বিকেল নাগাদ স্বাভাবিক হবে আবহাওয়া, সোমবার রৌদ্রজ্জ্বল দিন

  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এখনো বাংলাদেশেই অবস্থান করছে। তবে সেটা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যাওয়ায় রোববার (১০ নভেম্বর) বিকেলের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আর কালকে (সোমবার) আমরা একটা রোদ্রজ্জ্বল দিন পাব।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং কালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বুলবুল দুর্বল হয়ে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর মহাবিপদ সংকেত ১০ থেকে ৩ নম্বরে নামানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপটেন এ বি তাজুল ইসলাম, সচিব শাহ কামাল, আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামসুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ৫ নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে রূপান্তিরত হয়। তারপর ৮ নভেম্বর ৪ নম্বর সর্তকতা সংকেত দেওয়া হয়। ৯ নভেম্বর সকাল ৬টায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেওয়া হয়। তারপর আমরা ঝড়ের গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেছি। এটা ৯ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে ৮৮ দশমিক ১ দ্রাঘিমাংশ এবং ২১ দশমিক ৩ অক্ষাংশ বরাবর আসার সময় পশ্চিম বাংলায় আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ঝড়টি দুর্বল হয়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন দিয়ে প্রবেশ করে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এখনো এটা বাংলাদেশের মধ্যে আছে। বিকেল নাগাদ এটি শেষ হয়ে যাবে। এখন বুলবুলের বাতাসের গড় গতিবেগ ৪০-৯০ কিলোমিটার, এটা আসলে খুবই কম। সিডর-আইলায় ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার। যার ফলে এবার ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয়নি।

তিনি আরো বলেন, ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকজনকে আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি। এবার ৫ হাজার ৫৮৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২১ লাখ ৬ হাজার ৯১৮ জন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। তাদের নিরাপত্তা দিতে পেরেছি। তাদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এ ১৪টি জেলায় যখনই ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৫০০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ লাখ টাকা এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার প্রত্যেক জেলায় পৌঁছে দেওয়া হয়। লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই সেগুলো জেলা প্রশাসনের সহায়তায় আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। হতাহতের খবর খুব বেশি পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত অফিশিয়ালি প্রমিলা মণ্ডল (৫২) ও হামিদ কাজী (৬৫) নামে ২ জনের মৃত্যু খবর নিশ্চিত করেছি। প্রমিলা খুলনার দাকোপ উপজেলার সুভাষ মণ্ডলের স্ত্রী। তিনি বিনা অনুমতিতে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পর রান্নাঘরে গাছচাপায় মারা গেছেন। আর পটুয়াখালীর হামিদ কাজীও আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ঘরের ওপর গাছ পড়ে মারা যান। গণমাধ্যমে ৪ জনের কথা বলা হয়েছে। আর ৩০ জন আহত হয়েছে। ৪ থেকে ৫ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে।

আশ্রয় কেন্দ্রে যে একজন মারা যাওয়ার খবর এসেছে, সে বিষয়ে সচিব বলেন, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তিনি মারা যাননি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্যোগ সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এসেই স্থানগুলো পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সে হিসেবে আগামীকাল আমরা হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করব। এছাড়া জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডেকে যার যার মন্ত্রণালয়ের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৪টি জেলার মধ্যে শুধু পটুয়াখালীতে কিছু আমন আছে। সেখানেও আমনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে শীতের সবজির কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরলেন ওয়াসফিয়া নাজরীন



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরলেন ওয়াসফিয়া নাজরীন

ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরলেন ওয়াসফিয়া নাজরীন

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং বিপদসংকুল পর্বতশৃঙ্গ কে-টু জয় করার পর মাতৃভূমিতে ফিরেছেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে করে আজ (১৭ আগস্ট) দেশে ফিরেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই পর্বতারোহী। ১৯৫৪ সালের পর পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম ও ভয়ঙ্কর পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত কে-টু -তে আরোহণ করা ৪০ নারী পর্বতারোহীর একজন তিনি। ওয়াসফিয়া নাজরীনের এ অভিযানে স্পন্সর ছিল রেনাটা লিমিটেড।

