পানিতে তৈলাক্ত কিছু মিশে আছে। জিভে পরখ করে দেখলে কষা আর বিস্বাদ লাগে। তারপর খায়ের কৌতূহল পরিপূর্ণরূপে মেটানোর জন্যে মগ ভরে পানি নেয় ডোবা থেকে। দেখে মনে হয় কেউ যেন তেল মিশিয়ে দিয়েছে ডোবার পানিতে। ভোজবাজি নয়তো-ভাবলো খায়ের। আগুনের প্রসঙ্গে জান্নাত বেশ খুশিই হয় যখন তার হাতেনাতে ফল হিসেবে পাওয়া যায় স্বামীর হাতে বানানো গরম চা। কিন্তু তৈলাক্ত জলের কথা ভেবে সে চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এদিকে আগুন আবার তার সঙ্গে-সঙ্গে পানির তৈলাক্ত হয়ে যাওয়া সবই তার একটা অশুভ বার্তার আভাস বলে মনে হতে থাকে। খায়ের তাকে চিন্তামুক্ত করে। প্রথমত আগুন আর তৈলাক্ত পানির কথা যতটা সম্ভব গোপন রাখা চাই। তাদের ঘরটা এক প্রান্তে এবং সুপুরি গাছের পাতা দিয়ে সেটির চারদিক ঘেরা থাকায় কারও পক্ষে সে-সংবাদ পাওয়া সম্ভব নয়ও তবু যে-কেউই এসমস্ত আবিষ্কারের খবর জেনে ফেলতে পারে। হঠাৎ করে কেউ হাঁটতে-হাঁটতে এদিকটায় এসে পড়লে তাকে ঠেকানো সম্ভব না-ও হতে পারে। খায়ের বোঝাতে থাকে জান্নাতকে। তার কণ্ঠে আশ্বাস-বার্তা। নিশ্চয়ই তাদের এই ঘর যেখানটায় তার নিচে প্রচুর পরিমাণে মজুদ রয়েছে গ্যাস। আবার, গ্যাসের পাশাপাশি তেলের মজুদও থাকা সম্ভব। কিন্তু জান্নাতের দুর্ভাবনা তাতে কমে না। তার জিজ্ঞাসা, তেল-গ্যাস দিয়ে তারা করবে কী! খায়ের বলে,

: হোনো, গ্যাস দিয়া কী করন যায় হেইডা তো তুমি নিজের চোহেই দেখলা। আর সত্য-সত্য যদি তেল থাইক্যাই থাহে তাইলে এই পানি এই যে আগুন দেখতাছো হেই আগুনে জাল দিয়া আমরা তেল করমু। তারপর সেই তেল দেখবা কত কী কাজে লাগতাছে। তেল দিয়া আবার রান্না করন যায়, বাত্তি জালান্ যায়, ভাগ্য ভাল হইলে হেই তেল দিয়া গাড়িও চালান যায়। আমাগো অবশ্য গাড়ি নাই কিন্তু তেল বেচলে হেই তেলের ট্যাহা দিয়া গাড়ি কিনন কোনো ব্যাপারই না!

আরও পড়ুন: দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান (পর্ব-১)

মোটামুটি ব্যাপারটা এতদূর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। সেটা ছিল, ধরা যাক সন্ধ্যার পূর্ব পর্যন্ত। আবুল খায়েরের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ ছিল দিনের আলোতেই। ফলে, রাতের বাস্তবতা তার ভাবনাতে কী করে যেন অনুপস্থিত থেকে যায়। আর রাত নামতেই দ্রুত পটপরিবর্তনের ফলে সবকিছু এলোমেলো হওয়ার লক্ষণ প্রকট হতে থাকে এবং পুরো ব্যাপারটার নিয়ন্ত্রণও আর আবুল খায়েরের হাতে থাকলো না। দিনের আলো উদ্ভূত অগ্নিশিখাকে শোষণ করে নিলে সেই আগুন দূর থেকে আর তত দর্শনযোগ্য হয় না। কিন্তু যখন সন্ধ্যা হয়, ভাল করে রাত হয়, গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয় অন্ধকার তখন এক ফুটের মত উঁচু শিখাকেও তীব্র আর ভীতিকর দেখায়। ঘরের ভেতর থেকে সেই শিখা দেখে অবাক হয়ে যায় জান্নাত। ঐটুকু শিখার আলো অনেকটা জায়গা আলোকিত করে দেয়। এমন অনিঃশেষ আলোকশিখা হঠাৎ ভয়ও ধরিয়ে দেয়। জান্নাত ভাবে, এমন যদি হয়, এই শিখা ধীরে-ধীরে তার সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে অকস্মাৎ প্রবল বেগে বিপুল ধাবমানতা নিয়ে ছড়িয়ে পড়লো চতুর্দিকে, তাহলে! তাহলে কী সে এবং তার স্বামী পারবে সেই বিস্তৃতিকে থামাতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে। ঐটুকু শিখাকে মগের পানি ঢেলেও নেভানো যায় নি। বিস্তৃত শিখাকে তারা সামলাবে কী করে। আরেক ভয় চেপে ধরে তাকে। এমন যদি হয়, তারা গভীর নিদ্রার জগতে বিভোর হয়ে রয়েছে আর তখন আগুনের শিখা ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ ও বৃহত্তর হতে-হতে নিদ্রিত তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেলল, তাহলে! মনের ভয়টাকে স্বামীর নিকটে প্রকাশ না করে পারে না জান্নাত-

