দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান



মহীবুল আজিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দারোগা তাদের বোঝাতে থাকে। তারা যেভাবে হাসিঠাট্টা আর গল্পগুজবের মধ্য দিয়ে উদ্গত আগুনের ব্যবহারে লিপ্ত সেটা কোনভাবেই আইনসঙ্গত কর্মতৎপরতা নয়। কেননা, প্রথমত এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। আগুন যে ক্ষুদ্র শিখা থেকে বৃহৎ ও বৃহত্তর হয়ে দিক-দিগন্তে ছড়িয়ে পড়বে না তার গ্যারান্টি কে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, যদি সেখানে গ্যাস বা তেল থেকেও থাকে সেটা ব্যবহার করবার মালিক খায়ের বা তার প্রতিবেশী বা এমনকি দ্বীপের কেউই নয়। দেশের যে-কোন স্থানে তেল-গ্যাস দেখা দিলে সেটা কর্তৃপক্ষের গোচরে আনা এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো নাগরিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এক্ষেত্রে স্পষ্টত তার ব্যত্যয় এবং লঙ্ঘন ঘটেছে। সে-হিসেবে খায়ের এবং তার স্ত্রী জান্নাত প্রাথমিকভাবে অপরাধমূলক কাজ সম্পাদন করেছে। পুলিশের কাছে খবর রয়েছে, খায়েরই প্রথম উদ্গত গ্যাসে প্রথম আগুনের শিখাটি জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং সেই শিখা এখন আর নিভছে না। নিভভে কেবল গ্যাস ফুরিয়ে গেলে বা যারা এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ একমাত্র তাদের পক্ষেই এর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। যদি ক্ষেত্রটিতে গ্যাস মিলেই যায় তাহলে অবশ্যই খায়েরের কাজটি প্রশংসনীয় বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং সম্পদ-সুরক্ষার উদ্যোগ হিসেবে আশু-দায়িত্ব পালন করবার জন্যেই দারোগা-পুলিশের আগমন। দারোগার কথার ফাঁকে-ফাঁকে যুবক আলোকচিত্রী অগ্নিশিখা, ডোবা, ডোবার চারপাশ, খায়েরের ঘরবাড়ি, বাড়িতে সুপুরির বেড়া এসবের ছবি তুলতে থাকে। এইসব দেখে কয়েক মুহূর্তের জন্যে গর্ব অনুভব করতে থাকে খায়ের। স্মিত সে তাকায় জান্নাতের দিকে। জান্নাতও গর্বিত হয়েছে, এমন ভাব তার অবয়বে থাকে।

এসবই হলো তাত্ত্বিক কথা মানে সবটাই অনুমাননির্ভরতা। বাস্তবের মুখোমুখি হলে খায়ের কিংবা জান্নাতের সামনে একটা বড় জীবন-ঝুঁকি এসে দাঁড়ায়। দারোগা তাদের জানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। খায়ের এবং জান্নাতকে জায়গাটা ছেড়ে দিতে হবে। তাদের জন্যে সুবিধাজনক একটা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির মীমাংসা না-হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের বাসস্থানে থাকতে পারবে না। পুরো জায়গাটা চিহ্নিত করে দেওয়া হবে বিশেষ ধরনের সীমানা-নির্ধারক ফিতের মাধ্যমে। অনুমোদিত লোক ছাড়া কেউ সেই সীমানা অতিক্রম করে সীমানার অভ্যন্তরে যেতে পারবে না। যদি সেই নির্দেশের কোন লঙ্ঘন পরিলক্ষিত হয় সরকারি আইনে সেটিকে গর্হিত কাজ বলে গণ্য করা হবে। শুনে প্রথমে ভয়ে সিঁটিয়ে যেতে থাকলেও তাদের জন্যে থাকবার ব্যবস্থা হয়েছে শুনে কিছুটা স্বস্তি বোধ করে খায়ের। তাদেরকে একদিন সময় দিয়ে দারোগা বলে, একদিনেও অনেক বিপদ ঘটতে পারে। তবে খায়ের এবং জান্নাতের সংসার তত সম্পদশালী না-হওয়ার কারণে বাসস্থানত্যাগ খুব ঝক্কির ব্যাপার নয়। কিন্তু খায়েরের মনে অন্য আশঙ্কা জেগে উঠেছিল- যদি সত্যি-সত্যি তেল-গ্যাস এ-ক্ষেত্রে মিলেই যায় তাহলে এর আদি আবিষ্কর্তা হিসেবে সে কী এর অংশভাক্ হবে যদি সে তার জায়গাটা ছেড়ে চলেই যায়। দারোগা-পুলিশেরা কোন ফন্দিফিকির নিয়ে হাজির না তো! মনের মধ্যে একটা ধাঁধার ধোঁয়াশা তৈরি হয়। আবার তার অন্য মন বলে, যেহেতু দারোগা-পুলিশ তাদের কর্তব্যরত অবস্থায় ইউনিফর্ম পরিহিত হয়ে এসেছে সেহেতু তারা মিথ্যে বলছে না। তাই সে আর কালবিলম্ব না করে তাগাদা দেয় স্ত্রী জান্নাতকে- তাড়াতাড়ি গোছগাছ কইরা লও। ওগো কথা না মানলে আবার না প্যাদানি লাগায়। দারোগার হাতে তার কর্তব্যসুলভ লাঠি দেখা যায়।

