সংঘাতপূর্ণ ইউপি নির্বাচন

  সালতামামি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে দশমবারের মতো ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। ফাঁকা মাঠে আওয়ামী লীগ। তবে ফাঁকা মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের পরিবর্তে সহিংসতা-সংঘাতে রূপ নিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে আওয়ামী লীগ নেতারা। এতে নির্বাচন সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আড়ালে বিএনপি-জামাতের মতাদর্শী ও নেতাকর্মী এ নির্বাচনে অংশ নিতে দেখা গেছে। চার ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে ভরাডুবি হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বছর জুড়ে ছিল সহিংসতা-সংঘাত। এখন পর্যন্ত সহিংসতায় ৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

চতুর্থ ধাপে ইউপি নির্বাচন

গত ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে ৮৩৮টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগের তিন ধাপের মত এ ধাপেও বিভিন্ন জায়গা সংঘর্ষ, গুলি বিনিময়, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল, ভোটকেন্দ্র দখলসহ অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে।

২৭ ডিসেম্বর রাত ৮টায় চতুর্থ ধাপের ৭৯৬টি ইউপি নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিছু ইউপির অনানুষ্ঠানিক ফলাফল স্থগিত হওয়ায় সেগুলোর ফল ঘোষণা করা হয়নি। ইসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী নির্বাচনে ৩৯০টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। ৩৯৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ৬ জন প্রার্থী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২ জন, জাতীয় পার্টি ও জাকের পার্টির ১ জন করে প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন

২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৯৯২টি ইউপি নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ৫২৫টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। ৪৪৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

তৃতীয় ধাপ ইউপি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একজন করে এবং জাতীয় পার্টির ১৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

১ হাজার ৮টি ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মামলার কারণে ৭টি ইউপি নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন কারণে আরও ৯টি ইউপি নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করা হয়।

দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন

নভেম্বর ১১ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ৮৩৪ ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন ৪৮৬ জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র থেকে থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৩৩০ জন। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে ১০ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে চারজন এবং জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজিলিশ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একজন করে প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

জুনের ২১ তারিখ প্রথম ধাপে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৪৮ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হয়। এদের মধ্যে ১২০ জন সরাসরি ভোটে এবং বাকী ২৮জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

এছাড়াও ৪৯টি ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়। এছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে ৭ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।

স্বতন্ত্রদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার জন্য সরকার দায়ী, নির্বাচন কমিশন দায়ী। তারা তাদের দায়িত্ব তারা পালন করে নাই। ৬৪ জন লোক মারা গেছে নির্বাচন কমিশন একটা মামলাও করে নাই।

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় সহিংসতা বেশি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, সহিংসতা কারণ হচ্ছে নৌকা পাওয়া না-পাওয়ার নিয়ে। যদি দলীয় পরিচয়ে নির্বাচন না হত তাহলে এই মৃত্যুগুলো হত না।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এটা হলে অনেকে প্রার্থী হতে পারত। জনগণ ভালো মানুষকে নির্বাচিত করতে পারত।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যে নয় বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে প্রথম ইউপি নির্বাচন এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে নবম ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ১৯৭৭, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩, ২০১১ ইউপি নির্বাচন হয়েছে। চলতি ২০২১ সালে জুন জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছে দশম ইউপি নির্বাচন।

  সালতামামি

বগুড়ায় পুলিশের সোর্সকে কুপিয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় আপেল (২৭) নামের পুলিশের এক সোর্সকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বগুড়া শহরের ধাওয়া পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আপেল বগুড়া শহরের পাড় বগুড়ার (বগুড়া পাড়া) মজিবর রহমানের ছেলে।

জানাগেছে, আপেল নারুলীর ফাঁড়ি পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল আউয়ালের সোর্সের কাজ করতেন। মঙ্গলবার বিকেলে আপেল এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংবাদ দেন নারুলী ফাঁড়িতে। আপেলের তথ্য অনুযায়ী পুলিশ সেই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে দেহ তল্লাশি করে মাদকদ্রব্য না পেয়ে ছেড়ে দেন। এতে ওই ইয়াবা ব্যবসায়ী ক্ষুদ্ধ হয়ে আরও ২ সহযোগীকে নিয়ে আপেলকে খুঁজতে থাকে। রাত পৌনে ৯টার দিকে ধাওয়া পাড়া এলাকায় আপেলকে পেয়ে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাত ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে আপলের মাথায় অপারেশন চলছিল। চিকিৎসক জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নারুলী পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই আব্দুল আউয়াল বলেন, আপলের মত অনেকেই পুলিশকে সহযোগিতা করে থাকে। সহযোগিতা চাইলে আপনিও করবেন? আপেলকে কি কারণে রাম দা দিয়ে কোপানো হয়েছে, এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদকের বিষয়ে না, তাস খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে কোপানো হয়েছে বলে শুনেছি।

