নাসিক নির্বাচনের ভোট চিত্র

  নাসিক নির্বাচন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

  • Font increase
  • Font Decrease

বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ 

সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনে সহিংসতা রোধে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ভোট দিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ভোট দিলেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এর মাধ্যমে ভোট হচ্ছে

ইভিএম এ ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা

ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন

উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন


ইভিএমে ত্রুটি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা

  নাসিক নির্বাচন

ভালোবাসার সমগ্র জুড়ে সুষম সমতা থাকা চাই 



শরীফুল আলম, নিউইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

সব প্রাণীই মনের মত একটা স্বগোত্রের পাশাপাশি, কাছাকাছি থাকতে চায় আর সে জন্যই মানুষ ঘর বদলায়, সম্পর্ক বদলায়, বন্ধুত্ব বদলায় এমন কি স্থানও বদলায়। কেউ কেউ মনের মত পেয়েও যায় আবার কেউ সারাটা জীবন আক্ষেপ নিয়ে থাকে এর কারণ হচ্ছে সে নিজেকে বদলায় না অথচ অন্যকে বদলাতে চায়। 

বছরের পর বছর প্রেমের মহরত, কসরত এগুলো সেকেলে এবং বেশ পুরনো মডেল। আজকাল মানুষের হাতে অফুরন্ত সময় নেই। সুষম প্রশান্তিটাই মানুষের এখন চূড়ান্ত লক্ষ্য। ভালোবাসার চাহিদায় দুইতৃতীয়াংশ পূর্ণ হলেই যোগ্যতার মাপকাঠিতে সফল ভালোবাসা বলে ধরে নেয়া যায়। ভালোবাসা মানে আমার কাছে স্বীকৃতি, প্রাপ্তি এবং পরিতৃপ্তি।

একটা মানুষের কতটুকু সুখ চাই বলুন? এর নির্ভুল পরিমাপ সম্ভবত কেউ দিতে পারবেনা আর তাই ভালোবাসার নির্মাতা যে কেউ হতে পারেনা । নিঃশর্ত ভালোবাসা পৃথিবীতে বিরল কেননা ভালোবাসা না দিয়ে আপনি ভালোবাসাকে জয় করবেন কিভাবে। আমার কাছে নারী/পুরুষের রহস্যের বাঁকে বাঁকে বশ্যতা স্বীকার করার নামই হচ্ছে ভালোবাসা। ভালোবাসা মানেই আমার কাছে সঞ্জীবনী সুরা।

ভালোবাসার বিলাসিতায় রকমফের থাকতেই পারে তবে সম্মান থাকাটা খুব জরুরি। ভালোবাসায় অস্পষ্ট তাড়না তো থাকবেই আর তা না হলে সব কিছু যে সয়লাব হয়ে যাবে। ভালোবাসার মানুষটির প্রতি চিলের মত শ্যেন দৃষ্টি থাকা চাই আর তা না হলে কাব্যকলার কথাই বলুন কিম্বা প্রলয় বাঁকের কথাই বলুন সবই যে ভেস্তে যাবে। ভালোবাসার সমগ্র জুড়ে কেবলই উদাসী বাতাসের অনুরাগ থাকা চাই, শিস দিতে দিতে সমাপনী সীমানা পর্যন্ত যাওয়া চাই।

আচ্ছা ভালোবাসার মানুষটির কি শুধু ভুলই করে? প্রশংসার মত তিনি কি কিছুই করেননা? তাহলে ধোলাই করে ছাঁদে শুকাবার প্রশ্ন আসে কেন? কই তাঁর প্রশংসা যোগ্য একটা প্রশংসাও করেননা শুধু নেতিবাচক গুলো তুলে ধরেন আর ভাল দিক গুলো চেপে যান, আর সেজন্যই বলি ভালোবাসায় বুঝাপড়ার আপডেট না হলে নেপথ্যে মতদ্বৈততা থেকেই।

  নাসিক নির্বাচন

;

পৃথিবীব্যাপী ‘মহাবিপন্ন পরিযায়ী’ পাখি চামচঠোঁটো-বাটান



বিভোর, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
পৃথিবীব্যাপী মহাবিপন্ন পাখি চামচঠোঁটো-বাটান। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীব্যাপী মহাবিপন্ন পাখি চামচঠোঁটো-বাটান। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কালো রঙে চামচের মতো ঠোটঁকেন্দ্রীক পাখি ‘চামচঠোঁটো-বাটান’। এই পাখিটি সারা পৃথিবীজুড়ে আজ মহাবিপন্ন। বাসস্থান, খাদ্য এবং প্রজনন সংকটের কারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে তাদের অস্তিত্ব। এদের ইংরেজি নাম Spoone-billed Sandpiper এবং বৈজ্ঞানিক নাম Calidris pygmaea।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এই পাখিটিকে পৃথিবীব্যাপী ‘মহাবিপন্ন’ বলে লাল-তালিকাভুক্ত করেছে। চামচের মতো ঠোঁট বলে পাখিটির নাম চামচকেন্দ্রীক। ইংরেজ এবং বাংলা দুটো নামেই ‘চামচ’ শব্দটা জুড়ে দেয়া আছে। শীত পরিযায়ী এ পাখিটির উচ্চতা ১৬ সেন্টিমিটার। আকারে চড়ুইয়ের মতো।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, “চামচঠোঁটো-বাটান পাখিগুলো আমাদের দেশে শীত পরিযায়ী। তবে এরা পৃথিবীব্যাপী মহাবিপন্ন তালিকাভুক্ত পাখি। শীত শেষে চামচঠোঁটো-বাটানগুলো চলে যায় উত্তরপূর্ব রাশিয়ার ‘কামচাটকা’ বলে একটা জায়গা আছে সেখানে। সবাই সাইবেরিয়া হিসেবেই চিনে; কিন্তু আসলে সাইবেরিয়ার সেই জায়গাটি হলো তুন্দ্রা। অর্থাৎ যেখানে বরফ চলে যাওয়ার পরেও কোন গাছপালা হয় না। তবে ছোটছোট ঝোপঝাড় বা গুল্ম জন্মে থাকে।’

