হেলিকপ্টারযোগে পদ্মা সেতুর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

আর কিছুক্ষণ পরই স্বপ্ন রূপ নিতে যাচ্ছে বাস্তবে। উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ইতিমধ্যে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভাস্থল লোকে লোকারণ্য। স্বপ্নের সেতু উদ্বোধন করতে এরই মধ্যে পদ্মার মাওয়া প্রান্তের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।

সেতুটির জমকালো উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ করে যোগাযোগের সরাসরি সুবিধা লাভ করবে এমন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোসহ সারাদেশে একটি উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

সকাল ১০টায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের বৃহত্তম স্ব-অর্থায়নকৃত মেগা প্রকল্পের জমকালো উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির সময়সূচী অনুযায়ী মাওয়া পয়েন্টে সকাল ১১টায় তিনি স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শীট, উদ্বোধনী খাম এবং বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ১.২ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সকাল ১১টা ১২ মিনিটে মাওয়া পয়েন্টে টোল পরিশোধের পর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে মোনাজাতেও যোগ দেবেন।

তিনি সকাল ১১টা ২৩ মিনিটে মাওয়া পয়েন্ট থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাজিরা পয়েন্টে পৌঁছে সেতু ও ম্যুরাল-২ এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। সেখানে মোনাজাতেও যোগ দেবেন তিনি।

দুপুর ১২টায় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত দলের জনসভায় যোগ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বিকেল সাড়ে ৫টায় হেলিকপ্টারে জাজিরা পয়েন্ট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৭৯



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৭৯

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৭৯

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ ঢাকার বাইরের।

এ নিয়ে চলতি বছর দেশে মোট ৩ হাজার ২৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেন। এখন পর্যন্ত চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫ জন।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে। রোগীদের মধ্যে ৩৬০ জন এখনও চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ৭৪ জন ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮৮৮ জন রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু ভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কার বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে সতর্ক করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনগুলোকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

রাজশাহীতে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উদযাপন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
রাজশাহীতে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

রাজশাহীতে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীতে নানা আয়োজনে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সোমবার (৮ আগস্ট) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘মহীয়সী বঙ্গমাতার চেতনা, অদম্য বাংলাদেশের প্রেরণা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ। জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, নগর পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার রেনী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে রাজশাহী জেলার ৯৫ জন অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিগুলোর মাঝে ৮৬টি অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া উপায় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৩০ জন অসহায় ও দুঃস্থকে ২ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে নগরীর কুমারপাড়ায় নগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। অনুষ্ঠান শেষে এখানেও দুঃস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়।। এ উপলক্ষে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগর ভবন চত্বরে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষ থেকে কাউন্সিলররা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শ্রদ্ধা জানান। রাসিকের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম বাবু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন, রাসিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজমীর আহমেদ প্রমুখ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও (রাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছার জন্মদিন যথাযোগ্য পালন করা হয়। সকালে উপাচার্য প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে বঙ্গমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে বেলা ১১টার দিকে সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগ বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী পরিচালক মাসুদ রানা, সংস্থার উপদেষ্টা সদস্য মুহম্মদ আমিনুর রহমান, সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে এবার খুলনায় গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ বিতরণ বিকাশের



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে এবার খুলনায় গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ বিতরণ বিকাশের

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে এবার খুলনায় গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ বিতরণ বিকাশের

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে স্কুলের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে এবার খুলনা বিভাগের ১০০টি স্কুলে ৪,০০০ কপি গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ বিতরণ করেছে বিকাশ। মুজিব শতবর্ষ উদযাপন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সারাদেশের ৫০০টি স্কুলে ২০ হাজার কপি গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ বিতরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে এর আগে ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্কুলে এই গ্রাফিক নভেল বিতরণ করে বিকাশ।

এরই ধারাবাহিকতায় শোকের মাস আগস্টে আজ (সোমবার) খুলনা শিল্পকলা একাডেমিতে স্কুল প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো: জিল্লুর রহমান চৌধুরী, বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মোঃ মনিরুল ইসলাম (অবঃ); সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউণ্ডেশন (এসডিএফ) এর চেয়ারপার্সন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. আবদুস সামাদ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন সহ অন্যান্যরা।


বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আট খন্ডে প্রকাশ করেছে গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’। সংলাপ, গদ্য ও চিত্রের যুৎসই সমন্বয়ে শিশু-কিশোরদের উপযোগী ফরম্যাটে বঙ্গবন্ধুর শৈশব, কৈশোর, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা চিত্রিত হয়েছে এই গ্রাফিক নভেল-এ। বিকাশের পৃষ্ঠপোষকতায় সেগুলো স্কুলগুলোতে বিতরণ করছে আলোকিত মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এর পরবর্তী খন্ডগুলো প্রকাশিত হলে সেগুলোও একইভাবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে আরো বেশি সংখ্যক স্কুলে পৌঁছে দেবে বিকাশ।

এ পর্যায়ে খুলনার ১০০টি স্কুলের প্রতিটিকে ৫ সেট করে বই দেয়া হয়েছে। ফলে একই সাথে ৪০ জন শিক্ষার্থী স্কুলের লাইব্রেরি থেকে বইটি পড়ার সুযোগ পাবেন।

উল্লেখ্য, যাত্রা শুরুর সময় থেকেই বিকাশ বই বিতরণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছে। আগামী প্রজন্মের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে দায়িত্বশীল কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচির সাথে যুক্ত আছে বিকাশ। এ পর্যন্ত ২৯০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২,৫৩,৬০০ বই দিয়েছে বিকাশ যা থেকে ২৬ লাখ পাঠক উপকৃত হয়েছেন।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

বঙ্গমাতার সিদ্ধান্ত দেশের স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা করেছে: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গমাতার নেপথ্য ভূমিকা তুলে ধরে বলেছেন, প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুতে বঙ্গমাতার সিদ্ধান্ত দেশের স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা করেছে।

তিনি ঐতিহাসিক ৬ দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকালীন প্যারোলে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি প্রত্যাখ্যান এবং ৭ মার্চের ভাষণ প্রদানের প্রাক্কালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের সময়োচিত সিদ্ধান্ত ও পরামর্শের উল্লেখ করে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গুলোর ক্ষেত্রেও আমার মা যখন যে সিদ্ধান্ত গুলো দিয়েছেন সেটাই কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে সবচেয়ে সহায়ক হয়েছে। যেহেতু আমার আব্বা মনে প্রাণে দেশের কাজ করতে পেরেছিলেন।’

রোববার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ৯২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন এবং ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক-২০২২’ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র ভাষণে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার প্রধান বলেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি ছিলেন তখন বঙ্গমাতা ৬ দফা দাবির সঙ্গে আরো দু’টি দফার প্রস্তাবিত অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে সাহসী পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশের অভ্যুদয় অসম্ভব ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচার চলাকালীন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি মেনে নিতে ইচ্ছুক ছিলেন-এমন একটি ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন বঙ্গমাতা যিনি তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আব্বা যদি প্যারোলে চলে যান তখন আর আন্দোলন-সংগ্রামের কিছুই থাকতো না। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাও প্রত্যাহার হতোনা।’

শেক হাসিনা বলেন, সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যা করা হয়েছিল, বাকী যে আসামী সকলকেও তারা মৃত্যুদন্ডই দিত। কেউ আর বেঁচে থাকতে পারতোনা এবং বাংলাদেশও আর স্বাধীনতার মুখ দেখ তো না।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রদানের বিষয়ে তাঁর মা’র পরামর্শ প্রদানের উল্লেখ করে বলেন, সেখানে আমাদের বহু নেতাদের নানা মতামত উপেক্ষা করে আমার মা’র মতামতটাই গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি বলেন, ৭ মার্চের যে বক্তব্য সেখানে আব্বার হাতে কাগজ বা কোন কিছু ছিলনা। ওনার মনের যে কথাগুলো এসেছে সেখান থেকেই সেটাই তিনি নির্দ্বিধায় বলে গেছেন। ‘কিন্তু ভাষণ দিতে যাওয়ার আগে অনেক বড় বড় নেতা আব্বার হাতে চিরকুট লিখে দিতেন-এটা বলতে হবে, সেটা বলতে হবে। তখন আমার মা বলে দিতেন তুমি কারো কথা শুনবে না। নিজের মনে যা আসে তা-ই বলবে’। 