আরও পড়ুন দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান (পর্ব-১)

কিছুদিনের মধ্যেই সুবর্ণদ্বীপ পরিণত হয় আন্তর্জাতিক বিষয়বস্তুতে। দ্বীপের লোকেদের তা জানবার কথা নয়। প্রথমে সংবাদ ছাপে জাতীয় কয়েকটি দৈনিকে। তারপর একজন/দু’জন করে প্রায় সবাই জানতে পারে, পশ্চিমপাড়ায় গ্যাস-তেলের সন্ধান-লাভ। কত কথা যে ছেপেছে পত্রিকায়। উৎসের কাছাকাছি থেকেও এসবের কিছুই জানা নেই তাদের। অথচ তারা বলছে, অনেক গ্যাস আর তেল নাকি মজুদ আছে সুবর্ণদ্বীপে মাটির নিচে। একদিন গোটা মাটিটাই ছিল সাগরতলে। হয়তো সেই মাটির সঙ্গে লাগানো সাগরেও বয়ে চলেছে তেলের নহর। অনেকেই বলছে, একশ’ বছর ধরে জ্বালালেও সেই গ্যাস ফুরাবে না। ভাবা যায়, একে শূন্য দশটা বছর ধরে গোটা দ্বীপের সব লোক ভাত-মাছ-মাংস-তরিতরকারি-নাস্তা তৈরি করছে এই গ্যাসে। আবার, খাওয়ার পানি সেদ্ধ করছে। কিংবা বর্ষাকালে প্রয়োজনে ভেজা কাপড় শুকিয়ে নিচ্ছে গ্যাসের চুলোর ওপরে ঝুলিয়ে রেখে। সে এক এলাহি কাণ্ড। জাতীয় দৈনিকের স্থানীয়তার সীমানা ডিঙ্গিয়ে যখন খায়ের-জান্নাতের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাজাত সেই গ্যাস-তেলের সংবাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য ফ্রিকনমিস্ট’ পত্রিকায় ছাপা হলো তখন সেটা রীতিমত হৈচৈ তুলে দিল। যে-ডোবাটা খায়ের-জান্নাত রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পেতো, এখনও পায়, খানিকটা দূর থেকে এসে এবং দেখতে পায় দ্বীপের প্রায় সমস্ত লোক সেই ডোবার ছপি ছেপেছে হাজার-হাজার মাইল দূরের দেশের কাগজে। শুনে অভিভূত বোধ করে সবাই। খায়ের এবং জান্নাতের কথাও সেই বিদেশি কাগজের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে। লোকে এসে জানিয়ে যায় তাদেরকে।

