নারায়ণগঞ্জে নৌকার জয়, আইভীর হ্যাটট্রিক

  নাসিক নির্বাচন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নজিরবিহীন উৎসবমুখরতা আর জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেটে নারায়ণগঞ্জ নগরীর তৃতীয়বারের মতো মেয়রের মুকুট পেলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি। প্রায় দ্বিগুণ ভোটে তৈমুরকে হারিয়েছেন তিনি। নতুন মোড়কে পুরাতন মেয়রের শপথ গ্রহণ অব্দি অপেক্ষা করতে হবে পালা নগরবাসীকে।

রোববার (১৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন আহাম্মদ আলী চুনকার জ্যেষ্ঠ কন্যা আইভী। ১৯২টি কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন সর্বমোট ১,৫৯০৯৭ ভোট। তার নিকটতম হ্যাভি ওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২,১৬৬ ভোট। ক্ষমতাসীন দলের আমলে নারায়ণগঞ্জের মত ভীতি সঞ্চারকারী স্থানে এমন সুষ্ঠ নির্বাচন আশার আলো দেখাবে বলে মনে করছেন নগরের সচেতন নাগরিকরা। নির্বাচনে আইভী-তৈমুর কোনও ইশতেহার না দিলেও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।

নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, দ্বিখণ্ডিত শীতলক্ষ্যাকে একটি সেতুতে এক করা। একপাশের শহর আর অন্য পাশের বন্দরকে যেন এক করে দেন নগর অভিভাবকরা। সেই হাল ধরার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন বিগত দুই টার্মের নির্বাচিত ও বর্তমান মেয়র আইভী।

প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে চেষ্টা করব প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে কদম রসুল ব্রিজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করানোর। কারণ এটা অলরেডি অনেক কাজ হয়ে গিয়েছে। অল্প একটু বাকি আছে। ওই কাজটিকে প্রাধান্য নিয়ে অন্যান্য কাজগুলো করব।’

তৃতীয়বারের মত নাসিকের গদিতে বসতে চলেছেন আইভী। নতুন এই মেয়াদে কতটুকু সফল হবেন সেটা দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাসিকের কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত।

এর আগে সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটির ১৯২ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হয়েছে। নির্ধারিত সময় অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষ হলেও কয়েকটি কেন্দ্রের সামনে লাইনে থাকা ভোটাররা ৪টার পরেও ভোট দিয়েছেন। ভোট গ্রহণে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বেশকিছু কেন্দ্র ভোটারের আঙুলের ছাপ না মেলায় ভোট দিতে দেরি হয়েছে।

২০১১ সালের ৫ মে প্রতিষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এক লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। 

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে সেলিনা হায়াৎ আইভী ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোটে আবার নির্বাচিত হন। সেবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন পান ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট।

এবার অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে বড় ব্যবধানে তৃতীয় বারের মতো মেয়র হলেন আইভী।

  নাসিক নির্বাচন

অস্ত্রের মুখে জিয়া রাষ্ট্রপতি সায়েমকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন: জয়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়।

তিনি বলেন, জিয়া রাষ্ট্রপতি সায়েম সাহেবকে কথাও দিয়েছিল সে নির্বাচন এর ব্যবস্থা করবে। কিন্তু সে নির্বাচনে জিয়া সামরিক বাহিনীর প্রধান ও সামরিক আইন প্রশাসক এর পদে থেকে নিজেই নিজেকে হ্যাঁ না ভোট আয়োজন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে, যা জাতির সাথে সত্যিই এক বড় রকমের তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বুধবার (২৫ মে) রাতে তাঁর ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এর লেখা ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেজ’ বই থেকে উদ্বৃতি দিয়ে এই মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক স্টেটাসে রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম এর লেখা ‘অ্যাট বঙ্গভবন : লাস্ট ফেজ’ বই থেকে উদ্বৃত করে লেখেন, বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম তার বইয়ে লিখেছেন, “জিয়া বঙ্গভবনে আসতেন মধ্যরাতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, তার সাঙ্গপাঙ্গরা অস্ত্র উঁচিয়ে রাখতো। আমি প্রায়ই মনে করতাম এটাই বোধহয় আমার শেষ রাত। সংবিধানের ৪ টি মূল স্তম্ভ বাতিল সংক্রান্ত একটি সামরিক ফরমান আমার কাছে স্বাক্ষরের জন্য আসে। আমি ঐ ফরমানে স্বাক্ষর না করে, তা রেখে দেই। পরদিন রাত ১১টায় বুটের শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। সেনাপ্রধান জিয়া অস্ত্রশস্ত্রসহ বঙ্গভবনে আমার শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন। জিয়াউর রহমান আমার বিছানায় তার বুটসহ পা তুলে দিয়ে বলেন, ‘সাইন ইট’। তার একহাতে ছিল স্টিক, অন্য হাতে রিভলভার।”

বিচারপতি সায়েম বলেন, “আমি কাগজটা পড়লাম। আমার পদত্যাগপত্র। যাতে লেখা- ‘অসুস্থতার কারণে আমি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।’ আমি জিয়াউর রহমানের দিকে তাকালাম। ততক্ষণে আট-দশজন অস্ত্রধারী আমার বিছানার চারপাশে অস্ত্র উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জিয়া আবার আমার বিছানায় পা তুলে আমার বুকের সামনে অস্ত্র উঁচিয়ে বললেন, ‘সাইন ইট’। আমি কোনোমতে সই করে বাঁচলাম।”

‘আমি কোনমতে সাইন করে জীবন বাঁচলাম’ শিরোনামে লেখা জয় তাঁর ফেসবুক স্টেটাসে বলেন, রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম তাঁর লেখা ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেজ’ বই থেকে অনেক অজানা ইতিহাস জানা যায়, যা দীর্ঘদিন ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল বিএনপি।

বইটি থেকে আরও জানা যায়, রাষ্ট্রপতি সায়েমের একটাই দুঃখ ছিল যে, তিনি বাংলাদেশে নির্বাচন করে জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে যেতে পারেননি।

সজিব ওয়াজেদ জয় বলেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়া কিভাবে অস্ত্রের মুখে বাংলাদেশের সংবিধানকে অগ্রাহ্য করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলো তা জানতে পারবেন এই ছোট এনিমেটেড ভিডিও থেকে। জিয়া রাষ্ট্রপতি সায়েম সাহেবকে কথাও দিয়েছিল সে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু সে নির্বাচনে জিয়া সামরিক বাহিনীর প্রধান ও সামরিক আইন প্রশাসকের পদে থেকে নিজেই নিজেকে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোট আয়োজন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে, যা জাতির সাথে সত্যিই এক বড় রকমের তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেজ’ বইটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার ৭ দিনের মধ্যে বইটি বাজেয়াপ্ত এবং নিষিদ্ধ হয়।

  নাসিক নির্বাচন

;

বাংলাদেশের সভাপতিত্বকালেই সিভিএফ ন্যায্য কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)’ বাংলাদেশের সভাপতিত্বকালেই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য একটি যথার্থ কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি এটি প্যারিস চুক্তির অধীনে উন্নত দেশগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে চাপ অব্যাহত রাখতে পারবে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিমন্ডলে এখন সিভিএফ’র একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বৈধ কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশের সভাপতিত্বে সিভিএফ এর সদস্যপদ বৃদ্ধিই তার প্রমাণ।’ 

 

বুধবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে বাংলাদেশ থেকে ঘানার কাছে সিভিএফ সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সভাপতিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায় হবে ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যাকে জলবায়ু দুর্বলতা থেকে স্থিতিস্থাপকতা এবং সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করা। বাংলাদেশে আমরা আমাদের ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ তৈরি করছি। আমরা বিশ্বাস করি এটি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে একটি দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে।’