চামচঠোঁটো-বাটানের কৃত্রিম প্রজনন সম্পর্কে ইনাম আল হক বলেন, ‘গ্রীষ্মে এরা ডিম পাড়ে। আমরা তো তাদের প্রজাতিগুলোকে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে তাদের ডিমগুলো কয়েকবার চুরি করে এনেছিল। আন্তর্জাতিকভাবে একটা উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ডিম সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের প্রজাতিগুলো সংরক্ষণে। তারা চারটে ডিম পাড়ে; চারটের মধ্যে থেকে দুটো সরিয়ে নিলে আরো দুটো পাড়ে। দুটো করে করে সবার কাছ থেকে ডিমগুলো সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। তারপর ইনকিউবেটারে সেই ডিমগুলো রেখে ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে কিছু সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা নেয়া হয়েছিল। প্রায় ৪০টার মতো ‘চামচঠোঁটো-বাটান’ এর বাচ্চাকে বড় করে তারপর প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাইবেরিয়ার ওই জায়গায় সহজে যাওয়া যায় না। অনেক দুর্গম এলাকা। এখানে কোনো প্রকার বসতি নেই; কোনো যানবাহনও চলাচল করে না। শুধু রাশিয়ার মিলিটারী ট্যাঙ্কগুলোতে চড়েই যেতে হয়। আর ওইখান থেকে চামচঠোঁটো-বাটানের ডিম চুরি করে আনা হয়েছিল। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ছিল এটি; গত দশ বছর ধরে এই কাজটি করা হয়েছে। এর ফলেই কিন্তু এদের সংখ্যা বর্তমানে কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে।’

সারাপৃথিবীতে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ‘চামচঠোঁটো-বাটান’ পাখি টিকে আছে। ওরা কাঁদাপানির থেকে একেবারে ছোট ছোট কাকড়া খুঁজে নিয়ে খায়। এই কাঁকড়াগুলো অনেক পিঁপড়ার মতো। এই একটি খাবার ছাড়া বাকি খাবারের কথা আমাদের জানাও নেই। এই পাখিটির উপর পৃথিবীব্যাপী আমাদের গবেষণা চলছে বলে জানান পাখি গবেষক ইনাম আল হক।

বাংলাদেশে জরিপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন আমরা প্রতি বছর মায়ানমারে গিয়ে এই পাখিটির উপর জরিপ করে থাকি। এ ছাড়াও আমরা প্রতি মাসে বাংলাদেশের সোনাদিয়া উপকূলে এই পাখিটির উপর পাখিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। আমরা এই জরিপের তথ্যগুলো সংরক্ষণ করে রাখি পাখির গবেষণা কাজের লক্ষ্যে। তবে প্রতি মাসে তো ওরা থাকে না। তারপরও একটি-দুটো যদি থাকে। কারণ গ্রীষ্মে ওদের দু-একটা যায় না; আমাদের দেশে থেকে যায়। কিন্তু থাইল্যান্ডে দেখা গেছে- যে ওরা পরিজায়ন করে না।’

যে পাখিটি পৃথিবী থেকে হঠাৎ করে কমে যায়, তার উপরই আমাদের গবেষণাগুলো চলছে থাকে পৃথিবীব্যাপী। কয়েক বছর আগে আমরা আমাদের দেশে শীত মৌসুমে এই পরিযায়ী ‘চামচঠোঁটো-বাটান’ এর সংখ্যা সর্ব্বোচ্চ সংখ্যা পেয়েছিলাম ৪৫টি। দু বছর আগে সর্বশেষ ২০-২২টি উপর আর পাইনি বলে জানান পাখি বিজ্ঞানী ইনাম আল হক।

  নাসিক নির্বাচন

;

বোহেমিয়া চেক প্রজাতন্ত্রের স্বর্গীয় শহর প্রাগ



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বোহেমিয়া চেক প্রজাতন্ত্রের স্বর্গীয় শহর প্রাগ

বোহেমিয়া চেক প্রজাতন্ত্রের স্বর্গীয় শহর প্রাগ

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাচীন বোহেমিয়া রাজ্য বা আজকের চেক প্রজাতন্ত্রে ভ্রমণ ট্রিপে ইউরোপের পশ্চিম থেকে পূর্বে  ভিয়েনা, ব্রুনো হয়ে স্বর্গীয় শহর প্রাগে প্রবেশের রোমাঞ্চকর অনুভূতির তুলনা হয় না। তারপর "নাইট ওয়াক ইন দ্যা সিটি অফ প্রাগ" মানেই লাইফটাইম মেমোরি। তবে, প্রাগে নামেই রাত, বাস্তবে খুঁজতে হবে "কোথায় রাত ?" রাতের যেন পড়ন্ত বিকেল।  আকাশে তখনো কটকটে রোদ। বাতাসে বসন্তের রেশ।