প্রতিবেদনটিতে সুবর্ণদ্বীপের একমাত্র বিদেশি লুইগি পালোমারের কথাও থাকে। লুইগি জানতো না, এমন তেল-গ্যাসের ব্যাপার তার নিরাময়-কেন্দ্রের কাছাকাছি কোথাও ঘটে যাচ্ছে। সেদিনকার সেই ঘটনায় একটু সে বিষন্নই হয়েছিল যখন ফিলিস্তিনে ইজরায়েলি হামলার প্রতিশোধে দুই যুবক রাতে তাকে হত্যা করবার জন্যে এসে এখন জেলখানার খাবার খাচ্ছে। তবে, লুইগি খুব উৎফুল্ল সংবাদটিতে। সে জানায়, সুবর্ণদ্বীপের বাসিন্দারা গরিব হলেও সুখি এবং তারা সহজ-সরল, বিভিন্ন পরিবেশে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর এক বিস্ময়কর দক্ষতা তাদের রয়েছে। তবে তারা অত্যধিক পরিমাণে ভাত-নির্ভর। লুইগি এ-ও জানায়, একই ভাত, শুনেছে কেউ খাচ্ছে দামি মাছ-মাংস-ডিম এসব দিয়ে আবার কেউ খাচ্ছে একটুখানি আলুভর্তা-ডাল বা এমনকি সবুজ রংয়ের কাঁচামরিচ প্লেটে ভাতের মধ্যে চটকে দিয়ে সামান্য একটু নুন মিশিয়ে। অথচ তারা নির্বিকারভাবে এই ভাতের সন্তুষ্টি নিয়ে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ কাটিয়ে দিচ্ছে। সত্যি আশ্চর্য এই সুবর্ণদ্বীপের অধিবাসীরা। এক ধরনের উত্তেজনার সঞ্চার ঘটে সুবর্ণদ্বীপে। তবে অধিকাংশ লোকের তাতে উৎসাহ কম। এইসব উত্তেজনায় যেহেতু পয়সার কামাই নেই, অর্থের নগদ সম্ভাবনা নেই তাই তারা চিবুকে হাত ঠেকিয়ে তাদের আকাশের দিকে তাকিয়ে উদাসভাবে মন্তব্য করে, কার তেল কার গ্যাস, পাওয়া গেল আমার পায়ের তলে আর পাইপ লাগাইয়া টাইনা লইয়া যাইবো গা অন্য মাইন্ষে, অত লাফালাফি কইর‌্যা লাভ কী!

আরও পড়ুন➥ দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান(পর্ব-২)

দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান (পর্ব-৩)

দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান(পর্ব-৪)

দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান(পর্ব-৫)

দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান(পর্ব-৬)

দ্বীপ অথবা একটি আন্তমহাদেশীয় উপাখ্যান(পর্ব-৭)

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী ১১ বিভাগে ১৫ জন এবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির সদস্য সচিব এ এইচ এ লোকমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম জানানো হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন:

কবিতায় আসাদ মান্নান ও বিমল গুহ, কথা সাহিত্যে ঝর্না রহমান ও বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রবন্ধ/গবেষণায় হোসেন উদ্দিন হোসেন, অনুবাদে আমিনুর রহমান, রফিক উম মুনীর চৌধুরী, নাটকে সাধনা আহমেদ, শিশুসাহিত্যে রফিকুর রশীদ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় পান্না কায়সার, বঙ্গবন্ধু বিষয় গবেষণায় হারুন-অর-রশীদ, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞানে পরিবেশ বিজ্ঞানে শুভাগত চৌধুরী, আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে সুফিয়া খাতুন, হায়দার আকবর খান রনো এবং ফোকলোর বিভাগে আমিনুর রহমান সুলতানা।

অমর একুশে বইমেলা-২০২২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি অথবা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

;

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার পেলেন আহমদ রফিক ও মাসরুর আরেফিন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন

  • Font increase
  • Font Decrease

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার পেলেন দুই প্রজন্মের দুই কথাসাহিত্যিক।

আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯ পেয়েছেন ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এবং কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিন। ‘ভাষা আন্দোলন: টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’ প্রবন্ধের জন্য আহমদ রফিককে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ‘আগস্ট আবছায়া’ উপন্যাসের জন্য মাসরুর আরেফিনের নামের পাশে যোগ হয়েছে পুরস্কারটি।

করোনা মহামারির কারণে এবার অনলাইনের মাধ্যমে নির্বাচিত দুই প্রজন্মের দুই কথাসাহিত্যিককে সম্মাননা জানানো হয়। গত ১৫ জানুয়ারি এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। এছাড়া ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী শাহ এ সারওয়ার।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সমসাময়িক লেখকদের স্বীকৃতি দিতে আইএফআইসি ব্যাংক ২০১১ সালে চালু করে ‘আইএফআইসি ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার’। প্রতিবছর পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয় সেরা দুটি বই। নির্বাচিত প্রত্যেক লেখককে পাঁচ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র পেয়ে থাকেন।

;

ওমিক্রণে থমকে গেছে বইমেলার আয়োজন



সজিব তুষার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

এবারও থমকে গেছে লেখক পাঠকের প্রাণের আসর অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ। তুমুল উৎসাহ আর ব্যাপক উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও কোভিড- ১৯ এর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্ক থামিয়ে দিয়েছে কাজ। একটা বড় অংশের কাঠামো তৈরি হয়ে গেলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে গর্ত আর স্তূপ স্তূপ বাঁশ।

বরাবরের মত এ বছরেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা অমর একুশে বইমেলা-২০২২। সে অনুযায়ী, কাজ শুরু করে দিয়েছিলো আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। প্রায় শেষ হয়ে এসেছিলো প্রকাশনী গুলোর রেজিস্ট্রেশন ও লটারি পূর্ববর্তী কার্যক্রম। কাজ চলার মাঝেই বাঁধ সাধে বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

গত ১৬ জানুয়ারি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ গণমাধ্যমকে জানান, 'করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বইমেলা। মেলার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বাংলা একাডেমির। সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু করা যেতো বইমেলা'। 

সরকারের এই ঘোষণার পর থমকে গেছে পুরো উদ্যমে শুরু হওয়া মেলার স্টল তৈরির কাজ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, স্টল তৈরির জন্য মাঠে কাঠামোর বেশ খানিকটা তৈরি হয়ে আছে। জায়গায় জায়গায় পুঁতে রাখা রয়েছে বাঁশ। কিন্তু কাজ করতে দেখা যায়নি কোনও শ্রমিককে।

এবারের বই মেলায় প্রথম বই প্রকাশ হবে এমন এক তরুণ লেখক বায়েজিদ হোসেন বলেন, 'ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আমাদের রক্তে গেঁথে গেছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনার তোপে পণ্ড হয় গতবারের মেলাও। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো রাস্তায় বসে যাবে। এমন চলতে থাকলে খুব দ্রুতই অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হবেন তারা। এখন পর্যন্ত যেটুকু টিকে আছে সেটা নষ্ট করে ফেললে; শিল্প সংস্কৃতির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না'।

যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলা সঠিক সময়ে শুরু করার পক্ষে কথা বলেন তিনি।

বাঁশ দিয়ে বইমেলা স্টলের কাঠামো নির্মাণের পর থেমে আছে কাজ।ছবি: বার্তা২৪.কম

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গ্রন্থিক'র প্রকাশক রাজ্জাক রুবেল বলেন, 'গতবারের মেলার অভিজ্ঞতার পর এবছর আর রিস্ক নেব বলে মনে হচ্ছে না। সম্ভব হলে জমা দেওয়া টাকাটা ফেরত আনার ব্যবস্থা করবো'।

স্টলের রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য বাবদ খরচের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'দুটা স্টলের জন্য জমা দিতে হয়েছে আগের থেকেও বেশি। ডেকোরেশন খরচ। স্টলের লোকের খরচ। তাদের এমন সিদ্ধান্তে আমি কোনভাবেই লস আটকাতে পারবো না'।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিতে গেলে কেউ কিছু বলতে পারেন নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, "মহাপরিচালক- প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মিটিং করে সিদ্ধান্ত জানানো পর্যন্ত কেউ কিছু বলতে পারবো না"।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থেকে তোলা বইমেলার প্রস্তুতিকালীন কাজের একাংশের ছবি। ছবি- বার্তা২৪.কম

