করোনা মহামারির মধ্যে আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস

  করোনা ভাইরাস



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
করোনা মহামারিতে আক্রান্ত বিশ্বে আজ স্বাস্থ্য দিবস, ছবি: সংগৃহীত

করোনা মহামারিতে আক্রান্ত বিশ্বে আজ স্বাস্থ্য দিবস, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

৭০ বছরের ইতিহাসে এমন অভাবনীয় ঘটনা ঘটেনি। সারা বিশ্বের এমন প্রবলতর রোগাক্রান্ত পরিস্থিতিতে আর কখনো আসেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এবার ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো এমন হলো। পুরো পৃথিবীব্যাপী করোনাভাইরাসের আতঙ্কজনক মহামারির মধ্যে এসেছে ৭ এপ্রিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস।

২০২০ সালে ঠিক এই দিনটিতে বা বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সমগ্র বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১,২৮৯,৩৮০ জন আর মৃত্যের সংখ্যা ৭০,৪৮২ জন। বিশ্বের প্রায়-সকল দেশেই কমবেশি আকারে হলেও করোনার অস্তিত্ব ও তাণ্ডব বিরাজমান।

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বা পাবলিক হেলথ বিভাগ প্রদত্ত এই তথ্য-পরিসংখ্যানের আশাবাদী দিক হলো, ২৭০,২৪৯ জন মানুষ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়েও সুস্থ হয়েছেন। যে চীনে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, সেখানে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। চীন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছে।

একই আশাবাদ শোনা যাচ্ছে, করোনায় আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শীর্ষ পাঁচটি দেশের অন্যতম ইতালি, স্পেন ও জার্মানি থেকেও। সেখানে করোনায় মৃত্যুর হার কমেছে। আক্রান্ত মানুষের সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার হার বেড়েছে এবং কার্যকরী প্রতিষেধক ঔষধ আবিস্কৃত না হওয়ার পরেও সামাজিক দূরত্ব ও সঙ্গরোধের মাধ্যমে রোগটির কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণের ধারা ঠেকানোর সক্ষমতা দেখা গেছে।

করোনার কারণে এমনই ঘোরতর স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের পৃথিবীতে চলছে ঘরবন্দী মানুষের সঙ্গরোধের প্রহর। সঙ্কুল পৃথিবী এখন আতঙ্ক ও ভীতিতে নিঃস্তব্ধতার মৃত্যুপুরী। জীবন্ত নগর, জনপদগুলো মৃত্যুর হাতছানিতে জনমানবহীন ভূতুরে।

এমনই চ্যালেঞ্জিং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আশাবাদের প্রত্যয় জাগিয়েছে, যেমন প্রত্যয় ও প্রতীতি জাগ্রত হয় প্রতি বছরেই, দিবসটির মূল প্রতিপাদ্যে। চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূলকথা হলো 'সাপোর্ট নার্সেস অ্যান্ড মিডওয়াইফস'। করোনার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে যে সেবিকা ও ধাত্রীগণ লড়ছেন, তাদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করা হলো এই ঘোষণার মাধ্যমে।

স্মরণ করা যেতে পারে যে, করোনার আক্রমণের প্রাথমিক আঘাত সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বহু স্বাস্থ্য পেশাজীবি। যে উহান থেকে করোনার উৎপত্তি, সেখানে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্তকারী চিকিৎসকের মতো করোনায় শত শত ডাক্তার, নার্স, হেলথ টেকনিশিয়ান প্রাণ হারান। যদিও করোনার কবল থেকে প্রাণে বাঁচার জন্য চাকরি ছেড়ে কর্মস্থল ফেলে ভয়ে পালিয়েও যান হাজার হাজার স্বার্থপর ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী।

পৃথিবী পলাতকদের নয়, সাহসী ও বীরদের মনে রাখে, এই চিরাচরিত সত্যের আলোকে করোনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে এ বছরের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে স্বাস্থ্যসেবায় সামনের কাতারে থেকে সাহসের সঙ্গে যুদ্ধরত স্বাস্থ্য-সৈনিকদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বনেতাদেরও নতুন করে চিন্তাভাবনার মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও (হু), যারা বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের উদ্যোক্তা, তারা এ বছরের মূল প্রতিপাদ্যের সমর্থনে নিজস্ব ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, সমন্বিত ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেবিকা ও ধাত্রীদের প্রতি আরও সাহায্য বাড়াতে হবে। তাদের প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতায়ন করতে হবে।

