কেমিক্যাল থাকা ৪ কন্টেইনার শনাক্ত: সেনাবাহিনী

  সীতাকুণ্ডে ডিপোতে আগুন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বিএম কন্টেইনার ডিপোতে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় কেমিক্যাল থাকা আরও চারটি কন্টেইনার শনাক্ত করেছে সেনাবাহিনী।

সোমবার (০৬ জুন) দুপুরে বিএম ডিপোর গেটে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ১৮ ব্রিগেডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম হিমেল।

তিনি বলেন, ডিপোতে থাকা ৪টি কন্টেইনারে কেমিক্যাল পদার্থ থাকার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এই কন্টেইনারগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে অপসারণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে, শনিবার (০৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর কেমিক্যাল কন্টেইনারে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে বহু দূর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জন হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে মৃতের সংখ্যা ৪৬ জন। দগ্ধ ও আহত ১৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতেই শনাক্ত হওয়া নিহতদের পরিবারে জেলা প্রশাসনের সহায়তার টাকা হস্তান্তর হয়েছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াস হোসেন চৌধুরী জানান, নিহতদের মধ্যে ডিপোর শ্রমিকদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ৯ সদস্যও রয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট কাজ করছে। ১২টি বিশেষ গাড়ির সাহায্যে জ্বলন্ত কনটেইনারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন পানি ছিটানোর কাজ চলছে। কোনো গাড়ির পানি শেষ হলে সেখানে নতুন গাড়ি পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। আর আগুন নেভানোর পুরো কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার

  সীতাকুণ্ডে ডিপোতে আগুন

হেম আশ্রমে লালন সঙ্গীত শুনলেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
হেম আশ্রমে লালন সঙ্গীত শুনলেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত

হেম আশ্রমে লালন সঙ্গীত শুনলেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর হেম আশ্রম পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সসিলেন মিস্টার মুস্তফা উসমান তুরান। এসময় তিনি লালন সঙ্গীত শুনেন।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রাগপুর হেম আশ্রমে আসলে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। প্রবীণ বাউল ফকির নহির শাহ এই আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা।

বাংলাদেশে বসবাসরত ফরাসি নাগরিক ও লালন সাধক দেবোরাহ কিউকারম্যান জান্নাতের আমন্ত্রণে মোস্তফা ওসমান তুরান হেম আশ্রম পরিদর্শন করেন।

তুরস্কের রাষ্ট্রদূত আশ্রমে সাধু ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সেখানে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন। এরপর বিকেলের দিকে ঢাকার উদ্দেশে দৌলতপুর ত্যাগ করেন।

এদিন বেলা ১১টার দিকে হেলিকপ্টার যোগে দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে নামেন তিনি। এসময় তাকে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এজাজ আহম্মেদ মামুন ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল জব্বার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু রাসেল রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

হেম আশ্রমের প্রতষ্ঠাতা ফকির নহির শাহ জানান, লালন সাধক দেবোরাহ কিউকারম্যান জান্নাতের আমন্ত্রণে মোস্তফা ওসমান তুরান হেম আশ্রম পরিদর্শন করেন। এসময় আশ্রমে সাধু ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আমরা লালন সঙ্গীত শুনিয়েছি। পরে আশ্রমে একটি আমের গাছ রোপণ করেন তিনি (রাষ্ট্রদূত)।

মরমি সাধক ফকির লালন শাহকে নিয়ে গবেষণার জন্য সুদূর ফ্রান্স থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম গবেষণার কাজে বাংলাদেশে আসেন দেবোরা কিউকারম্যান। সাধুসঙ্গে এসে লালন দর্শনের প্রেমে পড়ে যান এই নারী। তারপর আর দেশে ফিরে যাননি। এরপর প্রখ্যাত বাউল ফকির নহির শাহের শিষ্য হন। অবিবাহিত দেবোরা গুরুর আস্তানায় বসবাসকারী নহির শাহের আরেক শিষ্য রাজনকে বিয়ে করেন। এখনো গুরুর কাছে আত্মিক শান্তি ও সৃষ্টি রহস্য খুঁজতে দীক্ষা নিচ্ছেন। ফকির লালন শাহকে যতই জেনেছেন ততই তার প্রেমে পড়েছেন তিনি। বেড়েছে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও প্রেমবোধ। বর্তমানে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বসবাস করছেন তিনি। মাঝে মাঝে ফ্রান্সে ঘুরতে যান। নাম বদল করে হয়েছেন দেবোরা জান্নাত।

  সীতাকুণ্ডে ডিপোতে আগুন

;

শত বছরের ডুবের মেলায় জনস্রোত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
ডুবের মেলা

ডুবের মেলা

  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বাসাইল সদর এবং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের বংশাই নদীর পূর্ব-উত্তর তীরে রাশড়া-সৈয়দামপুর গ্রামে দিনব্যাপী কয়েক হাজার লোকের সমাগমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

দেবতার (মাদব ঠাকুর) মূর্তিতে প্রণাম স্মরণ করে ভোরে গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে মেলার বা পূজার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পাপ মোচনের লক্ষে ভোরে মানত ও গঙ্গাস্নান পর্ব সমাপন করে।

তবে চলাচলের সুবিধা না থাকায় মেলায় আগতরা মেলাস্থলে যাতায়াত এবং ঠিক সময়ে গঙ্গাস্নানের জন্য পৌঁছাতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, বৃটিশ শাসনামলে বক্ত সাধু নামে খ্যাত এই সন্যাসীর (মাদব ঠাকুর) মূর্তি প্রতিস্থাপন করে মনোবাসনা পূর্ণ করতে গঙ্গাস্নান, পূজাঅর্চনা করা শুরু হয়। ওই সময়ে অনেকে এসব করে সফল হয়েছে বলে লোকমুখে প্রচলিত। তখন থেকে প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমার রাত থেকে গঙ্গাস্নান, পূজাঅর্চনা চলতে থাকে এবং পরে স্থানীয় সনাতনীরা একে মেলা এবং আনন্দ উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে। ওই সময় থেকে এটা ডুবের মেলা নামে পরিচিত।

মেলায় বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাঁশবেতের তৈজসপত্র, মাটির তৈরি খেলনা, হাঁড়িপাতিল, বড় মাছ এবং চিড়া-দই, খইসহ বিভিন্ন দোকানিরা তাদের পসরা সাজিয়ে বসে। মেলায় আসা দোকানি সাধুকর বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে এত লোকের সমাগম হয় এটা অবিশ্বাস্য। বেচাকেনাও ভালো।

মিষ্টি দোকানি দীপক বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১০ মণ মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বিক্রি করি। কোন বাকি নেই । নগদ বিক্রি হয় বলে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের এই মেলায় দোকান দেবার বেশি আগ্রহ দেখা যায়।

ডুবের মেলার আয়োজক জীবন মন্ডল বলেন, প্রায় দেড়’শ বছর ধরে মাঘীপূর্ণিমার সময় আমার পূর্বপূরুষেরা এই মেলার আয়োজন করে আসছে। আমি এই মেলায় ষাট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী সখিপুর, মিজার্পুর, ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের কয়েক হাজার লোকজনের সমাগম হয়। ভোর স্নানের মাধ্যমে শুরু করে দিনব্যাপী এই মেলা চলে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জমির আইল ধরে পায়ে হেঁটে এই মেলায় আসতে হয় দর্শনার্থীদের। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় গতবছর অনেক পূর্ণার্থী গঙ্গাস্নানে আসতে পারেনি।

কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন জানান, শুনতে পেরেছি ডুবের মেলা যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ, জমির আইল ধরে দর্শনার্থীরা যাতায়াত করছে। চেষ্টা করছি এবছর নিজ উদ্যোগে বা প্রকল্পের মাধ্যমে এই রাস্তা করে দেবো।

  সীতাকুণ্ডে ডিপোতে আগুন

;

ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে অভিভূত ২৮ বিদেশি পর্যটক



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বাগেরহাট
ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে অভিভূত ২৮ বিদেশি পর্যটক

ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে অভিভূত ২৮ বিদেশি পর্যটক

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ, মসজিদের কমপাউন্ডে অবস্থিত জাদুঘর ঘুরে দেখলেন ২৮ বিদেশি পর্যটক।

শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ২৭ জন সুইস ও একজন জার্মান পর্যটক বাগেরহাটের মোংলা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদে আসেন।এ সময় বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান।

বিকেলে ষাটগম্বুজ মসজিদে পৌঁছানোর পর মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা হেলাল উদ্দিন অতিথিদের বাগেরহাট জাদুঘর ও ষাটগম্বুজ মসজিদ ঘুরিয়ে দেখান। অতিথিদের ষাটগম্বুজের ইতিহাস ও বাগেরহাট সম্পর্কে বর্ণানা দেন। অতিথিরাও মুসলিম স্থাপত্যের এই প্রাচীন নিদর্শন সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। মসজিদের স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব জেনে বিষ্ময় প্রকাশ করেন পর্যটকরা।

ষাটগম্বুজ মসজিদ ঘুরে দেখে মুগ্ধ হয়ে একাধিক পর্যটক বলেন, এটির স্থাপত্যশৈলী সত্যিই অসাধারণ। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছি। তবে এই মসজিদের স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটি আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ। আমি বিশ্বের পর্যটকদের অনুরোধ করব, এই স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখার জন্য।

এমভি গঙ্গা বিলাসের ট্যুর অপারেটর জার্নি প্লাসের প্রধান নির্বাহী তৌফিক রহমান বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেনারাসে এর উদ্বোধন করেন। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে লং ট্যুর রিভার ক্রুজ। এটি ৩২০০ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দেবে। বাংলাদেশ-ভারতের ২৭টি নদী ও ৫০টি পর্যটন কেন্দ্রে যাবে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোংলা বন্দরে এসে পৌছায়। এরপর রোববার যাবে সুন্দরবন। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ভ্রমণ শেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামের চিলমারী হয়ে ভারতের আসামে ঢুকবে।

আগামী ১ মার্চ আসামের ধুপড়ি হয়ে আসামের শেষ সীমান্তের দিপড়ুগড়ে গিয়ে ৫১ দিনের ট্যুর শেষ হবে পর্যটকদের।

  সীতাকুণ্ডে ডিপোতে আগুন

;

সক্ষম সকলকে কর প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে তাদের কর প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও কর সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি বলেন, শুধু রাজধানী বা শহরে নয়, সারা দেশে কর দিতে সক্ষম যারা, দয়া করে আপনার কর পরিশোধ করুন। সরকার আপনার পরিষেবা এবং কল্যাণে আপনার অর্থ ব্যবহার করবে।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের প্রথম দুই দিনব্যাপী রাজস্ব সম্মেলন-২০২৩ উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সমগ্র বিশ্ব এখন অর্থনৈতিক মন্দা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আমাদের সেগুলোর (অর্থনৈতিক মন্দা এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির হার) মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যত বেশি ট্যাক্স সংগ্রহ করবো, ততই এটি অতিক্রম করা সহজ এবং সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী করের পরিমাণ বাড়ানোর পরিবর্তে করদাতার সংখ্যা সম্প্রসারণে আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে এবং জনগণকে কর দিতে উদ্বুদ্ধ করতে সারা দেশে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

সরকার প্রধান বলেন, এটা শুধু রাজধানী কেন্দ্রিক নয়, সারা দেশেই আমি সবাইকে বলবো— যারা কর দেবার সামর্থ্য রাখেন, আপনারা দয়া করে কর দেবেন। সেটা আপনাদের সেবায়ই সরকার কাজে লাগাবে।

তিনি বলেন, যেহেতু বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, আজকে প্রতিটা জিনিসের দাম বেড়েছে। আজকে তেল, গ্যাস, গম, ভোজ্যতেল, চিনিসহ প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার তা সত্ত্বেও এগুলো অধিক মূল্যে কিনে নিয়ে আসছে। সেখানে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ৮০০ ডলারের জাহাজ ভাড়া এখন ৩ হাজার ৮০০ ডলার। আমরা ভর্তুকি দিয়ে অধিক মূল্যে কিনে এনে তা কমমূল্যে দেশের মানুষকে দিচ্ছি।’ এক কোটি মানুষ টিসিবির কার্ড পেয়েছে, সবখানে ভর্তুকি মূল্যে মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষিতে তার সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে, করোনাকালীন ব্যবসায়ীদের শিল্প ও কলকারখানা চালু রাখার জন্য তার সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে। এভাবেই সরকার সবাইকে দুঃসময়ে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, এখন সরকার যাতে রাষ্ট্র চালাতে পারে বা মানুষের জন্য কাজ করতে পারে, সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। কারণ, ভর্তুকি আমরা আর কতো দিতে পারবো। তাছাড়া আমাদের উন্নয়ন কাজগুলো যাতে ব্যাহত না হয় সেদিকেও দেখতে হবো।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে যদি যান, যে পরিবর্তন হয়েছে গত ১৪ বছরের সেই পরিবর্তনটা আপনারা দেখতে পাবেন। এখন আর কেউ কুঁড়েঘরে বাস করে না, ভূমিহীন-গৃহহীন প্রত্যেককে তার সরকার বিনে পয়সায় ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। আর্থিক সহায়তা দিয়ে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগও করে দেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার একশ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের তৃণমূল পর্যায়েরও উন্নয়ন নীতির কারণে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও অর্থনীতির গতিশীলতা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি এটুকু বলতে পারি, গত ১৪ বছরে আমূল পরিবর্তন এসেছে। করদানের সক্ষমতা কিন্তু আমাদের উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও রয়েছে। সেখানে আমরা যদি একটু প্রচার-প্রচারণা ভালোভাবে চালাই, তাহলে মানুষ কিন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবে। কারণ, তারা তো সেবা পাচ্ছে। এই সেবাটা পাওয়ার জন্যই তারা করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনীম এবং সদস্য ড. আব্দুল মান্নান শিকদার। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য প্রদ্যুৎ কুমার সরকার।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী এর আগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ৪১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নবনির্মিত ১২ তলা রাজস্ব ভবন উদ্বোধন করেন। ভবন উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী এর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনও করেন।

  সীতাকুণ্ডে ডিপোতে আগুন

;