 

এর আগে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকেই নেওয়া হচ্ছে বইমেলা শুরুর প্রস্তুতি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছরও মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দেড় মাস পিছিয়ে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয় অমর একুশে বইমেলা। আবার নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে ১২ এপ্রিলই টানে ইতি। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে দু'সপ্তাহ পিছিয়ে দিলে আদতে বই মেলা হবে কি না এ নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। বইমেলা মানেই হাজার মানুষের ভিড়। লেখক পাঠকের সমারোহ। তবে একের পর এক মেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গুলো মেলা করবে কি না তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন সচেতন মহল।

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেলা হোক চান বড় একটা অংশের নেটিজানরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বেশ আলোচনাও তুলছেন তারা।


উল্লেখ্য, মুক্তধারা প্রকাশনীর মালিক চিত্তরঞ্জন সাহা বাংলা একাডেমির গেইটে ১৯৭২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে চট বিছিয়ে শুরু করেন বই বিক্রি। ১৯৭৭ সালে তার সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেকে। ১৯৭৮ সালে এ বইমেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় বাংলা একাডেমিকে। তখন মহাপরিচালক ছিলেন আশরাফ সিদ্দিকী। পরের বছরই বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি যুক্ত হয় মেলার সঙ্গে।

মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকার সময় ১৯৮৩ সালে 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা' নামে এ মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা আর করা যায়নি। পরের বছর বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে আসর বসে 'অমর একুশে বইমেলা'র। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি জুড়ে কাগজের বইয়ের মুহুর্মুহু গন্ধ মাখা বইমেলাই যেন দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় ভাষা সংগ্রামের কথা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকার জ্যাম ঠেলেও ফেব্রুয়ারিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাণের গন্তব্য হয়ে দাঁড়ায় ভাষা ও বইপ্রেমী মানুষের কাছে। সবাই চায় বইমেলা ফিরে পাক তার আগের জৌলুশ। বইয়ের সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মের এই মিল বন্ধনের পুণ্যভূমি বেঁচে থাকুক সব অশুভ ছায়া থেকে।

;

অন্বেষণ মানে তো খোঁজ, এই খোঁজ হল আত্ম-অন্বেষণ...



সুবর্ণা মোর্শেদা, চিত্রশিল্পী
সুবর্ণা মোর্শেদা

সুবর্ণা মোর্শেদা

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজেকে খোঁজার যে তাগিদ, আমার মধ্যে সেটা সবসময়ই কাজ করে। এই তাগিদ থেকেই আমার কাজের শুরু বলা যেতে পারে। সবসময় মনে হয়, নিজেকে খোঁজার চেয়ে কঠিন কিছু নাই। গত দুই বছরে সেই খোঁজার তাগিদ আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। এই সময়ে অন্যদের সঙ্গে যখন কথা বলেছি, তার মাঝেও নিজেকেই খোঁজার চেষ্টা চলতো। লকডাউনের বেশ আগে থেকেই নিজেকে অনেক বেশি আইসোলেশনে নিয়ে যাই আমি—একটা নিরঙ্কুশ একাকীত্বের মধ্যে চলে আত্ম-অনুসন্ধানের কাজ। সো, লকডাউন আমার জন্য খুব নতুন কিছু ছিলো না। শুধু বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন করে থাকাটা ছিলো একেবারে নতুন।


২০১৯-এর একটা সময় আমি খুব অন্ধকারে ডুবে যাই। স্বভাবগত দিক থেকে রঙিন মানুষ হয়েও একটা গভীর ব্যক্তিগত কারণে আমার জীবন হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ সাদা-কালো। আর এ সময়টাতেই নিভৃতে অনেকগুলো কাজ করে ফেলি। কখনো লিথোগ্রাফ, কখনো পেন্সিল স্কেচ আর কাগজে সেলাই করে করা এ-কাজগুলোই আমাকে সেই গভীর অন্ধকারেও বেঁচে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছে। কাগজে সেলাই করে শিল্পকর্ম নির্মাণের একটা আলাদা আনন্দ আছে। সেটা হলো স্পর্শের আনন্দ।