দেশে পৌঁছানোর পর, রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে দুই মাসব্যাপী কারাকোরাম অভিযানের রোমাঞ্চকর যাত্রা নিয়ে কথা বলেন ওয়াসফিয়া। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্বতারোহণ এবং ট্রেকিং করার অনুমতি পেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসফিয়া বলেন, “বাংলাদেশ যখন ৪০ -এ পা দেয়, তখন আমি সেভেন সামিট জয় করার যাত্রা শুরু করি। দেশের ৫০ বছরে আমি চেয়েছিলাম কে-টু জয় করতে। এ জন্য আমি ১০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে কে-টু যাত্রার জন্য তৈরি করেছি। ডেথ-জোন (অক্সিজেনের ভয়াবহ স্বল্পতার কারণে যেসব পর্বত আরোহণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ) পর্বতসমূহ আরোহণ করতে অনেক মানুষের প্রয়োজন হয়। আর এ সাফল্যের জন্য আমি আমার দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। এবং আমার এ দলে যারা ছিলেন, তাদের বেশ কয়েকজনকে এ মূহূর্তে বিশ্বের  সেরা পর্বতারোহী হিসেবে মনে করা হয়। যারা আমার মঙ্গল কামনা করেছে এবং আমার ওপর ভরসা করেছে, সবাইকে ধন্যবাদ।  কে-টু আমার আরোহণ করা সবচেয়ে দুর্গম পর্বত, যেখানে বেশ কয়েকবার আমি পাথরে আঘাত পেয়েছি আবার কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্যও আমাদের সহায়তা করেছে। কে-টু স্থানীয়ভাবে ‘ছোগোরি’ বা পর্বতের রাজা হিসেবে পরিচিত, প্রতি পদক্ষেপে সেখানে মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে! একবারেই কে-টু জয় করে ফেরত আসতে পেরেছেন এমন অল্পকিছু পর্বতারোহীর মধ্যে আমরা রয়েছি। এমনও অনেক পৃথিবী-বিখ্যাত পর্বতারোহী রয়েছেন যারা বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করেও এ পর্বতশৃঙ্গ জয় করতে পারেননি। আমি এই অভিযানের স্পন্সর রেনাটা লিমিটেডকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা আমার এই মিশনের ওপর ভরসা রেখেছেন এবং আমাকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করেছেন।”


কারাকোরাম রেঞ্জে অবস্থিত কে-টু পর্বত ৮,৬১১ মিটার উঁচু এবং পর্বতারোহীদের আরোহণের জন্য এভারেস্টের চেয়েও দুর্গম বলে সবার কাছে পরিচিত। বিপদসংকুল পরিবেশ, প্রায় পিরামিড-সদৃশ ঢাল এবং অনিশ্চিত আবহাওয়ার এই ‘স্যাভেজ মাউন্টেন’ -এর চূড়ায় পা রাখতে পেরেছেন মাত্র ৪শ’ পর্বতারোহী, যাদের অনেকেই আর নিচে নামার সুযোগ পাননি। ওয়াসফিয়া নাজরীন গত ২২ জুলাই তার দলের সঙ্গে কে-টু পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেন। তার দলের অনেকেই পৃথিবী-বিখ্যাত পর্বতারোহী, যাদের মধ্যে মিংমা তেনজি শেরপা, মিংমা ডেভিড শেরপা এবং নির্মল পুরজাকে নিয়ে ‘১৪ পিকস’ নামে একটি ডকুমেন্টারি করেছে নেটফ্লিক্স। ওয়াসফিয়ার এই ঐতিহাসিক অভিযানের একমাত্র স্পন্সর দেশের স্বনামধন্য ফার্মাসিউটিক্যাল এবং অ্যানিমেল হেলথ প্রোডাক্ট কোম্পানি রেনাটা লিমিটেড।

ওয়াসফিয়া প্রথম বাঙালি এবং একইসাথে প্রথম বাংলাদেশি, যিনি সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করলেন। তার এই অভিযানের অনেকগুলোতেই স্পন্সর হিসেবে পাশে ছিলো রেনাটা। তিনি পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, পাকিস্তানের উচ্চতম এবং সবচেয়ে দুর্গম ও বিপদসংকুল পর্বতশৃঙ্গ কে-টু বিজয়ী প্রথম বাঙালি এবং বাংলাদেশি। 

  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

;

জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে মানবাধিকার নিয়ে অপপ্রচার সম্পর্কে অবহিত করলেন বিশিষ্টজনেরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে মানবাধিকার নিয়ে অপপ্রচার সম্পর্কে অবহিত করলেন বিশিষ্টজনেরা

জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে মানবাধিকার নিয়ে অপপ্রচার সম্পর্কে অবহিত করলেন বিশিষ্টজনেরা

  • Font increase
  • Font Decrease

সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ও চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাচেলেটকে বাংলাদেশের মানবধিকার নিয়ে নানা অপপ্রচার সম্পর্কে অবহিত করেছেন সরকার, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট জনেরা ।

ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার  মিশেল বাচেলেট এর সম্মানে এক টাউন হল মিটিং ও নৈশভোজে জাতিসংঘের হাই কমিশনার বিশিষ্টজনদের সাথে মতবিনিময় করেন ।

