প্রস্তাবিত বাজেট দুর্নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার বাজেট: ফখরুল

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটকে দুর্নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার বাজেট বলে মনে করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সাথে বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পথরেখা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, মহামারিকালে মানুষের জীবন-জীবিকার স্বাভাবিক গতি ফিরে পেতে ও বেঁচে থাকার নিশ্চয়তায় চলমান স্বাস্থ্য পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ইহা একটি অবাস্তবায়নযোগ্য কাল্পনিক ও কাগুজে বাজেট ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণকে কোভিডের মহাসংকট থেকে রক্ষার দিকনির্দেশনা নেই। এটি দুর্নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার বাজেট। জনগণের সমর্থনবিহীন সরকারের রাষ্ট্রের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাই এ বাজেটে জনস্বার্থের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এটি দুর্নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার বাজেট। 

জাতীয় সংসদে দেশের ৫০তম বাজেট উপস্থাপনের পরদিন শুক্রবার (৪ জুন) বাজেট প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল এ সব মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিপাদ্য শব্দমালার মাঝেই এবারের বাজেটের ভাওতাবাজি পরিস্কার। কারণ করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন গত ১৮ মাস যাবৎ অচল। এর মধ্যে অপরিকল্পিত লকডাউনের নামে শাটডাউন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষদের জীবন চূড়ান্ত রকমে থমকে গেছে। তাই সুস্পষ্টভাবে মানুষের জীবন-জীবিকার কথা মাথায় না রেখে কেবলমাত্র অর্থনীতির নানা তত্ত্ব ও বিশাল সংখ্যার আর্থিক উপস্থাপনার মাধ্যমে কার্যত জনগণের সাথে এক ধরনের ভাওতাবাজি করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা এই বাজেটেও স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অথচ এই মুহূর্তে মানুষের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

ফখরুল বলেন, সার্বিকভাবে বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পথরেখা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি। ঘোষিত বাজেটে অপচয়, অব্যবস্থাপনা বন্ধ করে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ হয়নি। বরং এই সরকারের সময় দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন এবং জবাবদিহির যে ঘাটতি রয়েছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে বাজেটে। এবারের বাজেট কেবল বার্ষিক হিসাব-কিতাবের বাজেট হওয়ার কথা নয়। বাজেট হওয়া উচিত ছিল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিমালার পথনির্দেশনা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বাজেট। ভবিষ্যতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মডেল কী হতে পারে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বাজেটের ফোকাস কী হবে, তার পথনির্দেশনার বাজেট। কিন্তু সরকার সেদিকে যায়নি। মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলে দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে। ‘স্বজন তোষণের’ ভিত্তিতে এ সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকা- চলছে। যার ফলে মাত্র ১ শতাংশ লোকের কাছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পদ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। এমনকি এই করোনাকালেও অপ্রদর্শিত আয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন হাজার হাজার লোক। ফলে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সম প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক যে বিকাশ, সে সুযোগ তারা বন্ধ করে দিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবারের এই বাজেটে জিডিপির মাত্র ১৭.৪৬ শতাংশ। ২০২১ অর্থবছরের জন্য মূল বাজেট ছিল পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির ১৭.৯০ শতাংশ। এ হিসাবে বাজেটের প্রকৃত আকার বৃদ্ধির পরিবর্তে সংকোচিত হয়েছে। কোভিডের অভিঘাত এখনো অনুভূত হচ্ছে। কত দিন তা থাকবে, নতুন নতুন ভেরিয়েন্ট আসবে, আমরা তা জানিনা। তাই পরিকল্পনা শুধু এক বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাই বাজেটে মধ্যমেয়াদি প্রক্ষেপণ থাকা উচিত ছিল। অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটের শিরোনাম করেছেন “জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ”। বাজেট নাকি দেয়া হয়েছে ‘মানুষের’ জন্য। শুনতে ভালো শোনায়। কিন্তু বাজেটে দিন আনে দিন খায় এমন গোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষায় নগদ অর্থ এর কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নেই। এ খাতে পুরাতন ত্রুটিপূর্ণ ব্যাংকনির্ভর ঋণের কথাই বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সম্প্রসারণের নামে যে সামান্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা নিতান্তই অপ্রতুল। মধ্যবিত্তদের সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি যা মধ্যবিত্তকে হতাশ করেছে। এক গবেষণায় উঠে এসেছে দেশে ২ কোটি ৪৫ লাখ নতুন গরিব সৃষ্টি হয়েছে। নতুন দরিদ্র, পুরাতন দরিদ্র আর ক্ষণস্থায়ী দরিদ্র নিয়ে এর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি। তাছাড়া রয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৮৬% শ্রমিক। এদের প্রত্যেককে নগদ আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। এ খাতে জিডিপি ৬ থেকে ৭ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বরাদ্দ এক লাখ সাত হাজার ৬১৪ কোটি টাকা। এখানে বলে রাখা ভালো সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন, সঞ্চয়পত্রের সুদ ও প্রাইমারি স্কুল শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকাও রয়েছে। এ কারণে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ বড় করে দেখানো হচ্ছে। এর মানে দাড়াচ্ছে করোনাকালেও সামাজিক সুরক্ষার নামে মানুষের সাথে ভাওতাবাজি করা হচ্ছে। এই খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য যে সহায়তা সরকার দিয়েছে তা ‘লোকদেখানো’। ৫-৬ কোটি মানুষের জন্য মাথাপিছু ১-২ শ’ টাকাও পড়বে না। অথচ আমরা বিএনপি থেকে বলেছি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা ক্যাশ ট্রান্সফার করার কথা। সব গণতান্ত্রিক দেশে তাই করছে। কারণ তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করে। এই সরকার তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় নাই। তাদের তো জনগণের কাছে জবাবদিহি করার তো কারণ নেই। সেজন্য দেশে সুশাসনের অভাব, জবাবদিহিতার অভাব। অপচয়, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের সম্পদের একটা বিশাল অংশ এরা (ক্ষমতাসীনরা) লুটপাট করে নিয়ে গেছে। করোনায় দেশের বেকার এবং আয় কমে যাওয়া মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া উচিত। গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান কর্মসূচির মতো কিছু উদ্যোগ নেওয়া দরকার। কারণ, শহরে কাজ হারিয়ে অনেকে গ্রামে চলে গেছেন। বাজেটে এদের বাঁচানোর জন্য কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজর মধ্যে কেবলমাত্র অর্থমন্ত্রণালয়ের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের পুরোটাই বাস্তবায়িত হয়েছে। অন্যখাতে ঘোষিত প্রণোদনা বিতরণ চিত্র তথৈবৈচৈ। অগ্রগতি মাত্র ৬০%।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এত কথা বলা হচ্ছে, অথচ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির সেই ১ শতাংশের মধ্যেই আছে। এই বরাদ্দ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের চাহিদা মিটবে না। অন্যদিকে বরাদ্দ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য খাত পিছিয়ে আছে। এবার ২০২১-২২ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মোট ২৫ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে দেখা গেলেও সংশোধিত বাজেটের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ১৮০ কোটি টাকা। কারণ গতবছর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৮৮৩ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত আকারে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ২৫ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকায়। এই বাস্তবতায় স্বাস্থ্য খাত বড় ধাক্কা সামলাতে পারবে না। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপি'র ৫% বরাদ্দ করতে হবে। করোনার টিকা প্রদানের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি।

তিনি বলেন, সরকার ২৫ লাখ মানুষকে মাসে টিকা দেয়ার কথা বলেছেন। সেটা কবে থেকে কার্যকর হবে, কিভাবে হবে, সে সম্পর্কে কিছু নিশ্চিত বলা হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা এই হিসেবে প্রতি বছর টিকা নিতে পারবে ৩ কোটি মানুষ। কাংখিত জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে লাগবে প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর। অথচ ভারতে প্রতিদিন ১ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। সেই পর্যায়ক্রমে কতদিনে শেষ হবে।

সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয় এসএমই খাতে। কিন্তু সরকারের প্রণোদনা পেলেন মূলত বড় শিল্পমালিকেরা। এসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এ ছাড়া প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে মূলত ব্যাংকের মাধ্যমে। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনেকেরই ব্যাংক হিসাব নেই। তাই এনজিওগুলোর মাধ্যমে তাঁদের ঋণ দেওয়া উচিত। এনজিওগুলোর নেটওয়ার্ক দেশব্যাপী। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগও ভালো। কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে এটা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এই ব্যাপারে বাজেটে কোন সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা নেই।

বড় আকারের বাজেট আর বড় অংকের প্রবৃদ্ধির আলোচনা বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি অর্থমন্ত্রী। ৭.২% প্রবৃদ্ধির বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উচ্চাভিলাষ বজায় রেখেছেন। এবার সবাই আশা করেছিল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে সাধারণ মানুষের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে দেয়ার দিকে বেশি নজর দিবে সরকার। অথচ সে জন্য কোন সুনির্দিষ্ট রোড-ম্যাপ দেয়নি অর্থমন্ত্রী। সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ খাত পেয়েছে সর্বশেষ অগ্রাধিকার। অনেকক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বদল হলেও বরাদ্দের ধরন সেই গতানুগতিকই রাখা হয়েছে। নতুন কোন প্রণোদনার কথা নেই। পুরাতন সেই ব্যাংকনির্ভর প্রণোদনা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে, তাতে কোন লাভ হয়নি, হবেও না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশের ওপরে ধরা হয়েছে, কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার, তা কীভাবে হবে বলা হয়নি। বিশেষ করে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ কয়েক বছর ধরে এক জায়গায় আটকে আছে। কোভিডের কারণে তা আরও কমে গেছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ না হলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে কীভাবে? শুধু সরকারি বিনিয়োগ দিয়ে হবে না। আবার গত এক বছরে অনেক সরকারি প্রকল্পে ধীরগতি দেখা গেছে। এই বাস্তবতার সঙ্গে প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ মেলে না। সরকারি ব্যয় আশানুরূপ হয়নি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রতিবছরই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়। এবার তা আরও কম হয়েছে। শিল্প উৎপাদনও কম। ছোট ছোট শিল্পের উৎপাদন কমেছে। অন্যদিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য খুব একটা সহায়ক হবে না। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কিসের ভিত্তিতে করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

বাজার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অনেক আগেই সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে। গত এপ্রিলে গড়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৫৬%। এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫.৩%। এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবভিত্তিক নয়। সরকারের প্রক্ষেপণ আর বাস্তবতার কোন মিল নেই।

তিনি বলেন, সরকার আইটি খাতকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বললেও কেবলমাত্র প্রযুক্তি শিক্ষা বেসরকারি কলেজের আয়ের ওপর ১৫% করারোপের প্রস্তাব করেছে। এটি স্ববিরোধীতা। প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ১৫% কর আরোপের প্রস্তাব করেছে। সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নের কথা বললেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানের ওপর ট্যাক্স আরোপ করে মূলত শিক্ষা সংকোচন নীতি গ্রহণ করল।

বাজেটে সরকার মৎস্য চাষ খাতে নতুন করে করারোপ করেছে। লাইভস্টক, পোল্ট্রি ও মৎস্য খাতকে উৎসাহিত করতে হবে। মৎস্য খাতের ওপর প্রস্তাবিত কর বাতিলের অনুরোধ জানাচ্ছি।

মাইক্রোবাস ও হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে শুল্কহার কমানো হয়েছে। এমনিতেই ট্রাফিক জ্যাম, তার ওপর আরো কমদামে গাড়ি আমদানি উৎসাহ করা হলো।

করজাল সম্প্রসারণে বাড়ির নকশা অনুমোদন ও সমবায় সমিতির নিবন্ধনে টিআইএন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এর মানে শহরে বা গ্রামে যেখানেই আপনি বাড়ি করতে যান না কেন আপনার টিআইএন নিতে হবে। এ ছাড়া বন্ধুবান্ধব বা সহকর্মীদের নিয়ে কোনো সমবায় সমিতি করলে সেটির নিবন্ধন নিতে হলেও টিআইএন গ্রহণ করতে হবে। এর ফলে বাড়ির মালিক ও সমবায় সমিতিগুলো করজালের আওতায় আসবে।

আসছে বাজেটে রাজস্বের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। যা কল্পনাপ্রসূত ও অবাস্তব। আয়ের উৎসের এই দুর্বলতা নিয়েই গতানুগতিকভাবে বড় করা হয়েছে বাজেট।

মোট বাজেটের ৩৫.৫৬%, অর্থাৎ এক তৃতীয়াংশের বেশিই হল ঘাটতি যা বৈদেশিক অথবা অভ্যন্তরীণ সোর্স থেকেই ঋণের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।

যে প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাঁদের জন্য বাজেটে কোনো পদক্ষেপ নেই। রপ্তানি খাতে ২ শতাংশ ভর্তুকির সুবিধা পাবে অর্থ পাচারকারীরা। বড় প্রকল্পে লুটপাটের সুযোগ বেশি, তাই সরকার গরিবদের প্রণোদনায় আগ্রহ দেখায় না। বাজেটে কোনো ভিশন নেই এবং করোনাকালে এ বিপদের সময় অর্থমন্ত্রী কোনো ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাজেট প্রণয়নে করোনা ভাইরাসের প্রকোপের অনিশ্চয়তাকে আমলে নেওয়া হয়নি। স্বল্পমেয়াদি নীতিমালাই গ্রহণ করা হয়েছে। অনুমান করা হয়নি বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অর্থনীতিতে আরও বেশি সংকোচন ঘটতে পারে। বিদ্যমান মৌলিক কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কর্মসূচি নেওয়া হলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঢেউয়ের তীব্রতা থেকে রেহাই পাওয়া যেত। বিশ্ব যখন সম্প্রসারণশীল নীতির দিকে ঝুঁকছে, বাংলাদেশে তখন রাজস্ব ব্যয় আরও সংকুচিত হয়েছে। 

