গাছ যখন গলার মালা!



ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর 'রোদের ফোঁটা', ছবি কৃতজ্ঞতা: কিংকর্তব্যবিমূঢ়

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর 'রোদের ফোঁটা', ছবি কৃতজ্ঞতা: কিংকর্তব্যবিমূঢ়

  • Font increase
  • Font Decrease

কালের ঐতিহ্য ও সময়ের চাহিদার হাত ধরে গহনায় এসেছে নানা বৈচিত্র। বিভিন্ন ধরনের গহনার মাঝে গলার হার বা মালার চাহিদা সবসময়ই ছিল বেশি। এ কারণে হার ও হার তৈরির উপাদান নিয়ে হয়েছে নানা ধরনের পরীক্ষামূলক কাজ।

একটা লম্বা সময় পর্যন্ত স্বর্ণের তৈরি গহনা ব্যতীত অন্য কোন ধাতু বা উপাদানে তৈরি গহনার চল দেখাই যায়নি। সে সময় এখন অনেক পেছনের কথা। বিভিন্ন ধাতু, মাটি কাঠ, কাপড়, পুতি, প্রেশাস-সেমি প্রেশাস পাথর, কুন্দনের তৈরি গহনা এসেছে একে একে। জনপ্রিয়তা পেয়েছে প্রায় সবগুলোই। সময় ও ফ্যাশনের চাহিদায় অবদান রাখায় প্রতিটি ভিন্ন ধাঁচের গহনাই নিজস্ব স্থান করে নিয়েছে ক্রেতাদের মনে।

কিন্তু একেবারে তরতাজা ও জীবন্ত একটি গাছ হয়ে উঠবে গলার মালা- এমনটা নিশ্চয় ভাবেননি কেউ। চমকপ্রদ ও চমৎকার এই আইডিয়া নিয়ে ‘রোদের ফোঁটা’ নামক জীবন্ত গাছ সহকারে গলার মালা নিয়ে এসেছে উম্মে আবিহা সায়মা ও জান্নাতুন নাঈম ঐশী’র হাত ধরে শুরু হওয়া অনলাইন প্রতিষ্ঠান কিংকর্তব্যবিমূঢ়

মালা

ছোট আকৃতির নল বাঁশের মাঝে নারিকেল ছোবড়ায় লাগানো ‘গ্রিন লিফ’ গাছ, সাথে গলায় ঝুলানোর জন্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে লম্বা কালো কর্ড। এভাবেই পাওয়া যাবে নান্দনিক ও ছিমছাম এই মালাটি। ইউনিসেক্স ধাঁচের এই মালাটি পরতে পারবেন নারী ও পুরুষ উভয়।

অভিনব এই গহনা নিয়ে কথা বলা হয় কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ও রোদের ফোঁটার নকশাকার জান্নাতুন নাঈম ঐশীর সাথে। বার্তা২৪.কমকে তিনি জানান, রোদের ফোঁটা তৈরির আইডিয়া বেশ আগে থেকেই ছিল। সময়ের অভাবে তৈরি করা হচ্ছিল না।

মূলত নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই রোদের ফোঁটা তৈরির আইডিয়া নিয়ে কাজ করা হয় ঐশীর। সময় স্বল্পতার জন্য নিজের দুইটি গাছের দেখভাল করতে না পারায় বন্ধুদের দিতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু তার বন্ধুদেরও বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয় বাইরে। সে সময় তিনি চাচ্ছিলেন এমন কিছু করতে, যেন গাছকে নিজের সাথে নিয়ে ঘোরা যায়, যত্ন করা যায়। এরপর তার আইডিয়া ও পুরো কিংকর্তব্যবিমূঢ় টিমের প্রয়াসে তৈরি হয় রোদের ফোঁটা।

মালা

এই গহনার মাধ্যমে জনসচেতনামূলক বার্তাও তুলে ধরা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ঐশী বলেন, ‘ঢাকা শহর কিন্তু খুব মলিন হয়ে গেছে। আপনি যখন একটা গাছ নিয়ে চলবেন বা ভ্রমণ করবেন, তখন গাছের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন, গাছের যত্ন নিবেন। আমরা এটাই চাচ্ছিলাম, মানুষ গাছকে নিয়ে ভাবুক। মানুষের সাথে গাছের সম্পৃক্ততা বাড়ুক।’

ঐশী জানালেন গহনায় ব্যবহৃত গাছটি ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। নার্সারিতে ‘গ্রিন লিফ’ নামে পরিচিত গাছ দিয়ে তৈরি হয়েছে গহনাটি। দৈনিক একবার অল্প পরিমাণ পানি ও কিছুদিন পরপর রোদের আলোতে দেওয়া হলেই সতেজ থাকবে এই গাছ।

মালা

ব্যতিক্রমী এই গহনাটি নিজের করে পেতে চাইলে যেতে হবে রাজধানী ধানমন্ডি ২৭-এর মাইডাস সেন্টারের ‘শীত রাঙতা’ মেলায়। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া দুই দিন ব্যাপী (৩ ও ৪ জানুয়ারি) এই মেলায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়-এর স্টলে মিলবে রোদের ফোঁটা। ভিন্ন ধারার এই গহনার বিনিময় মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৪০০ টাকা। মেলায় রোদের ফোঁটার সাথে আরও পাওয়া যাবে কনসেপচুয়াল ধাঁচের নোটবুক, পোস্টার, পেন্ডেন্ট ও চুড়ি।

আরও পড়ুন:

শাড়ির ক্যানভাসে উঠে আসুক গল্প!

আভিজাত্যে মনোহর মুক্তার গহনা