: আইচ্ছা, আমারে কও তো, আগুন যদি নাকি বাইড়্যা যায়, বাইড়্যা গিয়া যদি নাকি আমাগো ইদিকে আউগাইয়া আহে তাইলে তো আমাগো ঘর-টর সব পুইড়্যা ছাই অইয়া যাইবো! তহন কী অইবো?

: হ, তোমারে কইছে! বাড়লে এতক্ষণে বাইড়্যা যাইতো, বুঝছো? আগুন বাড়বো না। তুমি নাক ডাইক্যা ঘুমাইতে পারবা। আর সহালবেলা ঘুম থেইক্যা উইঠ্যা দেখবা আগুন যেমন ছিল তেমনই জ্বলতাছে। আর রাইতের মধ্যে যদি জইম্যা থাকা গ্যাস শেষ অইয়া যায় তাইলে আর আগুন জ্বালাবো না।

যেটুকু ঘুমের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল খায়েরের আশ^স্তিমূলক কথায় সেটাও উবে গেল রাত না-বাড়ার আগেই। কৌতূহলী দ্বীপবাসীদের কয়েকজনের নজরে আসে খায়েরের বাড়ির ডোবার জ্বলতে থাকা আগুনের শিখা। তারা দূর থেকে আলোকময় আভা লক্ষ করে কেবল কৌতূহলের বশেই এগোয়। অনেকেই রাতে ডোবা-পুকুরের কিনারায় হ্যারিকেন হাতে নিয়ে কোঁচ দিয়ে মাছ মারে। সুস্বাদ বেলে মাছগুলো তখন কিনারার মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। উৎসাহীরা আগুয়ান হয়, পরিচিত হলে বলে, কী, কেমন পাইল্যা মাছ? আর অপরিচিত হলেও মাছ সম্পর্কেই আলাপ আরম্ভ করে। জনাতিনেক লোক জায়গাটা পেরিয়ে যাচ্ছিল খানিকটা দূর দিয়েই। কিন্তু আগুন দেখে তারা এগোয়। প্রথমে ভাবে, ভূতের আগুন জ্বলে। খালে-বিলে-মাঠে-প্রান্তরে অনেক সময় এমন আগুন জ্বলতে তারা শুনেছে এবং দেখেছেও। ভয়-উৎকণ্ঠা আর কৌতূহলে তিনজনের সাহস একজোট করে তারা সন্নিকটে আসে। এসে দেখে শুধু আগুনই জ্বলে না, জ্বলতে থাকা আগুনকে আসলে জ্বালানোও হচ্ছে। খায়ের-নির্মিত চিহ্নিত ব্যূহ এবং চুল্লির কাঠামো তাদের সামনে উদ্ঘাটিত হলে তারা নিশ্চিত বুঝতে পারে, সন্নিহিত গৃহবাসীরা প্রাকৃতিকভাবে লব্ধ গ্যাসে রান্নাবান্নার কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাদের পারস্পরিক আলাপ আর কথকতায় সাড়া পেয়ে খায়ের আঙ্গিনায় এসে দেখে পশ্চিম পাড়ার কাসেম, লতিফ আর হাশেম জটলা করে আগুন এবং গ্যাস বিষয়ে আলাপরত।

