দেশের পর্যটন মানচিত্র পাল্টে দেবে পদ্মা সেতু

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের পর্যটন মানচিত্র পাল্টে দেবে পদ্মা সেতু। খুলনাকে হটিয়ে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হবে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। পর্যটক আগমনের দিক থেকে কক্সবাজারকেও চ্যালেঞ্জে ফেলে দিতে পারে কুয়াকাটা।

ট্যুর অপরেটর ও কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, পদ্মা সেতুর আগেই উদ্বোধন হয়েছে লেবুখালী পায়রা সেতু। এ দুই পয়েন্টে এখন ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয় কুয়াকাটাগামী যাত্রীদের। লেবুখালী সেতু চালু হয়েছে। এখন পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা থেকে সড়ক পথে কুয়াকাটা যেতে ৬ ঘণ্টার কম সময় লাগবে।

কুয়াকাটা একদিকে যেমন সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ করে দেবে অন্যদিকে খুব কম সময়ে সুন্দরবনের অন্যতম আকর্ষণীয় স্পট—কচিখালী, কটকা সৈকত, জামতলা সি বিচ, সুন্দরবন সংলগ্ন সাগরে জেগে ওঠা দ্বীপ পক্ষীর চর, ডিমের চর ঘুরে দেখার অপার সুযোগ সৃষ্টি করবে। কটকাতে হরিণপালের বিচরণ দেখতে অনেকেই ছুটে যান সেখানে। খুলনা শহর থেকে নদী পথে কটকা যেতে হলে সময় লাগে ১৫ ঘণ্টার মতো, আর মংলা থেকে সময় লাগে ১২ ঘণ্টা।

কুয়াকাটা সি বিচ

তবে কুয়াকাটা থেকে কটকায় পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো। খুলনা থেকে ওই স্পটে যেতে হলে রাত্রিযাপন ছাড়া ফিরে আসা সম্ভব না। কিন্তু কুয়াকাটা থেকে সকালে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা হরিণের সান্নিধ্যে কাটিয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব।

কুয়াকাটার পশ্চিম দিকে সুন্দরবন যেমন পর্যটকদের হাতছানি দেয় তেমনি পূর্ব দিকেও রয়েছে পর্যটনের বিশাল ভাণ্ডার। যার কথা মাথায় এলেই পর্যটকদের মন আনচান করে ওঠে। কিন্তু সময়ের অভাবে যেতে পারেন না অনেকে। সেই পর্যটন ভাণ্ডার চর কুকরি মুকরি, ঢাল চর, চর নিজামও কুয়াকাটার হাতের নাগালেই।

ঢাকা থেকে রাতে গিয়ে দিনের বেলা ঘুরে পরের রাতেই ঢাকায় ফেরা সম্ভব হবে। ছুটির দিনটি দারুণভাবে উপভোগ করা যাবে সেখানে। আর যাদের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র-শনি, পদ্মা সেতু হলে তারা তো সোনায় সোহাগা। খরচও থাকবে সাধ্যের নাগালে।

শুধু কি সুন্দরবন, সাগরকন্যা কুয়াকাটার নিজেরও রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্য। এখানে একদিকে যেমন রয়েছে সূর্যাস্ত উপভোগ করার সুযোগ, তেমনি রয়েছে অপরূপ সূর্যোদয়। রয়েছে সৈকতকেন্দ্রিক পর্যটকপ্রিয় কার্যক্রম। সৈকতের কিটকটে হেলান দিয়ে মুখে পুরতে পারবেন সাশ্রয়ী মূল্যে সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই ও বারবিকিউ। বর্ষা মৌসুমে রাতের নির্জনতাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয় সাগরের গর্জন। প্রথমবার গেলে রীতিমতো বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিতে সক্ষম সমুদ্রের গগনবিদারি ডাক।

কুয়াকাটা সি বিচ

কুয়াকাটার গা ঘেঁষে অবস্থিত ফাতরার চর, লাল কাকড়ার চর, শুঁটকি পল্লি, লালদিয়ার চর, চর বিজয়, ফকিরহাট, সোনার চর, ক্র্যাব আইল্যান্ড বা কম কিসে? একটি স্পট থেকে আরেকটির প্রকৃতি ভিন্ন, রয়েছে ভিন্ন রকম জীব-বৈচিত্র্য। এক কথায় বলতে গেলে একটির চেয়ে আরেকটি বেশি আকর্ষণীয়। দারুণ সময় কাটাতে চাইলে এসব স্থানের জুড়ি মেলা ভার।

আরও অনেক স্পট রয়েছে যেগুলো পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়। নানান দিক বিবেচনায় পর্যটনের নতুন গন্তব্য মনে করা হচ্ছে কুয়াকাটাকে। শুধু কি সড়কপথ কুয়াকাটাকে কাছে এনে দিচ্ছে তা কিন্তু নয়। এর খুব কাছেই পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে রয়েছে বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, চাকামইয়া ইউনিয়নে এয়ারপোর্টের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। শিগগিরই ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। কুয়াকাটা সৈকত থেকে যার দুরত্ব হবে ৮ কিলোমিটারের মতো।

বিমানবন্দরের দিক থেকেও খুলনাকে টেক্কা দিতে যাচ্ছে কুয়াকাটা। খুলনায় বিমানবন্দর নেই, আকাশ পথে যেতে চাইলে যশোর ঘুরে যেতে হয়। বলা যায় কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে চলছে উন্নয়ন যজ্ঞ। যারা ২০১০ সালের আগে সেখানে গেছেন তারা এখন গেলে এলাকাটিকে চিনতে পারবেন না। বিশাল বিশাল সড়ক চলে গেছে গ্রামের আনাচেকানাচে।


চমক থাকছে রেললাইনেও। ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা যাচ্ছে রেলপথ। প্রথম ধাপে বরিশাল পর্য়ন্ত লাইনের কাজ শেষ হবে। এরপর ২০২৫ সালের মধ্যে পৌঁছে যাবে কুয়াকাটা। চার ঘণ্টায় বরিশাল আর সাড়ে ৫ ঘণ্টায় কুয়াকাটা পৌঁছে দেবে পর্যটকদের। আর চাইলে নদী পথে যাওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। আধুনিক ও বিলাসবহুল অনেক লঞ্চ চলাচল করছে বরিশাল রুটে।

যাত্রী বেড়ে গেলে আরও অনেক বড় বড় কোম্পানি লঞ্চ নামানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে পূর্ব-পশ্চিমমুখী কোনো মহাসড়ক নেই। চট্টগ্রাম কিংবা নোয়াখালী থেকে বরিশাল যেতে হলে ঢাকা ঘুরে যেতে হয়। বর্তমান সরকার পূর্ব-পশ্চিমে হাইওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।

উপকূলীয় জেলা ছুঁয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে পায়রা-মংলা হয়ে বেনাপোলকে সংযুক্ত করা হবে অদূর ভবিষ্যতে। অর্থনৈতিক এই মহাসড়ক পর্যটনকেও দারুণভাবে নাড়িয়ে দেবে। বিভিন্ন অংশে মহাসড়কের কাজ এগিয়ে চলছে, শুধু ভোলায় তেঁতুলিয়া নদীতে ব্রিজ করা হলে চট্টগ্রাম থেকে পায়রা কিংবা বেনাপোল যেতে হলে ঢাকা ঘুরে যেতে হবে না। সোজা চলে যেতে পারবেন পর্যটকরা।

কুয়াকাটার প্রথম বেসরকারি উদ্যোক্তা কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কুয়াকাটা গেস্ট হাউসের প্রতিষ্ঠাতা এম এ মোত্তালেব শরীফ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে সামনে তুলে আনে। বিচ কার্নিভালসহ নানা উদ্যোগের কারণে অল্পদিনেই কুয়াকাটা মানুষের আগ্রহের জায়গায় পরিণত হয়েছে।


 

তিনি বলেন, এক সময় কুয়াকাটা যেতে হলে বরিশাল পার হওয়ার পর সাত-আটটি ফেরি পার হতে হতো। এখন সেসব নদীতে ব্রিজ নির্মিত হওয়ায় যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। ছুটির দিনগুলোতে কুয়াকাটায় থাকে উপচেপড়া ভিড়। অনেক সময় হোটেলে রুম না পাওয়ায় মানুষের বাসা-বাড়িতে থাকতে দেখেছি ‍ট্যুরিস্টদের।

কুয়াকাটার সব হোটেল-মোটেল মিলে এখন আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে ছয় থেকে সাত হাজারের মতো। একদিনে ২০ হাজার ট্যুরিস্টের রেকর্ড রয়েছে বলে জানান কুয়াকাটা গেস্ট হাউসের প্রতিষ্ঠাতা।

এম এ মোত্তালেব শরীফ বলেন, এখন বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে লোকাল বাসে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা লেগে যায়। অথচ প্রাইভেটকার নিয়ে গেলে মাত্র দেড় ঘণ্টার পথ। লোকাল বাসগুলো থেমে থেমে চলে, যে কারণে ট্যুরিস্টরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এখানে যদি ভালো বাস নামানো যায় অথবা ট্যুরিস্টদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস হয় তবে পাল্টে যাবে চিত্র। আমরা পর্যটন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনকে বলেছি, তারা না পারলে আমরা ট্যুরিস্ট বাস নামাতে চাই।