সিভিএফ সদস্য দেশগুলিতে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মানুষ জলবায়ু জরুরি পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও, আমরা বিশ্বকে আশংকাজনক জলবায়ু সংকট থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে দিতে পারি না। উন্নত দেশগুলোকে প্যারিস চুক্তির অধীনে অর্থায়ন ও প্রযুক্তির বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ঘানার নেতৃত্বে, আমরা সিভিএফ-এর ট্রেডমার্ক নৈতিক শক্তি এবং যুক্তিপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে আমাদের যেসব দাবি পূরণ হয়নি, সেগুলোর জন্য চাপ দিতে থাকব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ঘানার নিকট সিভিএফ প্রেসিডেন্সি হস্তান্তর করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। এই অনুষ্ঠানে তাঁর সদয় উপস্থিতির জন্য আমি রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আডোকে ধন্যবাদ জানাই। আমি ঘানা’র প্রেসিডেন্সির সার্বিক সাফল্য কামনা করি।’

২০২০ সালে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো সিভিএফ-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও ফোরামের কাজ পরিচালনা করতে পেরেছি। আমরা স্বস্তি বোধ করি যে, আমরা আমাদের বেশিরভাগ উদ্দেশ্যসহ আরও অনেক কিছু অর্জন করতে পেরেছি। শুরু থেকেই, আমাদের প্রেসিডেন্সি কপ২৬ ফলাফলের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছিল।’ তিনি বলেন, মহামারী থাকা সত্ত্বেও, আমরা জলবায়ু সংকটের দিকে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং দেশগুলির জন্য তাদের জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়াতে মিডনাইট সারভাইভাল ডেডলাইন চালু করেছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ এর মধ্যে তাদের এনডিসি জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। প্রায় ৭০টি দেশ আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। আমরা সিভিএফ-ভি২০ জয়েন্ট মাল্টি-ডোনার ফান্ডও তৈরি করেছি, যাতে সদস্যদের জলবায়ু সংক্রান্ত পদক্ষেপে সহায়তা করা যায়। বাংলাদেশ এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ যাতে সীডমানি প্রদান করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন যে, তারা ২০২১ সালে ক্লাইমেট ভালনারেবলস ফাইন্যান্স সামিট আয়োজন করেছিলেন, যা পরবর্তী পাঁচ বছরে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের জন্য একটি ডেলিভারি পরিকল্পনার জন্য চাপ দেয়। তিনি বলেন, ‘আমরা গ্লাসগোতে এটি উপলব্ধি করেছি যে, ঢাকা-গ্লাসগো ঘোষণা প্রকৃতপক্ষে সিভিএফ-এরই মূল দাবি এবং প্রতিশ্রুতির সারসংক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (অনধিক নিঃসরণ) প্রতিশ্রুতি বাঁচিয়ে রাখার এবং বার্ষিক তাদের জলবায়ু উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়াতে উচ্চ নির্গমনকারী দেশগুলির প্রতি আমাদের আহ্বান পুণর্ব্যক্ত করেছি। আমরা বর্ধিত অভিযোজন অর্থায়ন এবং ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংলাপের জন্য প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের মেয়াদে নিযুক্ত সিভিএফ-এর পাঁচজন থিম্যাটিক অ্যাম্বাসেডরের কাজের জন্য তারা গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবাধিকারের জন্য ম্যান্ডেট-ধারকের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতি এবং অভিবাসনের বিষয়ে আমাদের অগ্রগতি বজায় রাখব। সিভিএফ- ভি২০ পার্লামেন্টারি গ্রুপের জলবায়ু কর্মের জন্য জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে সিভিএফ নেতৃত্ব শক্ত হাতে থাকবে প্রেসিডেন্ট আকুফো-আডোর অধীনে এবং ট্রোইকার সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ঘানাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব প্রয়াত কফি আনানের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে তিনি বাংলাদেশ ও ঘানার মধ্যে সিভিএফের মাধ্যমে এই সংযোগ দেখে খুশি হতেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রোসিডেন্সি কালিন অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য আমরা সিভিএফ এবং জিসিএ সচিবালয়ের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমরা ট্রোইকা সদস্য, ইথিওপিয়া এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের আমাদের উপর আস্থা রাখাকে স্বীকার করি। সিভিএফকে পর্যাপ্ত জায়গা দেওয়ার জন্য আমরা কপ২৬ প্রেসিডেন্সির কাছে ঋণী।’

