'বিএনপি সিপিডির বাজেট বক্তব্য কাকাতুয়ার শেখানো বুলি'

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি সিপিডিসহ বিভিন্ন অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য কাকাতুয়ার শেখানো বুলি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার (৪ জুন) বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটে করোনাভাইরাস মহামারির বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি দাবি করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, দুর্বল অনুমিতি ও বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা বাজেট বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। বাজেটে অনুমিতি দুর্বল।

এদিকে নতুন বাজেটে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কোনো ‘জায়গা নেই’ বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এসব বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে যখন আমরা সরকার গঠন করি তখন বাজেটের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সেই থেকে বার বছরেরর মাথায় আটগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বাজেটের অংক দাড়িয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ছয়’শ ডলার, আজকে মানুষের মাথাপিছু আয় পাকিস্তান ভারতকে ছাড়িয়ে ২ হাজার ২শ ২৭ ডলার হয়েছে।

প্রকৃত পক্ষে ৩০শে জুনের পর এই মাথাপিছু আয় আরও বাড়বে। কারণ যেই মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২শ ২৭ ডলার, সেখানে মে এবং জুন মাসের আয় ও রেমিটেন্স হিসেব করা হয় নি। সেই হিসেবে আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়বে। এই যে মাথাপিছু আয় আমরা ভারতেকে ছাড়িয়ে গেলাম এটা কিন্তু ভারতের পত্র পত্রিকায় টেলিভিশনে আলোচনার ঝড় বইছে। কিন্তু আমাদের দেশে যারা অর্থনীতি নিয়ে কাজ করছেন, নানান সময় নানা মত দেন তারা এটি নিয়ে একটি বাক্য বলেছে এমন, শুনতে পাই নি। যেটি অত্যান্ত দুঃখ জনক।

সিপিডির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, অর্থনীতিবিদরা যারা সব সময় সরকারের নানা দোষ খোঁজেন, সরকারকে নানা পরামর্শ দেন তাদের মুখেও কোন কথা শুনতে পাই না। তারা কি দেশকে এবং দেশের মানুষের প্রসংশা করতে কুণ্ঠা বোধ করছেন? এটি আমার প্রশ্ন।

সিপিডির যারা বক্তব্য রেখেছেন তাদের অনুরোধ জানাবো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বাজেটগুলো বিশ্লেষণ করার জন্য। সিপিডি নয় আরও অনেকে বলেছে এই বাজেট ঝণ নির্ভবর, এই বাজেট ঘাটতি বাজেট।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরে বাজেটে ঘাটতি হচ্ছে ১৫.২ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ইউকেতে জিডিপির তুলনায় ঘাটতি বাজেট হচ্ছে ১৪.৩ শতাংশ, ভারতে জিডিপির তুলনায় ঘাটতি বাজেট ২০২০-২১ অর্থ বছরে জিডিপির তুলনায় ছিল ৯.৩ শতাংশ, জাপানে জিডিপির তুলনায় ঘাটতি ছিল ১২.৬২ শতাংশ।

আমাদের যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে সেখানে জিডিপির তুলনায় ৬.২ শতাংশ। ভারতের তুলনায় আমাদের ঘাটতি অনেক কম। গত বাজেটে ঘাটতি বাজেট ছিল ৬.১ শতাংশ। সেটি করোনা মাহামারিরর মধ্যেও সেই বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে। সুতরাং তাদের কাছে অনুরোধ জানাবো পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বাজেট গুলো বিশ্লেষণ করার জন্য। গত বাজেটেও যে ঘাটতি বাজেট সেটি যে বাস্তবায়িত হয়েছে সেটির জন্য একটু প্রসংশা করেন।

বাজেট বাস্তবায়ন না হলে দেশ এগিয়েছে কিভাবে এমন প্রশ্ন রেখে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের বাজেট বাস্তবায়নের হার হচ্ছে ৯৫ শতাংশ। কোন কোন বছর ৯৮ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে এটা কেউ দেখে না। প্রতিবারই দেখবেন বাজেট ঘোষণার পর পরই বলা হয় এই বাজেট অবাস্তবায়ন যোগ্য, এই বাজেট উচ্চ বিলাশী নানা ধরনের কথা বলা হয়, এই বাজেটে জনগনের কোন কিছু নেই। কিছু সংগঠন কিছু রাজনৈতিক দল এগুলো বলে বেড়াচ্ছেন।

তাই যদি হয় তাহলে এই বার বছরে দেশটা এগিয়ে গেল কিভাবে? বার বছরে মানুষের মাথাপিছু আয় এত উন্নিত হলো কিভাবে। বার বছরে দেশটা বদলে গেল কিভাবে?

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত বার বছরে উনারা সাধারণ মানুষের উন্নয়ন দেখতে পায় নি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে বিধায় আগে যেখানে এক মুঠো মোটা চাল খাবে এটাই ছিল মানুষের প্রত্যাশা। এখন মানুষ আর মোটা চাল খায় না, বাংলাদেশের মানুষ এখন আর অভুক্ত থাকে না। সন্ধার পরে কিংবা ভর দুপুরে শহরের অলিতে গলিতে কিংবা গ্রাম গ্রামান্তরে মা আমাদের একটু বাসি ভাত দেন এই ডাক শুনা যায় না। এইদেশে এখন সহজে ছেড়া কাপড় পরা মানুষ দেখা যায় না। বাংলাদেশে এখন খালি পায়ে মানুষ দেখা যায় না। বাংলাদেশে এখন আকাশ থেকেও কুড়ে ঘড় পাওয়া যায় না।

এটা সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কারণেরই হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবরা গত সাড়ে বাড় বছর ধরে বাজেট ঘোষণার পর কিংবা সরকারের কোন পদক্ষেপে দেখতে পান না। তারা চোখ থাকতেও অন্ধ কান থাকতেও বদির। ফখরুল সাহেবরা দেখেও দেখেন না এবং শুনেও শুনেন না।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

বিএনপিকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা সমাবেশের অনুমতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপিকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা সমাবেশের অনুমতি

বিএনপিকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা সমাবেশের অনুমতি

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপিকে ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ওই দিন ২৬ শর্তে গোলাপবাগ মাঠে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সমাবেশ করতে পারবে দলটি।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এই অনুমতি দেয়। ডিএমপি কমিশনারের স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. তানভীর সালেহীন ইমন স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্রে দেখা গেছে, সমাবেশের জন্য ২৬টি শর্ত দেওয়া হয়েছে বিএনপিকে।

শর্তগুলো হলো- অনুমতিপ্রাপ্ত স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে, স্থান ব্যবহারের অনুমতিপত্রে উল্লেখিত শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন করতে হবে, গোলাপবাগ মাঠের ভেতরেই সমাবেশের যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করতে হবে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশস্থলের ভেতরে ও বাইরে উন্নত রেজুলেশনযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশ পথে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে এবং সমাবেশস্থলে আগতদের হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থায় ভেহিক্যাল স্ক্যানারের মাধ্যমে সমাবেশস্থলে আসা সব যানবাহন তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে।

নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে, গোলাপবাগ মাঠের বাইরে বা সড়কের পাশে মাইক সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যাবে না, গোলাপবাগ মাঠের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেক্টর স্থাপন করা যাবে না, গোলাপবাগ মাঠের বাইরে রাস্তায় বা ফুটপাতে কোথাও লোক সমবেত হওয়া যাবে না, আজান, নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক ব্যবহার করা যাবে না, ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত আসতে পারে এমন কোনও বিষয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য দেওয়া বা প্রচার করা যাবে না, অনুমোদিত সময়ের মধ্যে সমাবেশের সার্বিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে, সমাবেশ শুরুর দুই ঘণ্টা আগে লোকজন সমবেত হওয়ার জন্য আসতে পারবে, সমাবেশস্থলের আশপাশসহ রাস্তায় কোনও অবস্থাতেই সমবেত হওয়া, যান ও জন চলাচলে কোনও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না, পতাকা-ব্যানার-ফেস্টুন বহনের আড়ালে কোনও ধরনের লাঠিসোঁটা-রড ব্যবহার করা যাবে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিকৃত হয় এমন কার্যকলাপ করা যাবে না, রাষ্ট্রবিরোধী কোনও কার্যকলাপ ও বক্তব্য দেওয়া যাবে না, উসকানিমূলক কোনও বক্তব্য বা প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না, জনদুর্ভোগ তৈরি করে মিছিল সহকারে সমাবেশ স্থলে আসা যাবে না, পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং করতে হবে। মূল সড়কে কোনও গাড়ি পার্কিং করা যাবে না, সমাবেশস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে, স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করে সমাবেশ পরিচালনা করতে হবে, উল্লেখিত শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এই অনুমতির আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে ও জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোনও কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে এই অনুমতি আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে: নৌপ্রতিমন্ত্রী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, দিনাজপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে আন্তর্জাতিকভাবে বার বার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তারা চায় না আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ষড়যন্ত্রকে পিছে ফেলে বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তর করছে।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় বোচাগঞ্জ মডেল স্কুলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শুধু একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলে চলবে না, সামগ্রিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। তবেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ করা সম্ভব। আগে যারা এসএসসি পরীক্ষায় স্টার পেতো তাদেরকে মেধাবী বলা হতো, এখন মেধাবী বলা হয় যাদের সামগ্রিক শিক্ষা আছে। শুধু ক্লাসের পড়া হলেই চলবে না, অতিরিক্ত কারিকুলামের দিকে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজের বিত্তবান মানুষ শিক্ষায় বিনিয়োগ করলে আগামীর প্রজন্ম, সমাজ ও বিনিয়োগকারী লাভবান হবে। তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, কোমলমতি শিশুদের পড়ালেখায় চাপ দেয়া যাবে না, তাদেরকে ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে পড়ালেখা শেখাতে হবে।

বোচাগঞ্জ মডেল স্কুলের সভাপতি মোর্শেদ মতিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষিকা বিথি রানী ধরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলাম, বোচাগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার ছন্দা পাল, সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. আসলাম, স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য ফরহাদ মতিন চৌধুরী ও মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন।

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

‘১০ ডিসেম্বর নিয়ে আতঙ্ক নয়, আমরা কাল সাভারে যাচ্ছি’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “আতঙ্কের কারণ নেই, আমরা চলে যাচ্ছি শনিবার সাভারে। ঢাকায় আমরা নাই।”

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভায় এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সড়ক-মহাসড়কে কমে গেছে যানবাহন চলাচল। ঢাকার প্রতিটি প্রবেশমুখে পুলিশি চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে টহল দিতে দেখা গেছে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। এই পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হয়নি সাধারণ মানুষ।

এই প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা থাকবে গোলাপ বাগে মানুষ কেন আতঙ্কিত হবে। জনগণকে বলবো, আতঙ্কের কারণ নেই। আমরা চলে যাচ্ছি কাল সাভারে। ঢাকায় আমরা নাই, আমরা কাল সাভারে চলে যাচ্ছি। বিএনপি... এই শহর তাদের দিয়ে গেলাম। আতঙ্ক কেন। আমরা ক্ষমতায়, আমরা কেন অশান্তি চাইবো। আমরা কেন বিশৃঙ্খলা করবো। আরও এক বছর বাকি, নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ।”

গোলাপ বাগে সমাবেশ করতে রাজি হওয়ায় বিএনপির অর্ধেক পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “বিএনপি আজ বলে, সরকার নাকি ভয় পেয়েছে। সরকার ভয় পেয়েছে? মহানগর নাট্যমঞ্চে সভা, এদিকে গুলিস্তান, বঙ্গভবনের আশপাশ এলাকায় লোকে লোকারণ্য। কাদের পরাজয় হলো? অর্ধেক পরাজয় হযে গেছে পল্টনে সমাবেশ করতে পারে নি। আন্দোলন কর্মসূচির পরাজয় এখানেই অর্ধেক হয়ে গেছে। আজকে ঢাকা সিটিতে বের হয়ে বুঝতে পারলাম আওয়ামী লীগ প্রস্তুত। আমাদের নেত্রীর ডাকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা আজ প্রস্তুত।”

সংকটের মেঘ চলে যাবে বলে আভাস আগেই দেওয়ার কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমি দু-দিন আগে বলি নি, মেঘ চলে যাবে। আমি বলি নি যে বিএনপি শেষ পর‌্যন্ত সমাধানে আসবে। পল্টন থেকে ভেবেছিলাম বাংলা কলেজ, না হলে গোলাপ বাগ। অবশেষে মেনে নিয়েছে, শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে।”

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রস্তত থাকার নির্দেশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তৈরি হয়ে যান, প্রস্তত হয়ে যান। যারা আমার সহস্র জননীর বুক খালি করেছে, যারা এদেশের শত শত মায়ের কোল খালি করেছে, সন্তান হারা মায়ের কান্না, স্বামী হারা নববধুর ফরিয়াদি, ভাই হারা বোনের আর্তনাতে বাংলার বাতাস আজও ভাড়ি। যারা ২১আগস্ট ১৫ আগস্ট গটিয়েছে।

তারেক রহমানের দেশে আসার প্রসঙ্গ তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “জেলে গিয়ে রাজনীতি করবেন, সেই সাহস তারেক রহমানের নেই। বলে আসবে, কবে আসবে... ২০০৭ সাল সেই থেকে পনের বছর, পনের বছরে এলো না, আসবে কবে? কবে আসবে? ক্ষমতায় গিয়ে আন্দোলনের মুখে তাকে নিয়ে আসবেন।

“ঐ চিন্তা করে লাভ নেই। বিএনপি স্বপ্ন দেখছে দিবা স্বপ্ন। বিএনপি দু:স্বপ্ন দেখছে, অচিরেই ক্ষমতা কেন্দ্রীক রঙ্গিন খোয়াব কর্পুরের মত উবে যাবে।”

বিদেশিদের কোন ধরণের হম্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিদেশি বন্ধুদের বলি, আমরা আপনাদের অভ্যন্তরিণ ব্যপারে হস্তক্ষেপ করি না। এই দেশের দুতাবাসে যে সকল বন্ধু দেশের প্রতিনিধি আছে, আপনারা এখানে কারও পক্ষ নিবেন না। আমাদের ঘরের ভেতরে হস্তক্ষেপ করবেন না। আমরা জানি আমাদের গণতন্ত্র কিভাবে সংরনক্ষণ করবো।”

গনমাধ্যমের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার প্রতিযোগিতায় নেমেছে কিছু মিডিয়া। আপনারা তাদের চিনেন, চিনে রাখুন। সময় মত জবাব পাবে তারা। সত্যের বিরুদ্ধে যারা আজকে যাচ্ছে। কোন কোন মিডিয়া রাতে এবং সাকালে যখন দেখি, মনে হয না এখানে আর কোন দল আছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন দল বলেন? চট্রগ্রাম, যশোর, ককবসবাজার শেখ হাসিনা দেখিয়ে দিয়েছে। তাদের সব সমাবেশ চট্রগ্রামের সমান হবে না।”

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;

শান্তিপূর্ণ নয় সন্ত্রাসী কার্যকলাপই বিএনপির উদ্দেশ্য



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শান্তিপূর্ণ নয় সন্ত্রাসী কার্যকলাপই বিএনপির উদ্দেশ্য

শান্তিপূর্ণ নয় সন্ত্রাসী কার্যকলাপই বিএনপির উদ্দেশ্য

  • Font increase
  • Font Decrease

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ব‌লে‌ছেন, নয়াপল্টনে পার্টি অফিসের ভেতরে বোমা রেখে সামনের রাস্তায় সমাবেশের জন্য এতদিন গোঁ ধরে থেকে বিএনপি প্রমাণ করেছে যে ঢাকায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নয়, সন্ত্রাসী কার্যকলাপই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

শুক্রবার (০৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান এ সময় গত বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষের পর বিএনপি অফিস থেকে ১৫টি তাজা বোমা, ২ লাখ পানির বোতল, ১৬০ বস্তা চাল, রান্না করা খিচুড়ি, হাড়ি-পাতিল এবং দুই লাখ নগদ টাকা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, 'দেশে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং  যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। বিশেষ করে পুলিশের ওপর যখন হামলা হয়, রাস্তাঘাট বন্ধ করে বেআইনিভাবে যখন সমাবেশ করা হয়, তখন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকার বাধ্য হয়েছে। আমরা গত দুই সপ্তাহ ধরে বারংবার বলেছি, আপনারা যাতে বড় সমাবেশ করতে পারেন সে জন্য সরকার সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করবে। কিন্তু না, তারা দেশে বিশৃঙ্খলা করার জন্য নয়াপল্টনেই সমাবেশ করবে। এটি তো সম্পূর্ণ ভাবে বেআইনী।'

শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সবাই করতে পারে এবং সরকার যদি সহায়তা না করতো, নিরাপত্তা বিধান না করতো তাহলে বিএনপির পক্ষে কখনও দেশের নয়টি জায়গায় বড় সমাবেশ করা সম্ভব হতো না উল্লেখ করে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, দেশের সব কয়টি বিভাগীয় শহরে তারা সমাবেশ করেছে, সরকার তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে, সেখানে টুঁ শব্দটুকু হয়নি। যেখানে একটু হয়েছে, সেখানে তারা নিজেরা নিজেরা চেয়ার ছোঁড়াছুড়ি, মারামারি করেছে।

‘কিন্তু যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, তখন আমাদেরকে সমাবেশ করতে দেওয়া হতো না' বলেন সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, '২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আমাদের নেত্রীকে হত্যার অপচেষ্টাসহ ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা ও প্রায় পাঁচশ' নেতা-কর্মীকে আহত করা হয়েছিল। শেখ হেলাল এমপির জনসভায় হামলা চালিয়ে এক ডজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কিবরিয়া সাহেব এবং আহসান উল্লাহ মাস্টারের জনসভায় হামলা চালিয়ে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যাসহ শতশত মানুষকে আহত করা হয়েছিল। অথচ ১৪ বছর যাবৎ আমরা ক্ষমতায়, তারা নির্বিঘ্নে সমাবেশ করেছে।'

মির্জা ফখরুল-মির্জা আব্বাসের গ্রেফতার প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, 'মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাস তারা সবাই ২০১৩-১৪-১৫ সালে পাঁচশ' মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, ৩ হাজার মানুষকে আগুনে দগ্ধ করা, সাড়ে তিন হাজার গাড়ি পোড়ানো, লঞ্চ-ট্রেন পোড়ানোর হুকুম দাতা হিসেবে আসামী। তারা আদালতকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে, হাজিরা পর্যন্ত দেয়নি। আর গত ৭ তারিখ নয়াপল্টনে যে ঘটনা ঘটলো, পুলিশের ওপর হামলা করা হলো, বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে ১৫টি তাজা বোমা পাওয়া গেলো। চট্রগ্রাম ঢাকাসহ সারা দেশে যে গাড়িতে আগুন দেয়া এবং ভাঙচুর। এগুলোর হুকুম দাতাও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব ও মির্জা আব্বাস। তাদের নেতৃতত্বে এগুলো হয়েছে। আর তাজা বোমা নিয়ে যখন কেউ পার্টি অফিসে বসে থাকে, তখন যারা বসা ছিল সবাই তো অপরাধী, তারা তাজা বোমা নিয়ে কেন বসে ছিল? এ সব কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে।'

ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বার্তার প্রশ্নে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, 'মার্কিন রাষ্ট্রদূত ৭ তারিখের ঘটনা নিয়ে তদন্তের কথা বলেছেন। অবশ্যই তদন্ত হবে। পুলিশ তো বিএনপি অফিসে বোমা পেয়েছে। কারা বোমা রেখেছিল, কারা বোমা বানিয়েছিল, বানানোর টাকা কারা দিয়েছিল, পুলিশের উপর কিভাবে হামলা করেছিল। এগুলো তদন্তে বেরিয়ে আসবে, পুলিশের কোনো ভুল থাকলে সেটাও তদন্তে বেরিয়ে অসবে। সরকার শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নিশ্চিত করেছে সেই কারণেই বিএনপি সারা দেশে নয়টি বড় সমাবেশ করতে পেরেছে এবং ঢাকায়ও যাতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে পারে সে জন্য সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়াও বিকল্প চারটি প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু পার্টি অফিসে বোমা রাখা, পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল মারা, হামলা করা, বেআইনীভাবে রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করা এগুলো শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নয়।'

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে ড. হাছান বলেন, 'সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা ক্যাপিটল হিলে হামলা করেছিল। সেটি যেমন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নয়, সেটার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে যেমন তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং করছে, মামলাও পরিচালিত হচ্ছে, এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও অভিযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, এখানেও ৭ তারিখের ঘটনা তার সাথে তুলনীয় যে, এটাও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নয়, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ।'

এ সময় কিছু গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'গণমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে সমাজের চিত্র ফুটিয়ে তোলা। একপেশে সংবাদ পরিবেশন গণমাধ্যমের কাজ নয। সে ক্ষেত্রে গণমাধ্যম পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যায়। কোনো গণমাধ্যমেরই রাজনীতি করা সমীচীন নয়।'

  বাজেট অর্থবছর ২০২১-২২

;