এই স্পর্শকে কেমন করে দেখাবো! সেলাইয়ের উঁচু-নিচু অংশগুলোকে আমি বলি স্পর্শের প্রতীক। এর মধ্য দিয়ে স্পর্শের অনুভূতিকে অন্যের মনে সঞ্চার করা যায়। বড় হওয়ার পর, জীবনে এই প্রথম আমি মায়ের সাথে বাবার সাথে এতো দীর্ঘ সময় আমি কাটানোর অবকাশ পেয়েছি। আমার মায়ের গাছ লাগানোর শখ অনেক আগে থেকেই। সেই শখ লকডাউনে আরো তীব্র হলো।

তাঁর লাগানো গাছগুলো যতো বড় হচ্ছিলো, আর তাঁর বয়স যেন ততোই কমছিলো। গাছে ফল ধরা, ফুল ধরা দেখে তাঁর কী যে এক আনন্দ! সব মিলে যেন এক অপার্থিব অনুভূতি! তো, আমি তাঁকে একজন সফল চাষী হিসেবে ঘোষণা করলাম। দীর্ঘদিন ধরে আমি গন্ধ, স্পর্শ নিয়ে কাজ করি। এবার মায়ের গন্ধের সঙ্গে যোগ হলো মায়ের বাগানের গন্ধ-স্পর্শ।


গাছগুলোর পাতা যখন ঝরে পড়ে, সে-পাতার রং, শেইপকে আমার কাজের সঙ্গে সংযুক্ত করা আর স্পর্শগুলোকে ধরার জন্যই আমার কাগজে সেলাই করার কাজ। আমার ঘুমের সমস্যা আছে। রাতে ঘুম হয় না বা হতো না সেই অন্ধকার সময়গুলোতে। ঘুম না হওয়ার কারণে যে সকালে খারাপ লাগতো তা-ও না। সকালের গন্ধ আমার খুব প্রিয়।


এরমধ্যেই হলো মায়ের করোনা। দীর্ঘ ১ মাস ধরে মায়ের সিরিয়াস কন্ডিশন । আমি বুঝতে পারতাম, গাছগুলোও মাকে খুব মিস করছে। এদিকে মা তো হসপিটালে অক্সিজেন নিতে ব্যস্ত! ২৪ ঘন্টাই মায়ের সঙ্গে থাকি। তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়া-- কখনও ভালো, কখনও মন্দ। অবশেষে মায়ের জয়ী হয়ে ঘরে ফেরা। তাঁর সঙ্গে আবার তাঁর গাছেদের সেই নিবিড় সম্পর্ক--গভীর বন্ধুত্ব!

পুরো সময়টাই যেন কবিতার মত, প্রেমের কবিতা! আমার সাদা-কালো ক্যানভাসে ছড়িয়ে দেওয়া রঙের মত! অন্ধকারে অপরূপ আলোর মত। আমার ছবিগুলো যেন জীবনের মত! আমার জীবন যেন আমার ছবির মতো!

সকলকে আমন্ত্রণ!


চিত্রকর্ম প্রদর্শনী: ‘অন্বেষণ’
শিল্পী: সুবর্ণা মোর্শেদা (তৃতীয় একক প্রদর্শনী)
স্থান: ইএমকে সেন্টার
প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন: অধ্যাপক জামাল আহমেদ, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, তাওহিদা শিরোপা।
মাধ্যম: লিথোগ্রাফ, সায়ানোটাইপ, পেন্সিল স্কেচ, জলরংসহ বিভিন্ন মাধ্যম
সংখ্যা: মোট ৪২টি শিল্পকর্ম
চলবে: ১৫-৩০ জানুয়ারি
শো কিউরেটর: রেজাউর রহমান

;