টিকেট কেটেও ওমরায় যাওয়া হচ্ছে না ৫ হাজার যাত্রীর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
টিকেট কেটেও ওমরায় যেতে পারেননি তাদের মতো পাঁচ হাজার যাত্রী, ছবি: বার্তা২৪.কম

টিকেট কেটেও ওমরায় যেতে পারেননি তাদের মতো পাঁচ হাজার যাত্রী, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সৌদি আরব সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বাংলাদেশের পাঁচ হাজার যাত্রী টিকেট কেটেও এবার ওমরা হজে যেতে পারছেন না।

সৌদির আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এ ঘোষণা দেয়। এ নিষেধাজ্ঞাকে তারা সাময়িক বললেও কবে নাগাদ তা প্রত্যাহার করা হবে তা স্পষ্ট করেনি। এছাড়া আগামী হজ পালনে কোনো সমস্যা হবে কিনা তাও জানানো হয়নি।

সৌদি সরকারের এ আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার ফলে বৃহস্পতিবার কয়েকশ’ ওমরা যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। বিমানবন্দরে আসার পর তারা জানতে পারেন, তাদের ভিসা থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবে যেতে দেওয়া হবে না। এর ফলে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে এসেও শেষ পর্যন্ত ওমরা ভিসাধারী ব্যক্তিরা কয়েক ঘণ্টা দুর্ভোগের পর দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

 ওমরায় যেতে পারেননি এ দু’জনের মতো পাঁচ হাজার যাত্রী, ছবি: বার্তা২৪.কম

এ বিষয়ে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি শাহাদাত হোসাইন তসলিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা হঠাৎ করেই সৌদি সরকারের এ সিদ্ধান্ত জানতে পারি। জানার পর বিষয়টি নিয়ে দূতাবাসেও যোগাযোগ করি। সেখান থেকে জানানো হয়, ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরাও আর আজ থেকে সৌদি আরবে যেতে পারবেন না।

তিনি বলেন, সৌদি সরকার নতুন করে কাউকে ওমরা ভিসা দেবে না। এমনকি এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যে ১০ হাজার মানুষ ভিসা পেয়েছেন, তাদেরও আর যাওয়া হবে না। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ টিকেট কেটে ফেলেছেন, যার দুই হাজার টিকেট কাটা আছে বাজেট এয়ারলাইন্সে, যা নন-রিফান্ডেবল। এসব টিকেটের মূল্য নয় কোটি টাকা। তাছাড়া নিয়মিত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের তিন হাজার টিকেটের কি হবে না নিয়েও শংকা আছে। হোটেল ভাড়াও আর ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে ওমরা ভিসাধারী যারা এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন, তাদের টাকা যতটুকু সম্ভব ফিরিয়ে দেওয়া।

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যারা বিমানের টিকেট কেটেছেন, চাইলে রিফান্ড নিতে পারবেন। অথবা নিষেধাজ্ঞা
প্রত্যাহারের পর সিট খালি থাকলে সেসব ফ্লাইটে আবার তাদের জন্য আসন বরাদ্দ করা হবে।

উল্লেখ্য, ওয়ার্ক পারমিট/এমপ্লয়মেন্ট ভিসাধারীরা নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি আরব যেতে পারবেন। এরই মধ্যে যেসব যাত্রী ওমরা ও ভ্রমণ ভিসায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে করে গিয়ে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন, তারা নিয়মিত ফ্লাইটে দেশে ফিরে আসতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন :