অনলাইন সাংবাদিকতার আদ্যোপান্ত জানা যাবে যে বইতে

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’


আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনা সম্পাদক বার্তা২৪.কম
-বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সানজিদা সারমিন

-বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সানজিদা সারমিন

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে বইমেলায় এবার নালন্দা প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে সাংবাদিক আশিস বিশ্বাসের লেখা ‘অনলাইন সাংবাদিকতা অনলাইন সংবাদমাধ্যম’ শীর্ষক বই। শুরুতে অনেকের কাছে অনলাইন সাংবাদিকতার ধারণা ও ব্যাপ্তি নিয়ে অস্পষ্টতা এবং কারও কারও কাছে অনাগ্রহ থাকলেও সময়ের ব্যবধানে নতুন যুগের প্রযুক্তিবান্ধব এই সাংবাদিকতাই এখন মূলধারার সাংবাদিকতা হিসবে আধিপত্য করছে।

বলা চলে প্রিন্ট ও সংবাদভিত্তিক টেলিভিশনগুলোও এখন বহুলাংশে নির্ভরশীল হয়ে উঠছে অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর ওপর। কিন্তু বিকাশমান অনলাইন গণমাধ্যম ও অনলাইন সাংবাদিকতা নিয়ে এখনও একাডেমিক পুস্তকের অভাব রয়েছে। প্রায় দেড় দশক অনলাইন সাংবাদিকতায়, বিশেষ করে বার্তাবিভাগে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্বল করে ‘অনলাইন সাংবাদিকতা অনলাইন সংবাদমাধ্যম’ নামে বইটি প্রকাশে উদ্যোগী হন আশিস বিশ্বাস।

বইটি সম্পর্কে জানতে বার্তা২৪.কম কথা বলেছে সাংবাদিক ও লেখক আশিস বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন বইটি সম্পর্কে আদ্যোপান্ত। কথা বলেছেন পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম। 

বার্তা২৪.কম : সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লেখার ভাবনাটা কীভাবে এলো?

আশিস বিশ্বাস: এখানে তিনটি ফ্যাক্টর কাজ করেছে। প্রথমত, আমি শৈশব থেকে বিবিসি বাংলা শুনতাম। আমাদের ঘরে ফিলিপসের থ্রি-ব্যান্ডের রেডিও ছিল। বিবিসি শুনতে শুনতে সংবাদ ও সাংবাদিকতার প্রতি একধরণের ঝোঁক অবচেতন মনে কাজ করতো। এরপর যখন বিবিসি অনলাইন সার্ভিস চালু হলো তখন অনলাইন সাংবাদিকতার প্রতি প্রচণ্ড টান অনুভব করতাম। এছাড়া শিক্ষা কারিক্যুলাম নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাদের পঠন-পাঠন সামগ্রী লিখতে হতো। এসময় বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ওপর বই লিখতে হতো নব্যসাক্ষরদের জন্য। এটাও ছিল পেশাভিত্তিক কাজ। বিভিন্ন সংস্থার মানুষদের উপকরণ উন্নয়নের জন্য বই কীভাবে লিখতে হয়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন করা ও পরিচালনার কাজ করেছি। তখনও পেশাভিত্তিক বই লেখার প্রতি আগ্রহবোধ করেছি। এছাড়া ছাত্রাবস্থায় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রথিতযশা মনীষীদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয় আমার। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে হাতকলমে অনেক কিছু করতে হয়েছে। এর মধ্যে লেখালেখি তো আছেই। এরপর অনলাইন নিউজপোর্টালে যোগ দেওয়া ছিল আমার জীবনে একটা টার্নিংপয়েন্ট। সাংবাদিকতায় আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। সাংবাদিকতার প্রতি টান ছিল বিধায় দেশ-বিদেশের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার বই, পত্রপত্রিকা সংগ্রহ করতাম। সেগুলো পড়ার পর সাংবাদিকতা সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা গড়ে ওঠে। বাংলানিউজ২৪.কমে সংবাদ সম্পাদনায় কাজ করার সময় তৎকালীন এডিটর-ইন-চিফ আলমগীর হোসেন আমাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিতেন। সেইসঙ্গে তিনি নিউজ ডেস্ক, রিপোর্টিং ও বিভিন্ন নিউজপোর্টালের প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলি মনিটর করতেন। আমাদের সাপ্তাহিক মিটিংয়ে কোন কোন নিউজ আমরা কভার করতে পারিনি, তার একটা তালিকা আমাদের জানাতেন। সেইসঙ্গে নিউজ ডেস্ক ও রিপোর্টিংয়ের সবার কাজ তিনি মনিটর করতেন। তিনি কীভাবে মনিটর (পরিবীক্ষণ) করতেন, সে সময় তা নিজে নিজে বোঝার চেষ্টা করতাম। তখন নিউজরুম পরিচালনা, অনলাইন নিউজপোর্টালের সংবাদকাঠামোর বিস্তারিত অভিজ্ঞতা অর্জন করি। এরই মধ্যে সম্ভবত ২০১১/২০১২ সালে আমাদের বাঁশখালীর প্রতিনিধি রোকন মাহবুব আমাকে পরামর্শ দেন, আমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যেন অনলাইন সাংবাদিকতা বিষয়ে একটা বই লিখি। তখন আমার মাথায় ভাবনাটা এলো যে, বাংলাদেশে অনলাইন নিউজপোর্টালের ধারণাটা একেবারেই নতুন এবং এই ধারণার পথিকৃত হলেন বাংলানিউজের এডিটর-ইন-চিফ আলমগীর হোসেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশে বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনলাইন সাংবাদিকতার পাঠ শুরু করেন। এসব কিছু মাথায় রেখে অভিজ্ঞতাভিত্তিক যদি একটি বই লিখি, তাহলে যারা অনলাইন সাংবাদিকতায় আসতে চান, তাদের কাজে আসতে পারে ভেবে পাণ্ডলিপি তৈরি করার ভাবনাটা আসে। সেই চিন্তা থেকেই পেশাভিত্তিক এই বই – ‘অনলাইন সাংবাদিকতা অনলাইন সংবাদমাধ্যম’ পাণ্ডলিপি লিখতে শুরু করি। ২০১৫ সালে পাণ্ডলিপি তৈরি করা শেষ হলেও তা প্রকাশিত হলো ২০২৪-এর বইমেলায়। এর মধ্যে অনলাইন নিউজপোর্টালে আরো অনেক মাত্রা যোগ হয়েছে। সেগুলো নিয়ে পরে কাজ করবার ইচ্ছে আছে, এ বইটির পরের সিরিজ হিসেবে।

সাংবাদিক আশিস বিশ্বাস। ছবি: শাওন দেবনাথ

বার্তা২৪.কম: অনলাইন সাংবাদিকতায় এখনো একাডেমিক বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। আপনার এই বই সেই শূন্যতার কতখানি পূরণ করবে?

আশিস বিশ্বাস : প্রথমেই বলে রাখি, সেটি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। কারণ, প্রতিনিয়ত প্রযু্ক্তির উন্নতি হচ্ছে। তিন বছর আগে যা ছিল, তিন বছর পরে তা আর সেভাবে থাকছে না। তার সঙ্গে আরো নতুন নতুন মাত্র যুক্ত হচ্ছে। অনলাইন সাংবাদিকতা বা অনলাইন নিউজপোর্টালেও অনেক কিছু যুক্ত হচ্ছে। সাংবাদিকতাকে আমূল বদলে দিচ্ছে। এটি চলমান। সে হিসেবে বলতে হয়, আমার বইটি অনলাইন নিউজপোর্টাল সম্পর্কে একেবারে বেসিক ধারণা নিয়ে লেখা। তবে এটাও বলতে হয়, শুধুমাত্র অনলাইন সাংবাদিকতা বিষয়ে বইয়ের ঘাটতি আছে। কারণ, এটি একেবারে নতুন কনসেপ্ট আমাদের দেশে। শুধুমাত্র নিউজপোর্টাল নিয়ে লেখা বইয়ের ঘাটতি রয়েছে বাজারে। সে বিবেচনায় বইটি একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে মনে করি। বইয়ের পাণ্ডলিপি বেশ কয়েক বছর আগে তৈরি করা। এখন যদি বইটি লিখতাম,তাহলে পাণ্ডলিপির কলেবর আরো বড় হতো। কারণ, বেসিকের পর আসে অ্যাডভান্স ধারণা। তবে যখন কেউ অনলাইন সাংবাদিকতা নিয়ে পড়তে চাইবেন, জানতে চাইবেন কিংবা কাজ শুরু করতে চাইবেন, সেক্ষেত্রে বইটি ভালো একটি রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। বইটিতে সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা যেমন সন্নিবেশিত হয়েছে, তেমনি অনলাইন সাংবাদিকতার মূল ধারণাগুলোও তুলে ধরা হয়েছে এবং সেটি অবশ্যই বৈশ্বিক ধারণার প্রেক্ষিতে। সে হিসেবে বইটির গুরুত্ব আছে বলে আমি মনে করি।

বার্তা২৪.কম: ‘দেশিয় গণমাধ্যম’ ধারণার সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ধারণা কতখানি সন্নিবেশিত করেছেন এখানে?

আশিস বিশ্বাস: প্রথমেই বলে রাখি, অনলাইন নিউজপোর্টালের ধারণাটি অতিসাম্প্রতিক ধারণা। এজন্য একে ‘নিউ মিডিয়া’ বলা হয়। নিউজপোর্টালে আপনি যেমন খবর পড়তে পারছেন, সেইসঙ্গে লাইভ নিউজও দেখতে পারছেন। এটি ছাপা সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনের সমন্বিত রূপ। এখানে আপনি ২৪ ঘণ্টার প্রতি মুহূর্তের খবর জানতে পারছেন। খবরের বা কোনো ঘটনার বিশ্লেষণের ভিডিও দেখতে পারছেন। সেইসঙ্গে চলমান ঘটনার লাইভ সম্প্রচারও দেখতে পারছেন। এই ধারণাটি একমাত্র নিউজপোর্টালের মাধ্যমেই সম্ভব। এটি বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের ধারণাই পাল্টে দিয়েছে। নিউজপোর্টালের ধারণাটিই আন্তর্জাতিক এবং এর ছোঁয়া বিশ্বের প্রতিটি কোণায় কোণায় পৌঁছে যায় মুহূর্তেই। সুতরাং নিউজপোর্টাল ধারণাটি আন্তর্জাতিক। সে কারণে বদলে যাওয়া আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কথাই উঠে এসেছে ‘অনলাইন সাংবাদিকতা অনলাইন সংবাদমাধ্যম’ বইয়ে।

বার্তা২৪.কম: বইটিতে মোটাদাগে কোন বিষয়গুলো তুলে এনেছেন?

আশিস বিশ্বাস: বইটিতে অনলাইন সাংবাদিকতার ইতিহাস, অনলাইন নিউজপোর্টালের ধারণা, এর কাঠামো, সংবাদ তৈরি, শিরোনাম লেখাসহ বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সংবাদপত্রবিষয়ক বিভিন্ন আইন বইটিতে গ্রন্থনা করা হয়েছে। একজন সংবাদকর্মী সাংবাদিকতার ধারণার পাশাপাশি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনগুলিও জানতে পারবেন।

বার্তা২৪.কম: পাঠকেরা কী কারণে বইটি পড়বে মনে করেন আপনি?

আশিস বিশ্বাস: বিষয়টি উপন্যাস বা গল্পের বইয়ের মতো নয়। এটি একটি রেফারেন্স বই। একেবারেই পেশাভিত্তিক রেফারেন্স। এর পাঠক একেবারেই নির্দিষ্ট। যারা সাংবাদিকতা, যোগাযোগ, গণমাধ্যম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, শুধুমাত্র তাদের প্রয়োজনে আসবে। যারা সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয় বা অনলাইন সাংবাদিকতা সম্পর্কে জানতে চান বা কাজ করতে চান, তাদের মৌলিক ধারণা গড়তে কাজে আসবে। সে দিক থেকে এর পাঠক একেবারেই সুনির্দিষ্ট। কে কীভাবে এ বইটি কাজে লাগাতে চান, তা তার প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করবে।