বাংলাদেশের নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্র ফুটে উঠে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর বক্তৃতায়। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকার বিরোধী কিছু চিহ্নিত ব্যক্তির তথ্যের উপর ভিত্তি করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু মানবাধিকার সংগঠন তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করছে- জাতিসংঘের হাই কমিশনারকে এমন তথ্য দেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড۔ সেলিম মাহমুদ । 

পররাষ্ট্র সচিব ড۔ মাসুদ বিন মোমেনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় পর্বে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ নানা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়ে উন্নয়নশীল বিশ্বে একটা মর্যাদার স্থানে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে । দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, বাংলাদেশ মোটামুটি একই রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যাচ্ছে।

নৈশভোজ পর্বে জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে নানা  অপপ্রচার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড۔ সেলিম মাহমুদ । ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে জামিন দেয়া না দেয়া, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার, সাংবাদিকদের এই আইনের বাইরে রাখা, এই আইনে প্রকৃত সাংবাদিকরা গ্রেফতার হচ্ছে কিনা- এই সকল বিষয়ের সাংবিধানিক ও আইনি ব্যাখ্যা দেন তিনি । ড۔ সেলিম জানান, বাংলদেশে প্রচলিত বেশ কয়েকটি আইনে যৌক্তিক কারণেই বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের বিধান রয়েছে, অনেক আইনেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে জামিন না দেয়ার বিধান রয়েছে । তবে উচ্চতর আদালত জামিন দিয়ে থাকে । সাংবাদিক সহ কোন কমিউনিটিকে নির্দিষ্ট কোন ফৌজদারি আইনের আওতার বাইরে রাখা সংবিধানিক মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী । তিনি জানান, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি আইনে বহু বছর ধরেই এই ধরণের বিধান রয়েছে । যৌক্তিক কারণেই এই ধরণের বিধান রাখা হয় । ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সনদ, আমাদের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বিধানাবলী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি জানান, এই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন রয়েছে, যে মামলা গুলো ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের আওতায় বলে প্রচার করা হচ্ছে, এর প্রায় ৮০% মামলা বিএনপির আমলে প্রণীত আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার অধীন মামলা । শেখ হাসিনার সরকার এই ৫৭ ধারা বাতিল করেছে। আর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে মামলার কথা বলা হচ্ছে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ মামলাই হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক কিছু ভুঁইফোড় বেআইনি নিউজ পোর্টালের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে, যারা মূলত নানা শ্রেণী পেশার মানুষকে ব্ল্যাকমেইলিং এর মাধ্যমে হয়রানি করে থাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুম বা ফোর্সড ডিসএপিয়ারেন্স সম্পর্কে যে অপপ্রচার চলছে, সেই বিষয়টি ড۔ সেলিম মাহমুদ জাতিসংঘ হাইকমিশনারের দৃষ্টিতে আনেন। তিনি জানান, মানবাধিকার রিপোর্ট গুলোতে গুম সম্পর্কিত যে তথ্য দেয়া হয়ে থাকে, একটু পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝা যায় যে, এগুলো স্ববিরোধী ও বাস্তবতা বিবর্জিত। এই সব রিপোর্টে বলা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের নেতা- কর্মী ও সমর্থকরা এই ফোর্সড ডিসএপিয়ারেন্স এর মূল ভিক্টিম। কিন্তু সেই রিপোর্টে ভিক্টিমদের যে সংখ্যা দেয়া হয়, তাতে বুঝা যায় এই বক্তব্য স্ববিরোধী ও বাস্তবতা বিবর্জিত। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ভিকটিম রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী সমর্থক হয়ে থাকলে এই সংখ্যা অনেক বেশী হওয়ার কথা। পক্ষান্তরে ভিক্টিমদের যে তালিকা দেয়া হয়, সেখানে কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য কিংবা সমর্থক থাকেনা। তাতে বুঝা যায়, এই রিপোর্ট গুলোতে যে তথ্য দেয়া হয়, সেগুলো অসত্য ও স্ববিরোধী। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে নানা কারণে কিছু ব্যক্তি প্রতিবছর নিখোঁজ হয়ে যায়। দেশের মোট জনসংখ্যার আকার বিবেচনা করলে নিখোঁজ হওয়া এই মানুষের সংখ্যাও কম হওয়ার কথা নয়। মূলত এই হারিয়ে যাওয়া লোকগুলোকেই এই তালিকায় আনা হয়ে থাকে।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাতি সংঘের হাই কমিশনারকে জানান, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কিছু মানবাধিকার সংগঠন সাম্প্রতিক সময়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করছে, তাতে দেখা যায় এই সংগঠনগুলো যে তথ্যের উপর ভিত্তি করছে, সেগুলো সরকার বিরোধী কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে নেয়া। কোন নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পক্ষপাত দোষে দুষ্ট কোন সোর্স থেকে তথ্য নেয়া সমীচীন নয়। এই সকল সংগঠনের রিপোর্টে যে ফুটনোট ব্যবহার করা হয়, তাতে দেখা যায় তারা কেবলমাত্র সরকার বিরোধী সোর্স থেকে তথ্য নিচ্ছে। এই ধরণের পক্ষপাত দুষ্ট ও একপেশে রিপোর্ট সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরণের রিপোর্টের কোন ক্রেডিবিলিটি থাকে না। এই ধরণের কর্মকান্ড বিশ্বের দেশে দেশে মানবাধিকার সংরক্ষণে কী ভূমিকা রাখে, এটি সেই সকল সংগঠনই ভালো বলতে পারবে।

জাতিসংঘের হাই কমিশনের সাথে নৈশভোজ আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন এমপি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড۔ সেলিম মাহমুদ, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকী এমপি, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ।

জাতিসংঘের হাইকমিশনারের সম্মানে দেয়া নৈশভোজের পূর্বে মতবিনিনয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার রবার্ট ডিকসন, সাবেক রাষ্ট্রদূত সমসের মবিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড۔ সাদেক হালিম, নারী নেত্রী আরোমা দত্ত, রোকেয়া কবির, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের মফিদুল হক, অ্যাম্বাসেডর আব্দুল হান্নান, অ্যাম্বাসেডর শামীম আহসান, শিফা হাফিজা, প্রফেসর সাহাব আনাম খান প্রমুখ ।

অধিকাংশ বক্তা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল বাচেলেট তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের সকল দেশের মানবাধিকার নিয়েই সমস্যা রয়েছে । আমি অনেক শক্তিশালী ও ধনী রাষ্ট্র দেখেছি, যাদের মানবাধিকার নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে । এক একটি দেশের পরিস্থিতি একেক রকমের । মানবাধিকার নিয়ে প্রতিটি দেশের অনেক কাজ করার আছে।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রমুখ।

  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

;

ওজন-পরিমাপে কারচুপি, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ওজন ও পরিমাপে কারচুপির অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

বুধবার (১৭ আগস্ট) বিএসটিআই বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করে।

বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ না করে অবৈধভাবে ‘ফার্মেন্টেড মিল্ক (দই)’ উৎপাদন ও বিক্রয়-বিতরণ করায় নন্দীগ্রাম উপজেলার শিমলা এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ভাইবোন মিষ্টান্ন ভান্ডার ও মেসার্স সাকিব হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা করে মোট বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া ওজন ও পরিমাপে কারচুপি করে পেট্রোল ও ডিজেল পরিমাপে কম দেওয়ায় একই এলাকায় অবস্থিত মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নন্দীগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিফা নুসরাতের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই জেলা অফিস, বগুড়ার পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা (সিএম উইং) প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ ও সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি উইং) মো. মিজানুর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ও আনসার সদস্যবৃন্দ। জনস্বার্থে বিএসটিআই’র এধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

;

চট্টগ্রাম ক্লাব: বেনিয়া আভিজাত্য থেকে বেরুতে বাধা কোথায়!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রাম ক্লাব

চট্টগ্রাম ক্লাব

  • Font increase
  • Font Decrease

বিনোদনের প্রয়োজনে নিজেদের উপনিবেশিক অঞ্চলে ক্লাব প্রতিষ্ঠা করতো ব্রিটিশ বেনিয়ারা। সে সব ক্লাবে কেবল তাদেরই প্রবেশাধিকার থাকতো। বসাতো নাচ-গানের জলসা, মদের আসর। খেলা হতো জুয়া। এমনই দুটি প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকা ক্লাব ও চট্টগ্রাম ক্লাব। দুটি ক্লাবই সে সময়ের অভিজাত প্রতিষ্ঠান। আর অভিজাত মানেই তখন ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় কর্মকর্তা। স্থানীয়রা সেখানে ছিলো অচ্ছুৎ।

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে বেনিয়ারা বিতাড়িত হওয়ার পর ক্লাব দুটির অভিজাত সম্প্রদায়ের সজ্ঞাও বদলে যায়। আভিজাত্যের আসনে আসীন হয় পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। মূলত পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দুভাষী সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাই তখন ক্লাবটির সুবিধা ভোগ করতো। তাদের দয়ায় স্যুট-কোট পরার সুযোগ পাওয়া এ দেশীয় দোসরদেরও মাঝেমধ্যে ডাক পড়তো ক্লাবে।