পশ্চিম ইউরোপ যেমন জার্মানিক, পূর্ব ইউরোপের প্রাগ শহরে তেমনই প্রধানত স্লাভিক ট্রাইবদের বাস। চেক ভাষায় প্রাগের নাম প্রাহা। যার অর্থ হল ‘ford’ বা ‘rapid’। আক্ষরিক অর্থে ভ্লাতাভা নদীর ব্রিজের ওপর দিয়ে পেরোতে হয় এই অঞ্চল যেখানে নদীর গভীরতা অত্যন্ত কম। মানুষ আর ঘোড়াও সেই তিরতির করে বয়ে চলা অগভীর নদীর মধ্যে দিয়ে অনায়াসে এককালে পেরিয়ে চলত। এখন সেখানে ছোট্ট ব্রিজ হয়েছে। এই হলো প্রাহা নামটির উৎসমূল।

দেশ হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র কিংবদন্তির ভাণ্ডার। বুদ্ধিমতী ও জ্ঞানী স্লেভিক রাজকন্যা লিবিউসে অসাধারণ ভবিষ্যদ্বাণী করতেন । পাহাড়ের মাথায় তিনি আর তার স্বামী রাজপুত্র প্রেমিস্ল শান্তিপূর্ণভাবে রাজ্য শাসন করতেন। একদিন পাহাড়ের মাথায় উঠে, ভ্লাতাভা নদীর দিকে একদৃষ্টে চেয়ে তিনি বললেন, অদূর ভবিষ্যতে এই শহর হয়ে উঠবে পূর্ব ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শহর। খ্যাতির শিখরে পৌঁছবে তার শিল্প-কলা-কৃষ্টির উৎকর্ষতায়। শাসন বানালেন একটি বিশাল দুর্গ বানিয়ে চলেছিল। রাণীও বললেন, ওইখানেই  সেই চরম শহরায়ণের সব লক্ষণ আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। ভাবীকালে ফলেও গেল তাদের কথা।  পূর্ব ইউরোপের হৃৎপিণ্ড স্বরূপ গোড়াপত্তন হলো চেক রিপাব্লিকের।  রাজধানী হলো প্রাহা, বিশ্ববাসী যাকে ডাকে প্রাগ।


চেক দেশের সুরম্য রাজধানী প্রাগ দর্শন করতে হয় বাসে চড়ে। প্রথমে নামতে হয় পাহাড়ের মাথায়  স্ট্রাহভ মনাষ্ট্রি দেখতে। মনাষ্ট্রিতে রয়েছে বিয়ার ব্রুয়ারি।  সেখান থেকে দুর্গ শহর প্রাগের  অতি সুন্দর একটা ভিউ পাওয়া যায়। এই ভিউপয়েন্টে গিয়ে চেকের বিশিষ্ট সন্ত সেন্ট নরবার্টিনের বৃত্তান্ত সচিত্র জানা  যায়।

স্ট্রাহভ মনাস্ট্রিতে সেন্ট নর্বার্টিনের রেলিক্স রাখা রয়েছে। আছে প্রকান্ড লাইব্রেরি, বিশাল ব‌ইয়ের সম্ভার, ব্যাসিলিকায়  ফ্রেসকো  ভার্জিন  মেরীর মোটিফ। ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সবকিছুই সযত্নে সংরক্ষিত। পাশেই রাখা রয়েছে প্রকাণ্ড এক অর্গ্যান, যা বাজিয়ে বিশ্বসেরা সুরসম্রাট মোৎজার্ট বলেছিলেন, এমন বড় ও সুন্দর অর্গ্যান তিনি আর কোনোদিনো বাজাননি। 

বাসের পাশাপাশি প্রাগ দেখতে হয় পায়ে হেঁটে। প্রাগের ওল্ড টাউন স্কোয়ারে ঘোরার মজাই আলাদা। প্রাগ কিন্তু শিল্প, সাহিত্য, শিল্পকলা, সঙ্গীত ছুঁয়ে আগন্তুক পর্যটকদের নিয়ে যায় ফিজিক্স ব‌ইয়ের পাতায়। কারণ, জোহান কেপলার ও টাইকো ব্রাহের জ্যোতির্বিদ্যার অনেক কিছু আবিষ্কার ঘটেছিল এই প্রাগ শহরে। পথের ধারে দুই বিজ্ঞানির স্ট্যচু প্রমাণস্বরূপ আজো দৃশ্যমান।

কথিত আছে, দুই দিকপাল জ্যোতির্বিদ টাইকো ব্রাহে আর জোহানেস কেপলার ভাগ্যের টানে আসেন প্রাগে। টাইকো ব্রাহে ছিলেন উৎকৃষ্ট পর্যবেক্ষক আর কেপলার ছিলেন গণিতজ্ঞ। এই প্রাগেই টাইকো ব্রাহে কেপলারকে তার সহকর্মী করলেন। আকাশে হঠাৎ টাইকো দেখতে পেলেন অদ্ভুত সুপারনোভা। কেপলার তা থেকে অঙ্ক কষে সূত্র তৈরি করলেন। বিজ্ঞানের সাধনায় একে অপরের পরিপূরক ছিলেন তারা।


