বাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম উপকূলবাসী

  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, খুলনা
বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা

বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে নদীপাড়ের মানুষের মাঝে। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন উপকূলবাসী।

উপকূলীয় অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা জেলার কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা উপজেলা- সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা ও বাগেরহাট জেলার শরণখোলা, মোংলা উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ বাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ২ হাজার ২৯২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৪২০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। এসব উপকূলের হাজার হাজার বাসিন্দারা উত্তাল নদী, আকাশে মেঘ আর আবহাওয়া বৈরী হলেই ভয়ে আঁতকে উঠে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, পাউবোর খুলনা-১ এর অধীনে ৩৬৫ দশমিক ২৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। সংস্কারের অভাবে অন্তত ১০৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অবস্থা জরাজীর্ণ। পাউবো খুলনা-২ এর অধীনে ৫১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। একই অবস্থা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায়। বাগেরহাটের ৩১৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ৬০ কিলোমিটার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নিচু হয়ে গেছে। ভরা জোয়ারের সময় বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। সাতক্ষীরা জেলার ৭৯৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মূহুর্তে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

উপকূলীয় এলাকা কয়রার বাসিন্দা আসলাম শেখ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, কয়রার শাকবাড়িয়া নদীর উপরের বাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। এ অঞ্চলে বাঁধ ভেঙে গেলে প্রায় ১০টি গ্রাম প্রথমে প্লাবিত হবে। তাছাড়া একবার বাঁধ ভাঙলে, তা মেরামত করতে কতদিন সময় লাগবে-কেউ বলতে পারেনা। এখন ওপরওয়ালাই ভরসা।

বাগেরহাট শরণখোলার সাউথখালীর বাসিন্দা শাহরিয়ার কবির বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সিডর ও আইলার পর থেকে এ অঞ্চলের বাঁধে স্থায়ী সংস্কার করা হয়নি। যে কারণে নদীর পানি বাড়লেই আমরা আতঙ্কে থাকি। প্রতিবার বাঁধ ভাঙলেই এখানকার সব এলাকা ডুবে যায়। ভিটে মাটি হারিয়ে পথে বসতে হয় সবাইকে। এখনো রাতভর দুশ্চিন্তায় আছি, কখন না জানি বাঁধ ভাঙে।

সাতক্ষীরা শ্যামনগরের গাবুরার লস্কর শফিউল ইসলাম জানান, কপোতাক্ষ নদে সব সময় ভাঙন লেগেই থাকে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সকালে বাঁধের কিছু অংশ ফাটল দেখা দিয়েছিলো। গ্রামবাসীরা নিজেরা মিলে বালির বস্তা ফেলে তা আটকেছে। কিন্তু রাতে ঝড়ের চাপে বাঁধ ভাঙলে আমরা কই যাবো জানিনা।

স্থানীয়রা আরও জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে উপকূল পাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিলে এলাকাবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে রাত জেগে পাহারা দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং বস্তা ফেলে কোনো মতে ভাঙন ঠেকিয়েছে।

  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল