আশ্রয়কেন্দ্র‌ে বাড়ছে আশ্রয় প্রার্থীদের সংখ্যা

  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, খুলনা
আশ্রয়কেন্দ্র‌ে আশ্রয় প্রার্থীরা

আশ্রয়কেন্দ্র‌ে আশ্রয় প্রার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল' সুন্দরবন উপকূল অতিক্রম করেছে। ঝড়ের প্রভাবে দমকা হাওয়াসহ ভারী বর্ষণ হওয়ায় খুলনার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে আশ্রয় প্রার্থীদের সংখ্যা।

শনিবার (৯ নভেম্বর) গভীর রাতে সাইক্লোন শেল্টারে পরিবার পরিজন নিয়ে উপকূলবাসীরা আশ্রয় নিয়েছেন। দিনে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে উপকূলবাসী আসতে চাইছিলেন না, তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি বাড়লে আতঙ্কে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটেছে তারা। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে খুলনা জেলার ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

খুলনার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব শুরু পর ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্র‌ে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছিলো না। তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে প্রচারণাও চালানো শুরু হয়। তাতেও কাজ হয়নি। কিন্তু রাতে দমকা হাওয়া বেড়ে গেলে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া শুরু করে।

৪নং কয়রা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া করিমন বিবি বলেন, ঝড় বন্যা তো আইতেই থাহে। এহন আর ভয় হরেনা। রাইতে জোরে বাতাস হইলে এহেনে আইসি। সহালে চইলে যাবো। কওয়া তো যায়না, রাইতে কি অয়।

দাকোপ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বার্তাটোয়েন্টিফোর. কমকে বলেন, দাকোপে ৫৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র‌ে আশ্রয় নিয়েছে। গভীর রাতে স্বেচ্ছাসেবকরা উপকূলের মানুষদের সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে আসছে। দিনে তেমন মানুষ আসেনি, রাতে ঝড়ো বৃষ্টি শুরু হলে এখানে মানুষ বাড়তে শুরু করেছে।

কয়রার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বার্তাটোয়েন্টিফোর. কমকে বলেন, কয়রায় ৪৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র‌ে আশ্রয় নিয়েছে। এদের বেশীরভাগ মানুষই গভীর রাতে আশ্রয় নিয়েছে। এখানে দুর্যোগকালীন অবস্থায় ১২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। মজুদ রাখা হয়েছে খাদ্য সামগ্রী। এছাড়া ১১৬টি সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন বিদ্যালয় ভবন পাকা ও নিরাপদ স্থাপনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, খুলনার চারটি উপজেলায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৯ হাজার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে দাকোপে ৫৫ হাজার, কয়রায় ৪৫ হাজার, বটিয়াঘাটায় ২০ হাজার, পাইকগাছায় ২০ হাজার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। তাদেরকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন জানান, সকাল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি থানা পুলিশ, গ্রাম পুলিশ এবং ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা লোকজনকে বুঝিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে আসছেন। জেলায় মোট ৩৪৯টি সাইক্লোন শেল্টার খুলে রাখা হয়েছে। এসব সাইক্লোন শেল্টারের ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫০ জন আশ্রয় নিতে পারবে। উপকূলবর্তী ৪টি উপজেলায় সাইক্লোন পিপাডনেস প্রোগ্রামের ২ হাজার ৪৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে খুলনায় থেমে থেমে মাঝারি আবার কখনো ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে বইছে দমকা হওয়া। জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় নদীর পানির উচ্চতা বেড়েছে। উপকূলবাসীরা উৎকন্ঠা নিয়ে রাত্র‌িযাপন করছেন। অনেকে বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

  ঘূর্ণিঝড় বুলবুল