প্রাগের হটস্পট সেন্ট নিকোলাস চার্চ।  কোবলস্টোনের ফুটপাথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে নির্বিঘ্নে পৌঁছা  যায়। কেননা, প্রাগের সবকিছু সংরক্ষণই অতি সুন্দর। অথচ এরা দুটি বিশ্বযুদ্ধের পরেও নিজেদের অনেক ভেঙেচুরে আবারো অনেক সুন্দর করে গড়ে তুলেছে। সবকিছু রেখেছে  চমৎকার, পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি।

ট্রাম প্রাগের মনোরম বাহন। রাস্তা আর  ট্রামলাইনের চলেছে পাশাপাশি। কি অপূর্ব এই স্ট্রীটকারের মায়াবী নেটওয়ার্ক।  সারা শহরের অলিগলি রাজপথ থেকে ক্রিসক্রস ভাবে রঙীন সুন্দর সুন্দর ট্রাম চলে যাচ্ছে অনবরত। আর এরা কত সুন্দরভাবে এই যানটিকে ব্যাবহার করে সেটাই দেখবার বিষয়।  প্রাগের ট্রামের নেটওয়ার্ক চেক রিপাবলিকের মধ্যে সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে বৃহৎ।

প্রাগের রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করা যায় নিরাপদে ও অবলীলায়। জেব্রাক্রসিংয়ে পা দিয়ে ট্র্যাফিক লাইট মেনেই চলাচল করে সবাই। যান বা মানুষ, কারোই তাড়া নেই। নিয়ম ভাঙার কথা তো অকল্পনীয়। নিজস্ব ছন্দময় গতিতে সবাই চলছে নিজস্ব পথে। পশ্চিম ইউরোপের মতো রুদ্ধশ্বাস দৌঁড়ে চলার ছিটেফোঁটাও নেই পূর্ব ইউরোপের প্রাগে।

প্রাগে চোখে পড়বে অসাধারণ রেনেসাঁ স্থাপত্য। সমগ্র ইউরোপই নবজাগরণের মূলভূমি। চারিদিক স্থাপত্যকলা, ভাস্কর্যের ছড়াছড়ি। প্রাগের লেসার টাউন হলো নান্দনিকতার চূড়ান্ত প্রকাশস্থল। লেসার টাউন স্কোয়ারের  ল্যান্ডমার্ক হল রাজকীয় সেন্ট নিকোলাস চার্চ। ওল্ড টাউন স্কোয়ারের কেন্দ্রবিন্দুতে এই চার্চ।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চেক আর্মির ঘাঁটি ছিল এই নিকোলাস চার্চ। চার্চটির সংরক্ষণে সেনাবাহিনীর নিরলস পরিশ্রম আর নামীদামী স্থপতিদের পরিশ্রমে শিল্পকলায় ভরে উঠে চার্চের অন্দর ও বাইরের মহল।  সেন্ট নিকোলাস চার্চটি একাধারে গীর্জা অন্যধারে ক্লাসিকাল কনসার্টের অন্যতম প্রেক্ষাগৃহ বা মঞ্চ। 


চার্চের বাইরে  থিকথিক করছে রেস্তোঁরা, পাব, দোকানপাট, ব্যুটিক আর প্রাগের বিখ্যাত মানুষ, ধনী লোকজনের ব্যারক স্টাইলের ঘরবাড়ি। ইন্টারন্যাশানাল এমব্যাসিগুলোও এখানে। এই  ব্যারক স্টাইল হল অত্যন্ত সুন্দর স্থাপত্যে নির্মিত বাড়ি। জানলার নীচে খোদাই করা মানুষের মুখ, বাড়ির ছাদের প্যারাপেটে পরী কিম্বা প্রবেশ পথে জীবজন্তুর অসামান্য আর্কিটেকচার।  পুরণো শহরের অনুপাতে অনেকটাই ছোট বলে এর নাম লেসার টাউন।  

চলতে চলতে প্রাগে পাওয়া যাবে অনেকগুলো ট্যানেল। মনে হবে একফালি অন্ধকার সুড়ঙ্গ দিয়ে আবারো বড় রাস্তায় আসা হয়েছে। ডাকলেই পাওয়া যাবে  প্রাইভেট ট্রামের একটি কামরাকে। ম্যাজিকের মত ট্রাম এসে দাঁড়াবে সামনে। উঠে পড়তে হবে টুক করে। তারপর সুন্দর অনুভূতিতে স্বপ্নের মত সন্ধ্যেয় প্রাগের  ট্রামে চড়া আর একটা গলির মুখে অবতরণ করে পাথরের রাস্তা দিয়ে এক বিয়ার ব্রুয়ারীর মধ্যে প্রবেশ করা। বোহেমিয়ান বিয়ার বিশ্ববিখ্যাত। কোনও এক 'বিয়ার পাবে' সান্ধ্য আড্ডার অভিজ্ঞান শিহরণ জাগানিয়া। বিশাল সুদৃশ্য কাটগ্লাসের মাগে বিয়ার হাজির হবে। এককোণায় প্রৌঢ় বাজিয়ে চলেবেন একর্ডিয়ানে চেনাঅচেনা গানের সুর। আলো আঁধারিতে মায়াময় পরিবেশ তৈরি হবে। 

রহস্যে মোড়ানো ঘন্টাখানেক পর পাব থেকে বেরিয়ে এলে আলোকমালায় সজ্জিত রোমান্টিক প্রাগের রাজপথে উঁকি দেবে সামনে। দূরে দেখা যাবে বিখ্যাত ইউনিভাসিটি অফ প্রাগ, যেখানে এলবার্ট আইনস্টাইন থিওরিটিকাল ফিজিক্সে অধ্যাপনা করেছিলেন।  পাশেই রয়েছে চারজন মিউজিশিয়ানের অনবদ্য স্ট্যাচু, যা প্রাগের বিখ্যাত স্থাপত্যগুলোর একটি। চারজনের হাতে চারটি বাদ্যযন্ত্র। স্থপতির কল্পনায় বিশ্বের বৃহত্তম চারটি নদী আমাজন, মিসিসিপি, গঙ্গা এবং দানিয়ুব-এর এক অনবদ্য কলতান এই চার বাদ্যশিল্পী চোখ বন্ধ করে বাজিয়ে চলেছে । চার নৃত্যরত শিল্পীর চোখ বাঁধা। তাদের হাতে ম্যান্ডোলিন, ভায়োলিন, বাঁশী ও ট্রামপেট।  

ভ্লাতাভা নদীর ওপরে প্রাগের ঐতিহাসিক চার্লস ব্রিজ। ব্রিজে বিশাল চওড়া হাঁটার পথ। ব্রিজের ডাইনে বাঁয়ে সব পিলারের মাথায় দন্ডায়মান  সারেসারে  স্থাপত্য। রাজ পুরোহিত সেন্ট জন নেপোমুকের স্ট্যচুটি সর্বপ্রধান, যে স্ট্যাচুর মাথার চারিপাশ দিয়ে একটি ধাতব রিংয়ে পাঁচটি সোনালী স্টার খচিত।  ভ্লাতাভা নদীর ব্রিজের ঠিক ওই স্থানটি থেকে তাঁকে নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন রাজা। কারণ পুরোহিতের কাছে রাজা তাঁর  রাণীর স্বীকারোক্তির কথা জানতে চেয়েছিলেন  এবং পুরোহিত তা জানাতে চান নি।  অতি জাগ্রত এই স্ট্যাচুটি ছুঁলে নাকি মনোস্কামনা পূর্ণ হয়। স্থানীয় মানুষ ব্রিজের গায়ে ছোট ছোট তালা লাগিয়ে দেয়, অনেকটা মাজারে গিয়ে লাল সূতো বাঁধার মত। নদীর ওপরে পুরণো ব্রিজ, নতুন ব্রিজ রাতের রূপসী প্রাগ শহরকে উন্মোচিত করে বহুবর্ণা আলোকমালায়।


যদি সেই রাতে আকাশে কৃষ্ণা চতুর্থীর চাঁদ থাকে, কিংবা ঘুটঘুটে অন্ধকারে পায়ে হেঁটে রূপসী প্রাগের পথ চলার শেষে পাওয়া যাবে প্রাগৈতিহাসিক ভৌতিক অনুভূতি। ছমছম করে ওঠবে গা। চোখের পলক পড়বে না একবারও। কানে ভাসবে প্রাগের পৌরাণিক উপাখ্যান।  মাথাকাটা এক সাধুর গল্প, যার অতৃপ্ত আত্মা এখনো ঘুরে বেড়ায় মনাষ্ট্রির সিঁড়িতে। সেই সাধু অভাবের তাড়নায় নিজের মাথা কেটে দেন।  হেডলেস মঙ্কের গল্প শুনে মনে হবে সামনে নিজের বাড়ি বা হোটেল নয়, অশরীরী আত্মায় ভরা তেপান্তরের দিগন্তব্যাপী মাঠ।

প্রাগের আরেক গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য সেন্ট অ্যাগনেস মনাষ্ট্রি, যার সামনে রয়েছে 'পাউডার গেট'। প্রাগের গথিক শৈলীতে নির্মিত টাওয়ার সহ প্রবেশদ্বার যেন মুঘল সম্রাটের 'বুলন্দ দরওয়াজ' অথবা 'গেট ওয়ে অফ ইন্ডিয়া' বা 'ইন্ডিয়া গেট'। এই প্রবেশদ্বার প্রাগের ওল্ডটাউনকে নিউটাউন থেকে পৃথক করেছে।  সেখানেও রয়েছে নানা  গল্প। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, সেন্ট এগনেস নামে এক রাজকন্যা আট বছর বয়সে বাগদত্তা হন আরেক দশ বছরের রাজপুত্রের। কিন্তু বিয়ের পর সংসারে বীতরাগ জন্মানো আর কৃচ্ছ্রসাধনে ব্রতী হয়ে ভক্তিমার্গে বিচরণের যান তারা।  ওল্ড টাউন অঙ্গনের ওয়েসনেসডে স্কোয়ার'-এ এ গল্প মশহুর, বোহেমিয়ার প্যাট্রন সেন্ট-এর নামে এই স্কোয়ারের নাম। 