যাঁরা বইটি সংগ্রহে করতে চান

‘অনলাইন সাংবাদিকতা
অনলাইন সংবাদমাধ্যম’
-আশিস বিশ্বাস
প্রকাশক
নালন্দা প্রকাশনী
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২৪
প্যাভিলিয়ন : ১৭ (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে)
বইমেলায় ২৫% ছাড়ে বইটি সংগ্রহ করা যাবে ৩০০ টাকা।

   

কদম



আকিব শিকদার
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঋতুটি শরৎ এখন পঞ্জিকার পাতায়।
বর্ষার আমেজ কাটেনি বুঝি, সারাটি আকাশ
কালো করে নামে বৃষ্টি।
একটানা ভিজে শালবন, মহুয়ার কিশলয়। সতেজ হয়-
লতানো পুঁইয়ের ডগা।

এ বর্ষণ দেখার সৌভাগ্য আমার নেই। দূর পরবাসে
বসে আমি ভাবি- আহ, কি সহজেই ভুলে গেলাম, ভুলে গেলাম
প্রিয় ফুল কদমের কথা...!
পড়ার টেবিলে দুটো কদম, আষাঢ় শ্রাবণে তরতাজা দুটো কদম
জিইয়ে রেখেছি কতো-
কাচের বোতলে। ভেজা বাতাসে কদমের হালকা সুবাস।
তিনটে বছর, মাত্র তিনটে বছর
ভুলিয়ে দিলো চব্বিশ বছরের বর্ষার স্মৃতি, যেন চব্বিশ বছর
পরাজিত তিন বছরের পাল্লায়।

পরিজন ফোন করে খবর নিতে- ‘কি পাঠাবো বল...?
কাঠালের বিচি ভাজা, চিনে বাদাম, ঝুনা নারকেল
নাকি আমের আচার...?’-ওদের তালিকায়
আমার পছন্দ অনুপস্থিত।

সাহেবদের বিলেতী ফুলের ভীড়ে
ঠাঁই নেই কদমের-
যেমন আছে কাঁদা মাটির সুঁদাগন্ধ ভরা বাংলায়।
ক্যালেণ্ডারের পাতায় দেখি
ফুটফুটে কদমের শ্বেত রেণু বিনিময়, আর অন্তরে অনুভবে
রূপ-রস-গন্ধ।

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’

;

একগুচ্ছ কবিতা



মাহফুজ পারভেজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পরাবাস্তবতা-জাদুবাস্তবতা
আপাতদৃষ্টিতে অবাস্তব অথচ বাস্তবের অধিক
অসম্ভব তবু প্রতিনিয়ত সম্ভাবনার শঙ্কা জাগায়
তারই নাম পরাবাস্তবতা
অন্যভাবে বলতে জাদুবাস্তবতা:
যেমন, এই যে আশ্চর্য সকাল
এর কতtটুকু তুমি দেখো
কতটুকু আমি
আর কতটুকু দিগন্তের ওপাশে অদেখার!
জলের উপর একলা মুখ ঝুঁকিয়ে থাকা
শেষবিকেলের মর্মবেদনা জানে
শিরীষ কিংবা কৃষ্ণচূড়ার ভাসমান পাতা
তুমি আর আমি কতটুকু জানি!
অর্থবোধ্য সীমানা পেরিয়ে
আমাদের যাতায়াত নেই
এমন কোনো ঠিকানায়
যার দিক নেই, চিহ্ন নেই, প্রতীক নেই!

সম্পর্ক

প্রিজমের টুকরোয় ছিটকে পড়া আলোয়
অধ্যয়ন করছি সম্পর্ক
সম্পর্কের উত্থান-পতন
বাঁক ও শিহরণ
লগ-ইন বা লগ-আউটে
নিত্য জন্মাচ্ছে নতুন সম্পর্ক
সম্পর্কের বিভিন্ন রং
লিখে লিখে মুছে দিচ্ছে ফেসবুক
সন্তরণশীল সম্পর্ক খেলা করছে
মানুষের জীবনের বহুদূরের ভার্চুয়ালে
সম্পর্ক হয়ে গেছে স্বপ্নময় জগতে
মনকে জাগ্রত রাখার কৌশল