অভিজাত হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরুণ উদ্যোক্তা রাসেল খান বার্তা২৪.কমকে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে অনেক বাধা দূর হয়ে যাবে। এখন বিলাসবহুল কোম্পানিগুলোর বাস কুয়াকাটা পর্যন্ত আসে না। বরিশাল তাদের শেষ গন্তব্য। সেতু চালু হলে দেখবেন অনেক বিলাসবহুল বাস এ রুটে চলাচল করবে।

রাসেল খান বলেন, এক সময় মৌসুমেই ট্যুরিস্ট পাওয়া যেত না। এখন অফ সিজনেও ছুটির দিনে ট্যুরিস্টদের জায়গা দিতে পারি না। পদ্মা সেতু হয়ে গেছে, এখন কয়েকগুণ ট্যুরিস্ট বেড়ে যাবে। তখন মানুষ আর খুলনা হয়ে সুন্দরবন যাবে না। তারা সোজা কুয়াকাটা হয়ে সুন্দরবনে যেতে আগ্রহী হবে। এতে একদিকে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনি ভ্রমণ খরচ কমবে।

বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু আগামী ২৫ জুন যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। এটি দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির উপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় এ সেতু।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বই দেওয়ার পর এসএসসি পরীক্ষা’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার পর এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

বুধবার (৬ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা খোঁজ রাখছি নিয়মিত। এখনো কিছু কিছু এলাকায় শহর থেকে পানি নেমে গেছে, একদম গ্রাম পর্যায়ে এখনো হয়তো কোথাও কোথাও আছে। সেটাও হয়তো নেমে যাবে। কিন্তু ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। আমাদের কাছে তথ্য আসছে আমাদের অনেক পরীক্ষার্থীর বইপত্র...স্বাভাবিক, ওই বন্যার মধ্যে লোকে তার একেবারে গুরুত্বপূর্ণ যা জিনিস সেটা নিয়ে, কোনো রকমে জানটুকু নিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন অনেকে কোনোমতে। সেখানে বই নিয়ে আসার হয়তো সুযোগ হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা এখন পুরোটা অ্যাসেস করছি আমাদের কত পরীক্ষার্থীকে নতুন করে বই দিতে হবে। আমাদের কাছে প্রতি বছর কিছু বাফার স্টক থাকে। এ রকম একটা বড় অঞ্চল নিয়ে বন্যা হয়ে পরীক্ষার্থী বই হঠাৎ এই পর্যায়ে হারিয়ে যাবে সেই রকমটা আসলে আমাদের বিবেচনায় ছিল না। আর সেটা প্রতি বছর রাখা হয়তো সম্ভবও না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা দেখছি, হিসাব করছি। যদি প্রয়োজন হয় আমরা নতুন বই ছাপিয়েও ফেলবো। তারপরও আমরা পরীক্ষার্থীদের হাতে তাদের বইগুলো পৌঁছে দেবো, যাদের বই নষ্ট হয়েছে। তাদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার পরে অন্তত ২ সপ্তাহ সময় দিতে হবে, তারা বিরাট একটা ট্রমার মধ্যে দিয়েও গেছে। ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। অনেক পরিবার নিঃস্বপ্রায় হয়ে গেছে এই সময়ে। এটা হলো আমাদের মোটামুটি টাইমলাইন। সেটা গিয়ে কোন মুহূর্তে ঠেকবে সেটা বলা সম্ভব না।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

বোনের সঙ্গে প্রেম থাকায় অটোচালককে হত্যা, গ্রেফতার ৪



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠায় অটোরিকশা চালক আব্দুস সামাদকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দুই সহোদরসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার দাদরা এলাকার মো. আলাল উদ্দিনের ছেলে মো. রবিন (১৯), তার বড় ভাই মো. রোহান মিয়া (২৪), ওই উপজেলার হাটপাড়া গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমান নাঈম (১৯) ও পুঙ্গুয়াই গ্রামের মো. শাহীনুুুর ইসলাম (২২)।

জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত মো. রবিন মিয়া নিহত অটোরিকশা চালক সামাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। বন্ধুত্বের সুবাদে সামাদ রবিনের বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করতো। রবিনের বাড়িতে আসা যাওয়ার ফলে তার ছোট বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সামাদের। বন্ধুর সাথে ছোট বোনের প্রেম বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে রবিন ও রোহান জানার পর আব্দুস সামাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত সোমবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে আব্দুস সামাদের অটোরিকশা নিয়ে বিভিন্ন জায়গা ঘোরাফেরা করে সময় ক্ষেপন করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পঙ্গুয়াই উমেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে নিয়ে যায়। সেখান থেকে সামাদকে পাশে ঝোপের আড়ালে নিয়ে প্লাস্টিকের রশি ও জালের টুকরা গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করে স্কুলের সেপটিক ট্যাংকে মরদেহ ফেলে রাখে। এঘটনায় গতরাতে ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় নিহত আব্দুস সামাদের বাবা মো. শাহজাহান মিয়া অজ্ঞাত আসামি করে তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তারাকান্দা পুলিশের সহায়তায় রাতেই অভিযান চালিয়ে খুনের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