এই ঐতিহাসিক স্থানটি হল প্রাগের হেরিটেজ সাইট।  মধ্যযুগে এখানে ঘোড়ার বাজার ছিল। তারওর বোহেমিয়ান রাজা চতুর্থ চার্লসের নিউ টাউন স্কোয়ার বানানোয় তা পুরনো শহরে পরিণত হয়। এখন আলোয় ঝলমলে প্রাগের নিউটাউন।  রাতের আলোয় ন্যাশানাল মিউজিয়াম, Wenceslas মনুমেন্ট  এক অদ্ভূত রোমান্টিক স্থান। আর ওল্ড টাউন গা ছমছম রূপকথা জগতের মতো ধূসর ও রহস্যঘেরা।

"নাইটস অফ দ্যা ক্রস স্কোয়ার" হলো প্রাগের বিখ্যাত রাজপথ,  টুরিস্টদের অন্যতম গন্তব্য। ডিজিটাল ক্লিকে, সেলফি স্টিকে রাজকীয় রাতপরী প্রাগের ছবি ক্যামেরায় ধরে সবাই এখানেই। এই পথ ও স্কোয়ার অন্যদিকে চার্লস ব্রিজকেও ছুঁয়েছে। স্কোয়ারের মধ্যখানে রাজা চতুর্থ চার্লসের বিশাল সেমি-গথিক স্ট্যাচু ।


শহরের আলোয় ঝলমলে অতিপ্রাচীন প্রাগ যেন যৌবনউদ্ভিন্না। চালর্স ইউনিভার্সিটির ৫০০ বছর পূর্তিতে রাজার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে স্মারক নির্মিত হয়েছে। স্কোয়ারের আশপাশের গথিক স্টাইল অট্টালিকার প্যারাপেটে দাঁড়িয়ে সারে সারে ভাস্কর্য। অপূর্ব নন্দন দৃশ্য প্রাগের সর্বত্র উদ্ভাসিত করে রেখেছে। 

পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের শহর প্রাগের নিজস্বতা অক্ষুণ্ণ হলেও সেখানে পশ্চিম ও দূরপূর্ব ইউরোপের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে। প্রাগ যেন নানা সভ্যতা ও সংস্কৃতির মিলন ও সঙ্গমস্থল। বিশেষত পাশের বলকানের প্রভাব প্রাগে অলঙ্ঘনীয় রূপে পরিব্যাপ্ত। বলকান অঞ্চল বলতে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি ঐতিহাসিক অঞ্চলকে বোঝায়। এর পূর্বে কৃষ্ণ সাগর, পশ্চিমে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর, দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর। দানিউব, সাভা ও কুপা নদীগুলো অঞ্চলটির উত্তর সীমানা নির্ধারণ করেছে। বুলগেরিয়া থেকে পূর্ব সার্বিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বলকান পর্বতমালার নামে অঞ্চলটির নাম এসেছে।

বলকান অঞ্চলের সন্নিহিত চেক প্রজাতন্ত্র ঐতিহাসিকভাবে বোহেমিয়া নামেও পরিচিত মধ্য ইউরোপের একটি ভূবেষ্টিত রাষ্ট্র। দেশটির দক্ষিণে অস্ট্রিয়া, পশ্চিমে জার্মানি, উত্তর-পূর্বে পোল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পূর্বে স্লোভাকিয়া অবস্থিত। চেক প্রজাতন্ত্র দেশটিতে রয়েছে পাহাড়ি ভূমি যা প্রায় ৭৮,৮৭১ বর্গকিলোমিটার (৩০,৪৫২ বর্গমাইল) অঞ্চলে বিস্তৃত এবং এর অধিকাংশেই নাতিশীতোষ্ণ মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় জলবায়ু বিদ্যমান। দেশের মধ্যভাগে অবস্থিত বৃহত্তম শহর ও রাজধানী প্রাগ। অন্যান্য শহরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বার্নো ও অস্ত্রাভা।

নবম শতাব্দীর শেষের দিকে মোরাভিয়ার অধীনে বোহেমিয়ার ডাচি প্রতিষ্ঠিত হয়। পূর্বে ১০০২ সালে রোমান সাম্রাজ্যের একটি ইম্পেরিয়াল রাজ্য হিসাবে এটি স্বীকৃত হয়েছিলো এবং ১১৯৮ সালে এটি একটি রাজ্যে পরিণত হয়। ১৫২৬ সালে মোহাচের যুদ্ধের পর, বোহেমিয়ার পুরো সাম্রাজ্যটি ধীরে ধীরে হাবসবার্গ রাজতন্ত্রের সাথে একীভূত হয়। এসময় প্রোটেস্ট্যান্ট বোহেমিয়ান বিদ্রোহ ত্রিশ বছরব্যাপী হোয়াইট মাউন্টেনের যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। যুদ্ধের পর হাবসবার্গরা তাদের শাসনকে সুসংহত করে। ১৮০৬ সালে রোমান সাম্রাজ্যের বিলুপ্তির সাথে সাথে এসব ভূমি অস্ট্রিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে ওঠে।