জোনাকি

দূরমনস্ক দার্শনিকতায়
রাতের পথে যারা আসে
তারা যাবে দিগন্তের দিকে
আত্মমগ্ন পথিক-পায়ে।
এইসব পদাতিকের অনেকেই আর ফিরবে না
ফিরে আসবে অন্য কেউ
তার চিন্তা ও গমনের ট্র্যাপিজ ছুঁয়ে
অন্য চেহারায়, অন্য নামে ও অবয়বে।
তারপর
গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে সরল রেখায়
আলোর মশালে জ্বলে উঠবে
অনুভবের অসংখ্য জোনাকি।

নিঃসঙ্গতা

নিঃসঙ্গতা শীতের কুয়াশার মতো প্রগাঢ়
তমসাচারী মৃত পাখির নিঃশব্দ কুহুতান-স্মৃতি
নিহত নদীর শ্যাওলাজড়ানো জলকণা
দাবানল-দগ্ধ বনমর্মর:
মায়ায় মুখ আড়াল করে অনন্য বিমূর্ত বিবরে
নিঃসঙ্গতা কল্পলোকে রঙ মাখে
নীলাভ স্বপ্নের দ্যুতিতে
অস্তিত্বে, অনুভবে, মগ্নচৈতন্যে:
জীবনের স্টেজ অ্যান্ড স্ক্রিনে!

আর্কিওপটেরিক্স

পনেরো কোটি বছরের পাথরশয্যা ছেড়ে তিনি
প্রত্নজীববিদের টেবিলে চলে এলেন:
পক্ষী জীবাশ্ম দেখে প্রশ্ন শুরু হলো পৃথিবীময়
‘ডানার হলেই তাকে পাখি বলতে হবে?‘
তাহলে ‘ফ্লাইং ডাইনোসরস‘ কি?
তাদের শরীরে রয়েছে ডানা, কারো কারো দুই জোড়া!
পাখি, একলা পাখি, ভাবের পাখি খুঁজতে খুঁজতে হয়রান
বিজ্ঞানী থেকে বিপ্লবী কবিগণ
আর্কিওপটেরিক্স কি পাখির আদি-জননী?

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’

;

কবি অসীম সাহা আর নেই



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা মারা গেছেন। ৭৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা সাহিত্যের এই খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিষযটি নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

তিনি জানান, মাঝখানে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর অসীম সাহা মোটামুটি সুস্থই ছিলেন। অল্প ক’দিন আগেই আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আজ শুনি তিনি আর নেই। বর্তমানে অসীম সাহাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাকে দেখতে সেখানেই যাচ্ছি।

অসীম সাহার শেষকৃত্য সম্পর্কে তাঁর ছোট ছেলে অর্ঘ্য সাহা বলেন, তাঁর বাবা মরদেহ দান করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে গেছেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কবি অসীম সাহা। চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন, বিষণ্নতায় ভুগছেন কবি। এছাড়া পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিস রোগেও আক্রান্ত হন।

১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নানারবাড়ি নেত্রকোণা জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন কবি অসীম সাহা। পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্য বিভাগে। সামগ্রিকভাবে সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। পরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’

;

অনন্তকাল দহন



আকিব শিকদার
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঝিঝির মতো ফিসফিসিয়ে বলছি কথা আমরা দুজন
নিজেকে এই গোপন রাখা আর কতোকাল?
: অনন্তকাল।

বাঁশের শুকনো পাতার মতো ঘুরছি কেবল চরকী ভীষণ
আমাদের এই ঘুরে ঘুরে উড়ে বেড়ানো আর কতোকাল?
:অনন্তকাল।

তপ্ত-খরায় নামবে কবে প্রথম বাদল, ভিজবে কানন
তোমার জন্য প্রতিক্ষীত থাকবো আমি আর কতোকাল?
: অনন্তকাল।

তোমার হাসির বিজলীরেখা ঝলসে দিলো আমার ভুবন
এই যে আগুন দহন দেবে আর কতোকাল?
: অনন্তকাল।

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’

;