আবুল খায়ের তাদের একবিন্দু মিথ্যে বলে না। তার সদ্য বিয়ে করা সৌভাগ্যের চিহ্ন জান্নাতের বুদ্বুদ দেখা থেকে শুরু করে তার আগুন জ্বালিয়ে চা বানিয়ে খাওয়া সবটাই সে উপস্থাপন করে বিশ্বস্ততার সঙ্গে। যদিও ডোবার তৈলাক্ত জলের ব্যাপারটা সে গোপন রাখে। তারপর, উৎসাহী সেই দ্বীপবাসীদের প্রস্থানের পর খায়ের আর জান্নাত আগুনকে সাক্ষী রেখে ঘুমাতে যায়। মাঝে-মাঝে ঘুম ভেঙে গেলে তারা দু’জনেই শয্যা ছেড়ে উঁকি মেরে দেখে, আগুন জ¦লেই চলেছে। এভাবে তাদের রাত শেষ হয়, তখনও শেষ হয়ে যায় না আগুন। ভোর হতে না হতেই শুরু হয় প্রকৃত ঘটনা বা ঘটনার প্রতিক্রিয়া। আগুনের ফলও তাকে বলা যেতে পারে। একে-একে লোকেরা আসতে থাকে দ্বীপের নানা দিক হতে। লোক থেকে লোকান্তর হয়ে ছড়িয়ে পড়ে আগুন প্রায় সারা দ্বীপে। পঁচিশ বর্গমাইলের দ্বীপে আগুনের খবর ছড়াতে পঁচিশ মিনিটও লাগে না। আগুন দেখতে আসে পরিচিত অপরিচিত লোকেরা। অধিকাংশ লোকই খায়েরদের অচেনা। কিন্তু তারা এসে পরিচিত হয় খায়েরদের সঙ্গে। তারা বলে, আগুন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে বলতে হবে খায়ের যথার্থই ভাগ্যবান। এখন আগুন যেহেতু খায়েরের আঙ্গিনার ধারে, তার বউ জান্নাত আগুনের স্বকীয় অধিকারে আপনমনে নির্দ্বিধায় তার রান্নার কাজ সেরে নিতে থাকে। তাতে কারও আপত্তিও থাকে না। তবে, জান্নাতের রান্নার কাজ শেষ হলে অদূরের পশ্চিম পাড়ার সেই লোকেদের বাড়ির সদস্যরা হাড়িপাতিল সঙ্গে এনে নিজ-নিজ রান্নার কাজ সেরে নেওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলে খায়ের এবং জান্নাত দেখল, আগুনের প্রকৃত মালিক তো প্রকৃতিই। আগুন তো নিজেই জ¦লে যেতে থাকবে। কেউ যদি সেই জ্বলতে থাকা আগুনকে কাজে লাগিয়ে একটু উপকৃত হয় হোক না, ক্ষতি কী! খায়ের বলে, তোমরা তোমগো রান্না করবা, আমাগো আপত্তি কিসের! আমাগো রান্না তো আমরা সাইর‌্যা ফেলছি। ব্যাপারটা একটা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিণতির মধ্য দিয়ে মীমাংসিত হয়ে যায়। এর মধ্যে জটিলতার কোন ইঙ্গিত থাকবার কথা নয়। তবে হ্যাঁ, খায়ের বলে লোকেদেরকে, দোয়া করো যাতে এই আগুন না নিভ্যা যায়। নিভ্যা গেলে তো সব শেষ। যে-ক’দিন কপালে থাহে আগুনরে লাগান যাইবো কাজে।

আরও পড়ুন: দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান(পর্ব-২)

দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান (পর্ব-৩)

দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান(পর্ব-৪)

দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান(পর্ব-৫)

চলবে...