প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সহকর্মী এবং তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু সংসদ সদস্য এবং একাডেমিক বিশেষজ্ঞদের দেওয়া সমর্থনকেও আমি স্বীকার করি। আমি বিশেষভাবে আমার সিভিএফ বিশেষ দূতকে সফল ভাবে কাজ সম্পন্নের জন্যও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ থেকে ঘানার কাছে সিভিএফ এর সভাপতিত্ব হস্তান্তর করেন। ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, পরিবেন, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শার্লি আয়োর্কোর বোচওয়ে, গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন বান-কি মুনও ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সিভিএফ এর থিমেটিক অ্যাম্বাসেডর ও বাংলাদেশের ন্যাশনাল অ্যাডভাইসরি কমিটি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরোডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার্স এর চেয়ারপার্সন সাইমা ওয়াজেদ অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও বার্তা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সিভিএফ প্রায়োরিটিজ বিষয়ক বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে সিভিএফ প্রেসিডেন্সি রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।

এ সময় সিভিএফ এর বাংলাদেশের সভাপতিত্ব থাকাকালীন দুই বছর মেয়াদকালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।

  নাসিক নির্বাচন

;

সমন্বয় সভায় চড় দেওয়ায় প্যানেল মেয়র গ্রেফতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মানিকগঞ্জ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মানিকগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা মিটিং এবং মাসিক সমন্বয় সভায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড়ের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

বুধবার (২৫ মে) রাত পৌনে ৮টার দিকে ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল সদর থানায় মারধরের বিষয় উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার পর প্যানেল মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি জানান, সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মানসম্মত শিক্ষা, জনসেবা ও দুর্নীতিসহ মাসিক আইনশৃঙ্খলা ও সন্বয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা চলাকালে দুপুরের দিকে সদরের ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের সাথে প্যানেল মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে সভা চলাকালে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফোন করে পুলিশ পাঠাতে বলেন এবং পুলিশ গিয়ে আব্দুর রাজ্জাক রাজাকে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় রাতে ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সদর থানায় মারধরের বিষয় উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্যানেল মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী সরকারি ছুটিতে থাকায় পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর এবং প্যালেন মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজা উক্ত মাসিক সভায় অংশগ্রহণ করেন।

  নাসিক নির্বাচন

;

কুষ্টিয়ায় নান্না বিরিয়ানির মালিককে জরিমানা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশনের দায়ে নান্না বিরিয়ানি হাউজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পঁচা বাসী মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণের অপরাধে এ জরিমানা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করা এবং কোন প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখার অপরাধে মেসার্স এ আর এন্টারপ্রাইজকে ৮ হাজার জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ মে) দুপুরে শহরের এনএস রোড এলাকায় ভেজাল খাদ্যবিরোধী এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল।

তিনি বলেন, কুষ্টিয়া শহরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে হোটেল-রেস্তোরাঁ। ঢাকার নামিদামি রেস্তোরাঁর নাম দিয়ে কুষ্টিয়া শহরের বেশকিছু এলাকায় গড়ে তোলা হয় বিরিয়ানির দোকান। যার মধ্যে হাজীর বিরিয়ানি এবং নান্না বিরিয়ানির হেঁসেল ঘরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত চলছিল। এসব নিয়ে এর আগে মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। এর ফলে আজকের এই অভিযান।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও পঁচা ও বাসি মাংস দিয়ে বিরিয়ানি তৈরির অপরাধে নান্না বিরিয়ানি হাউজকে ১০ হাজার টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করা এবং কোন প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রাখার অপরাধে মেসার্স এ আর এন্টারপ্রাইজকে ৮ হাজার জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

অভিযানে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সুলতানা রেবেকা নাসরীন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহায়তা করেন।

  নাসিক নির্বাচন

;