কারণ, মহামারী, ছোঁয়াচে রোগ, আপদ ইত্যাদি প্রতিরোধ, নারীস্বাস্থ্য নিশ্চিত এবং ব্যক্তি ও সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুরক্ষা দিতে সরাসরি সেবা ও প্রণোদনা জাগান এরাই। করোনার বিরুদ্ধেও চিকিৎসা আর সেবা নিয়ে সামনে কাতরে থেকে লড়ছেন তারা। এ বছর আন্তর্জাতিক সেবিকা ও ধাত্রী বছরের কথা মনে রেখে ২০২০ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল ফোকাসে আনা হয়েছে তাদেরকে।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চরম রক্তক্ষয়ী ও প্রাণঘাতী অভিজ্ঞতার ফলে বিশ্বের প্রায়-সকল রাষ্ট্রই একমত হয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে আন্তর্জাতিক সংগঠন জাতিসংঘ গঠন করে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পরের বছর ১৯৪৬ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রূপরেখা তৈরির জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিশন গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন এই কমিশনের মতামতের আলোকে ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল গঠন করা হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিশ্বের মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং জীবন রক্ষার শপথে পরিচালিত হতে থাকে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রথম সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠার দুই মাসের মাথায়, ১৯৪৮ সালের ২৪ জুন। নির্ধারিত দিনে জেনেভায় সংস্থাটির প্রথম সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৪৬টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। প্রতিনিধিদের আলোচনার ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের কথাটি উঠে আসে এবং সেই সম্মেলন থেকেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ১৯৫০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হবে। ৭ এপ্রিল তারিখটি বেছে নেওয়ার কারণ হলো, দিনটি সংস্থার জন্মদিনও।

প্রতিবছর স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে সংস্থাটি এমন একটি স্বাস্থ্য ইস্যু বেছে নেয়, যা বিশেষ করে সারা পৃথিবীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারিত হয়। ১৯৫০ সালের প্রথম স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নো ইওর হেলথ সার্ভিসেস’ অর্থাৎ ‘নিজের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন হোন’। এভাবে বছরের পর বছর ধরে ৭ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের।

১৯৫০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সারা বিশ্বের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তা নিয়ে প্রতিবছর পালিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রসঙ্গে উচ্চারিত হয় জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নামটিও। উচ্চারিত হয় বিশ্বের জন্য একটি প্রয়োজনীয় প্রতিপাদ্য, যা বিশ্ববাসীর সমকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথকে সুগম করে।

  করোনা ভাইরাস

হার্ট অ্যাটাকের কারণ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয়



ডা. ইসমাইল আজহারি
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বে প্রতি বছর ৩৮ লাখ পুরুষ এবং ৩৪ লাখ মহিলা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তার মধ্যে প্রতি ৪ জনের একজনের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে করোনারি হার্ট ডিজিজ বা ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ যা মূলত এথোরোসক্লেরোসিস এর ফলাফল।

এথোরোসক্লেরোসিস কি?

Athero+Sclerosis থেকে এথোরোসক্লেরোসিস শব্দটা এসেছে। এথোরো মূলত Atheroma থেকে এসেছে। আর্টারি বা ধমনির ওয়ালে ফ্যাটি ম্যাটেরিয়াল বা চর্বি জাতীয় বস্তু কিংবা স্কার টিস্যু জমা হয়ে যখন ধমনীর ওয়াল সমূহ মোটা হয়ে যায়, ফলশ্রুতিতে ধমনীর লুমেন সরু হয়ে যায় এবং রক্তপ্রবাহ কমে হয়ে যায় সেই সাথে আর্টারি সমূহ শক্ত হয়ে যায় তখন এই অবস্থাকে এথোরোসক্লেরোসিস বলা হয়। সহজ কথায়, যদি কোনো ফ্যাটি প্ল্যাকের কারণে রক্তনালী দিয়ে রক্ত চলাচল সীমিত হয়ে যায় তখন এই অবস্থাকে এথোরোসক্লেরোসিস বলে।

এথোরোসক্লেরোসিস বলতে মূলত হার্টের ধমনী সমূহে তথা করোনারি আর্টারি সমূহের মধ্যে ডিজেনারেটিভ চেঞ্জকে বুঝানো হয়ে থাকে। তবে এথোরোসক্লেরোসিস শরীরের যে কোনো রক্তনালিতে হতে পারে। হাতে পায়ে হলে তখন সেটাকে পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ বলা হয়। শরীরে যদি অতিরিক্ত LDL ক্লোরেস্টেরল থাকে তখন সেটা রক্তনালীতে জমা হয়ে এথোরোসক্লেরোসিস তৈরি করে।

করোনারি আর্টারিতে এথোরোসক্লেরোসিস হলে সেখানে রক্ত প্রবাহ কমে যায় কিংবা রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয় আর যেখানেই রক্ত প্রবাহ কমে যায় বা রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় সেখানে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। কারণ রক্তের হিমোগ্লোবিন এর সাথে মিশেই অক্সিজেন সারা দেহে সঞ্চালিত হয়। শরীরের কোনো টিস্যুতে চাহিদার তুলনায় অক্সিজেন সরবরাহ কমে গেলে তাকে ইসকেমিয়া বলে। আর হার্টের মধ্যে যদি অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় তাহলে এই অবস্থাকে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বলে।

হার্ট অ্যাটাক:

হার্টের মাংশপেশী সমূহ সচল থাকার জন্য হার্টের মধ্যে রক্ত সরবরাহ হয় দুইটা রক্ত নালীর মাধ্যমে যাকে রাইট এন্ড লেফট করোনারি আর্টারি বলে। এই করোনারি আর্টারি সমূহে ফ্যাট কিংবা চর্বি জমে যদি রক্ত সঞ্চালনে বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে এই অবস্থাকে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বলে এই অবস্থাকে আবার হার্ট ব্লক ও বলা হয় আর ফ্যাট জমে আর্টারি মোটা আর শক্ত হয়ে যাওয়াকে এথোরোসক্লেরোসিস বলে। এথোরোসক্লেরোসিস হলে যে কোনো মুহুর্তে রক্তনালি ছিড়ে রক্ত জমাট বেধে যেতে পারে। রক্তনালীর ভিতর যদি রক্ত জমাট বাধে তাহলে সেখানে রক্ত চলাচল করতে পারবে না, হার্টের রক্তনালীতে যদি রক্ত চলাচল করতে না পারে তাহলে হার্টের মাংসপেশি সমূহ অক্সিজেন পাবেনা, অক্সিজেন না পেলে হার্টের টিস্যু সমূহ ড্যামেজ হতে থাকবে এবং এইভাবে হার্টের রক্তনালীতে রক্তজমাট বাধার কারণে কিংবা শরীরের অন্য কোনো ধমনীতে রক্ত জমাট বেধে তা থ্রম্বোসিস হয়ে তথা রক্তনালী দিয়ে পরিবাহিত হয়ে যদি করোনারি আর্টারি সমূহকে কিংবা হার্টের ধমনী সমূহকে ব্লক করে দেয় এবং হার্টের পেশীসমূহে যদি পরিমিত অক্সিজেন দিতে না পারে তখন  অক্সিজেনের অভাবে হার্টের টিস্যু সমূহ ড্যামেজ হয়ে যাবে যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাক বলা হয়।

এই সময় খুব দ্রুত রক্ত সরবরাহ চালু করতে না পারলে মৃত্যু হতে পারে। এই সময় রোগীর প্রচন্ড বুকে ব্যাথা হবে, সাথে শ্বাসকষ্ট হবে, শরীর ঘামিয়ে যাবে, ব্যাথা ঘাড়, হাত, পিঠে বা থুতনিতে যেতে পারে।

ইশকেমিক হার্ট ডিজিজের উপসর্গ:

ব্লাড প্রেশার চেক করা না হলে অধিকাংশ রোগী উপসর্গহীন থাকে এবং এক সময় তারা হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু বরণ করে। আর কারো কারো ক্ষেত্রে নিম্নের কিছু উপসর্গ দেখা দেয়:

১। চলতে ফিরতে বুকে ব্যাথা হয়

২। শ্বাসকষ্ট হয়

৩।খাবার পরে বুকে ব্যাথা হয়,

৪।একটু টেনশন করলে বুকে ব্যাথা হয়,

৫। মাথা ঘোরানো এবং মাথা ব্যাথা

৬।ঘাড় কিংবা বাহুতে ব্যাথা

৭। বমি বা বমির ভাব

ইসকেমিক হার্ট ডিজিজের কারণ:

১।উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন

২। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যথা গরুর গোশত, ডিম বা ট্রান্স ফ্যাট জাতীয় খাবার ইত্যাদি