সরকার প্রধান আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত পাচঁ বিশিষ্ট নারীকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ নৈপূণ্যের জন্য নির্বাচিত ‘বঙ্গমাতা পদক-২০২২’ বিতরণী অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন। গোপালঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ও ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিল।

বঙ্গমাতার অবদানকে চিরস্মরণীয় করার লক্ষে ২০২১ সাল থেকে বছর আটটি ক্ষেত্রে নারীদের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত সর্বোচ্চ জাতীয় পদক ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব’ প্রদান করা হয়ে থাকে।

এ বছর রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সমাজসেবা এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যে পাঁচ বিশিষ্ট নারী ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব পদক-২০২২’ পেয়েছেন তাঁরা হলেন, ‘রাজনীতি’র ক্ষেত্রে সিলেট জেলার সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, অর্থনীতিতে কুমিল্লা জেলার সেলিমা আহমাদ এমপি, শিক্ষা ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপচার্য অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, সমাজসেবা ক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ জেলার মোছা. আছিয়া আলম এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে গোপালগঞ্জ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আশালতা বৈদ্য (মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার)।

পুরস্কার হিসেবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ৪০ গ্রাম ওজনের পদক, সম্¥াননা পত্র এবং ৪ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন এবং সভাপতিত্ব করেন। প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক বঙ্গমাতার জীবনীর ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান চেমন আরা তৈয়ব। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল স্বাগত বক্তৃতা করেন। পদক বিজয়ীদের পক্ষে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন সৈয়দা জেবুন্নেছা হক।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর লেখা ‘শেখ ফজিলাতুন নেছা আমার মা' শীর্ষক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

তিনি ঢাকায় কর্মজীবী নারীদের জন্য ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব’ অত্যাধুনিক ১০ তলা হোষ্টেলও উদ্বোধন করেন।

বঙ্গমাতার ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ২৫০০ অসচ্ছল নারীর মাঝে ৫০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসন গোপালগঞ্জ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক শুরু করলেও যুগপৎ সারাদেশেই এই কর্মসূচি পালিত হয়। প্রত্যেক নারী পাচ্ছেন ২০০০ টাকা। মোট অর্থের মধ্যে ১৩ লাখ টাকা বন্যা কবলিত জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনার নারীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে সারাদেশে দুস্থঃ নারীদের মধ্যে মোট সাড়ে চার হাজার সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার জীবনী ভিত্তিক প্রামান্য চিত্র প্রদর্শিত হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত অত্যাধুনিক কর্মজীবী মহিলা হোষ্টেলের বিষয়ের একটি তথ্য চিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়।

পরে জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং ‘৭৫ এর ১৫ আগষ্টের শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।

সরকার প্রধান বলেন, আমার বাবা রাজনীতি করতেন অর্থাৎ রাজনীতির কাজ যেহেতু তিনি এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সেটা উপলদ্ধি করেই তাঁর মা সবসময় পাশে থেকে অনুপ্র্রেরণা দিয়ে গেছেন। একজন স্ত্রী হিসেবে কোন কিছু দাবিতো করতেনই না বরং আমার বাবার যা কিছু প্রয়োজন ছিল সেট তিনিই দেখতেন।

বঙ্গমাতার আদর্শ নিয়ে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে বাংলাদেশের নারী সমাজ যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করেন সেই আহবানও জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের নারী সমাজ তারাও যেন এই আদর্শটা ধারণ করে। শুধু চাওয়া, পাওয়া, বিলাসিতা এটাই জীবন নয়। একটা মানুষের জীবনে মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে এবং একটা আদর্শ নিয়ে চললে মানুষের জন্য অনেক অবদান রাখা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর মায়ের মহৎ আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে তাঁর বাবার মহৎ অর্জন এই স্বাধীন বাংলাদেশ।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;