প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে রাখুন এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
অলিভ অয়েল, ছবি: সংগৃহীত

অলিভ অয়েল, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

খাদ্যাভ্যাসে তেলের ব্যবহার যথাসম্ভব সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় সবসময়।

সয়াবিন বা ভেজিটেবল অয়েল- যেটাই হোক না কেন, স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় প্রতিদিন খাওয়া হলে। সেদিক থেকে অলিভ অয়েল একেবারেই ব্যতিক্রম। গবেষকেরা বরং পরামর্শ দিচ্ছেন প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে অন্তত এক টেবিল চামচ পরিমাণ অলিভ অয়েল রাখার জন্য।

ফেনল, স্টেরলস, ফ্যাটি অ্যাসিড, লাইনোলিক অ্যাসিড, প্যালমিটিক অ্যাসিড, অলেয়িক অ্যাসিড, ভিটামিন, মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লক্ষণীয় মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিভিন্নভাবে তার উপকারিতা প্রকাশ করে সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমে। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে অন্তত এক টেবিল চামচ পরিমাণ অলিভ অয়েল রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে সকল কারণে, তা এখানে তুলে আনা হল।

পেটের সমস্যা

অলিভ অয়েক প্যানক্রিয়াটিক লাইপেজ নামক এনজাইমের নিঃসরণ বৃদ্ধি করে খাদ্য পরিপাকজনিত সমস্যার হার কমিয়ে আনে। যাদের ঘনঘন বদহজম, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য ও গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়, খাদ্যাভ্যাসে অলিভ অয়েল রাখলে উপকার পাবেন।

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে

প্রাকৃতিক এই তেলে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণের মাঝে রেখে হৃদরোগের সম্ভাবনাকে কমিয়ে ফেলে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে- যারা ভেজিটেবল অয়েল গ্রহণ করেন তাদের চেয়ে, দৈনিক অলিভ অয়েল গ্রহণে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোলেস্টেরল অ্যাবনরমালিটি অনেকাংশে কমে গেছে।

অলিভ অয়েল

আর্থ্রাইটিস ও প্রদাহের সমস্যা কমায়

বয়স্ক যাদের আর্থ্রাইটিসের সমস্যা রয়েছে তাদের খাদ্যাভ্যাসে এমন খাদ্য উপাদান রাখা প্রয়োজন, যা প্রদাহ কমাতে কাজ করবে প্রাকৃতিকভাবে। এর মাঝে বহু গুণের অলিভ অয়েল রয়েছে। অলিভ অয়েলের অলিক অ্যাসিড (Oleic Acid) ও Oleocanthal নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ ও ব্যথাকে কমায়।

সুস্থ রাখবে হৃদযন্ত্র

হার্টবান্ধব তেলের মাঝে অলিভ অয়েল অন্যতম। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে অন্তত ২ চা চামচ পরিমাণ অলিভ অয়েল গ্রহণই সুস্থ রাখতে পারে হৃদযন্ত্রকে। কারণ অলিভ অয়েল কোলেস্টেরলের মাত্রাকে ব্যালেন্স রাখতে কাজ করে।

অলিভ অয়েল

প্রতিরোধ করে ক্যানসার

যেখানে অন্যান্য তেল গ্রহণে অসুস্থতার সমস্যা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়, অলিভ অয়েল সেখানে প্রতিরোধ করবে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধীকে। মূলত এই তেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফেনল ও ভিটামিন-ই শরীরে ক্যানসার কোষ তৈরি ও বৃদ্ধিতে বাধাদান করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

ওজন কমানোর জন্য অলিভ অয়েলে রয়েছে ভালো মানের কার্যকর অক্সিডেশন। ফ্যাট বার্ন করাকে ত্বরান্বিত করতে যা অবদান রাখে বলে জানাচ্ছে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা। একটি পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে, অয়েল অয়েল সমৃদ্ধ খাবার রক্তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে ওজন হ্রাস পায়। এর জন্য প্রতিদিন সকালে নাশতার সাথে এক টেবিল চামচ পরিমাণ অলিভ অয়েল গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: সকল অলিভ অয়েলই কি এক?

আপনার মতামত লিখুন :