৩। সিগারেট স্মোকিং বা জর্দা ইত্যাদি

৪।অবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন

৫। এলকোহল, কোমল পানীয়

৬।পর্যাপ্ত ব্যায়াম না করা

৭। শারিরীক পরিশ্রম না করা

৮। সবসময় শুয়ে থাকা ইত্যাদি।

ইসকেমিক হার্ট ডিজিজের কারণে জটিলতা:

১। হার্ট অ্যাটাক হতে পারে

২। ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে

প্রতিকার:

১। ধূমপান ত্যাগ করতে হবে

২। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

৩। ওজন স্বাভাবিক বিএমআই অনুযায়ী রাখা জরুরি। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৪। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে এবং লবণ কম খেতে হবে।

৫। নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত

৬। স্বাভাবিক শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত।

চিকিৎসা:

১। লাইফস্ট্যাইল মোডিফাই করতে হবে এবং অতিরিক্ত ওজন কমার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

২। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সে জন্য নিয়মিত রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত খেয়ে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মেডিসিন বাদ দেয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে খুব খেয়াল রাখতে হবে। কোন মেডিসিন যেন খেতে ভুলে না যায়। এছাড়া যে কোন জটিলতায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বুকে ব্যাথা হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ডা. ইসমাইল আজহারি, চিকিৎসক, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরিচালক, সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স এন্ড রিসার্চ। [email protected]

  করোনা ভাইরাস

;

করোনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মৃত্যু: পরিবেশ মন্ত্রীর শোক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বার্তা ২৪.কম

বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প‌রি‌বেশ অ‌ধিদপ্ত‌রের মহাপ‌রিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. এ কে এম র‌ফিক আহাম্মদ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (১০ এপ্রিল) ভোর ৪:১৪ মি‌নি‌টে ই‌ন্তেকাল ক‌রে‌ছেন (ইন্না লিল্লা‌হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা‌জিউন)।

এর আগে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১০ম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১ সালে সরকারি চাকুরিতে যোগদানকারী রফিক আহাম্মদ ২৩ মার্চ থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

প‌রি‌বেশ অ‌ধিদপ্ত‌রের মহাপ‌রিচালকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি এবং সকল স্তরের কর্মকর্তা,কর্মচারীবৃন্দ গভীরভাবে মর্মাহত এবং শােকাভিভূত।

আজ এক শোকবার্তায় পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, তার মতো একজন সদালাপী, ধার্মিক, সৎ, দক্ষ এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কর্মকর্তা বিরল। কর্মজীবনে তিনি দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মােকাবিলায় দেশী এবং বিদেশী অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

পৃথক এক শোকবার্তায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার জানান তাঁর মতো অমায়িক ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তার মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা,কর্মচারি তাঁর শােক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছে এবং পরম করুনাময়ের কাছে তাঁর মাগফিরাত ও বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছে। পরম করুনাময় মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসিব করুন।

উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসাবে ২০১৯ সালের ২২ মে যোগদানের পূর্বে তিনি দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন। ইতঃপূর্বে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র রেখে গেছেন।

 

  করোনা ভাইরাস

;

সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো.মতিউর রহমান করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও করোনা ফোকাল পারসন ডা. নির্ণয় পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।  

তিনি আরো জানান,  গতকাল (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে ডা. মো.মতিউর রহমানের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আব্দুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজের করোন ট্রেস্ট ল্যাবে পাঠানো হয়। এরপর শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ওনার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়াও সেনবাগ উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত হয়। করোনা সংকট শুরু থেকেই তিনি সেনবাগ উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কাজের কারণে তিনি সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছেন।

অপরদিকে, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় নোয়াখালীতে নতুন করে ৯২জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

  করোনা ভাইরাস

;

করোনা প্রতিরোধে গৌরীপুর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পেইন



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
বার্তা ২৪.কম

বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

“মাস্ক পড়ার অভ্যেস, করোনামুক্ত বাংলাদেশ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ ক্যাম্পেইন করেছে স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্যরা।

শুক্রবার(৯ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরে হারুনপার্ক এলাকায় এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ।

পরে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্যরা করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রচারণা চালান। এসময় পথচারী, যানবাহন চালক, শ্রমজীবী মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়।

ক্যাম্পেইনে অংশ নেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ আব্দুর রহিম , সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ নাজিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান, ইকবাল হাসান, নুরুল আমিন, আব্দুল কদ্দুছ, সাংবাদিক ম. নুরুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, পৌর শাখার সভাপতি মশিউর রহমান কাউসার প্রমুখ।

  করোনা ভাইরাস

;