২১তম জাতীয় সম্মেলন: উৎসব আ. লীগে

  আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল-২০১৯


নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সম্মেলন মঞ্চ/ ছবি: বার্তা২৪.কম

সম্মেলন মঞ্চ/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দু’দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় সম্মেলন আজ শুরু হচ্ছে। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনকে ঘিরে সারাদেশেই দলটির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

২০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনের পর ২৫ মিনিটের একটি উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে। সেখানে তুলে ধরা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য।

সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে দলটির প্রথম অধিবেশনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দলের সাত দশকের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। নবীনদের জন্য সেখানে থাকছে সম্ভাবনাময় আগামীর বার্তা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবারের সম্মেলন তেমন জাঁকজমকপূর্ণ হবে না বলে দলীয় নেতারা জানালেও ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এখন সাজ সাজ রব।

নৌকার আদলে তৈরি মূল মঞ্চের সামনের বিশাল প্যান্ডেলের কার্নিশ সাজানো হয়েছে বিশ্ব রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন অর্জনের চিত্র দিয়ে। মূল মঞ্চের ডান পাশে সামনে একটি ছোট মঞ্চ করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হবে।

বিশাল এ কর্মযজ্ঞের তদারকিতে আছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। দফায় দফায় তাদের পরিদর্শন, দিক নির্দেশনা ও পরামর্শে সাজানো হয়েছে উদ্যান।

মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটির আহ্বায়ক এবং দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বার্তা২৪.কমকে বলেন, আশা করি, এবারের সম্মেলনে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জমায়েত হবে। তাই আমরাও চেষ্টা করেছি সাধ্যমত আয়োজন করতে। সাজসজ্জায় আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও আমাদের নেত্রীর অর্জনগুলো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। সম্মেলনে আসা কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের জন্য শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের ব্যবস্থাও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করা হয়েছে।

এবারের সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ মূল মঞ্চ। ১০২ ফুট দীর্ঘ, ৪০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চটি নৌকার আদলে তৈরি। মঞ্চের পেছনের ‘জায়ান্ট ব্যানারে’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ছবি ছাড়াও ঠাঁই পেয়েছে জাতীয় চার নেতা- তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম এ মনসুর আলী এবং এএইচ এম কামরুজ্জামানের ছবি। এছাড়া আছে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম চার নেতা- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের ছবি।

মঞ্চের সামনে রয়েছে বাঙালির গৌরব ও অহংকার পদ্মাসেতুর রেপ্লিকা। তাতে রয়েছে খরস্রোতা পদ্মার বুকে ৪০টি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটির সামনের বিশাল জলরাশিতে ভেসে বেড়াচ্ছে ছোট ছোট নৌকা। এক পাশে জেগে ওঠা চরে রাখা হয়েছে কাশবন। এর মধ্যে নোঙর করে রাখা হয়েছে বিশালাকার একটি পাল তোলা নৌকা। তাতে আবার জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি।

৮১ সদস্যের মধ্যে চারটি পদ শূন্য থাকায় মূল মঞ্চে চেয়ার থাকবে ৭৭টি। মঞ্চের সামনে নেতাকর্মীদের জন্য চেয়ার থাকবে ৩০ হাজার। এছাড়া সম্প্রসারিত মঞ্চে ১৫ হাজার চেয়ার দেওয়া হবে। ২৮টি এলইডি পর্দায় দেখানো হবে সম্মেলনের পুরো অনুষ্ঠান।

প্যান্ডেলের সামনে বাম পাশে রয়েছে আরেকটি নৌকা। অপেক্ষাকৃত ছোট সে নৌকায় দাঁড়িয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

সম্মেলনকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এরই মধ্যেই কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভেন্যুতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। মূল মঞ্চ ও এর আশেপাশের নিরাপত্তা তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া সম্মেলনের দিন ভেন্যুতে আওয়ামী লীগের কয়েকশ’ নেতাকর্মী শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন।

নেতাকর্মীদের প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাঁচটি গেট থাকছে। শিখা চিরন্তনী গেটটি ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত থাকছে।

আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন নিদর্শন নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের হাজির হয়েছে আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)।

স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামী লীগের দীর্ঘ পথ চলার বিভিন্ন ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ১০টি স্থাপনা প্রদর্শন করছে তারা। যা সম্মেলনের জৌলুস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

১০টি স্থাপনা হলো-‘ওয়াক উইথ দ্যা লিডার’, ‘রোড টু টোয়েন্টিফার্স্ট কাউন্সিল’, ‘লাইট আফটার ডার্কনেস’, ‘ফেইস অফ এএলবিডি’, ‘এএলবিডি রিজিওনাল ফুটপ্রিন্টস’, ‘এলবিডি-ইনফ্রন্ট অফ আ মিরর’, ‘কুওটস ফর ফিউচার লিডারশিপ’, ‘আ নিউ ইরা-পার্ট ওয়ান’ এবং ‘আ নিউ ইরা-পার্ট টু’।

সম্মেলনে আগত কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের পাটের ব্যাগে উপহার দেওয়া হবে। এতে থাকবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব উন্নয়ন হয়েছে, তার তালিকা সম্বলিত একটি কার্ড থাকবে। একই সঙ্গে থাকবে দু’টি সিডি। একটিতে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন এবং অন্যটিতে বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র, একটি প্যাড ও একটি কলম থাকবে পাটের ব্যাগে। এছাড়া সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেড়শ’ আলোকচিত্র সম্বলিত একটি অ্যালবামও দেওয়া হবে।

এছাড়া ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে ওয়েব পেজ উদ্বোধন করেছে প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি। ওয়েব পেজের ভিডিও অংশে সম্মেলন লাইভ দেখানো হবে।

সম্মেলনের প্রথম দিন ২০ ডিসেম্বর ৫০ হাজার নেতাকর্মীর দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। খাবারের ব্যাগে থাকবে মোরগ-পোলাওয়ের সঙ্গে একটি করে ডিম, ফিরনি ও একটি পানির বোতল। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবেও খাবারের আয়োজন থাকবে।

সম্মেলন উপলক্ষে ১০০ চিকিৎসক নিয়ে ১২টির মতো প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য উপকমিটি।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে জন্ম আওয়ামী লীগের। এখন ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স ৭০ বছর। এ পর্যন্ত দলটির ২০ টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২১তম জাতীয় সম্মেলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ একটি পরিবার। আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের কাজে-কর্মে এবং ব্যবহারের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে আওয়ামী লীগ একটি সুসংগঠিত দল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন ও পুরনোদের নিয়ে দলের আগামী কমিটি হবে আধুনিক ও সুসংগঠিত। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কেউ অপরিহার্য নয়।

   

দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ: এস এম কামাল



রুহুল আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

২৩ জুন রোববার আওয়ামী লীগ তার ৭৫ বছর পূর্তি প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন করবে। এই ৭৫ বছরে দলটি তার মূল লক্ষ্যে কতটা অটুট আছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত কতটা পরিবর্তন হয়েছে, দলটির ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জই-বা কী, এমন নানান বিষয় নিয়ে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বার্তা২৪.কমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রুহুল আমিন।

সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ও অভিন্ন। তাই, আওয়ামী লীগের যে স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠা, সে স্বপ্ন পূরণে এখনো কাজ করে যাচ্ছে দলটি। সেখান থেকে এক বিন্দুও সরেনি। এখন সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থায় বাংলাদেশ পড়লেও তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে।

বার্তা২৪.কম: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য হিসেবে দলটির ৭৫ বছরে এসে আপনার অনুভূতি কী?

এস এম কামাল হোসেন: বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে ৭৫ বছর বয়সে এসে আমি একজন সংসদ সদস্য হয়েছি, এটা আমার বড় প্রাপ্তি। বাংলাদেশের যা অর্জন, তা হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। সে দলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছি, সে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করতে পারছি, এটা একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে বিশাল পাওনা।

আমি এই কারণে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক করেছেন এবং মহান সংসদে একজন সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

পাকিস্তান হওয়ারি আগেই বঙ্গবন্ধু ভেবেছিলেন পাকিস্তান এই বাঙালির কোনো স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না। পরবর্তীতে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। পাকিস্তানের দুঃশাসন, নির্যাতন, তাদের উপনিবেশ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। মানুষ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

বার্তা২৪.কম: যে আদর্শ নিয়ে দলটির পথ চলা ৭৫ বছর বয়সে এসে সেই আদর্শ কতটা দলটির মধ্যে আছে?

এস এম কামাল হোসেন: আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল একটি অসাম্প্রদায়িক একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য।
একটি স্বাধীনতার জন্য মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের মাধ্যমে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশের আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে, বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, বঙ্গবন্ধু উপন্যাস শেখ হাসিনা সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে সে লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

বার্তা২৪.কম: আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর বয়সে সবচেয়ে বড় অর্জন কী?

এস এম কামাল হোসেন: আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন বাংলাদেশ একটি ‘উন্নয়নশীল দেশ’, ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্টবাংলাদেশ’ নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এগুলো আওয়ামী লীগের অর্জন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আজকে পদ্মাসেতু হয়েছে। পদ্মানদীর উপর দিয়ে আজকের ট্রেন চলছে, যা মানুষ কখনো আগে ভাবেননি। কর্ণফুলী টানেল হয়েছে। সমুদ্র বিজয় হয়েছে। সীমান্ত চুক্তি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারা ২৮ বছর ক্ষমতায় ছিল তারা কেউ সীমান্ত চুক্তি করেনি। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আজকের সীমান্ত চুক্তি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করেছেন। আজকে দেশ স্যাটেলাইটের যুগে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন, তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের অর্জন, শেখ হাসিনার অর্জন, বঙ্গবন্ধুর অর্জন অভিন্ন!

বার্তা২৪.কম: বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য দেখেন কি না!

এস এম কামাল হোসেন: আমি বিন্দুমাত্র কোনো পার্থক্য দেখি না। আওয়ামী লীগের যে নীতি-আদর্শ, তা থেকে এক চুল পরিমাণও বঙ্গবন্ধু কন্যা সরে আসেননি। দলের নেতাকর্মীদের কারণেই বিতর্কিত হতে পারে কিন্তু আওয়ামী লীগের যে লক্ষ্য অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, মানুষের অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, লেখাপড়া, চিকিৎসা সে লক্ষ্য থেকে আওয়ামী লীগ এক চুলও সরে আসেনি।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যে লক্ষ্য, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সাম্যের বাংলাদেশ সেখান থেকে এক বিন্দুও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরে যাননি।

বার্তা২৪.কম: ৭৫ বছরের আওয়ামী লীগের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

এস এম কামাল হোসেন: বিশ্বে যে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে, সে সংকটের বাইরে কিন্তু বাংলাদেশও নয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা হচ্ছে, আমাদের চ্যালেঞ্জ! আমাদের জন্য উচিত, বঙ্গবন্ধু কন্যার চোখের ভাষা বুঝে তিনি যা চান, সেভাবে নিজেদের তৈরি করা। সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত, জঙ্গিবাদমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার দেখছেন তিনি। আমাদের জন্য উচিত হচ্ছে, তা বাস্তবায়নে নিজেদের প্রস্তুত করা।

বার্তা২৪.কম: অনেকেই বলে থাকেন, আওয়ামী লীগে নেতা আছেন, কর্মী নেই। এই বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

এস এম কামাল হোসেন: এটা বলার জন্য বলা। আওয়ামী লীগ কর্মীনির্ভরশীল দল। আওয়ামী লীগ তৃণমূল কর্মীদের দল। আওয়ামী লীগ জনগণের দল। শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা ছাড়া ক্ষমতায় থাকা যায় না। সে কারণে জনগণের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করেন। সেটা বিশ্বাস করেন বলেই আজকে শেখ হাসিনা বয়স্ক ভাতা দিচ্ছেন। বিধবা ভাতা দিচ্ছেন। যাদের ঘর নেই, তাদের ঘর দিচ্ছেন, জমি দিচ্ছেন। শেখ হাসিনা যা স্বপ্ন দেখেন, আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শের ভিত্তিতে স্বপ্ন দেখেন।

আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ইস্তেহার দিয়েছে। ২০১৮ সালের ইস্তেহার দিয়েছে। ২০২৪ সালেও ইস্তেহার দিয়েছেন। ২১০০ সাল বদ্বীপ পরিকল্পনা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা হবে তাই আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য। আমাদের ঘোষণাপত্রে যা যা আছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য আজকে কাজ করছেন।

বার্তা২৪.কম: দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে জনগণের মাঝে জনপ্রিয়তা কমে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। তাহলে এখন জনপ্রিয়তা বেড়েছে না কি কমেছে?

এস এম কামাল হোসেন: আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমেনি। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা কমেনি। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা এক ও অভিন্ন। শেখ হাসিনার জনপ্রিয় বৃদ্ধি পাওয়া মানে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়া। কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত কারণে আওয়ামী লীগ বিতর্কিত হতে পারে। ক্ষোভ-বিক্ষোভ হতে পারে ওই ব্যক্তির প্রতি কিন্তু তৃণমূল নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আছে। সাধারণ মানুষেরও আস্থা ও বিশ্বাস আছে।

বার্তা২৪.কম: তৃণমূলে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক শক্তি পারিবারিক হয়ে গেছে। এটা ৭৫ বছরের আওয়ামী লীগের জন্য কতটা যুক্তিসঙ্গত?

এস এম কামাল হোসেন: ব্যক্তির আচরণ, ব্যক্তির বিনয়ের ওপর ভিত্তি করে তৃণমূলের কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতি করেন। সেখানে দেখতে হবে, ব্যক্তির আচরণটা কী! ব্যক্তির কারণে কি দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নাকি ব্যক্তির কারণে নেতাকর্মীরা শান্তি পাচ্ছেন। ব্যক্তির কারণে দলে কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে।

এখানে দুটোই আছে। কারো কারো কারণে দল শক্তিশালী হচ্ছে আবার কারো কারো কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা হচ্ছে, এটা আমি অস্বীকার করি না।

দলের ৭৫ বছর বয়সে আমার অনুরোধ হচ্ছে, এখানে আমরা কেউ অপরিহার্য না। এখানে একজনই অপরিহার্য। দেশের জন্য শেখ হাসিনা, দলের জন্যও শেখ হাসিনা! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ২৪ ঘণ্টা মানুষের জন্য পরিশ্রম করছেন, আমাদের কাজ হচ্ছে, সেটা মানুষের কাছে বলা। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে যে কাজ করছেন তিনি, সেখানে আমাদের সহযোগিতা করা উচিত।

  আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল-২০১৯

;

নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে উন্নয়নশীল বাংলা গড়ার: ওবায়দুল কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

‘উন্নয়নশীল বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (২২ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডি রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা-১০ আসনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সাফল্যের ৭৫ বছর উপলক্ষে ‘উচ্ছ্বাসে উৎসবে’ প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি স্মার্ট বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো। স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্টকর্মী বাহিনী দরকার। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও আমরা স্মার্টকর্মী বাহিনী চাই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ২০৪১ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরপরেও আমাদের লিডার (প্রধানমন্ত্রী) স্বপ্ন দেখেছেন, ২১০০ সালের ‘উন্নয়নশীল বাংলা’। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে একটি চুক্তিও সই হয়েছে ‘উন্নয়নশীল বাংলা’ গড়ার কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শেষ সীমারেখা এখন ২১০০ সাল এবং শেখ হাসিনার স্বপ্ন ২০৪১ সালের বাংলাদেশকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। মনে রাখবেন, আমাদের এই জনপদে, এই পদ্মা, মেঘনা, যমুনার যে জনপদ, এই জনপদে দুজন মানুষকে কোনোদিনও ভুলতে পারবেন না- একজন বঙ্গবন্ধু। তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) লিগ্যাসি ও তাঁর উত্তরাধিকারের মৃত্যুও কোনোদিন হবে না। তিনি (বঙ্গবন্ধু) মারা গেছেন। কিন্তু তিনি অমর! এটা আমাদের একটা লিভিং লিগ্যাসি।