৭তম পর্ব পড়ুন আগামী শুক্রবার

ভ্রমণগদ্য হোক সৃজনশীল চর্চার গন্তব্য



জাকারিয়া মন্ডল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক লেখা সাহিত্য কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস, চৈনিক ফা হিয়েন ও হিউয়েন সাং, আরব পর্যটক সুলেমান ও আল মাসুদি, পারস্যের পর্যটক আল বিরুনি, ইতালির মার্কো পোলো, মরক্কোর ইবনে বতুতা প্রমুখ বিশ্বখ্যাতরা সাহিত্য করেননি। তারা করেছিলেন ডকুমেন্টেশন। যা দেখেছিলেন তাই লিখেছিলেন। ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন। মুঘল, নবাবী, এমনকি ব্রিটিশ আমলের পর্যটকদের বিবরণেও ওই ধারাটাই বজায় ছিলো। এখনও অনেক পর্যটক এ ধারার চর্চা করে চলেছেন।

তবে পৃথিবী আধুনিকতার পথে ধাবিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিন্নধারার চর্চার চলও শুরু হয়ে যায়। যেমন, সৈয়দ মুজতবা আলীকে আমরা ডকুমেন্টেশনের চেয়ে রম্যরসে অধিক মনোযোগ দিতে দেখি। পরবর্তীতে আরও অনেকে এমন চর্চার অনুসারি হয়ে ওঠেন। ফলে ভ্রমণের বিবরণ সাহিত্যঘেঁষা হয়ে উঠতে শুরু করে। ভ্রমণের বেসিক বিবরণ ও সাহিত্যের মধ্যে ব্যবধান কমতে শুরু করে। এখন অনেকেই ভ্রমণ লেখাকে সাহিত্যে আত্তীকরণ করতে আগ্রহী। সাংবাদিক ও কবি মাহমুদ হাফিজ ভ্রমণগদ্য নামে যে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি বের করে চলেছেন, তাতে পত্রিকার নামের সঙ্গে লেখা রয়েছে ‘ভ্রমণ সাহিত্যের কাগজ’।

‘ভ্রামণিক’ নামে ভ্রমণ লেখকদের নতুন একটা পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করারও অন্যতম পুরোধা বলা যায় মাহমুদ হাফিজকে। সদালাপী ও বিনয়ী মানুষটির সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বছর কয়েক আগে, এয়ার এশিয়ার কুয়ালালামপুরগামী এক ফ্লাইটে। অল ইউরোপিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (আয়েবা) নামে একটি সংগঠন তখন মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সম্মেলন আয়োজন করেছিলো। সেখানে আমন্ত্রণ ছিলো ঢাকা শহরের বাঘা বাঘা সম্পাদক ও সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার জনক আলমগীর হোসেন তখন তারই জন্ম দেওয়া বাংলানিউজ২৪.কমের এডিটর ইন চিফ। তারও আমন্ত্রণ ছিলো আয়েবা সম্মেলনে। কিন্তু, তিনি নিজে না গিয়ে তার প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার সাংবাদিক অতিথিদের একই ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর নেওয়া হচ্ছিলো।

প্লেন আকাশে ওঠার পর মাহমুদ হাফিজ ভাই আমাকে খুঁজে বের করলেন। ওটাই যে প্রথম পরিচয়, কথা শুরুর পর সেটা ভুলেই গেলাম। এরপর গত কয়েক বছরে বহুবার হাফিজ ভাই এর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কখনোই ভ্রমণ ছাড়া আর কোনো বিষয়ে তাকে কথা বলতে শুনিনি।

ঢাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ লেখকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভ্রমণ নিয়ে কথা বলেন। নিজে লেখেন। অপরকে লেখতে উৎসাহিত করেন। তার উৎসাহে অনেক ভ্রামণিক লেখক হয়ে উঠেছেন। ভ্রমণ লেখকদের নিয়ে নিয়মিত ‘প্রাতরাশ আড্ডা’ আয়োজনেরও প্রধান উদ্যোক্তা তিনি। ভ্রমণ লেখকদের যেমন সংগঠিত করেছেন, তেমনি লেখা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন ‘ভ্রমণগদ্য’ পত্রিকায়। যে পত্রিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রবাসী লেখকদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছেন তিনি।

এরই মধ্যে পঞ্চম বছরে এগিয়ে চলেছে ভ্রমণগদ্য। প্রকাশিত হয়েছে ৯টি সংখ্যা। সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশ পেয়েছে এ বছরের বইমেলায়। এ সংখ্যায় ভ্রমণগদ্যের পাশাপাশি কবিতাও দেখা গেছে।

যেহেতু যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ হওয়ার জন্য দিন দিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেহেতু ভ্রমণ লেখকের সংখ্যাও বাড়ছে। ঘুরে এসে অনেকেই কিছু না কিছু লিখতে চান। তাই মাহমুদ হাফিজের ভ্রমণগদ্য প্রতিষ্ঠিত ভ্রমণ লেখকদের পাশাপাশি নতুনদের জন্যও নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমন উদ্যোগের সমালোচনা চলে না। তবু দুএকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক বৈকি।