তারপর বাংলাদেশ স্বাধীন হলো। ঢাকা ও চট্টগ্রাম ক্লাব হয়ে উঠলো সদ্য স্বাধীন দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ধনীদের এন্টারটেইনমেন্ট ভেন্যু। নিজেদের স্বার্থে বেনিয়াদের গড়া নিয়ম-কানুন যেমন পাকিস্তানিরা চালু রেখেছিলো, তেমনি বাংলাদেশের অভিজাতরাও ক্লাবের চৌহদ্দিকে ব্রিটিশ নিয়মের সংরক্ষিত জোনই করে রাখলো।

স্যুট, কোট পরে ক্লাবে যেতে হয়। দেশীয় ঐতিহ্যের পাজামা, পাঞ্জাবি, স্যান্ডেল পরে ঢোকা যায় না। বাংলাদেশের বুকে যেনো ব্রিটিশ রাজত্বই চালু রইলো। অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব ক্লাবে ঢুকতে গিয়ে অপমাণিত হয়ে ফিরে গেলেন? ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে লুঙ্গি পড়ে ঢাকা ক্লাবে ঢুকতে না পেরে বেজায় ক্ষেপলেন ফরহাদ মজহার। কিন্তু ঢাকা ক্লাবের কর্তারা ব্রিটিশ ড্রেস কোডের পক্ষে অনঢ় রইলেন।

ব্যাপক প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, সমালোচনার মুখে একসময় ঢাকা ক্লাবের ড্রেস কোডে কিছু পরিবর্তন এলো। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি, পায়জামা ও স্যান্ডেল সু পরে এখন ঢোকা যায় ঢাকা ক্লাবে। কিন্তু এশিয়ার প্রাচীনতম অভিজাত ক্লাব হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম ক্লাব এখনও ও পথে হাঁটতে আগ্রহী নয়। যেহেতু সময়ের হিসেবে তারাই আগে থেকে ব্রিটিশ আভিজাত্য বইছে, তাই সেই আভিজাত্য টিকিয়ে রাখতে তাদের গোঁয়ার্তুমিও বেশি।

তারা চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর প্রয়াত সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেককেও দরোজা থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো। তার মতো অনেকেই পাঞ্জাবি পরার কারণে ক্লাব গেট থেকে অপমাণিত হয়ে ফিরে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে প্রাইম ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন দেশের স্বনামধন্য একটি শিল্প গ্রুপের চেয়ারম্যান। পাঞ্জাবি পরায় তাকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিলো। পাঞ্জাবি পরায় একজন ব্যবসায়ীকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিলো। বিষয়টি নিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিল।

ট্রাস্ট ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মিজানুর রহমান তখন বলেছিলেন, ভেন্যু ভাড়ার সময় আমাদের ড্রেসকোডের বিষয়ে বলা হয়নি। স্বাধীন দেশে ব্রিটিশদের গোলামি নিয়ম থাকা উচিত নয়; পরিবর্তন করা জরুরি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর আক্ষেপ আরও বড়। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ক্লাব অনেকাংশে ভূমিদস‍্যু ও নষ্ট মাফিয়াদের দখলে। আমি আর যাই না সেখানে। এখন আমার সদস্যপদও নেই। ঘৃণা, প্রচণ্ড ঘৃণা তাদের প্রতি।

ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন অব চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড ও সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে ক্লাবের বাই-লজ অনুযায়ী ক্লাব পরিচালিত হয়। সেটাতে পরিবর্তন আনতে হলে ইজিএমের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নির্বাচিত কমিটি বাই-লজে যে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধন আনতে পারে। তাহলে ড্রেস কোডের পরিবর্তনের উদ্যোগ চট্টগ্রাম ক্লাব কেনো নিচ্ছে না? ঢাকা ক্লাবের উদাহরণ অনুসরণ করতে দোষ কোথায়।

চট্টগ্রাম ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ ছালাম বলেন, ক্লাবটি ব্রিটিশদের প্রতিষ্ঠিত। তাদের অনেক নিয়ম টেনে নিয়ে যাচ্ছি। ড্রেসকোডও সে রকম একটি। তবে চাইলে এ নিয়ম পরিবর্তন করা যায়। ঢাকা ক্লাব নিয়ম পরিবর্তন করে পাঞ্জাবি অ্যালাউ করেছে।

সুশীল সমাজের দাবি, চট্টগ্রাম ক্লাবেও ড্রেস কোড পরিবর্তন করে দেশীয় ঐতিহ্যকে মর্যাদার স্থান দেওয়া হোক।

  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

;