বগুড়া শহরের নারুলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ হাসান বলেন, ঘটনা কি নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে আপেল পুলিশের সোর্স ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

  সালতামামি

;

গৃহহীনদের জন্য তৈরি এক ঘর দুইবার হস্তান্তরের অভিযোগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গৃহহীনদের জন্য তৈরি এক ঘর দুইবার হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবলীগের একাংশের বিরুদ্ধে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দ্বিতীয়বার ঘরটি হস্তান্তর করেন।

অথচ ওই ঘরটি ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন যুবলীগের অন্য একটি অংশ।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বেতপট্রিস্থ জেলা যুবলীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান শাহীন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী যুবলীগের পক্ষ থেকে আশ্রয় কর্মসূচির ৪র্থ ধাপে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার খামার বাড়ির একটি অনুষ্ঠানে এই ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। ওই ঘর দাতা হিসেবে ছিলেন লক্ষিণ চন্দ দাস, কামরুজ্জামান শাহীন ও ডিজেল আহমেদ। অথচ একই গ্রহীতা, একই ঘর ব্যবহার করে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আজকে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। যা সত্যি লজ্জাজনক, কষ্টদায়ক।

জেলা যুবলীগের ব্যানার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দকে ভুল বুঝিয়ে এক ঘর দুইবার হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর সমাধান চাচ্ছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা জেলা যুবলীগের ব্যানার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দকে দিয়ে ঘর হস্তান্তর করে, যা তিনি করতে পারেন না। তিনি সাবেক ছাত্রনেতার ব্যানার ব্যবহার করে সেটি করতে পারতো। সেটি না করে অন্যের ব্যানার ব্যবহার করেছেন। এটি কোনভাবেই ঠিক না। আমরা এই ঘটনারও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মামুন উর রশীদ মামুন, সদস্য শেখ মাহবুব নাসির টুটুল, জাহিদুল ইসলাম, আহাদ আলী সোহেল, মাসুদ রানা বিপ্লব, সাফিনুর মমতাজ সজিব, আশিকুর রহমান সোহেল, গঙ্গাচড়া যুবলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম লেবু, সহ-সভাপতি সাজেদুর রহমান টিপু, সদর উপজেলা যুবলীগের রেজাউল ইসলাম ও সুমন শাহা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলন শেষে দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

  সালতামামি

;

শুভ জন্মদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর)।

তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা‘র জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রী তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অন্যান্য বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে ইউএনজিএ’র সাধারণ আলোচনায় অন্যান্য বছরের মতো বাংলায় ভাষণ দেন।

তার অনুপস্থিতিতেই দিনটি উৎসব মুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচি উদযাপন করবে তার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ বুধবার বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে । এছাড়াও ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। একই সঙ্গে সকাল ১০টায় ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে (বাসাবো, সবুজবাগ) বৌদ্ধ সম্প্রদায়, সকাল ৯টায় খ্রিস্টান এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে (৩/৭/এ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে। এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

একই দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে সকল সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, আনন্দ র‌্যালি, শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিল, বিশেষ প্রার্থনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ দিবসটির তাৎপর্য অনুযায়ী যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে বিভিন্ন উপযোগী কর্মসূচি উদযাপন করবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেকদের মতে ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এশিয়ার প্রায় সব দেশের ওপরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্ব, সময়োচিত পদক্ষেপ, মানুষের জন্য আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা, অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রণোদনা ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের কারণে দেশে অনাহারে একজন মানুষেরও মৃত্যু হয়নি, খাদ্যের জন্য কখনো কোথাও হাহাকার হয়নি।

শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্য অন্তপ্রাণ শেখ হাসিনা লেখালেখিও করেন। তার লেখা এবং সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। প্রকাশিত অন্যতম বইগুলো হচ্ছে- শেখ মুজিব আমার পিতা, সাদা কালো, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, আর্ন্তজাতিক সর্ম্পক উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র, সহেনা মানবতার অবমাননা, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সবুজ মাঠ পেরিয়ে ইত্যাদি।

  সালতামামি

;