ফেসবুকীয় যুগের লেখকদের সাহস পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়ে অনেক বেশি। ভ্রমণগদ্যের কোনো কোনো লেখাতেও আমরা এমন সাহসী হঠকারিতার ছাপ পাচ্ছি। কেউ কেউ যা ইচ্ছা তাই লিখে দিচ্ছেন। ভ্রমণস্থলের চেয়ে ঢের বেশি আমিময় হয়ে উঠছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভ্রমণের গল্প পড়ছি, নাকি লেখকের ভাবনা, ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পছন্দের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি তা বুঝে ওঠা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ছবিতে বিষয়বস্তু, স্থান বা স্থাপনার চেয়ে নিজেই অধিক প্রকট হচ্ছেন লেখক। লেখার টেবিলে সময় কম দেওয়ার কারণে কাউকে কোট করার ক্ষেত্রে বই এর নাম, এমনকি লেখকের নামেও ভুল রয়ে যাচ্ছে। এমন উদাহরণ যতো এড়ানো যায় মতোই মঙ্গল।

মনে রাখতে হবে, ভ্রমণ লেখা হলো সরেজমিন প্রতিবেদনের মতো, যা অকাট্য দলিল হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে। প্রকাশনার এই সঙ্কটকালে লেখালেখি চর্চার যে প্লাটফর্ম ভ্রমণগদ্য তৈরি করে দিয়েছে, সেটা যেনো নষ্ট না হয়। আমরা আশা করবো, মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য ভ্রামণিকদের সৃজনশীল চর্চার প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠবে।

জাকারিয়া মন্ডল: প্রধান বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আমাদের বার্তা

;

ভ্রামণিক কবি কাজল চক্রবর্তী ১২ দিনের সফরে বাংলাদেশে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কবি কাজল চক্রবর্তী

কবি কাজল চক্রবর্তী

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গের আশির দশকের স্বনামখ্যাত ভ্রামণিক, কবি ও সাংস্কৃতিক খবর সম্পাদক কাজল চক্রবর্তী এখন বাংলাদেশে। ভ্রমণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি শনিবার (১৪ মে) বিকেলে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকার কবি সাবেদ আল সাদ। আজ (১৫ মে) থেকে দেশজুড়ে কাজল চক্রবর্তীর সাহিত্যসফর শুরু হচ্ছে।

রোববার বিকালে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে স্বরচিত কবিতাপাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। কলকাতার কবি কাজল সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন। টাঙ্গাইল পাবলিক লাইব্ররি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মুখ্য উদ্যোক্তা কবি মাহমুদ কামাল। সভাপতিত্ব করবেন কবি সাবেদ আল সাদ।

সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্ত্বরে মৃদঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন আয়োজন করেছে ‘মতিহারের সবুজে’ শীর্ষক কবিতা আড্ডা। কবি অনীক মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আড্ডার কবি কাজল চক্রবর্তী। প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ।

রাজশাহী থেকে পরদিন মঙ্গলবার কাজল চক্রবর্তী ছুটবেন বগুড়ায়। সেখানে ইসলাম রফিকের পরিচালনায় আয়োজিত হবে বগুড়া লেখক চক্র কর্তৃক সাহিত্য অনুষ্ঠান। কাজল চক্রবর্তী থাকবেন মুখ্য অতিথি। কবি মাহমুদ কামাল ও কবি সাবেদ আল সাদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

১৮ থেকে ২১ মে পর্যন্ত কবির ঢাকাবাসকালে আয়োজিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান। ২০ মে শুক্রবার ভোরে মাহমুদ হাফিজ সম্পাদিত ভ্রমণগদ্য লিটল ম্যাগাজিন ঢাকায় ভ্রামণিক-কবিদের এক প্রাতঃরাশ আড্ডার আয়োজন করেছে। কবি ও ভ্রামণিক কাজল চক্রবর্তী আড্ডার অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই আড্ডাটি শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য।

এদিন বিকালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র্রে কবি আনোয়ার কামালের ‘এবং মানুষ’ আয়োজিত ‘এবং উৎসব’কবিতাসন্ধ্যায় কাজল চক্রবর্তী মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