আরেকটা লিগ্যাসি হচ্ছে- আমাদের মুক্তি। ৭ মার্চের যে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার কথা বলেছেন, মুক্তির কথা বলেছেন। সেই স্বাধীনতার লিগ্যাসি- বঙ্গবন্ধু।

নেতৃত্বের লিগ্যাসি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ৪৩ বছর আওয়ামী লীগের সভাপতি। এটা মনে হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের ইতিহাসে এই স্থানটি পাওয়া সম্ভব ছিল না। পৃথিবীর যে নারীরা ক্ষমতাসীন ছিল বা আছেন, তাদের মধ্যে শেখ হাসিনা ২২ বছর ধরে নেতৃত্ব দান করছেন। ২০০৯ থেকে আজকে ২০২৪। তার আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১।

  আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল-২০১৯

;

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রোববার (২৩ জুন) দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে ‘প্লাটিনাম জয়ন্তী’ যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে দলটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে যে দলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে পরবর্তীতে সেটি অসাম্প্রদায়িক রূপ লাভ করে আওয়ামী লীগ নামে আত্মপ্রকাশ করে।

এবার ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সমাবেশ ও পতাকা উত্তোলনসহ তিন দিনের মূল কর্মসূচি।

আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তীতে রোববার সূর্যোদয়ের সময় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
সকাল ৭টায় রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শাজাহান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ।

এদিন রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এরপর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। এ সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, আমন্ত্রিত অতিথিসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।

এর আগে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন উপযোগী কর্মসূচির মাধ্যমে জাঁকালোভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের জেলা/মহানগর, উপজেলা/থানা, পৌর/ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখাসহ সব স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল-২০১৯

;

আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

১৫ বছরে প্রবৃদ্ধি ৭.২৫ শতাংশ, মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৫ গুণ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ধারাবাহিক সরকারে গত সাড়ে ১৫ বছর আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ।

তিনি বলেন, এসময়ে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, মাথাপিছু আয় ৫ গুণ, বাজেটের আকার ১২ গুণ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ১৩ গুণ, জিডিপির আকার ১২ গুণ, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩৬ গুণ, রফতানি আয় ৫ গুণ, রেমিট্যান্স ৬ গুণ, এফডিআই ৫ গুণ, কৃষি-শ্রমিকের ক্রয় ক্ষমতা ৩ গুণ, শ্রমিকদের মজুরি ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দারিদ্র্যের হার ৪১ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। অতিদারিদ্র্য কমেছে ৫ গুণ। মানুষের গড় আয়ু হয়েছে ৭২ দশমিক ৮ বছর।

শনিবার (২২ জুন) রোববার ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনের সব নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক

শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, জাতীয় চার নেতা, স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি এবং আওয়ামী লীগ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের গণমানুষের প্রাণের সর্ববৃহৎ সংগঠন।

আওয়ামী লীগের সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঙালি জাতির মুক্তি এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন এক সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল অসাম্প্রদায়িকতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা ও বিশ্বশান্তির পথকে প্রশস্ত করা।

কারাবন্দি অবস্থায় তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান নবগঠিত সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য ১৯৫৩ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয় সম্মেলনেই তাঁকে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপর শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর প্রজ্ঞা, শ্রম, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও অবিচল আদর্শকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রশ্নে হয়ে ওঠেন একজন অবিসংবাদিত নেতা।

হাজার বছরের শাসন-শোষণের ইতিহাস মুছে ফেলে বাঙালি জাতির চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সংগঠনটিকে প্রস্তুত করতে শেখ মুজিবকে যেমন অসংখ্য চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিতে হয়েছে, তেমনি তাঁর ব্যক্তি-জীবনকেও বিসর্জন দিতে হয়েছে। কালের পরিক্রমায় তিনি হয়ে ওঠেন- সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালির জাতির পিতা।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভূখণ্ডে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন সবই জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাঙালির অর্জন এবং বাংলাদেশের সকল উন্নয়নের মূলেই রয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।

জন্মলগ্ন থেকেই সংগঠনটি ভাষা-শিক্ষা’র অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে পিকেটিং করার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গ্রেফতার হন।

তাঁর পরামর্শে ’৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি ‘ভাষা দিবস’ সমর্থনে ধর্মঘট আহ্বান ও ১৪৪-ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত এবং কারান্তরীণ অবস্থায় অনশন ঘোষণা ভাষা আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনকে ত্বরান্বিত করে।

১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ ২১-দফা ইশতাহার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে এবং মন্ত্রিসভা গঠন করে। কিন্তু, পাকিস্তানের গভর্নর সে মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়। ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ ফের মন্ত্রিসভা গঠন করে। সেসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সারাদেশ ঘুরে মহকুমা ও থানা পর্যায়ে দলীয় কর্মীবাহিনীকে নিয়োজিত করে পূর্ব-বাংলায় বিরাজমান তীব্র খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করেন।

মাত্র দু’বছরের কম সময়েই জনকল্যাণকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করে, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয় এবং পূর্ব-বাংলার স্বায়ত্তশাসনসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।

১৯৫৮ সালের অক্টোবরে সামরিক শাসন জারির ফলে বাংলার মুক্তিকামী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাধাগ্রস্ত হয়। দৃঢ়-প্রত্যয়ী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তৃণমূল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে মনোনিবেশ করেন।

জনগণই আওয়ামী লীগের মূলশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের দল। জনগণই আওয়ামী লীগের মূলশক্তি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ’৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ’৬৪-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ, ’৬৬-এর ছয়-দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি মুক্তির সনদ রচনা এবং ’৬৯-এর গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসন অবসানের প্রতিশ্রুতি অর্জন দলটিকে মুক্তিকামী মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত করে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বের জন্যই আওয়ামী লীগকে ’৭০-এর নির্বাচনে পূর্ব-বাংলার মানুষ তাদের মুক্তির ম্যান্ডেট দিয়েছিল। জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা জনগণের এ রায়কে উপেক্ষা করে, শুরু করে প্রহসন। ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্য ৬-দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের শপথ গ্রহণ করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর পরপরই পশ্চিম পাকিস্তানি জান্তা সরকার জাতির পিতাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে প্রেরণ করে। তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণশক্তি। তাঁর অবিচল নেতৃত্বে বাঙালি জাতি মরণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যায়।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গণপরিষদ গঠন করে বাংলাদেশের প্রথম সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে।

১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে এবং সেদিন এ স্থানটির নাম ‘মুজিবনগর’ রাখা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবদান
১৯৭১ সালের দীর্ঘ নয়মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবদানের কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত সফল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল- স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন এবং ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।

১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধানে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর করেন। জাতির পিতার আহ্বানে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্ধু দেশসমূহ দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। মাত্র সাড়ে তিন বছরে তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় এবং স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে৷

৭৫-এ সপরিবারের বঙ্গবন্ধু হত্যা
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী চক্র আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

এই হত্যার মধ্য দিয়ে তারা বাঙালি জাতির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। ঘাতকদের উদ্দেশ্যই ছিল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা।

এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। তারা ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারি করে জাতির পিতার হত্যার বিচারের পথকে বন্ধ করে দেয়। বিদেশে থাকায় আমি এবং আমার বোন শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যাই।

জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে; সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে; বিদেশে দূতাবাসে চাকরি দেয়।

স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়; রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে। ব্যবসা করার সুযোগ দিয়ে তাদের বিপুল অর্থের মালিক করে দিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশে থাকা অবস্থায় ’৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি সম্মেলনে আমাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করে। নানা বাধা উপেক্ষা করে ’৮১ সালের ১৭ মে আমি দেশে ফিরে এসে দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু করি।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও অবৈধ সেনাশাসকদের নির্যাতন আর নিপীড়নের মাধ্যমে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় জনগণের সংগঠন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী, সমর্থকেরা জীবন দিয়ে সব প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দলকে টিকিয়ে রেখেছে, শক্তিশালী করেছে।

