জাবি: বন্ধ ঘোষণা সমস্যার সমাধান নয়

  জাবি উপাচার্য অপসারণ আন্দোলন

ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease
অবশেষে তাই হলো, যা সবাই আশংকা করছিলেন। বিবদমান শিক্ষক গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থানের ফলে সৃষ্ট উত্তেজনা ও উত্তাপের মুখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
  
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ক্যাম্পাসের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান নয়, তা জাবির সর্বশেষ পরিস্থিতিতে প্রতীয়মান। শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও কেউ সেটা মানছে না। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বরং আন্দোলনে যোগ দিয়েছে।
 
জাবি'র সমস্যা ও উতপ্ত পরিস্থিতি নতুন নয়। বেশ কিছুদিন ধরেই সেখানে সংকট চলে আসছে। ক্রমে ক্রমে পরিস্থিতি মারাত্মক হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সংঘাতময় রূপ নিয়েছে, যার পরিণতিতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে।
 
ক্রম-অবনতিশীল জাবি পরিস্থিতি নিয়ে মিডিয়া সবিস্তারে তাৎক্ষণিত সংবাদ দিয়েছে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি এমন নয় যে, সকলের চোখের আড়ালে ঘটনাগুলো ঘটেছে। ঘটনার কারণ সবার জানা এবং পক্ষ, বিপক্ষ ও তাদের কার্যক্রম হয়েছে প্রকাশ্যে।
 
কিন্তু এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। সমস্যার নিরসনে নেওয়া হয়নি দৃষ্টিগ্রাহ্য উদ্যোগ। ফলে সমস্যা বাড়তে বাড়তে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়কেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার কারণ সৃষ্টি করেছে। 
 
কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্যার সৃষ্টি হলে সমস্যা জিইয়ে রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা কোনও সমাধানের পথ নয়। ববং অনির্ধারিত বন্ধ ঘোষণার কারণে সেশনজট বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের অবর্ণনীয় ক্ষতির পাশাপাশি সমস্যারও তীব্রতা বাড়বে। এমনকি, এর ফলে নতুন ধরনের সমস্যার উদ্ভব ঘটবে, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতিশীল করবে।
 
জাবিতে যা হয়েছে এবং এখন যা হচ্ছে, তাতে সমস্যার সমাধানের লেশমাত্র ইঙ্গিত নেই। বরং আরও সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সংকট সমাধানের বদলে আরও ঘনীভূত হবে। 
 
এতে কার লাভ? বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল ও অচল হলে এবং শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হলে সরকারের কোনও লাভ তো হবেই না, বরং ক্ষতি হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় নাজুক জায়গা। এখানকার কোনও কোনও স্ফুলিঙ্গ দাবানলের সৃষ্টি করতে পারে। অতীতে বহুবার এমন হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর বহু উদাহরণ রয়েছে।
 
জাবি'র সমস্যা সমাধানে এ যাবত দীর্ঘসূত্রিতা ও  বিলম্বের কারণে তা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল ও বন্ধ হওয়ার পথে নিয়ে গেছে। সমস্যার সমাধানে যদি আরও বিলম্ব করা হয়, তাহলে বিপদের ও সংকটের ঝুঁকি আরও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত হয়ত সৃষ্টি হবে চরম অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট। তা কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।
 
ফলে এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে জাবি'র সমস্যার সমাধান করা দরকার এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত করে পাঠক্রমে ফিরিয়ে আনানো প্রয়োজন। নচেৎ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে এবং বড় রকমের বিপদ আসতে পারে।   
 
পাশাপাশি শিক্ষকদের বিবদমান পক্ষগুলোকে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পরিস্থিতি যেভাবে মুখোমুখি সংঘাতের পর্যায়ে পৌছুতে পেরেছে, তাকে উভয় পক্ষ মিলেই সামাল দিতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং মারাত্মক কিছু ঘটতে পারে, যার দায়-দায়িত্ব বর্তাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপর। 
 
শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে কোনও ধরনের আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা যে মোটেও শিক্ষকসুলভ দায়িত্বশীলতা নয়, তা সংশ্লিষ্টদের অনুধাবন করতে হবে। আত্মস্বার্থে বৃহত্তর শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, এ সত্য সকলেই যদি আন্তরিকভাবে হৃদয়ঙ্গম করেন, তবেই মিলবে সংকট মোচনের পথ ও পন্থা। 
 
কিন্তু অবস্থা তেমন মনে হচ্ছে না। আন্দোলন আরও তীব্রতর হচ্ছে। সবশেষ খবরে তাই জানা যাচ্ছে। 
 
অতএব, জাবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই। বিশেষ করে জাবির অবনতিশীল পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে চুপ করে বসে থাকা মোটেও সমীচীন হবে না। সংকট ও সমস্যার পেছনে জড়িতদের কঠোর হস্তে দমন ও নিবৃত্ত করে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে সরকারকেই।

আপনার মতামত লিখুন :

  জাবি উপাচার্য অপসারণ আন্দোলন