২১ মে শনিবার বিকালে কাটাবনের কবিতা ক্যাফেতে ‘বিন্দু বিসর্গ’ পত্রিকা কাজল চক্রবর্তীকে সংবর্ধনা দেবে। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। পরদিনই কাজল রওনা হবেন চট্টগ্রাম। ২২ মে রোববার চট্টগ্রামের হাটখোলা ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে কথা ও কবিতা অনুষ্ঠানের। আবৃত্তি ও কবিতাপাঠের অনুষ্ঠানটি হবে চট্টগ্রাম মোহাম্মদ আলী সড়কে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের কার্যালয়ে।

পরবর্তী চারদিন কাজল চক্রবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি ও বান্দরবানের ভ্রমণস্থানগুলো ভ্রমণ করবেন। ২৬ মে তার কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।

;

আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে



সহিদুল আলম স্বপন
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বৃষ্টি ঝড়া মিষ্টি চোখে ভালোবাসার

এক ঝিলিক রোদের
আকাশ হলে তুমি,
ইলোরার রংধনুরা পালিয়ে গেল
অমিষেয় ভীষন ল্জ্জায়,
এ বুঝি স্বপ্নের ভেলায় দিগন্ত পাড়ে
লাজুক প্রেমের লুকোচুরি লুকেচুরি খেলা।

আবিরের ঐ আলতা মেশানো গোধূলিরা
যেন মেঘ হতে চায়
নিজের রং বিকিয়ে;
আনমনে শুনি আমি সুখের
রিনিঝিনি তোমার চিরায়ত ভালোবাসার সপ্তসুরে।

ম্যাকব্যাথের উচ্চাভিলাষী সুখের কাছে
ট্রয়ের ধ্বংস বড়ই বেমানান,
যেখানে প্রেমের ফেরিওয়াল চিৎকার করে
প্রেম সওদা নিয়ে ঘুড়েনা
জীবনের বাঁকে বাঁকে
প্রেমের সিন্দাবাদ হয়ে তুমি সাঁতরে বেড়াও
আমার গহীন স্বপ্নাচড়ে।


--জেনেভা, সুইটজারল্যান্ড।

;

মনোহারী মধুকর



শরীফুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি তাঁকে আজও দেখিনি
অথচ আমি তাঁর প্রেমে পড়ে আছি
বোঝা গেল প্রেমে পড়ার জন্য
দেখাটা খুব জরুরি নয়
তবে অনিবার্য কিনা তা বলতে পারবনা
তবুও ক্রমশ নীল ডানা মেলে
বেগচ্যুত বাতাস মায়াবী রোদের পানে যায়
অতল পিয়াসি এই মন সমর্পণ করে নূহের প্লাবন
বিরামচিহ্নহীন ভাবে আমি তাঁর পানে চেয়ে থাকি
হৃদপিণ্ডে ক্রমশই বাড়ে হৈচৈ ,
আমি তাঁর জ্যোৎস্না লুটে নেই
হিমু সেজে আড়ালে দাঁড়াই
ঠিক তাঁর লাবণ্য রেখা বরাবর।

জানি তুমি দিগন্তের চাইতেও বহু দূরে
কখনো তাঁতের শাড়ি, গায়ে আলতা, হাতে রেশমি চুড়ি ,
প্রিয়ন্তি, ওটি আমার দেয়া নাম
তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল
তবুও মাঝেমধ্যে আমরা তর্কে জড়াতাম ,
তিনি ছিলেন সেক্যুলার
আর আমি?
সময়ের ক্রীতদাস
আজও রোদের হলুদ মেখে বসে থাকেন তিনি
সমান্তরাল শব্দ শুনবে বলে
আমি তাঁর নীল মুখ দেখে পরাজয় মেনে নেই
তাঁর বাদামি শরীরে তখনও জ্যোৎস্নার প্লাবন
অশান্ত বারিধারা মনোহারী মধুকর
অথচ অজস্র দ্বিধা আমারও আছে
আমরাও আছে আদর্শের খসড়া, বসন্তের নির্দয়,
আমি তাঁর লুকোনো হারেম আজও দেখিনি
তবুও অজানা মেলোডি বুকে নিয়ে
নির্বিকার স্বপ্ন দেখি
লোভীর মতই তাঁকে ভালবাসতে চাই।

;