চরাঞ্চলের মানুষকে স্বাবলম্বী করছে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প



তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চরাঞ্চলের মানুষকে স্বাবলম্বী করছে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প

চরাঞ্চলের মানুষকে স্বাবলম্বী করছে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল-চট্রগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় ১০৯টি ইউনিয়নের ছিন্নমূল, অসহায়, দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য কাজ করছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৪ হাজার ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল ও ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের অনেকেই গড়ে তুলেছেন খামার। এমনটাই জানিয়েছেন উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. এস এম জিয়াউল হক রাহাত।

তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, প্রকল্পটি বরিশাল ও চট্রগ্রাম বিভাগের ৮টি জেলার ২০টি উপকূলীয় উপজেলার ১০৯টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ৫০০ জন করে মোট সুফলভোগী রয়েছে। এদের শতকরা ৯০ ভাগই নারী। প্রত্যেক সুফলভোগী শুরুতে ৩ দিনের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০টি করে হাঁস বা ২০টি করে মুরগি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে হাঁস, মুরগি ও ভেড়া রাখার জন্য শেড, খাদ্য, মেডিসিন, ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সুবিধা দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ২১ হাজার জন সুফলভোগীকে ৪ লাখ ২০ হাজার হাঁস, ৮ হাজর ৯৫০ জনকে ১ লাখ ৭৯ হাজার মুরগি, ৮ হাজার ৩০০ জনকে ২৪ হাজার ৯০০ ভেড়া, ৩০ হাজার ৮০০ জনকে পশুখাদ্য এবং ৩৬ হাজর ৩০০ জনকে ১টি করে শেড দেয়া হয়েছে ।

ফেরদৌস আক্তার বেশকিছু হাঁসকে খাবার দিচ্ছেন, তাকে দেখেই যেগুলো একটু দূরে ছিল তাও এসে জড়ো হয়েছে। ঘিরে ধরেছে ফেরদৌসকে। মনের আনন্দে খাবার দিচ্ছেন। বলছিলাম কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের হাঁস পালন গ্রুপের একজন সুফলভোগীর কথা।

তিনি প্রতিবেদককে জানান, প্রকল্প থেকে তাকে প্রশিক্ষণ ও ২০টি হাঁস দেয়া হয়েছিল। এখন তার খামারে ৮০০টি হাঁস রয়েছে। প্রতিদিন ৫০০টির অধিক ডিম পান যা থেকে প্রতিদিন আয় হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় আট লাখ ৬০ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করেছেন। তার সফলতা দেখে আরও অনেকে তার মতো হাঁস পালন করতে আগ্রহী হচ্ছেন।

লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নে হাঁস পালন গ্রুপের সুফলভোগী কাজল জানান, ২০টি হাঁস দিয়ে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ২,১০০ পিস ডিম উৎপাদন ও বিক্রি করেছেন। এখন তার হাঁস ৪২টি। তিনি প্রায় ৪৫ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করেছেন। হাঁস পালন করেই তার এখন সংসার চলছে।

খামারি মো. মোখলেছুর রহমান জনান, প্রকল্প থেকে তাকে শেড, খাদ্য, মেডিসিন-ভ্যাকসিনসহ ৩টি ভেড়া দেয়া হয়েছিল। এ পর্যন্ত ১৩টি ভেড়া উৎপাদন করেছেন। পারিবারিক প্রয়োজনে ১১ হাজার টাকায় ৩টি ভেড়া বিক্রি করেছেন। রামগতি উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের ভেড়া পালন গ্রুপের সুফলভোগী এনামুল হক জানান, ৩টি ভেড়া পেয়েছেন। গত কোরবানিতে ২টি ভেড়া বিক্রি করেছেন ১৬ হাজার টাকায়।

ডা. এস এম জিয়াউল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে সমাজের বঞ্চিত ও অবহেলিত অংশ বিশেষ করে উপকূলীয় চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে এই প্রকল্প কাজ করছে। প্রকল্পভুক্ত ৫৪ হাজার ৫০০ জন সুফলভোগীর ৯০ শতাংশই নারী অর্থ্যাৎ ৪৯ হাজার ৫০ জনই নারী। তারা ঘরে বসে হাঁস, মুরগি ও ভেড়া পালন করে পরিবারের উন্নতি তথা গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছেন।

নারীর ক্ষমতায়ন, চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বেকারত্ব মোচন ও গুণগত পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে মেধাবী জনগোষ্ঠী গঠনে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

  সালতামামি

;