নিহত সামাদ মিয়া উপজেলার বালিখাঁ ইউনিয়নের দাদরা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। সে পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। এ ঘটনায় মো. শাহজাহান মিয়া বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

আমিন-ফাতেমা দম্পতির কাছে তিন কোটি টাকা পাওনা ছিল আনিসের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রসাধনসামগ্রী প্রস্তুতকারী কোম্পানি হেনোলাক্সের মালিক মো. নুরুল আমিন ও তোর স্ত্রী ফাতেমা আমিনের কাছে ব্যবসায়ী গাজী আনিসুর রহমান তিন কোটি টাকা পেতেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

বুধবার (৬ জুলাই) দুপুরে গাজী আনিসের সঙ্গে আমিন-ফাতেমা দম্পত্তির ব্যবসায়িক লেনদেন, বিনিয়োগসহ সার্বিক বিষয়ে কারওয়ার বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব। এসময় তিনি একথা জানান।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গাজী আনিসের সঙ্গে লেনদেনে টাকার পরিমাণ নিয়ে আসামিদের আপত্তি আছে। লেনদেন হয়েছে তা তারা স্বীকার করেছেন। বিভিন্ন সময়ে চেকে ও নগদে ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে গাজী আনিসের লভ্যাংশসহ ন্যায্য পাওনা তিন কোটি টাকা। এটা নিয়েই মূলত তাদের মধ্যে একাধিকবার বাকবিতণ্ডা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ৪ জুলাই বিকেল পৌনে ৫টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতা ও ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান নিজের গাঁয়ে পেট্রোল জাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে মঙ্গলবার (০৫ জুলাই) ভোর সোয়া ৬টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান তিনি।

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে এক পোস্টে আনিস দাবি করেন, হেনোলাক্স গ্রুপে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হন তিনি। মৃত্যুর পর রাজধানীর শাহবাগ থানায় হেনেলাক্স কোম্পানির চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাতেমা আমিনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন আনিসের বড় ভাই নজরুল।

এ ঘটনায় নুরুল আমিন ও ফাতেমা আমিনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এদিন সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটি জানায়, ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা দিলেও তা লাভ-আসল মিলে দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি টাকায়। যার মধ্যে ৭৪ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন নুরুল আমিন। ৪ তারিখ চেক দেওয়ার কথা স্বীকারও করেছে গ্রেফতারকৃত দম্পতি।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

ব্লগার অনন্ত হত্যার আসামি ফয়সল ভারতে গ্রেফতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ (৩২) হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফয়সল আহমেদকে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। গত ১ জুলাই কলকাতা পুলিশের বিশেষ শাখা স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) একটি দল দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিসিটিসি) একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কলকাতা পুলিশের বরাত দিয়ে সিসিটিসি সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই বেঙ্গালুরুর বোম্মনাহাল্লি থেকে ফয়সলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ৩ জুলাই তাকে কলকাতায় আনা হয়।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইবুনাল অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় ৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দেন।

মুত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে একজন ছিলেন ফয়সল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ৩ আসামি হলেন- আবুল খায়ের রশীদ আহমেদ, আবুল হোসেন ওরফে আবুল হুসাইন ও হারুনুর রশীদ। এদের মধ্যে আবুল হোসেন ও হারুনুর রশীদ এখনো পলাতক আছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারে নুরানি আবাসিক এলাকায় নিজ বাসার সামনে খুন হন বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ‘যুক্তি’ নামের বিজ্ঞান বিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

এ ঘটনায় অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৯ মে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী। এতে ৬ জনকে অভিযুক্ত ও সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন, খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ, কানাইঘাটের পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াইয়া ওরফে মান্নান রাহী ওরফে এ বি মান্নান ইয়াইয়া ওরফে ইবনে মঈন, কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ এবং সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকার সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান।

তাদের মধ্যে ফারাবী ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে মান্নান রাহী আদালতে অনন্ত হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এদের মধ্যে ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর মান্নান রাহী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আসামিদের মধ্যে আবুল হোসেন, ফয়সাল আহমদ ও মামুনুর রশীদ পলাতক রয়েছে।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;