তাই বিএনপি মনে করে এই বাজেটে মহামারিকালে মানুষের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক গতি ফিরে পেতে ও বেঁচে থাকার নিশ্চয়তায় চলমান স্বাস্থ্য পরিকল্পনার গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডে চলছে ঈদ ব্যাক -ক্যাশ ব্যাক অফার



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডে চলছে ঈদ ব্যাক -ক্যাশ ব্যাক অফার

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডে চলছে ঈদ ব্যাক -ক্যাশ ব্যাক অফার

  • Font increase
  • Font Decrease

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মানেই ভিন্নতা, একটু ভিন্ন আয়োজন বাড়তি কিছু পাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদে বিশ্ব সেরা ডিজাইন ও গুনগত মান এর পাশাপাশি প্রতিটি কেনাকাটায় স্ক্রাচ কার্ড এর মাধ্যমে ডায়মন্ড, গোল্ড ও প্লাটিনাম এর সকল জুয়েলারীতে নিশ্চিত  ইন্সট্যান্ট  ( সাথে সাথে ) ক্যাশ ব্যাক। প্রতিটি কেনা কাটায় নিশ্চিত উপহার। এছাড়াও প্রথম ১০ জন ক্রেতার জন্য থাকছে স্পেশাল গিফট।

সকল ডায়মন্ড জুয়েলারী উপর ২৫% ডিসকাউন্ট সহ ইএমআই (কিস্তি) সুবিধা। সবচেয়ে বড় আকর্ষন  ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এর প্রতিটি শোরুমেই প্রথম দশজন কাস্টমার পাবেন ফ্রি স্পেশাল গিফট। ক্রেতারা সুযোগটি গ্রহণ করতে পারবে সারা দেশের ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এর সকল শোরুম থেকে শুধুমাত্র চাঁদরাত পর্যন্ত।

অন্যদিকে অনলাইন অর্ডারে রয়েছে সকল ডায়মন্ড জুয়েলারীতে ২৫% ডিসকাউন্টের সাথে অতিরিক্ত আরো ৫% ডিসকাউন্ট, ফ্রি হোম ডেলিভারি সহ ইএমআই (কিস্তি) সুবিধা এবং স্পেশাল স্ক্রিমের জুয়েলারী। অফারটি চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত শুধুমাত্র অনলাইনে।

আর শোরুম এর মতে অনলাইইের প্রতিটি কেনাকাটায় থাকছে নিশ্চিত আকর্ষনীয় উপহার সাথে ফ্রি হোম ডেলিভারী। বিস্তারিত জানতে (২৪/৭) কল করা যাবে ০১৭১৩-১৯৯২৭০ নম্বরে এবং ভিজিট করা যাবে  www.diamondworldltd.com/EID-Scheme লিংকে।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

কর্ণফুলীতে ওয়ালটনের এক্সক্লুসিভ শোরুম উদ্বোধন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর কলেজ বাজারে ওয়ালটনের এক্সক্লুসিভ শোরুম ‘হক ইলেকট্রনিক্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর কলেজ বাজারে ওয়ালটনের এক্সক্লুসিভ শোরুম ‘হক ইলেকট্রনিক্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা।

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটনের এক্সক্লুসিভ পরিবেশক শোরুম ‘মেসার্স হক ইলেকট্রনিক্স’। উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের কলেজ বাজারের হাজী ফারুক টাওয়ারে চালু হওয়া শোরুমটিতে পাওয়া যাচ্ছে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল ডিভাইস, হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সসহ সব ধরনের পণ্য। উদ্বোধন ও ঈদ উপলক্ষ্যে এই শোরুমের সব ধরনের ওয়ালটন পণ্যে ফ্ল্যাট ১০ শতাংশ মূল্যছাড় দেয়া হচ্ছে।

শনিবার (২ জুলাই, ২০২২) ফিতা কেটে ‘মেসার্স হক ইলেকট্রনিক্স’ শোরুমের উদ্বোধন করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এমদাদুল হক সরকার, ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর চিত্রনায়ক আমিন খান এবং শিকলবাহা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর আলম।

সে সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী থানার সহকারি পুলিশ পরিদর্শক স্বপন কুমার দাস, ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের প্রধান মনিরুল হক মনা এবং হক ইলেকট্রনিক্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সহ-স্বত্ত্বাধিকারী ইকরামুল হক পাটোয়ারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমদাদুল হক সরকার বলেন, সারা দেশে ওয়ালটনের ২০ হাজারেরও বেশি সেলস আউটলেট রয়েছে। ক্রেতারা বাংলাদেশে তৈরি ওয়ালটন পণ্য সাদরে গ্রহণ করেছেন বলেই আজ এর জনপ্রিয়তা দেশ ছাড়িয়ে বর্হিবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপশি ৪৬টিরও বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে ওয়ালটন। নতুন এই শোরুমের মাধ্যমে কর্ণফুলী এলাকায় ওয়ালটনের ব্যবসায়িক পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে এখন ওয়ালটন পণ্য। মানুষের হাতের নাগালে ওয়ালটনের মতো বাংলাদেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের পণ্য পাওয়া এলাকাবাসীর জন্য সৌভাগ্যের। এই এলাকায় সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ রয়েছে। এটা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।

হক শোরুমের ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) নাঈমুল আজম আল বাকী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকটিক্যাল পণ্যের শোরুম কর্ণফুলী এলাকার মানুষের দরকার ছিলো। ওয়ালটন সেই চাহিদা পূরণ করলো। উদ্বোধন ও ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে শোরুম থেকে ক্রেতাদের জন্য সব ধরনের পণ্য কেনায় ফ্ল্যাট ১০ শতাংশ ছাড় দেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও ওই শোরুম থেকে ক্রেতাদের জন্য আকর্র্ষণীয় বিভিন্ন সুবিধা দেয়া অব্যাহত থাকবে।

 

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সাঈদা খানম



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সাঈদা খানম

পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সাঈদা খানম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স এন্ড পাবলিকেশন্স এর অতিরিক্ত পরিচালক সাঈদা খানম গত ৩ জুলাই পরিচালক (এক্স ক্যাডার-প্রকাশনা) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

তিনি ২০০০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও পরবর্তীতে তিনি এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

খানম ১৯৯৬ সালে প্রথমে একটি উন্নয়ন সংস্থায় হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ট্রেইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় চাকরিতে যোগদানের মাধ্যমে ব্যাংকিং পেশায় প্রবেশ করেন।

জনসংযোগ কার্যক্রমকে পেশা হিসেবে নেওয়ার আগ্রহ থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগে যোগদান করেন এবং যোগদানের পর থেকে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন।

সাঈদা খানমের পৈতিৃক নিবাস বরিশাল হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরে। জনাব খানম দেশে-বিদেশে অনেক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। তিনি মালয়শিয়াতে Alliance for Financial Inclusion আয়োজিত নারী ও জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালায় এবং সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও পরিবর্তন বিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

 ভবিষ্যতে নারীর ক্ষমতায়নে তথ্য যোগাযোগের ভূমিকা নিয়ে তিনি কাজ করার আশা রাখেন। সাহিত্যানুরাগী, সংস্কৃতিমনা ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবে খানম অফিস ও সুধী মহলে সমাদৃত। খানমের স্বামী একজন প্রকৌশলী। তিনি ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত, তাঁদের দুই পুত্র ইংরেজি মাধ্যমে অধ্যয়নরত।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

সিটি ব্যাংক ও ইফাদ গ্রুপের মধ্যে চুক্তি



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সিটি ব্যাংক ও ইফাদ গ্রুপের মধ্যে চুক্তি

সিটি ব্যাংক ও ইফাদ গ্রুপের মধ্যে চুক্তি

  • Font increase
  • Font Decrease

এমপ্লয়ি ব্যাংকিং সুবিধার পরিধি সুবিস্তৃত করতে সম্প্রতি সিটি ব্যাংক ও ইফাদ গ্রুপের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তেজগাঁওয়ের ইফাদ টাওয়ারে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই চুক্তির আওতায় ইফাদ গ্রুপের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ সিটিজেম প্রায়োরিটি ব্যাংকিংয়ের সুবিধাগুলোও পাবেন।

সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মারুফ ও ইফাদ গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিন আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় সিটি ব্যাংকের হেড অব রিটেল ব্যাংকিং অরূপ হায়দার, হেড অব কমার্শিয়াল ব্যাংকিং মোহাম্মদ মাহমুদ গণি, হেড অব সিটিজেম ফারিয়া হক, হেড অব এমপ্লয়ি ব্যাংকিং হাসান উদ্দিন আহমেদসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;