ঊনবিংশ শতাব্দীতে, চেক ভূমি আরও শিল্পোন্নত হয়ে ওঠে এবং ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির পতনের পরে এর বেশিরভাগ অংশ প্রথম চেকোস্লোভাক প্রজাতন্ত্রের অংশ হয়ে ওঠে। চেকোস্লোভাকিয়া মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের একমাত্র দেশ ছিল, যা আন্তঃযুদ্ধকালীন সময়কালে সংসদীয় গণতন্ত্র বজায় রেখেছিল। ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির পর নাৎসি জার্মানি পদ্ধতিগতভাবে চেক ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ১৯৪৫ সালে চেকোস্লোভাকিয়া পুনরুদ্ধার করা হয় এবং ১৯৪৮ সালে একটি অভ্যুত্থানের পরে এটি পূর্ব ব্লকের কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়। সরকার ও অর্থনীতির উদারীকরণের প্রচেষ্টা ১৯৬৮ সালের প্রাগ বসন্তের সময় সোভিয়েত-নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের মাধ্যমে দমন করা হয়। ১৯৮৯ সালের নভেম্বরের 'মখমল বিপ্লব' দেশে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটায়। ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ তারিখে চেকোস্লোভাকিয়া ভেঙে যায় এবং এর সাংবিধানিক রাজ্যগুলো চেক প্রজাতন্ত্র এবং স্লোভাকিয়ার স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

প্রাগ বা প্রাহা চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৩তম বৃহত্তম শহর। এছাড়াও বোহেমিয়ার ঐতিহাসিক রাজধানী। ভুলটাভা নদীর তীরে অবস্থিত এ শহরে ১.৩ মিলিয়ন মানুষের বাস, যখন তার নগর জোনগুলোতে প্রায় ২.৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার বাস বলে অনুমান করা হয়। শহরে নাতিশীতোষ্ণ মহাসাগরীয় জলবায়ু বিদ্যমান। এখানে গ্রীষ্মকাল অপেক্ষাকৃত উষ্ণ এবং শীতকাল অপেক্ষাকৃত শীতল।

প্রাগ পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র, এক সমৃদ্ধ ইতিহাস যাকে পূর্ণতা দিয়েছে। রোমানেস্ক স্থাপত্য যুগে প্রাগ শহর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গথিক, রেনেসাঁ, বলকান ও বারোক স্থাপত্য যুগে এর বিকাশ ঘটে। প্রাগ বোহেমিয়া রাজ্যের রাজধানী এবং কয়েকজন পবিত্র রোমান সম্রাটের বাসস্থান ছিল। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রাজা চতুর্থ চার্লস (শা. ১৩৪৬-১৩৭৮ খ্রি)। এটি হ্যাব্সবার্গ রাজ্যের এবং অস্ট্রো-হাংগেরীয় সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল। দুই বিশ্বযুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর কমিউনিস্ট আমলের মধ্যবর্তীকালে চেকোস্লোভাকিয়ার রাজধানী হিসাবে বোহেমীয় ও প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার, ত্রিশবর্ষীয় যুদ্ধ এবং বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে এটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।

প্রাগ কিছুসংখ্যক বিখ্যাত সাংস্কৃতিক আকর্ষণের কেন্দ্র, যাদের অনেকগুলো বিংশ শতাব্দীর ইউরোপের সহিংসতা ও ধ্বংসের পরেও টিকে রয়েছিল। এর প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে 'প্রাগ ক্যাসল' (প্রাগ দুর্গ), চার্লস ব্রিজ, (প্রাগ জ্যোতির্বিদ্যা ঘড়িযুক্ত) ওল্ড টাউন স্কয়ার, ইহুদি কোয়ার্টার, পেট্রিন পাহাড় ও দুর্গ।

১৯৯২ সাল থেকে প্রাগের বিস্তীর্ণ ঐতিহাসিক কেন্দ্র ইউনেস্কোর 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট' তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শহরটিতে দশটির অধিক বড় বড় জাদুঘর, অসংখ্য নাট্যশালা, গ্যালারি, সিনেমা এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। একটি সম্প্রসারিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা শহরটিকে সংযুক্ত করেছে। এখানে বহু সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় আছে। প্রাগের 'চার্লস ইউনিভার্সিটি' মধ্য ইউরোপের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। গ্লোবাল এন্ড ওয়ার্ল্ড সিটিজ রিসার্চ নেটওয়ার্ক-এর গবেষণা অনুযায়ী প্রাগ 'আলফা-গ্লোবাল সিটি' হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ। ২০১৯ সালে মারসার কর্তৃক শহরটি পৃথিবীর ৬৯তম সর্বাধিক বাসযোগ্য শহরের মর্যাদা লাভ করে। একই বছর পিকসা ইন্ডেক্স প্রাগকে পৃথিবীর সবচেয়ে বাসযোগ্য ১৩তম শহরের স্থান দেয়। শহরটির সমৃদ্ধ ইতিহাস তাকে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী শহরটিতে প্রতি বছর ৮.৫ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী ভ্রমণে আসে। ২০১৭ সালে প্রাগ লন্ডন, প্যারিস, রোম, ইস্তানবুলের পর সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী গ্রহণকারী ৫ম ইউরোপীয় শহর হিসাবে তালিকাবদ্ধ হয়।

প্রাগ ভ্রমণের উৎকৃষ্ট সময় মে থেকে আগস্ট মাস। চেক রিপাবলিকের ক্যাপিটাল প্রাগে যেতে যেকোনো ইউরোপিয়ান শহর থেকেই ফ্লাইট নেওয়া যায়। অথবা টুরগ্রুপের সাথে গেলে তারা বাস বা ট্রেন প্রোভাইড করে। হট টুরিস্টপ্লেস প্রাগে সবধরণের হোটেলের রমরমা। প্রত্যেক হোটেলেই বেড এন্ড ব্রেকফাস্ট ইন্ক্লুডেড।