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার অর্জনে আওয়ামী লীগের অর্জন

গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমরা শুরু করি, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন ও দেশ গড়ার নবতর সংগ্রাম। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেই। আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করি।
আমরা ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বাতিল আইন, ১৯৯৬’ সংসদে পাশ করে জাতির পিতার হত্যার বিচার শুরু করি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় আওয়ামী লীগের অবদান
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় মহান ‘২১ ফেব্রুয়ারি’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পায়।

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কারো মধ্যস্থতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি।

আওয়ামী লীগ সরকারের এই পাঁচ বছরে দেশে আর্থসামাজিক উন্নয়নের এক নবদিগন্তের সূচনা হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি-জামাত জোট সরকারের দুঃশাসন, অত্যাচার নির্যাতন ও দমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০০৭ থেকে ২০০৮ অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ‘দিন বদলের সনদ’ ঘোষণা দিয়ে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে পুনরায় নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে এবং ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে।

১৫ বছরের ধারাবাহিক সরকারের সাফল্য এবং আওয়ামী লীগ
২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছরের সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ধারাবাহিক সরকারে গত সাড়ে ১৫ বছর আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছি।

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শেষ বছর এবং আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের শেষ বছর-২০২৩ সালের তুলনা করলে সাফল্যের তথ্যচিত্র আমাদের সামনে ভেসে উঠবে।

তিনি বলেন, এসময়ে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, মাথাপিছু আয় ৫ গুণ, বাজেটের আকার ১২ গুণ, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ১৩ গুণ, জিডিপির আকার ১২ গুণ, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩৬ গুণ, রপ্তানি আয় ৫ গুণ, রেমিটেন্স ৬ গুণ, এফডিআই ৫ গুণ, কৃষি-শ্রমিকের ক্রয় ক্ষমতা ৩ গুণ, শ্রমিকদের মজুরি ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র্যহার ৪১ দশমিক ৫১ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। অতিদারিদ্র্য কমেছে ৫ গুণ। মানুষের গড় আয়ু হয়েছে ৭২ দশমিক ৮ বছর।

এসময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৮ গুণ এবং বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগের হার ২৮ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাক্ষরতার হার বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০০৯ সালে জিডিপির পরিমাণ ছিল মাত্র ১০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩ সালে জিডিপির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

বর্তমান অর্জন

দক্ষিণ বঙ্গের দ্বার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে পদ্মাসেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করেছে আরো সহজ, ছবি- সংগৃহীত


আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে রেল যোগাযোগ শুরু হয়েছে। ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিতে আমাদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১সহ দেশব্যাপী অগণন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন করেছি।

আশ্রয়ণ প্রকল্প
আমরা দেশের সব ভূমিহীন-গৃহহীনকে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছি। আশ্রয়ণ প্রকল্প ও অন্যান্য কার্যক্রম দিয়ে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯শ ৪টি পরিবারের ৪৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছি। সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আমাদের সরকার জাতির পিতার হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে অপরাধীদের বিচার
‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে এবং রায়ও কার্যকর করা হচ্ছে। সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে, ফলে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ হয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন
২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ এবং ২১০০ সালের মধ্যে ‘ডেল্টা পরিকল্পনা’ বিনির্মাণে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।

জাতির পিতার আদর্শ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা লড়াই-সংগ্রাম ও মানুষের আস্থা অর্জন করে আওয়ামী লীগকে জনমানুষের সংগঠনে পরিণত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের নেতাকর্মীদের মেধা, পরিশ্রম, ত্যাগ ও দক্ষতায় আওয়ামী লীগ আরো গতিশীল ও শক্তিশালী হবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্র বিরোধী দেশি-বিদেশি অপশক্তি এখনও নানাভাবে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এই অপশক্তির যেকোনো অপতৎপরতা-ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে আমি দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

  আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল-২০১৯

;