প্রাগ এমন এক ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, রোমান্টিক শহর, যাতে রয়েছে স্বর্গীয় ছোঁয়া, প্রাকৃতিক পরশ ও ঐতিহ্যের দ্যোতনা। প্রাগ শহরকে সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের শেষে বিদায় জানিয়েও রেহাই পাওয়া যায় না। জীবনের বাঁকে বাঁকে স্বপ্নে এসে ধরা দেয় প্রাগসুন্দরী। মনে হয়, যে শহরে হাঁটতে আরও আরও পথ বাকী। অনায়াসে, অবলীলায়, জীবনভর যে শহরকে নিজের একান্ত শহরের মতো বুকে লুকিয়ে রাখা যায় এবং কখনোই বিদায় জানানো যায় না।

ইউরোপের আধুনিক কবি  Mitchell Duran যা বিবৃত করেছেন কাব্যিক ব্যাঞ্জনায়:

"Goodbye Prague, to a city

I never thought I'd know.

Goodbye Prague, to a heaven

that is lined with shattered beer bottles and stamped out cigarettes

the junkies and the hobo's here still manage to get a  few puffs out of."

  নাসিক নির্বাচন

;

ফুলমাথা-টিয়া এখন সংকটাপন্ন



বিভোর বিশ্বাস, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ডালের শেষ মাথায় বসে আছে ফুলমাথা-টিয়া। ছবি: আবু বকর সিদ্দিক

ডালের শেষ মাথায় বসে আছে ফুলমাথা-টিয়া। ছবি: আবু বকর সিদ্দিক

  • Font increase
  • Font Decrease

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমুখে একঝাঁক টিয়ার ডাক। নির্জনতা ভেঙে ডেকে ওঠে একত্রে। কমে আসা আলোয় নীড়ে ফিরতে ব্যস্ত ওরা। অন্যান্য সঙ্গীদের অনুসারি হতে চাচ্ছে তাদের কেউ কেউ। তাই তাদের এমন সম্মিলিত শব্দধ্বনি!

পাখিটির নাম ‘ফুলমাথা-টিয়া’। তবে আরও একটি বাংলা নাম হলো হীরামন পাখি। এর ইংরেজি নাম Blossom-headed Parakeet এবং বৈজ্ঞানিক নাম Psittacula roseata। ছবিতে প্রকাশিত পাখিটি পুরুষ ফুলমাথা-টিয়া। একই প্রজাতির পাঁচ-দশটি পাখির ছোট দলে এদের দেখা যায়।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, ফুলমাথা-টিয়া চা বাগান সংলগ্ন বন আর পাহাড়ি পরিবেশের বিরল পাখি। একে আপনি অন্য কোথাও পাবেন না। এরা বৃক্ষবহুল এলাকার পাখি। শুধু সিলেট বিভাগের চিরসবুজ ও চা বাগানেই এদের পাওয়া যায়। কৃষ্ণচূঁড়া, শিমুল প্রভৃতির মোটা মোটা ফুলের রসালো পাপড়ি, বিভিন্ন ফল, কিছু পাতা, কুঁড়ি, ফুলের মিষ্টি রস, শস্যদানা এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে।

বিকেলের পড়ন্ত আলোয় রাঙা ফুলমাথা-টিয়া। ছবি: আবু বকর সিদ্দিক

এদের দৈহিক বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাখিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৬ সেন্টিমিটার। পুরুষ পাখিটির মাথা গোপালি; দেহের প্রায় পুরোটাই ঘাস-সবুজ। মাথার চাঁদির সামনের অংশ ঘাড় গোলাপি-লাল। ঠোঁটের উপরটা ফিকে-কমলা এবং ঠোঁটের নিচ বাদামী। চোখ হলদে। থুতনি ও গলায় কালো লাইন। আর স্ত্রী পাখিটি ফিকে-ধূসর নীল মাথা ও থুতনি ছাড়া পুরু দেহই সবুজ। তবে গলার পিছনটা হলদে-সবুজ ও ঠোঁট ফ্যাকাসে।

পূর্ব থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে ফুলমাথা-টিয়ার বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে বলে জানান ইনাম আল হক।

পরিবেশ ধ্বংস সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের দেশে বনের সংখ্যা এমনিতেই কম। এক্কেবারে হাতে গোনা। তারপরও যেটুকু রয়েছে তাও নানাভাবে ক্রমশ উজার ও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই এই ফুলমাথা-টিয়াসহ নানা জাতের পাখি ও বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষা করতে প্রাকৃতিক বনগুলো যে কোনো মূল্যে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

সৃজিত বাগান নয়; আমরা বারবার প্রাকৃতিক বনের কথা বলেছি এবং মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। অর্থাৎ বছরের পর বছর ধরে শতসহস্র ভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ-লতাগুল্মের মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে যে প্রাকৃতিক বন। প্রাকৃতিক বন কখনই মানুষ সৃষ্টি করতে পারে না। মানুষ শুধু পারে এই প্রাকৃতিক বনগুলোকে রক্ষা ও সম্প্রসারণ করতে। মানুষের তৈরি বন হলো সৃজিত বাগান। এই প্রাকৃতিক বনই দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। বন থাকলে এই ফুলমাথা-টিয়া পাখিগুলোও থেকে যাবে বলে জানান পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক।

  নাসিক নির্বাচন

;